
ছবি প্রতীকী।
দ্বিতীয় ধূর্ত ব্যক্তিটি তৈরিই ছিল। মিত্রশর্মা ছাগলটিকে নিয়ে কিছু দূর এগোতেই দ্বিতীয় ধূর্তটি এসে উপস্থিত হল তাঁর সামনে। সে যদিও আগের ধূর্তটির মতো তীব্রভাবে বলল না, বরং একটু বিনয়ের সঙ্গেই বলল, “হে ব্রহ্মন্! বুঝতে পারছি এই মৃত বাছুরটি আপনার অত্যন্ত প্রিয়, তথাপি একে কাঁধে করে নিয়ে যাওয়াটা একেবারেই অনুচিত। স্মৃতিশাস্ত্রে বলে, মৃত পশুপক্ষী বা মৃত মানুষকেও যদি কেউ স্পর্শ করে তাহলে সে পঞ্চগব্য অর্থাৎ দই, দুধ, ঘি, গোবর এবং গোমুত্র খেয়ে কিংবা চান্দ্রায়ণ ব্রত পালন করে শুদ্ধ হয়। আপনি ব্রাহ্মণ মানুষ। আপনাকে এ সব বলা যদিও ধৃষ্টতা।”
মিত্রশর্মা রেগে গিয়ে বললেন, “ওহে! আপনি কি অন্ধ? জলজ্যান্ত এই পশুটাকে দেখে আপনারমৃতবাছুর মনে হচ্ছে?”
সেই ধূর্তলোকটি আবার সবিনয়ে বলল, “ভগবন্! মা কোপং কুরু”—হে ভগবন্! দয়া করে রেগে যাবেন না। অজ্ঞানতাবশতই এ কথা বলে ফেলেছি। আপনি আপনার কাজে অগ্রসর হোন—তত্ত্বম্ আত্মরুচি সমাচর।”
মিত্রশর্মা রেগে গিয়ে বললেন, “ওহে! আপনি কি অন্ধ? জলজ্যান্ত এই পশুটাকে দেখে আপনারমৃতবাছুর মনে হচ্ছে?”
সেই ধূর্তলোকটি আবার সবিনয়ে বলল, “ভগবন্! মা কোপং কুরু”—হে ভগবন্! দয়া করে রেগে যাবেন না। অজ্ঞানতাবশতই এ কথা বলে ফেলেছি। আপনি আপনার কাজে অগ্রসর হোন—তত্ত্বম্ আত্মরুচি সমাচর।”
মিত্রশর্মা আবার হাঁটতে শুরু করল। তৃতীয় ধূর্তটি ছিল আরও কিছুটা দূরে ছদ্মবেশে। এক বনের পথ পেরিয়েমিত্রশর্ম যখন আরেক বনের পথে ঢুকল ঠিক তখনই সেই তৃতীয় ধূর্তটি বেরিয়ে এসে বলল, “ওহে! আপনি ভারি অন্যায় করছেন। এভাবে একটা গাধাকে কাঁধে তুলে নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন? শাস্ত্রে বলে, যে মানুষ বুঝে কিংবা না বুঝে কোনো গাধাকে স্পর্শ করে তাঁর পাপ হয় এবং সেই পাপস্খালনের জন্য বস্ত্র সহিত জলে ঢুব দিয়ে স্নান করতে হয়। তাই এখনই অন্য কারও চোখে পড়ার আগে এটাকে কাঁধ থেকে নামিয়ে ত্যাগ করুন।”
বারবার তিন বার। তিন জন আলাদা আলাদা লোক তিন রকম যখন বলল, তখন মিত্রশর্মা সেই ছাগলটিকে গাধা ভেবে ভয়ে মাটিতে নামিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে গেল। বলা ভালো ছাগলটাকে ফেলে পাললো আর সেই তিনজন ধূর্ত মিলে সেই পশুটিকে নিয়ে মহাসুখে ভোজন সারলো।
বারবার তিন বার। তিন জন আলাদা আলাদা লোক তিন রকম যখন বলল, তখন মিত্রশর্মা সেই ছাগলটিকে গাধা ভেবে ভয়ে মাটিতে নামিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে গেল। বলা ভালো ছাগলটাকে ফেলে পাললো আর সেই তিনজন ধূর্ত মিলে সেই পশুটিকে নিয়ে মহাসুখে ভোজন সারলো।
৩য় কাহিনি সমাপ্ত
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৮: নীতি কেবল মুখোশ, রাজনীতির মূল হল কৌশল আর ছলনা

পৃথিবীর সর্বোচ্চ একক আর্চ ব্রিজের নির্মাণে বিনয়ী এক অধ্যাপিকা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৯: পথিমধ্যে অতর্কিতে

