
ছবি : প্রতীকী।
কাকোলূকীযম্
মহর্ষি চোখ বন্ধ করলেন। তিনি বেদান্তের প্রবক্তা, তিনি জানেন আত্মার কোনো লিঙ্গ হয় না, ব্রহ্মস্বরূপের কোনও অশৌচ হয় না। এই সমাজিক ভয় তো কেবল মানুষেরই তৈরি করা নিগড়! যখন চোখ খুললেন, তখন তাঁর দৃষ্টিতে আর কোনও শাস্ত্রভয় নেই। সেখানে জ্বলজ্বল করছে এক শাশ্বত পিতৃসত্তার প্রশান্ত তেজ।
দৃপ্ত কণ্ঠে মহর্ষি উচ্চারণ করলেন সেই যুগান্তকারী বাক্য, যা মনু বা পরাশরের বিধানকে তুচ্ছ করে মানুষের মর্যাদাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরল: “আমার এই কন্যার বিবাহ আমি যোগ্য এবং অনুরূপ বরের সঙ্গেই দেবো। অন্য কারও সঙ্গে নয়।”
অর্থাৎ, “প্রয়োজন হলে আমি নরকে যাব, আমার পুণ্যক্ষয় হবে হোক, সমাজ আমাকে একঘরে করে করুক—কিন্তু নিজের আত্মরক্ষার জন্য, কেবল শাস্ত্রের ভয়ে আমি আমার কন্যাকে কোনও অযোগ্য পাত্রের হাতে ছুঁড়ে ফেলব না। সে আমার কন্যা, সে কোনও পাপের আধার নয়। যতক্ষণ না মহাবিশ্বের শ্রেষ্ঠ পাত্র আমি তার জন্য খুঁজে পাচ্ছি, ততক্ষণ আমি তাকে রক্ষা করব।”
প্রাচীন ভারতের পটভূমিতে এটি ছিল এক নীরব কিন্তু প্রচণ্ড শক্তিশালী বিদ্রোহ। যাজ্ঞবল্ক্যের এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি গল্পের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত নয়; এটি হল ধর্মশাস্ত্রের যান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে উপনিষদের মানবিকতার জয়। এটি প্রমাণ করে, প্রাচীন ভারতে যেমন অন্ধ শাস্ত্রীয় বাধ্যবাধকতা ছিল, তেমনি সেই শাস্ত্রের চোখরাঙানিকে উপেক্ষা করে সন্তানের মঙ্গলের জন্য বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর মতো পিতৃহৃদয়ও ছিল।
দৃপ্ত কণ্ঠে মহর্ষি উচ্চারণ করলেন সেই যুগান্তকারী বাক্য, যা মনু বা পরাশরের বিধানকে তুচ্ছ করে মানুষের মর্যাদাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরল: “আমার এই কন্যার বিবাহ আমি যোগ্য এবং অনুরূপ বরের সঙ্গেই দেবো। অন্য কারও সঙ্গে নয়।”
অর্থাৎ, “প্রয়োজন হলে আমি নরকে যাব, আমার পুণ্যক্ষয় হবে হোক, সমাজ আমাকে একঘরে করে করুক—কিন্তু নিজের আত্মরক্ষার জন্য, কেবল শাস্ত্রের ভয়ে আমি আমার কন্যাকে কোনও অযোগ্য পাত্রের হাতে ছুঁড়ে ফেলব না। সে আমার কন্যা, সে কোনও পাপের আধার নয়। যতক্ষণ না মহাবিশ্বের শ্রেষ্ঠ পাত্র আমি তার জন্য খুঁজে পাচ্ছি, ততক্ষণ আমি তাকে রক্ষা করব।”
প্রাচীন ভারতের পটভূমিতে এটি ছিল এক নীরব কিন্তু প্রচণ্ড শক্তিশালী বিদ্রোহ। যাজ্ঞবল্ক্যের এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি গল্পের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত নয়; এটি হল ধর্মশাস্ত্রের যান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে উপনিষদের মানবিকতার জয়। এটি প্রমাণ করে, প্রাচীন ভারতে যেমন অন্ধ শাস্ত্রীয় বাধ্যবাধকতা ছিল, তেমনি সেই শাস্ত্রের চোখরাঙানিকে উপেক্ষা করে সন্তানের মঙ্গলের জন্য বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর মতো পিতৃহৃদয়ও ছিল।
