শনিবার ৭ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

রামের দণ্ডকারণ্য যাত্রায়, স্ত্রী জানকী সীতার ঘোর আপত্তি। অরণ্যবাসী ঋষিদের অনুরোধ রক্ষার্থে বিনা অপরাধে রাক্ষসনিধনের বিপক্ষে সওয়াল করলেন রামের কাছে। তাঁর মতে, বনবাসী রামের ক্ষত্রধর্মপালনের উদ্দেশ্যে শস্ত্রধারণ, অবশ্যই ধর্মসঙ্গত কাজ। অন্যথায় অরণ্যে মুনিজনোচিত ধর্মপালন করাই কর্তব্য। দেবী সীতা, তপোবনে পবিত্রমনে কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে ধর্মাচরণ বিধেয় বলে, মনে করেন। স্বামীর কল্যাণকামনায় নিবেদিতপ্রাণা দেবী সীতার বক্তব্য শুনে ধার্মিক রাম তাঁর নিজের ধ্যানধারণা ব্যক্ত করলেন। রামের মতে, সীতা হলেন ধর্মজ্ঞা জনকনন্দিনী। তিনি রামের প্রতি প্রীতিবশত তাঁর আভিজাত্যের অনুরূপ পরম্পরাগত কথাই বলেছেন। রাম কি আর বলেন, সীতা নিজে বলেছেন যে আর্তকণ্ঠস্বর যেন না শোনা যায়, সেই কারণেই ক্ষত্রিয়গণ অস্ত্রধারণ করে থাকেন। দণ্ডকারণ্যের কঠোরব্রতাবলম্বনকারী আর্ত মুনিগণ স্বয়ং এসে শরণাগতের আশ্রয়, রামের শরণাপন্ন হয়েছেন। ফলমূল তাঁদের জীবনধারণের উপায়। তাঁরা চিরকাল বনবাসজীবনেই অভ্যস্ত। অথচ ওই নিষ্ঠুর রাক্ষসদের কারণে,মুনিদের মনে আজ শান্তি নেই। এমন কি নরমাংসভোজী রাক্ষসরা তাঁদেরকে ভক্ষণ করছে। রাম জানালেন, রাক্ষসদের ভক্ষ্যে পরিণত হয়ে, দণ্ডকারণ্যবাসী দ্বিজশ্রেষ্ঠ মুনিগণ, রামের কাছে এসে বলেছেন, অস্মানভ্যবপদ্যৈতে আপনি আমাদের বাঁচান। তাঁদের নিজেদের মুখে এই কথা শুনে, রাম তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, আপনারা আমার প্রতি সদয় হন, আপনাদের তুল্য মুনিগণ যে কারণে আমার শরণ নিয়েছেন। আমার উচিত কাজ ছিল, আপনাদের কাছে নিজে যাওয়া। এটি আমার জন্যে অতীব লজ্জার বিষয়। প্রসীদন্তু ভবন্তো মেঽহ্রীরেষা তু মমাতুলা।যদীদৃশৈরহং বিপ্রৈরুপতস্থেয়ৈরুপস্থিতঃ।।
রাম সেই সাক্ষাতের বিবরণ দিচ্ছেন। তিনি সবিনয়ে মুনিদের জানালেন, আমি আপনাদের জন্য কি করতে পারি? কিং করোমীতি চ ময়া ব্যাহৃতং দ্বিজসন্নিধৌ। তখন সমাগত সকলে এক সুরে বলে উঠলেন, দণ্ডকারণ্যে আমরা, যথেচ্ছ রূপধারণে অভ্যস্ত রাক্ষসদের দ্বারা উৎপীড়িত হয়েছি। হে রাম, তুমি আমাদের রক্ষা কর। রাক্ষসৈর্দণ্ডকারণ্যে বহুভিঃ কামরূপিভিঃ। অর্দ্দিতাঃ স্ম ভৃশং রাম ভবান্ নস্তত্র রক্ষতু।। অত্যাচারের বিভিন্ন ছবি তুলে ধরলেন ঋষিগণ। যজ্ঞাগ্নির আহুতি জ্বলে উঠলেই, ঠিক নির্দিষ্ট শুভক্ষণে নরমাংসভোজী দুর্ধর্ষ রাক্ষসরা অত্যাচার শুরু করে। রাক্ষসদের দ্বারা অত্যাচারিত তপস্যায় ব্যাপৃত তপস্বীগণ সর্বদাই একজন রক্ষক খুঁজছেন, রাম সেই পরম আশ্রয়। মুনিগণ জানালেন, নিশ্চয়ই তাঁরা তপস্যার প্রভাবে নিশাচর রাক্ষসদের বধ করতে সক্ষম হবেন। তবে তাঁদের চিরায়ত তপস্যার আত্মশক্তি ক্ষয় করতে তাঁরা ইচ্ছুক নন। একে তপস্যা বিঘ্নসঙ্কুল ও তপশ্চর্যা সর্বদা দুরূহ। তাই রাক্ষসরা তাঁদের ভক্ষণ করলেও মুনিগণ অভিশাপ দেন না। তাই রামের কাছে,মুনিগণের আকুল আর্তি, তদর্দ্দ্যমানান্ রক্ষোভির্দণ্ডকারণ্যবাসিভিঃ। রক্ষকস্ত্বং সহ ভ্রাত্রা ত্বন্নাথা হি বয়ং বনে।। রাক্ষসদের উৎপীড়নের শিকার দণ্ডকারণ্যবাসী মুনিগণ। ভাই লক্ষ্মণসহ আপনি এই বনে আমাদের রক্ষক হন, আপনি যে আমাদের পরিত্রাতা।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৯: রাজসূয় মহাযজ্ঞের মাহাত্ম্য ও আধুনিকতা