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৩: শকুন
গল্প শেষ করে বৃদ্ধ স্থিরজীবী বললেন, এই জন্য আমি বলেছিলাম অনেক ধূর্ত লোকেরা মিলে নানা উপায় আর ছলনা করে বলবান শত্রুকেও হারিয়ে দিতে পারে। পরবর্তী ঘটনাক্রমে যাওয়ার আগে উপরের এই গল্পটি নিয়ে দু-চার কথা বলে নেওয়া প্রয়োজন। পঞ্চতন্ত্রের কাহিনিগুলোকে আধার করে সংস্কৃত সাহিত্যে শিশুপাঠ্য আরেকটি গ্রন্থ হল হিতোপদেশ। হিতোপদেশের সঠিক সময়কাল নিয়েপণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও, এটি একাদশ শতকের বলে রচনা বলে মনে করা হয়। আবার অনেকে মনে করেন যে অনুমানিক ৮০০ থেকে ৯৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নারায়ণ পণ্ডিত এই গ্রন্থটির রচনা করেছিলেন। সেখানে ‘সন্ধি’নামক তৃতীয় অধ্যায়ে এই কাহিনিটি পাওয়া যায়।যদিও সেখানে প্রসঙ্গ আলাদা। সেখানে গল্পটির কথক হল মেঘবর্ণ। তাঁর মতে, আত্মৌপম্যেন যো বেত্তি দুর্জনং সত্যবাদিনম্। স তথা বঞ্চ্যতে ধূর্তৈর্ব্রাহ্মণশ্ছাগতো যথা।। (হিতোপদেশ, ৩/৫২)
অর্থাৎ জগতের সকলকে যদি কোনও ব্যক্তি নিজের মতো করে ভাবে যদি ভাবে দুর্জন লোকও আমার মতোই সত্যরক্ষা করে, সত্য কথা বলে, তাহলে তার মতো মূর্খ সংসারে দ্বিতীয়টি নেই। যেমন করে কয়েকজন ধূর্তরা মিলে একটা ছাগলের জন্য ব্রাহ্মণকে ঠকিয়েছিল, সকলকে সত্যবাদী ভাবে যে মানুষ—তাঁরই সেই দশাই হয়।
অর্থাৎ জগতের সকলকে যদি কোনও ব্যক্তি নিজের মতো করে ভাবে যদি ভাবে দুর্জন লোকও আমার মতোই সত্যরক্ষা করে, সত্য কথা বলে, তাহলে তার মতো মূর্খ সংসারে দ্বিতীয়টি নেই। যেমন করে কয়েকজন ধূর্তরা মিলে একটা ছাগলের জন্য ব্রাহ্মণকে ঠকিয়েছিল, সকলকে সত্যবাদী ভাবে যে মানুষ—তাঁরই সেই দশাই হয়।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৭: আশ্রমকন্যা শকুন্তলার পুত্রের উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে চিরন্তন মাতৃত্বের প্রকাশ এবং দুষ্মন্তের লাম্পট্য ও প্রতারণা, সব যুগেই বিদ্যমান

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৩: রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক
এইরকম একটা মুখবন্ধ করে গল্পটি বলতে শুরু করে মেঘবর্ণ। হিতোপদেশের গল্পটি খুবই সংক্ষিপ্ত। সেখানে সেই সরল ব্রাহ্মণটির নাম প্রস্তুতযজ্ঞ। সে যজ্ঞ করবে বলে অন্য একটা গ্রামের হাট থেকে ছাগল কিনে কাঁধে করে বাড়ি ফিরছিল আর তখনই তিনজন ধূর্ত তাকে দেখতে পেলো। ধূর্ত তিনটি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলো, “যদ্যেষশ্ছাগঃ কেনাপ্যুপাযেন লভ্যতে তদা মতিপ্রকর্ষো ভবতি—এই ছাগলটাকে কি করে হাতানো যেতে পারে তার জন্য একটা কিছু উপায় ভাবতে হবে।”
তখন তারা তিনজন এক ক্রোশ অন্তর অন্তর এক-একটা গাছের আড়ালে গিয়ে দাঁড়ালো এবং ব্রাহ্মণকে আসতে দেখে বললো, “ওহে ব্রাহ্মণ! এই কুকুরটিকে কাঁধে নিয়ে কোথায় চললে? – ভো ব্রাহ্মণ! কিমিতি কুক্কুরঃ স্কন্ধেনোহ্যতে?”
