কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী।

প্রকাশ্য রাজসূয়যজ্ঞসভায় আমন্ত্রিত রাজাদের সম্মুখে কৌরববংশের প্রবীণতম সদস্য ভীষ্ম, কৃষ্ণের সমালোচক চেদিরাজ শিশুপালের জন্মবৃত্তান্ত বর্ণনা করলেন। তিনি জানালেন, অপরাধজনিতকারণে কৃষ্ণের হাতে শিশুপালের মৃত্যু নিশ্চিত। কুরুপিতামহ ভীষ্ম আরও জানালেন, শিশুপালের মায়ের অনুরোধে, কৃষ্ণ, শিশুপালের একশত অপরাধ ক্ষমা করবেন।

ভীষ্মের অনুমান, চেদিপতি শিশুপাল নিশ্চয়ই কৃষ্ণের সেই কৃষ্ণপ্রদত্ত বরদানের ভরসায়,প্রকাশ্যে তাঁর আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভীমের প্রতি সমরাহ্বান জানিয়ে এত ঔদ্ধত্য প্রকাশ করছেন। ভীষ্ম আশঙ্কা প্রকাশ করলেন, শিশুপালের এত বুদ্ধি নেই যে তিনি অচ্যুত কৃষ্ণকে যুদ্ধে আহ্বান জানাবেন। শিশুপাল নিশ্চয়ই কৃষ্ণের পরিকল্পিত বুদ্ধিবলে কৃষ্ণকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করছেন। ভীষ্ম বললেন,আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে কোন রাজা আছেন যিনি ভীষ্মের এমন নিন্দা করতে পারেন?যেমন যমের আক্রমণের শিকার এই কুলাঙ্গারটা করছেন? ভীষ্মমনে করেন, এই শিশুপাল নিশ্চয়ই মহাবাহু হরির তেজের অংশ।হরি সেই তেজ আবার ফিরিয়ে নিতে ইচ্ছুক হয়েছেন। তাই দুর্মতি চেদিরাজ, সকলকে নগণ্য ভেবে, সিংহের মতো গর্জন করছেন।
তখন ভীষ্মের কথা শিশুপালের অসহনীয় মনে হল। অত্যন্ত ক্রুদ্ধ শিশুপাল, প্রত্যুত্তরে ভীষ্মের যুক্তি উড়িয়ে দিলেন —স্তুতিপাঠকের মতো ভীষ্ম সতত স্বতঃস্ফূর্ত কৃষ্ণস্তুতিতে মগ্ন। ভীষ্মের কৃষ্ণপ্রভাব, যেন আমাদের শত্রুদের প্রভাবিত করে। দ্বিষতাং নোঽস্তু ভীষ্মৈষ প্রভাবঃ কেশবস্য যঃ। যস্য সংস্তববক্তা ত্বং বন্দিবৎ সততোত্থিতঃ। শিশুপাল ব্যঙ্গোক্তি করলেন, যদি অন্যের বন্দনায় ভীষ্মের আনন্দ হয়, তবে ওই জনার্দন কৃষ্ণকে ছেড়ে, এই রাজাদের স্তুতি কর। বরং বাল্মীকদেশের এই দরদরাজা, যিনি জন্মমাত্র নত হয়েছিল এই পৃথিবী, তাঁর স্তুতি করুক ভীষ্ম। অঙ্গদেশের অধিপতি সহস্রচক্ষু ইন্দ্রের সমকক্ষ, ধনুর্দ্ধারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, কর্ণের স্তব কর। অঙ্গরাজের আছে দেবনির্মিত কবচ ও কুণ্ডল, তিনি মহাবাহু,তাঁর আছে, নবোদিত শিশুসূর্যের প্রভা। বাসব ইন্দ্রের মতো অতিদুর্জয় জরাসন্ধ বাহুযুদ্ধে তাঁর কাছে পরাস্ত হয়েছিলেন, জরাসন্ধের দেহ বিদীর্ণ করেছিলেন তিনি। শিশুপালের স্তুতির বিষয়তালিকা আরও দীর্ঘ হল। তিনি বললেন,স্তবের যোগ্য, পিতা ও পুত্র, মহারথ এবং ব্রাহ্মণশ্রেষ্ঠ, দ্রোণ এবং দ্রোণপুত্র অশ্বত্থমার স্তুতি করুক ভীষ্ম।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৭০ : ঘটজাতক/৫ : সে আসিছে আজ কাল-বৈশাখে