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১১: স্বপ্নভূমি তিলজলা

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪৩: গর্গজাতক: হাঁচি

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৬: বক্সনগরে আবিষ্কৃত হয়েছে বৌদ্ধ স্তুপ, চৈত্যগৃহ ও একটি মঠ

রাম জানকীকে জানালেন, দণ্ডকারণ্যে ঋষিদের এমন কথা শুনে, তিনি তাঁদের সার্বিকভাবে রক্ষার্থে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন। প্রাণ থাকতে মুনিগণের কাছে কৃত প্রতিশ্রুতি অন্যথা হতে দিতে পারেন না। কারণ সত্যই রামের চির অভীষ্ট। সত্যমভীষ্টং মে সদা নিজের বিশ্বাসের প্রতি অটল আত্মপ্রত্যয়ী রাম ঘোষণা করলেন, হে সীতে,আমি তোমাকে ও লক্ষ্মণকে এমন কি জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিতে পারি, কিন্তু যে কোনও প্রতিজ্ঞা, বিশেষ করে ব্রাহ্মণদের কাছে কৃত প্রতিজ্ঞা হতে আমি বিচ্যুত হতে পারি না। অপ্যহং জীবিতং জহ্যাং ত্বাং বা সীতে সলক্ষ্মণাম্। ন তু প্রতিজ্ঞাং সংশ্রুত্য ব্রাহ্মণেভ্যো বিশেষতঃ।। তাই ঋষিদের রক্ষণাবেক্ষণ রামের অবশ্যকর্তব্য। হে বৈদেহি, ঋষিরা না বললেও, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে কি করে তা থেকে সরে আসি? অনুক্তেনাপি বৈদেহি প্রতিজ্ঞায় কথং পুনঃ। রাম জানেন তাঁর প্রতি প্রেম ও সৌহার্দ্যবশত সীতা যে মিনতি করেছেন,তাতে রাম প্রীত হয়েছেন। কারণ অপ্রিয় জনকে কেউ হিতোপদেশ দেয় না। স্ত্রীর প্রতি গভীর আস্থায় রাম বললেন, হে শুভে, তুমি যা বলেছ,তা তোমার বংশাভিজাত্যের যোগ্যই বটে।তুমি আমার সহধর্মিণী,তুমি যে আমার প্রাণের থেকেও প্রিয়। সদৃশঞ্চানুরূপঞ্চ কুলস্য তব শোভনে। সধর্ম্মচারিণী মে ত্বং প্রাণেভ্যোঽপি গরীয়সী।। মহান রাম, মিথিলারাজকন্যা প্রিয়া সীতাকে এই কথা বলে, ধনুক নিয়ে লক্ষ্মণসহ মনোরম তপোবনে যাত্রা করলেন।