নিজ সিদ্ধান্তে অটল থেকে মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য এবার সেই রক্ষণশীল শাস্ত্রবাক্যগুলির খণ্ডন করতে শুরু করলেন। তিনি তো কেবল শাস্ত্রজ্ঞই নন, তিনি প্রজ্ঞাবানও বটে। তাই আপৎকালীন শাস্ত্রবিধির বিপরীতে দাঁড়িয়ে অন্যান্য শাস্ত্রকার ও নীতিবিদদের অধিকতর উদার ও যৌক্তিক মতগুলি তিনি তাঁর স্ত্রীর সামনে তুলে ধরলেন। দৃপ্ত কণ্ঠে তিনি উচ্চারণ করলেন নীতিশাস্ত্রের সেই অমোঘ শ্লোক—
যযোরেব সমং বিত্তং যযোরেব সমং কুলম্।
তযোর্বিবাহঃ সখ্যঞ্চ ন তু পুষ্টবিপুষ্টযোঃ।। [কাকোলূকীয়ম্–২০৯]
শ্লোকটির মর্মার্থ প্রাঞ্জল করে বুঝিয়ে তিনি স্ত্রীকে বললেন, “হে দেবী, নীতিশাস্ত্রে স্পষ্ট বলা হয়েছে—যাঁদের বিত্ত বা সম্পদ এবং কুলমর্যাদা সমান, কেবল তাঁদের মধ্যেই বিবাহ, সখ্যতা বা শত্রুতার সম্বন্ধ স্থাপন করা উচিত। একজন পুষ্ট (সামর্থ্যবান) এবং একজন হীন বা দরিদ্র ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনও সম্বন্ধ কদাপি হওয়া উচিত নয়। শাস্ত্র আরও বলছে যে, কন্যাদানের সময় কেবল পাত্রের বিশেষ কয়েকটি গুণেরই বিচার করা উচিত—তার কুল, শীল, বংশ পরিচয়, সনাথতা (উত্তম আশ্রয় বা অভিভাবকত্ব), বিদ্যাচর্চা, বিত্ত, শরীর এবং বয়স। মূলত এই গুণগুলিই বিবেচ্য। অন্য কোনও গৌণ বিষয়ের চিন্তায় কন্যার ভবিষ্যৎ নষ্ট করা অনুচিত।”
মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্যের এই কথাগুলোর মধ্যে লুকিয়ে আছে প্রাচীন ভারতের এক অত্যন্ত বাস্তবমুখী ও আধুনিক মনস্তত্ত্ব। তিনি তাঁর স্ত্রীকে বোঝাতে চাইলেন, কেবল শাস্ত্রের জুজুবুড়ির ভয়ে বা সমাজের চাপে পড়ে অন্ধের মতো কন্যাদান করা ঘোরতর অন্যায়। যোগ্য পাত্র নির্বাচনের জন্য নীতিশাস্ত্রে আটটি সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি বা গুণের কথা বলা হয়েছে—কুল, শীল, বংশ পরিচয়, সনাথতা, বিদ্যাচর্চা, বিত্ত, শরীর এবং বয়স। এই আটটি গুণের বাইরে অন্য কোনও অপ্রয়োজনীয় বা গৌণ খুঁতখুঁতুনি দিয়ে কন্যার ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করা কোনও পিতারই উচিত নয়।
যযোরেব সমং বিত্তং যযোরেব সমং কুলম্।
তযোর্বিবাহঃ সখ্যঞ্চ ন তু পুষ্টবিপুষ্টযোঃ।। [কাকোলূকীয়ম্–২০৯]
