মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: লেখক।

প্রকৃতির কি অপরূপ সৃষ্টি। হ্রদের ধারে বেশ কিছুক্ষণ থাকার পর আমরা উড়ে গেলাম একটা পাহাড়ের চূড়ায়। সেখান থেকে হিমবাহ এদিক-ওদিক অনেকটা দেখা যাচ্ছে। পাহাড়ের চূড়ার কাছে পাইলট অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে হেলিকপ্টার অবতরণ করালেন। পুরো হেলে দাঁড়িয়ে আছে উড়ান। আমরা হেলিকপ্টার থেকে নেমেই দেখলাম ঝাঁকে ঝাঁকে ব্লু-বেরির গাছ।
যেকোনও বেরির গাছই গুল্ম প্রজাতির। অর্থাৎ, ছোট্ট ছোট্ট। মাটি থেকে খুব বেশি লম্বা হয় না। এই বেরি-পিকিং আলাস্কায় খুব জনপ্রিয়। এমন অনেক জায়গা রয়েছে, যেখানে রাস্তার ধারে ধারে বা রাস্তা থেকে একটু ঢুকলেই প্রচুর বেরি-গাছ দেখা যাবে। সবাই সেখানে গিয়ে ডালা ভরে বেরি তুলে নিয়ে আসে। অনেকটা আমাদের দেশে ঠান্ডার জায়গায় আপেল তোলার মতো।
আরও পড়ুন:

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৯: নীল হ্রদের পারে, নীল আকাশের নিচে লাল রঙের হেলিকপ্টার অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০২: শ্রীমার অন্তিম সময়কালীন ভবিষ্যবাণী

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-২৮: বারেরুজাতক: কা-কা না কেকা?

গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সক্কলে বেরিয়ে পড়েন এই বেরি নিয়ে আসতে। বলা ভালো যে, ওই সব জায়গায় হেঁটে বা গাড়ি করে যাওয়া যায়, অথবা কোনও বিশেষ ভ্রমণ আকর্ষণের কাছাকাছি জায়গায় কয়েক দিনের মধ্যেই সব বেরি শেষ হয়ে যায়। এতো লোক সে সব জায়গায় যান। কিন্তু এখানে এই উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় কোনও লোক নেই। কেউ সেখানে আসেননি। তাই এদিক-ওদিক গাছে গাছে হয়ে রয়েছে প্রচুর বেরি। আমরা বেরি খেতে খেতে পাহাড়ের চূড়ায় বসে দেখতে লাগলাম হিমবাহের অপরূপ শোভা।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৪: ভুবন চিল ও শঙ্খচিল

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৮: সত্যনিষ্ঠতার মাপকাঠি কী নাস্তিকতার নিরিখে বিচার্য?

সব দেখা শেষ হলে বিকেল নাগাদর ফিরে এলাম আবার শিপ মাউন্টেন লজে। সেখান থেকে গাড়ি করে সোজা ফেয়ারব্যাঙ্কস। অর্থাৎ আবার প্রায় ঘণ্টা সাত-আটেকের ব্যাপার। ওই একই রাস্তা ধরে ফিরতে হবে। কিন্তু সত্যি কথা বলতে, আলাস্কায় গাড়ি চালাতে আমার খুব কমই ক্লান্ত লাগে। বরং চারিদিকের অপার্থিব সৌন্দর্যের মধ্যে দিয়ে গাড়ি চালাতে চালাতে যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠি।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২০: রবীন্দ্রনাথ আশ্রমের একমাত্র তাঁকেই প্রণাম করতেন

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬২: এক নির্বাসিত রাজপুত্রের কথা

শুধু আমি নই, এখানকার লোকজন, আমার সহকর্মী, ছাত্র-ছাত্রী, বন্ধু-বান্ধব—সবাই একই কথা বলে। মাঝে মাঝে তো এমনও হয় যে গ্রীষ্মকালে অনেক দূর থেকে উড়ানে করে দশ-বারো ঘণ্টা আসার পরে মাত্র দু-তিন ঘণ্টা একটু বিশ্রাম নিয়ে মুখ হাত ধুয়ে আমরা আবার বেরিয়ে পড়েছি তিন-চার ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে স্রেফ উড়ানেই ক্লান্তিটুকু কাটানোর জন্য। একটু চাঙ্গা হওয়ার জন্য। আর সব সময়েই সূর্যের আলো থাকার জন্য জুন, জুলাই এবং আগস্ট মাসে গাড়ি চালাতেও কোনও সমস্যা নেই।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১১৯: গোখরো কিংবা কালাচ

তবে সুন্দর রাস্তার মধ্যেও কিছু বিপদের আশঙ্কা এই গ্রীষ্মকালেও থেকে যায়। বিশেষ করে রিচার্ডসন হাইওয়েতে। যেহেতু সরু এবং আঁকাবাঁকা রাস্তা, পাশের জঙ্গল থেকে মাঝে মাঝেই বেরিয়ে আসে জন্তু-জানোয়ার। তাদের গায়ে ধাক্কা লেগে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া আছে সূর্যের আলো। গ্রীষ্মকালে দীর্ঘক্ষণ সূর্য দিগন্তের কাছাকাছি, অর্থাৎ অনেকটা নিচের দিকে থাকে। এই সময় গাড়ি চালানোর সময় সূর্যের আলোটা পুরো মুখের ওপর এসে পড়ে। তার ওপরে যদি একটু হালকা বৃষ্টি হয়ে রাস্তা ভিজে যায় বা জল জমে যায়, তাহলে তো আর কথাই নেই। চারিদিক থেকে এমন আলো এসে পড়ে যে রাস্তায় কিছু দেখাই যায় না। —চলবে।
* রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা (Mysterious Alaska) : ড. অর্ঘ্যকুসুম দাস (Arghya Kusum Das) অধ্যাপক ও গবেষক, কম্পিউটার সায়েন্স, ইউনিভার্সিটি অব আলাস্কা ফেয়ারব্যাঙ্কস।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content