রাম চললেন আগে আগে, সুশোভনা সীতা চললেন মধ্যবর্তিনী হয়ে, পিছনে ধনুর্দ্ধারী লক্ষ্মণ, তাঁদের অনুগমন করলেন। সীতার সঙ্গে, তাঁরা দুই ভাই, কত গিরিরাজি, বন এবং বহু রমণীয় নদী দেখতে দেখতে চললেন। নদীর বালুকাময় তটে বিচরণ করছে বহু সারস ও চক্রবাক। অনেক সরোবরে ফুটে আছে পদ্ম। সেখানে রয়েছে জলচর বিহঙ্গরা। শৃঙ্গবিশিষ্ট, মদোন্মত্ত, যূথবদ্ধ চিত্রিত হরিণেরা, মহিষ, বরাহ, গাছের শত্রু হস্তীরাও দৃশ্যমান। বহু পথ ধরে যেতে যেতে, ক্রমে সূর্যদেব ঢলে পড়লেন।একটি একযোজন বিস্তৃত, মনোরম সরোবর দৃষ্টিগোচর হল। সুরম্য তার তটভূমি,শ্বেত ও রক্তিম পদ্ম তার শোভা, গজযূথ তাকে অলঙ্কৃত করে তুলেছে, জলচর সারস ও বলাকাশ্রেণীতে সমাকীর্ণ সেই সরোবর। সেই প্রসন্ন পূত জলবিশিষ্ট সুন্দর সরোবর হতে গানবাজনার শব্দ শোনা যাচ্ছে, কিন্তু সেখানে কোনও জনমানুষ দেখা যায় না। কৌতূহলী হয়ে মহাবীর রাম ও লক্ষ্মণ, ধর্মভৃত নামে এক মুনিকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। হে মহামুনি, এই অতি অদ্ভুত শব্দ শুনে আমাদের সকলের অত্যন্ত কৌতূহল হচ্ছে। এর কারণ কী? বিশদভাবে বলুন তো। ইদমদ্ভুতং শ্রুত্বা সর্ব্বেষাং নো মহামুনে। কৌতূহলং মহজ্জাতং কিমিদং সাধু কথ্যতাম্।। ধর্মাত্মা মুনি রাঘবের অনুরোধ শুনে, দ্রুত সেই সরোবরটির প্রভাব বর্ণনা করতে লাগলেন। সরোবরটির নাম পঞ্চাপ্সর। এই সরোবর সর্বদাই জলপূর্ণ থাকে। মাণ্ডকর্ণি নামে এক মুনির তপোবলের ফলে এই সরোবরটির বিনির্মাণ। সেই মাণ্ডকর্ণি মুনি, শুধু বায়ু ভক্ষণ করে এই জলাশয়ে দশ সহস্র বৎসর ধরে কঠোর তপস্যা করেছিলেন। তখন অগ্নিসহ দেবতারা ব্যথিতচিত্তে সমবেত হয়ে পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন, এই মুনি নিশ্চয়ই আমাদের কারও পদপ্রার্থী। অস্মাকং কস্যচিৎ স্থানমেষ প্রার্থয়তে মুনিঃ।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু!, পর্ব-১১১: ডেসডিমোনার রুমাল/১০