ব্রাহ্মণ দৃঢ়কণ্ঠে প্রতিবাদ করে বলে, “নাযং শ্বা, কিন্তু যজ্ঞশ্ছাগঃ —এইটা কুকুর নয়- যজ্ঞের জন্য কেনা পশু।” পরের জন এবং তার পরের জনও যখন একই কথা বলল তখন সেই ব্রাহ্মণ দোলায়মান হলেন, নিজের প্রতিই সন্দেহ জাগলো তাঁর এবং শেষে সেই ছাগলটিকে কাঁধ থেকে নামিয়ে নিজের মতিভ্রম হয়েছে ভেবে সেই ছাগটিকে ফেলে সেখান থেকে চলে গেল। তবে এই সম্পূর্ণ গল্পটির মাঝে আরও দুটো গল্প ঢুকে আছে হিতোপদেশে সেটা আমাদের আলোচনার বিষয় নয় বলে আর এখানে অধিক আলোচনা করলাম না।
তখন তারা তিনজন এক ক্রোশ অন্তর অন্তর এক-একটা গাছের আড়ালে গিয়ে দাঁড়ালো এবং ব্রাহ্মণকে আসতে দেখে বললো, “ওহে ব্রাহ্মণ! এই কুকুরটিকে কাঁধে নিয়ে কোথায় চললে? – ভো ব্রাহ্মণ! কিমিতি কুক্কুরঃ স্কন্ধেনোহ্যতে?”
ব্রাহ্মণ দৃঢ়কণ্ঠে প্রতিবাদ করে বলে, “নাযং শ্বা, কিন্তু যজ্ঞশ্ছাগঃ —এইটা কুকুর নয়- যজ্ঞের জন্য কেনা পশু।” পরের জন এবং তার পরের জনও যখন একই কথা বলল তখন সেই ব্রাহ্মণ দোলায়মান হলেন, নিজের প্রতিই সন্দেহ জাগলো তাঁর এবং শেষে সেই ছাগলটিকে কাঁধ থেকে নামিয়ে নিজের মতিভ্রম হয়েছে ভেবে সেই ছাগটিকে ফেলে সেখান থেকে চলে গেল। তবে এই সম্পূর্ণ গল্পটির মাঝে আরও দুটো গল্প ঢুকে আছে হিতোপদেশে সেটা আমাদের আলোচনার বিষয় নয় বলে আর এখানে অধিক আলোচনা করলাম না।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৯: চেন টেনে উমাচরণের জেল হয়েছিল

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৬: গ্রিন টি /৪
কিন্তু এই গল্পটিকে যদি বিশ্লেষণ করা যায় তাহলে বেশ কয়েকটি কূটনীতির বিষয় আমরা লক্ষ্য করতে পারবো। প্রথম নজরে গল্পটি পড়ে হয়তো মনে হতেই পারে যে এখানে সরল এক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে —অতিবিশ্বাসী হওয়া কতটা বিপজ্জনক। কিন্তু বিষ্ণুশর্মার এই কাহিনির ভিতরে লুকিয়ে আছে আরেকটি গভীর বার্তা। তিনি দেখাতে চেয়েছেন, কীভাবে কৌশল এবং বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মনে প্রভাব ফেলা যায়, কীভাবে যৌথভাবে ছলনার মাধ্যেমে মিথ্যেকে সত্যিতে পরিণত করা যায় এবং কৌশলগত প্রচারের কতটা শক্তিশালী। এখানে দেখানো হয়েছে, কীভাবে কোনও একটি দল কৌশলে অন্যদের প্রভাবিত করতে পারে — এটা যেমন প্রাচীন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি আজকের সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতির ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক।