শ্লোকটির মর্মার্থ প্রাঞ্জল করে বুঝিয়ে তিনি স্ত্রীকে বললেন, “হে দেবী, নীতিশাস্ত্রে স্পষ্ট বলা হয়েছে—যাঁদের বিত্ত বা সম্পদ এবং কুলমর্যাদা সমান, কেবল তাঁদের মধ্যেই বিবাহ, সখ্যতা বা শত্রুতার সম্বন্ধ স্থাপন করা উচিত। একজন পুষ্ট (সামর্থ্যবান) এবং একজন হীন বা দরিদ্র ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনও সম্বন্ধ কদাপি হওয়া উচিত নয়। শাস্ত্র আরও বলছে যে, কন্যাদানের সময় কেবল পাত্রের বিশেষ কয়েকটি গুণেরই বিচার করা উচিত—তার কুল, শীল, বংশ পরিচয়, সনাথতা (উত্তম আশ্রয় বা অভিভাবকত্ব), বিদ্যাচর্চা, বিত্ত, শরীর এবং বয়স। মূলত এই গুণগুলিই বিবেচ্য। অন্য কোনও গৌণ বিষয়ের চিন্তায় কন্যার ভবিষ্যৎ নষ্ট করা অনুচিত।”
মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্যের এই কথাগুলোর মধ্যে লুকিয়ে আছে প্রাচীন ভারতের এক অত্যন্ত বাস্তবমুখী ও আধুনিক মনস্তত্ত্ব। তিনি তাঁর স্ত্রীকে বোঝাতে চাইলেন, কেবল শাস্ত্রের জুজুবুড়ির ভয়ে বা সমাজের চাপে পড়ে অন্ধের মতো কন্যাদান করা ঘোরতর অন্যায়। যোগ্য পাত্র নির্বাচনের জন্য নীতিশাস্ত্রে আটটি সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি বা গুণের কথা বলা হয়েছে—কুল, শীল, বংশ পরিচয়, সনাথতা, বিদ্যাচর্চা, বিত্ত, শরীর এবং বয়স। এই আটটি গুণের বাইরে অন্য কোনও অপ্রয়োজনীয় বা গৌণ খুঁতখুঁতুনি দিয়ে কন্যার ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করা কোনও পিতারই উচিত নয়।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৩: স্মৃতিশাস্ত্রের রক্তচক্ষু বনাম এক স্নেহশীল পিতা: মূষিক-কন্যার বিবাহ-উপাখ্যান

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯২ : শিউলি বাড়ি

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৭৩: আকাশ এখনও মেঘলা
এই মাপকাঠিগুলোকে পৌরাণিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে এর গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়। ‘কুল’ বা ‘বংশ পরিচয়’ বলতে কেবল আভিজাত্য বা অহংকারকে বোঝায় না; এটি হল একটি পরিবারের সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা। যে পরিবারে সুদীর্ঘকাল ধরে শিষ্টাচার ও মূল্যবোধ চর্চিত হয়, সেখানকার সন্তানও সাধারণত সেই গুণাবলি লাভ করে। এর পাশাপাশি প্রয়োজন ‘সনাথতা’ এবং ‘বিত্ত’ । সনাথতা মানে হলো পাত্রের মাথার ওপর যোগ্য অভিভাবকের ছায়া থাকা বা তাকে সুরক্ষা দেওয়ার মতো সুদৃঢ় সামাজিক অবস্থান থাকা, যা এক নববধূর নিরাপত্তাবোধের জন্য অপরিহার্য। আর বিত্ত মানে কেবল পাহাড়প্রমাণ সোনাদানা নয়, বরং পরিবারকে স্বাচ্ছন্দ্যে রাখার মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য বা উপার্জন ক্ষমতা, যা বাস্তব সংসার ধর্মে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৩: রাজসূয় মহাযজ্ঞের প্রস্তুতিপর্বে পাণ্ডবদের দিগ্বিজয় যেন রাজনীতির আনুগত্য-আদায়ের পাঠ

