বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
মানুষের মনের ভাবনা যদি পড়ে ফেলা যেতো! অনেক সিদ্ধপুরুষ নাকি পারেন! তাঁরা ভূত-ভবিষ্যৎ বলতে পারেন। তেমন নাকি আজকাল এআই-ও ভবিষ্যৎ বলছে! হয়তো অতীতও বলবে। এভাবে এগোতে এগোতে কোনওদিন যদি মানুষের মনের কূ-চিন্তা কূ-ভাবনা লোকসমক্ষে এআই কখনও বেআব্রু করে দেয়! পুরুষ-মহিলা, বুড়োবুড়ি, জ্ঞানীগুণী মানুষেরা। রাজনৈতিক নেতামন্ত্রী শিক্ষক-শিক্ষিকা অফিসের বস বা গাড়ীর ড্রাইভার মনের গভীরগোপনে কোনও ভয়ানক চিন্তায় শান দিচ্ছেন সবই তো ফুটপাথে সাজানো কচি ঢেঁড়স বা ঝিঙ্গের মতো স্পষ্ট চোখের সামনে দেখা যাবে!
—কদিন আগে তোদের বাড়ির কাছেই গিয়েছিলাম!
বিতান বাধ্য হয়ে নৈঃশব্দ্য ভাঙ্গে।
দিয়াকে জবাব দিতে হবে। স্বাভাবিক গলায় সে বলে ওঠে।
—কোথায়?
—এই তো বাগুইআটি মেন রোড দিয়ে ঢুকে ষাটগাছি থেকে আমরা সোজা জুগিপাড়া হয়ে যাবো, এটা ষাটগাছি থেকে ডানহাতে কৃষ্ণপুর রোড ধরলেই সামনে বাঁদিকে পড়বে। নামটা হল…কী যেন …মিতালী …ইয়েস মিতালী ম্যারেজ হল। তিনতলা বাড়ি। খারাপ না! একটা বৌভাতের নেমতন্ন ছিল বিনিদের রিলেটিভ। গ্রাউন্ড ফ্লোরে কয়েকটা দোকান, মিতালী বলেই একটা কেক পেস্ট্রি ক্যাডবেরি এসবের দোকান আছে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা : দ্বিতীয় অধ্যায়, পর্ব-৬০: আকাশ এখনও মেঘলা

সংসার ভেঙে… চলে গেলেন শঙ্কর

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৬: ব্রিটিশ বাংলার বিপ্লবীরা অনেক সময় পালিয়ে এসে আশ্রয় নিতেন ত্রিপুরায়

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৫ : যে জন রহে মাঝখানে

বিতান বিনির বেফাঁস কথা বলে দেওয়ার অস্বস্তিটা কাটাবার জন্যে অকারণে কথা বলেই যাচ্ছে।
—তুই গেছিস ওখানে?
দিয়ার তৎক্ষণাৎ উত্তর।
—না।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫১: জরাসন্ধ কাহিনির আধুনিকতা

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৪ : দেবী — ব্যথার পুজো হয়নি সমাপন

বিতানকে বলা যাবে না। আত্মীয়স্বজনরা কেউই মা-মেয়ের সংসারযুদ্ধে শামিল হতে চায়নি। ওরাও পারতপক্ষে যোগাযোগ রাখে না। দিয়ার মা শান্তি – তাঁর বাবা চলে যাবার পর কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে আর যেতে চান না! নিমন্ত্রণ এলে কখনও দিয়ার অফিস থেকে আসতে দেরী হবে বা গ্যাস এজেন্সিতে অডিট হবে এসব বলে এড়িয়ে যায়। আর নিমন্ত্রণ না নিলে দেওয়া-থোওয়ার প্রশ্নই নেই। দিয়া দু-একবার লৌকিকতার প্রশ্ন তুলেছে। মা বলেছেন—
—তুই থাম! লোকটাই নেই তো কিসের লৌকিকতা! এখন আর চক্ষুলজ্জা নেই!
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪১: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — গড়িয়োল

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৯ : দুই সাপের বিবাদ ও রাজকন্যার গুপ্তধন লাভ! প্রাকারকর্ণের চাণক্য-নীতিতে মুগ্ধ উলূকরাজ

আসলে বাবার মৃত্যুটা অবশ্যম্ভাবী জেনেও দিয়ার মা আজও মেনে নিতে পারেননি। বিয়েবাড়িতে গেলে তাঁর বোধহয় দু-ধরণের কষ্ট হয়! এক তো নিজের স্বামীকে হারিয়ে ফেলে বৈধব্যের আক্ষেপ। আর মেয়ের বিয়ে না-হওয়া বা বিয়ে না-দেওয়ার জন্য টিকা-টিপ্পুনির জ্বালা। মেয়েকে ভরসা করে একটা ভাল ছেলে একটা ভালো পরিবারে তুলে দেবার মতো এখনও কোনও যোগাযোগ হয়নি। লোকের কথা থেকে বাঁচতে তাড়াহুড়ো করে কোনও ভুল করতে চায় না শান্তি! চারদিকে ভাঙন! চোখের সামনে কতগুলো চেনাজানা মেয়ের ডিভোর্স হয়ে গেল। শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার। স্বামীর পরকীয়া। স্বামী-স্ত্রী লড়াই ঝগড়া। কারণ তো সব মোটামুটি একরকম। দিয়া এগুলো জানে। মাকে কী ভাবে এই ভাবনাগুলো কুরে কুরে খায়। রাতে ঘুমোতে দেয় না। দিয়া সবই বুঝতে পারে।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৬ : অগ্নি সংস্কার

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

তাই দিয়া জানে মাকে একা ফেলে সে কোথাও গিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারবে না। বিধবা মায়ের মেয়েদের বিয়ে কি হচ্ছে না? হচ্ছে হয়তো। তাদের শ্বশুরবাড়ি হয়তো কাছাকাছি। তারা হয়তো বৌয়ের বিধবা মায়ের দায়দায়িত্বটা বোঝে।
—কি রে ঘুমিয়ে পড়লি নাকি?
চিন্তার জাল ছিঁড়ে যায়। দিয়া ঘোর কেটে তাকায়। বিতান হাসছে!
—সামনের মোড়ে নামবি তো!
দিয়া আশেপাশে তাকায়। চেনা দোকান। চেনা সাইন বোর্ড। চেনা চেনা মানুষের জটলা।
—আরে এসে গিয়েছি তো! থ্যাঙ্ক ইয়ু রে!
—বন্ধুদের থ্যাঙ্কস দিতে নেই! অফিসে গেলে একদিন চা খাইয়ে দিস।
—হ্যাঁ, সিওর! কবে আসবি!
—কি করে যাবো! তুই তো অফিসের নামধামই বললি না!
—ওহো! কিন্তু এখন রাস্তার মধ্যে লিখবি কি করে?
—হোয়াটস আপ করে দে! ওই যে দেখ সামনে আমার কার্ড আছে!—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content