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৮৯ : আকাশ এখনও মেঘলা

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৭: স্কুপ-নিউজ

শিশুপালের অনুমান — তাঁদের দু’জনের মধ্যে একজনই ক্রুদ্ধ হয়ে বিশ্বচরাচর সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে পারেন। শিশুপাল, যুদ্ধক্ষেত্রে, দ্রোণতুল্য কোন রাজাকেই দেখেননি। অশ্বত্থমার মতোও কেউ নেই। তাঁদের দুজনের স্তব করতে ইচ্ছে হয় না? শিশুপালের প্রশ্ন — আসমুদ্রপৃথিবীর অধীশ্বর, প্রতিপক্ষহীন, মহাবলশালী দুর্যোধন, অস্ত্রবিদ্যায় সুশিক্ষিত,মহাশৌর্যবান জয়দ্রথ এবং বিখ্যাত পরাক্রমশালী পুরুষশিক্ষক মহাবীর্যবান দ্রুমকে বাদ দিয়ে কেশব কৃষ্ণের অর্চনা কেন?

শিশুপালের আরও অনেক অভিযোগ আছে। যেমন, ভরতবংশীয়দের আচার্য (অস্ত্রশিক্ষক), প্রবীণ, শরদ্বতপুত্র, মহাবীর্যবান কৃপাচার্যকে অতিক্রম করে, ভীষ্ম কেন কেশবের প্রশংসা করছেন? ধনুর্দ্ধরদের মধ্যমণি, পুরুষশ্রেষ্ঠ মহাবীর্যবান রুক্মীকে ছাপিয়ে, কেশবের প্রশংসা কেন?মহাবীর ভীষ্মক, রাজা দন্তবক্র, ভগদত্ত, যূপকেতু, মগধাধিপতি জগৎসেন, বিরাট ও দ্রুপদ এই দু’জন, বিন্দ ও অনুবিন্দ, পাণ্ড্যরাজ, শ্বেত, উত্তর, শঙ্খ, সুমহান মান্যবর বৃষসেন,পরাক্রমী একলব্য, মহাবীর কলিঙ্গরাজ, এনাদের বাদ দিয়ে কৃষ্ণপ্রশংসা কেন? শিশুপালের অভিযোগ — সর্বদা যদি ভীষ্মের বুদ্ধি, অপরের স্তুতির জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে, তবে ভীষ্ম, শল্য প্রভৃতি রাজাদের স্তব করছেন না কেন? অতীতে প্রবীণতম ধর্মবক্তারা ভীষ্মের সঙ্গে ধর্মালোচনায় যা বলেছিলেন ভীষ্ম নিশ্চয়ই শোনেননি, তাই সেই বিষয়ে শিশুপাল কিই বা করতে পারেন? ভীষ্ম কি শোনেননি যে, নিজের নিন্দা ও পূজা এবং অপরের নিন্দা ও স্তুতি আর্যদের আচরণীয় ধর্ম নয়?
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৮: যুদ্ধে ছলনার আশ্রয় এবং বলপ্রয়োগ, উভয়ের কোনও তারতম্য আছে কি?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