আজকের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই গল্পটি আমাদের শেখায় সঠিক প্রচার, যেটা সত্য বা মিথ্যা যাইহোক না কেন কীভাবে ‘মানসিক বিভ্রান্তি (যেমন ‘গ্যাসলাইটিং’)’ এবং ব্যক্তির মনস্তত্ত্বের প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন হিটলারের প্রচারমন্ত্রী গোয়েবেলস বলেছিলেন, “একটি মিথ্যাকে বারবার বললে, সেটাতে সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করে”—এই গল্পে সেই নীতিটিরই প্রয়োগ হতে দেখা যায়। বারবার কোনও বিষয় নিয়ে কৌশলগত ভাবে মিথ্যা বললে মানুষ নিজেদের যুক্তি বা সত্যকেই সন্দেহ করতে শুরু করেন — এটিই গ্যাসলাইটিং-এর মূলকৌশল।
আজকের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই গল্পটি আমাদের শেখায় সঠিক প্রচার, যেটা সত্য বা মিথ্যা যাইহোক না কেন কীভাবে ‘মানসিক বিভ্রান্তি (যেমন ‘গ্যাসলাইটিং’)’ এবং ব্যক্তির মনস্তত্ত্বের প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন হিটলারের প্রচারমন্ত্রী গোয়েবেলস বলেছিলেন, “একটি মিথ্যাকে বারবার বললে, সেটাতে সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করে”—এই গল্পে সেই নীতিটিরই প্রয়োগ হতে দেখা যায়। বারবার কোনও বিষয় নিয়ে কৌশলগত ভাবে মিথ্যা বললে মানুষ নিজেদের যুক্তি বা সত্যকেই সন্দেহ করতে শুরু করেন — এটিই গ্যাসলাইটিং-এর মূলকৌশল।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৯ : মণিহারা: করিডর, সেজবাতি আর…

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
বিষ্ণুশর্মা এই গল্পের মাধ্যমে তার শিক্ষার্থীদের শুধু কৌশলের নৈতিকতা নয়, সত্যের ভঙ্গুরতাও বুঝতে শিখিয়েছেন—যখন বারবার মিথ্যার সামনে সত্য দাঁড়ায়। এটাই শিক্ষা দেয়, শুধু বই পড়ে নয়, চারপাশের ছলনা চিনে নিতে পাঠ্য বইয়ের বাইরে আমাদের ভাবা শিখতে হবে। এ জন্য নবীন শিক্ষার্থীদের কাছে এইরকম গল্প শুধু বিনোদন নয়, যুগোপযোগী এক সতর্কতার পাঠ।
পঞ্চতন্ত্রকার বলছেন, “এই পৃথিবীতে এমন কোনও মানুষ নেই, যিনি কখনো নতুন ভৃত্যের মায়াভরা ব্যবহার কিংবা অপরিচিত অতিথির মধুর কথা; প্রেমিকার অভিনয়ের কান্না বা ধূর্ত ব্যক্তির চাতুর্য্যে ঠকেননি। জীবনের পথে প্রত্যেকেই এমন মধুর ছলনায় কমবেশি বোকা হয়েছেন।
বৃদ্ধ মন্ত্রী স্থিরজীবী তার অভিজ্ঞতা দিয়ে বলেন, শত্রুপক্ষ দুর্বল হলেও সংখ্যায় যদি তারা বেশি হয়, তাদের সঙ্গে সংঘাতে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। দুর্বলৈরপি বহুভিঃ সহ বিরোধো ন যুক্তঃ।” ফলে অনেক ছোট শক্তিও যদি সংগঠিত হয়, তাহলে তারা খুব বড় শত্রুকেও হার মানাতে পারে। একা শক্তিশালী হলেও, সংখ্যাধিক্যের কাছে কেউ টিকতে পারে না। তাই কৌশলী মানুষের উচিত, নিরর্থক অহংকার না করে সময় ও পরিস্থিতি বুঝে সামলে চলা। সংখ্যায় যারা বেশি, তাদের সঙ্গে অযথা বিরোধ না করা। মানবসমাজে সংহতি ও দলের শক্তির এই চিরন্তন সত্যটি আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