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৫: চামচিকা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল পাত্রের ‘শীল’ (চরিত্র) এবং ‘বিদ্যাচর্চা’ (জ্ঞান)। পৌরাণিক যুগে এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল সাবিত্রী ও সত্যবানের উপাখ্যান। সত্যবানের পিতা রাজা দ্যুমৎসেন রাজ্য হারিয়ে অন্ধ ও নিঃস্ব হয়ে বনে বাস করলেও, সত্যবান ছিলেন সচ্চরিত্র বা ‘শীল’-এর মূর্ত প্রতীক। সাবিত্রী তাই ধনসম্পদ নয়, সত্যবানের এই বিনয় ও সত্যনিষ্ঠাকেই নির্বাচন করেছিলেন। অন্যদিকে, বিদ্যা বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে দেবাদিদেব মহাদেব ও দেবী পার্বতীর কথা স্মরণ করা যেতে পারে। মহাদেবের কোনও পার্থিব ধনসম্পদ বা রাজকীয় বংশপরিচয় ছিল না, কিন্তু তাঁর মতো জ্ঞানী, বিদ্যাধর এবং যোগী ত্রিলোকে আর কেউ ছিলেন না বলেই পার্বতী তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:

সাগর উঠে তরঙ্গিয়া

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট
সর্বশেষ বিবেচ্য হল পাত্রের ‘শরীর’ ও ‘বয়স’ —অর্থাৎ শারীরিক সুস্থতা, বল এবং কন্যার সাথে তার বয়সের সামঞ্জস্য। রামায়ণে সীতার স্বয়ংবর সভার কথা ভাবলে এই সমস্ত গুণের এক অপূর্ব সংশ্লেষ দেখা যায়। রাজা জনক কেবল রাজপুত্র দেখেই কন্যাদান করেননি; তিনি চেয়েছিলেন এমন এক পাত্র, যাঁর ‘শরীর’ বা বাহুবল হরধনু ভঙ্গের উপযুক্ত। শ্রীরামচন্দ্র যখন এলেন, তখন তিনি কেবল শারীরিক দিক থেকেই বলবান ছিলেন না; তাঁর বয়স ছিল যৌবনোদ্দীপ্ত, বিদ্যালাভ করেছিলেন স্বয়ং বিশ্বামিত্রের কাছে, তাঁর কুল ছিল রঘুবংশ এবং তাঁর ‘শীল’ বা বিনয় ছিল জগত্ বিখ্যাত। রামচন্দ্রের মধ্যে নীতিশাস্ত্রের এই আটটি গুণই সম্পূর্ণভাবে মিলে গিয়েছিল।
এই সমস্ত উদাহরণ ও যুক্তির মাধ্যমে যাজ্ঞবল্ক্য যেন তাঁর স্ত্রীকে আশ্বস্ত করলেন। সমাজ হয়তো অনেক অবান্তর বিচার করবে, পাত্রের অনেক খুঁত বা কাল্পনিক দোষের দোহাই দেবে, কিন্তু পিতা হিসেবে তাঁদের একমাত্র দায়িত্ব হল এই আটটি মূল স্তম্ভ মজবুত আছে কি না তা পরখ করে দেখা।
এই সমস্ত উদাহরণ ও যুক্তির মাধ্যমে যাজ্ঞবল্ক্য যেন তাঁর স্ত্রীকে আশ্বস্ত করলেন। সমাজ হয়তো অনেক অবান্তর বিচার করবে, পাত্রের অনেক খুঁত বা কাল্পনিক দোষের দোহাই দেবে, কিন্তু পিতা হিসেবে তাঁদের একমাত্র দায়িত্ব হল এই আটটি মূল স্তম্ভ মজবুত আছে কি না তা পরখ করে দেখা।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭০ : চার্চ হাসপাতালের সেই সকাল
এখানেই মহর্ষির চিন্তাধারার আধুনিকতা ও ব্যাপ্তি প্রকাশ পেল। আপৎকালীন অবস্থার অজুহাতে কোনও হীন বা অসম পাত্রের হাতে কন্যা সম্প্রদান করার যে ভয়ানক বিধান সমাজপতিরা দিয়েছিলেন, যাজ্ঞবল্ক্য তা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিলেন।