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৬ : মায়ামৃগ

এই ভেবে, দেবতারা সকলে উৎকণ্ঠিত হলেন। মুনির তপস্যায় বিঘ্ন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দেবতারা সকলে মিলে, বিদ্যুতের মতো উজ্জ্বলপ্রভাময়ী পাঁচজন অপ্সরাকে নিয়োগ করলেন। যদিও সেই মুনি ছিলেন পরাবরতত্ত্বজ্ঞ অর্থাৎ পারমার্থিক ও জাগতিক বস্তু, উভয়বিষয়ে তত্ত্বজ্ঞানী তবুও দেবতাদের কার্যসিদ্ধির জন্যে অপ্সরারা তাঁকে কামনার বশীভূত করে তুললেন। সেই পাঁচজন অপ্সরাই রাজার পত্নী হলেন। সরোবরমধ্যে তাঁদের জন্যে গৃহ নির্মিত হল। সেখানে তাঁরা এখন সুখে বাস করছেন। তপোবলে যৌবন ধরে রেখেছেন যে মুনি তাঁকে আনন্দ দান করছেন সেই অপ্সরারা। ক্রীড়ারতা অপ্সরাদের মধুর সঙ্গীত ও বাদ্যধ্বনি শোনা যাচ্ছে। তার সঙ্গে মিশেছে,অলঙ্কারের শিঞ্জন। সরোবরের অভ্যন্তর হতে উৎসারিত শব্দের কারণ কী? কৌতূহলী রামের প্রশ্নের উত্তরে শব্দের উৎসবিষয় বিশদভাবে বর্ণনা করলেন, ধর্মভৃত মুনি। মহাযশস্বী রাম ও লক্ষ্মণভাই,আত্মজ্ঞানী মুনির কথায় বিস্মিত হলেন। তিনি তার সারার্থ গ্রহণ করে, বলে উঠলেন, আশ্চর্য্যমিতি কি আশ্চর্য বিষয়। বলতে বলতে রাম, কুশচীরপরিব্যাপ্ত, ব্রহ্মসাধনার শ্রীযুক্ত আশ্রমসমূহ দেখতে পেলেন। বৈদেহী ও লক্ষ্মণসহ সেই সুন্দর আশ্রমগুলিতে প্রবেশ করে, মহর্ষিদের দ্বারা সম্মানিত, কাকুস্থ রাম, সেখানে সুখে বাস করে, পর্যায়ক্রমে তপস্বীদের আশ্রমগুলিতে যেতে লাগলেন। মহান শস্ত্রবিদ রাম কোথাও দশমাস, কোথাও বৎসরকাল, কোথাও চার,কোথাও বা পাঁচমাস, কোথাও তিন বা কোথাও আটমাস, কোথাও অর্দ্ধমাসের কিছু বেশি সময় বাস করলেন। তিনি কোথাও তিনমাস কোথাও বা আটমাস সুখে বাস করলেন। আনন্দের সঙ্গে ঋষিগণের আশ্রমে, অনুকূল পরিবেশে, বসবাস করলেন রাম। এইভাবে দশ বৎসরের বেশী সময় অতিবাহিত হল। আবার সীতাকে সঙ্গে নিয়ে ধর্মজ্ঞ রাম, সুতীক্ষ্ণ ঋষির আশ্রমে ফিরে এলেন। অরিন্দম রাম, সেখানে মুনিগণের দ্বারা সমাদৃত হয়ে কিছুদিন বাস করলেন।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৯: জলমুরগি

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৬ : কাঞ্চনজঙ্ঘা: ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী?