স্থিরজীবী বললেন, শাস্ত্রে বলে—
বহবো ন বিরোদ্ধব্যা দুর্জযা হি মহাজনাঃ।
স্ফুরন্তমপি নাগেন্দ্রং ভক্ষযতি পিপীলিকাঃ।। (কাকোলূকীযম্ ১২১)
বহু মানুষের সঙ্গে যুদ্ধ নয়, কারণ বহু লোক মিলিত হলে অপার শক্তি ধরে। ঠিক যেমন রাগে ফুঁসতে থাকা বিরাট সাপকেও এক দল পিঁপড়ে খেয়ে নিয়েছিল। মেঘবর্ণ জিজ্ঞাসা করলেন, “কথমেতৎ – ব্যাপারটা ঠিক কী হয়েছিল?”
স্থিরজীবী বলতে শুরু করলেন।—চলবে।
পঞ্চতন্ত্রকার বলছেন, “এই পৃথিবীতে এমন কোনও মানুষ নেই, যিনি কখনো নতুন ভৃত্যের মায়াভরা ব্যবহার কিংবা অপরিচিত অতিথির মধুর কথা; প্রেমিকার অভিনয়ের কান্না বা ধূর্ত ব্যক্তির চাতুর্য্যে ঠকেননি। জীবনের পথে প্রত্যেকেই এমন মধুর ছলনায় কমবেশি বোকা হয়েছেন।
বৃদ্ধ মন্ত্রী স্থিরজীবী তার অভিজ্ঞতা দিয়ে বলেন, শত্রুপক্ষ দুর্বল হলেও সংখ্যায় যদি তারা বেশি হয়, তাদের সঙ্গে সংঘাতে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। দুর্বলৈরপি বহুভিঃ সহ বিরোধো ন যুক্তঃ।” ফলে অনেক ছোট শক্তিও যদি সংগঠিত হয়, তাহলে তারা খুব বড় শত্রুকেও হার মানাতে পারে। একা শক্তিশালী হলেও, সংখ্যাধিক্যের কাছে কেউ টিকতে পারে না। তাই কৌশলী মানুষের উচিত, নিরর্থক অহংকার না করে সময় ও পরিস্থিতি বুঝে সামলে চলা। সংখ্যায় যারা বেশি, তাদের সঙ্গে অযথা বিরোধ না করা। মানবসমাজে সংহতি ও দলের শক্তির এই চিরন্তন সত্যটি আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
স্থিরজীবী বললেন, শাস্ত্রে বলে—
বহবো ন বিরোদ্ধব্যা দুর্জযা হি মহাজনাঃ।
স্ফুরন্তমপি নাগেন্দ্রং ভক্ষযতি পিপীলিকাঃ।। (কাকোলূকীযম্ ১২১)
বহু মানুষের সঙ্গে যুদ্ধ নয়, কারণ বহু লোক মিলিত হলে অপার শক্তি ধরে। ঠিক যেমন রাগে ফুঁসতে থাকা বিরাট সাপকেও এক দল পিঁপড়ে খেয়ে নিয়েছিল। মেঘবর্ণ জিজ্ঞাসা করলেন, “কথমেতৎ – ব্যাপারটা ঠিক কী হয়েছিল?”
স্থিরজীবী বলতে শুরু করলেন।—চলবে।
* পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি (Panchatantra politics diplomacy): ড. অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (Anindya Bandyopadhyay) সংস্কৃতের অধ্যাপক, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়।


