সব শেষে মহর্ষি এমন এক যুগান্তকারী কথা উচ্চারণ করলেন, যা প্রাচীন ভারতের নারী-স্বাধীনতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বললেন, “সুতরাং আমি আমার কন্যার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ পাত্রেরই সন্ধান করব। তবে, যদি আমাদের কন্যা পাত্রস্থ হওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে এবং সর্বোপরি ‘যদি অস্যা রোচতে’ —অর্থাৎ, পাত্রকে যদি তার নিজের পছন্দ হয়, তবেই আমি এগোব। আমি স্থির করেছি, ভগবান আদিত্য বা সূর্যদেবকে আমি আহ্বান করব। কন্যা যদি তাঁকে পছন্দ করে, তবে তাঁর হস্তেই আমি আমার কন্যাকে সম্প্রদান করব।”
‘যদি অস্যা রোচতে’ —কন্যার মতামত বা সম্মতির (consent) এই যে সুস্পষ্ট স্বীকৃতি, এটাই তো প্রাচীন ভারতের প্রকৃত অন্তর্নিহিত রূপ! বাল্যবিবাহ বা বলপূর্বক সম্প্রদানের যুগে দাঁড়িয়ে কন্যার মানসিক প্রস্তুতির কথা ভাবছেন এক পিতা।
স্বামীর এই গভীর প্রজ্ঞা, উদারতা ও কন্যাস্নেহে মুগ্ধ হলেন ঋষিপত্নী। তাঁর মন থেকে যাবতীয় শঙ্কা ও দুশ্চিন্তার মেঘ নিমেষে কেটে গেল। প্রশান্ত মুখে তিনি সম্মতি জানিয়ে বললেন, “এ তো অতীব উত্তম প্রস্তাব! এতে ক্ষতির তো কোনও কারণই দেখি না। আপনি তাই করুন। প্রথম পাত্র হিসেবে ভগবান সূর্যদেবকেই আহ্বান করুন।”—চলবে।
সব শেষে মহর্ষি এমন এক যুগান্তকারী কথা উচ্চারণ করলেন, যা প্রাচীন ভারতের নারী-স্বাধীনতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বললেন, “সুতরাং আমি আমার কন্যার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ পাত্রেরই সন্ধান করব। তবে, যদি আমাদের কন্যা পাত্রস্থ হওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে এবং সর্বোপরি ‘যদি অস্যা রোচতে’ —অর্থাৎ, পাত্রকে যদি তার নিজের পছন্দ হয়, তবেই আমি এগোব। আমি স্থির করেছি, ভগবান আদিত্য বা সূর্যদেবকে আমি আহ্বান করব। কন্যা যদি তাঁকে পছন্দ করে, তবে তাঁর হস্তেই আমি আমার কন্যাকে সম্প্রদান করব।”
‘যদি অস্যা রোচতে’ —কন্যার মতামত বা সম্মতির (consent) এই যে সুস্পষ্ট স্বীকৃতি, এটাই তো প্রাচীন ভারতের প্রকৃত অন্তর্নিহিত রূপ! বাল্যবিবাহ বা বলপূর্বক সম্প্রদানের যুগে দাঁড়িয়ে কন্যার মানসিক প্রস্তুতির কথা ভাবছেন এক পিতা।
স্বামীর এই গভীর প্রজ্ঞা, উদারতা ও কন্যাস্নেহে মুগ্ধ হলেন ঋষিপত্নী। তাঁর মন থেকে যাবতীয় শঙ্কা ও দুশ্চিন্তার মেঘ নিমেষে কেটে গেল। প্রশান্ত মুখে তিনি সম্মতি জানিয়ে বললেন, “এ তো অতীব উত্তম প্রস্তাব! এতে ক্ষতির তো কোনও কারণই দেখি না। আপনি তাই করুন। প্রথম পাত্র হিসেবে ভগবান সূর্যদেবকেই আহ্বান করুন।”—চলবে।
* পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি (Panchatantra : politics & diplomacy): ড. অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (Anindya Bandyopadhyay) সংস্কৃতের অধ্যাপক, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়।


