রাম, স্ত্রী সীতার যুক্তির প্রত্যুত্তরে সীতার কথিত ক্ষত্রিয়দের করণীয় বিষয় স্মরণ করেছেন।ধর্মজ্ঞা সীতা তাঁর রাজকীয় পরম্পরাগত শিক্ষানুসারে, রামকে ক্ষত্রিয়দের কর্তব্যসম্বন্ধে সচেতন করে বলেছিলেন, ক্ষত্রিয়ের ধনুষ্টঙ্কারে আর্তের কণ্ঠস্বর যেন মুছে যায়। কিং নু বক্ষাম্যহং দেবি ত্বয়ৈবোক্তমিদং বচঃ। ক্ষত্রিয়ৈর্ধার্য্যতে চাপো নার্ত্তশব্দো ভবেদিতি।। সীতার কথাই ফিরিয়ে দিলেন রাম। দণ্ডকারণ্যে, শরণাপন্ন মুনিগণকে রাক্ষসদের উৎপীড়নমুক্ত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন রাম। তাঁর উদ্যত ধনুক, আর্তের সুরক্ষাকার্যে নিবেদিত। রাম গভীর প্রত্যয়ে জানিয়েছেন,প্রাণের বিনিময়েও সেই সত্য অন্যথা হবার নয়। সংশ্রুত্য চ ন শক্ষ্যামি জীবমানঃ প্রতিশ্রবম্। মুনীনামন্যথা কর্ত্তুং সত্যমিষ্টং হি মে সদা। সত্যসম্বন্ধে রামের ধারণা চিরন্তন জীবনবোধের প্রতীক। আমাদের আটপৌড়ে জীবনের চৌহদ্দিতে একটি প্রতিশ্রুতিরক্ষা, সত্যের মানদণ্ড হয়ে ওঠে। সেই সত্য রক্ষার মূল্য হয়তো অনেক ত্যাগস্বীকার। সত্যের পথ কঠিন, কঠোর। সে পথে চলার জন্যে চাই টানটান বিবেকবোধ। বিবেকবোধ সত্যের সুকঠিন ভিত্তিভূমি। রামের বিবেকবোধের মর্মবাণী বোধ হয়, “সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা।”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৩: আঁধারে আছে আততায়ী

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৩: মাঝ-রাতে আশ্রমে একটি বালক কাঁদছিল কেন?

সাধের কাঙ্খিত রাজ্যপাট, যৌবরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রলোভন, পিতৃস্নেহবঞ্চিত হৃদয়ের হাহাকার, বিশ্বস্ত প্রিয়জনের প্রতারণা, এই সবকিছুর বিনিময়ে প্রতিশ্রুতিরক্ষার তাগিদ রামের জীবনকে নিয়ন্ত্রিত করেছে। সাধারণের কাছে কথা দেওয়া ও কথা রাখা—এই দুটি, প্রাকৃত প্রাত্যহিকতার গণ্ডীতে আবদ্ধ জীবনের মূল্যবোধের নির্ণায়ক। প্রতিশ্রুতিটি ন্যায়সঙ্গত কি না সে বিষয়ে ব্যক্তিবিশেষের মতানুসারে পার্থক্য থাকতেই পারে। ন্যায় অন্যায়ের এই বিতর্ক ছাপিয়ে ওঠে সত্যের কষ্টিপাথরে শুধু তার যাচাই, সেটি বাস্তবে কার্যে রূপায়িত হল কি না। সত্যরক্ষার ফল কী? রাম অটুট বিশ্বাসে ঘোষণা করেছিলেন, তিনি প্রিয় স্ত্রী ও ভাইকে পর্যন্ত ত্যাগ করতে পারেন কিন্তু সত্যপ্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে পারেন না। বাস্তবক্ষেত্রে তিনি প্রজাস্বার্থে নিজের স্ত্রীকে ত্যাগ করলেন যখন, সেখানে না ছিল কোনও প্রতিশ্রুতিরক্ষার তাগিদ, ছিল শুধু নিজের বিবেকবোধ, স্বচ্ছ, নির্মল রাখবার অঙ্গীকার। সত্যনিষ্ঠতার ফল বোধ হয়, নির্ভেজাল শান্তি। সত্যপ্রতিশ্রুতিরক্ষার প্রাপ্তি, বৈষয়িক বিত্ত, খ্যাতি প্রভৃতি লাভের মোহ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই প্রাপ্তির ঘর শূন্য থেকে যায়। তবু সত্য রক্ষায় আছে অপার শান্তি, মানসিক সুস্থিতিতে বাঁচতে চাওয়ার ইচ্ছা। পারিবারিক জীবনে এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরেতো বটেই, সবটাই আত্মিক বিকাশ। রামায়ণের প্রবাদপ্রতিম রামরাজ্যের রাজেন্দ্র, রাম, নিজের বঞ্চিত জীবন বৈরাগ্যর ধূসর রঙের রাঙিয়ে, সেটাই প্রমাণ করেছেন।—চলবে।

* মহাকাব্যের কথকতা (Epics monologues of a layman): পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় (Panchali Mukhopadhyay) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, যোগমায়া দেবী কলেজে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content