শিশুপালের মতে, ভীষ্ম মোহবশে ভক্তিসহকারে সর্বদা সেই কেশবেরই স্তব করেন, যে কিনা স্তবের যোগ্য নয়। সেই স্তব কারও অনুমোদনযোগ্য নয়। শিশুপাল ভীষ্মকে প্রশ্ন করলেন, কংসের ভৃত্য, গোবৎসরক্ষক দুরাত্মা কেশবের মধ্যে ইচ্ছাকৃত সমস্ত জগতের সমাবেশ, কেন? কথং ভোজস্য পুরুষে বৎসপালে দুরাত্মনি। সমাবেশয়সে সর্ব্বং জগৎ কেবলকাম্যয়া।। ভীষ্মকে দোষারোপ করলেন, শিশুপাল — ভীষ্মের বুদ্ধি তার স্বভাবের অনুরূপ নয়।যেমন,ভীষ্মের বুদ্ধি কুলিঙ্গপাখির মতো। কুলিঙ্গপাখির প্রকৃতি বর্ণনা করলেন শিশুপাল। হিমালয়ের অপরপারে কুলিঙ্গপক্ষিণী আছে। সে সর্বদাই যা বলে তার বিপরীত অর্থবোধক কাজ করে বলে শোনা যায়। সে অবিরাম সশব্দে বলে চলে মা সাহসম সাহস কোর না। অথচ নিজে অতিসাহসের কাজ করে। সে সেটা বোঝেও না। ভীষ্মের স্বভাবের সঙ্গে কুলিঙ্গপক্ষিণীর সাদৃশ্য কোথায়? অল্পবুদ্ধি সেই কুলিঙ্গপক্ষিণী মাংসভক্ষণরত সিংহের দাঁতের ফাঁক হতে মাংস টেনে বের করে। স্পষ্টতই সে সিংহের ইচ্ছাতে বেঁচে থাকে। ভীষ্মকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন, অধার্মিক ভীষ্ম, তুমিও ওইরকম কথাই বলে থাক। তদ্বত্ত্বমপ্যধর্ম্মিষ্ঠ! সদা বাচঃ প্রভাষসে। এ বিষয়ে সন্দেহ নেই যে ভূপতিদের ইচ্ছাতেই ভীষ্ম বেঁচে আছেন।ভীষ্মকে ধিক্কার দিলেন শিশুপাল, তোমার মতো অন্য কেউ নেই, যিনি লোকের বিদ্বেষ জন্মায় এমন কাজ করে থাকেন। লোকবিদ্বিষ্টকর্ম্মা হি নান্যোঽস্তি ভবতা সমঃ। চেদিরাজের কটুকথা শুনে, চেদিরাজ শুনছেন এই অবস্থায়,ভীষ্ম বললেন, ইচ্ছতাং কিল নামাহং জীবাম্যেষাং মহীক্ষিতাম্। সোঽহং ন গণয়াম্যেতাংস্তৃণেনাপি সমান্ নৃপ !।। এই রাজাদের ইচ্ছাতেই না কি আমার জীবন।আমি এদের তৃণতুল্য মনে করি।ভীষ্ম এমন কথা বললে, সমবেত রাজারা ক্রুদ্ধ হলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ হাসলেন, কেউ কেউ ভীষ্মের নিন্দা করলেন। মহাধনুর্দ্ধর রাজারা কেউ ভীষ্মেরকথা শুনে বললেন, পাপী, গর্বিত, বৃদ্ধ ভীষ্ম ক্ষমার যোগ্য নন। স্থির করলেন,
সকল ক্রুদ্ধ রাজারা মিলে ভীষ্মকে পশুর মতো হত্যা করা উচিত। অথবা সকলে মিলে তৃণনির্মিত আসনে আগুন দিয়ে তাঁকে দগ্ধ করা হোক। তাঁদের কথোপকথন শুনে, বুদ্ধিমান,কুরুপিতামহ ভীষ্ম, তখন সেই রাজাদের বললেন, তাঁর মতে এই সব উক্তি, প্রত্যুক্তির কোনও শেষ নেই।ভীষ্ম যা বলবেন সেই সমস্ত কথা,রাজারা শুনুন। পশুর মতো হত্যা বা তৃণাসনের আগুনে পুড়িয়ে মারা যেটাই কর, আমি তোমাদের মাথায় সমস্ত পা রাখছি। পশুবদ্ ঘাতনং বা মে দহনং বা কটাগ্নিনা। ক্রিয়তাং মূর্ধ্নি বো ন্যস্তং ময়েদং সকলং পদম্।। এখানে গোবিন্দ কৃষ্ণ উপস্থিত আছেন, আমরা তাঁর পূজা করছি। যার মরণের তাড়া আছে,সে আজই চক্র ও গদাধারী মাধবকে যুদ্ধে আহ্বান জানাক। কৃষ্ণের হাতে বিনাশের পরে, সে কৃষ্ণের দেবদেহে প্রবেশ করুক।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

শ্রদ্ধাঞ্জলি : সঙ্গীতই আমার ফার্স্ট লাভ : শচীন দেববর্মণ

এষ তিষ্ঠতি গোবিন্দঃ পূজিতোঽস্মাভিরচ্যুতঃ। যস্য বা ত্বরতে বুদ্ধির্মরণায় স মাধবম্।।যুধিষ্ঠিরের আয়োজিতযজ্ঞে আমন্ত্রিত চেদিরাজ শিশুপাল, সমবেত রাজাদের উপস্থিতিতে মাননীয় পূজ্য অতিথি কৃষ্ণের সম্মানদানের বিরুদ্ধসমালোচনায় সোচ্চার হলেন। তাঁর মূল আক্রমণের লক্ষ্য কৃষ্ণ হলেও আয়োজক রাজা যুধিষ্ঠির ও প্রবীণতম কুরুপ্রধান পিতামহ ভীষ্ম রেহাই পেলেন না। শিশুপালের বাক্যবাণে বিদ্ধ হলেন মাননীয় ভীষ্ম। অতীতে ভীষ্মের কৃতকর্মের অপব্যাখ্যা করে তাঁর সম্মান ধূলিসাৎ করতে শিশুপালের আগ্রহ বেশি। দ্বিতীয় পাণ্ডব ভীম শিশুপালকে উচিত শিক্ষা দিতে উঠে দাঁড়ালেন। তাঁকে নিরস্ত করলেন পিতামহ ভীষ্ম। ভীষ্ম মনে করেন,শিশুপালের মৃত্যুবরণের ইচ্ছা হয়েছে,হয়তো সেই কারণেই তিনি ভীষ্ম ও কৃষ্ণের নিন্দা করছেন। কারণ কৃষ্ণের হাতে তাঁর মৃত্যু নির্দ্ধারিত রয়েছে। কৃষ্ণের উপস্থিতিতে তাঁর নিন্দা,মহাতেজস্বিতার লক্ষণ। কৃষ্ণের তেজ শিশুপালের মধ্যে নিহিত রয়েছে। তাই তাঁর এই তেজমিশ্রিত বিক্রমের প্রকাশ। কৃষ্ণের সহনশীলতার মাত্রা অতিক্রম করলে শিশুপালের মৃত্যু অবধারিত। কারণ কৃষ্ণ, অপরাধীর কৃত অপরাধের সহনশীলতার মাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেই মাত্রা একশত অপরাধ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। মানুষের আয়ুর সীমারেখা যদি শতবৎসরকাল নির্দিষ্ট হয়,তবে একশত অপরাধ পরিণতবুদ্ধির মানুষের জন্যে অপরিসীম সময়। বস্তুত অপরাধ, কোনও সংখ্যা বা কাল বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতির নয়। অপরাধের বীজ নিহিত আছে স্বভাবের গভীরে। শিশুপাল একজন আমন্ত্রিত রাজা। আয়োজক রাজা যুধিষ্ঠির, তাঁর পিতামহের অনুরোধে যজ্ঞানুষ্ঠানের প্রারম্ভে কৃষ্ণকে শ্রদ্ধার্ঘ্যদান করছেন। আমন্ত্রিত চেদিরাজের এই অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা, ধৃষ্টতার প্রকাশমাত্র এবং তা ঔদ্ধত্যের নামান্তর। শিশুপালের এই মতিভ্রমের মূলে আছে নিয়তির অমোঘবিধান, কৃষ্ণবিরোধিতা এবং সেই সূত্র ধরে মৃত্যুকে আবাহন। কৃষ্ণ সেই অনিবার্য মৃত্যুর নিয়ামক। ভীষ্ম তাঁর ইতিবাচক কৃষ্ণভক্তিরসে আপ্লুত হয়ে এই সমস্ত বিরুদ্ধ পরিস্থিতির ও শক্তির সদর্থক ব্যাখ্যা করেছেন। কেন এমন হচ্ছে? এর উত্তর বোধ হয় ভক্তির গভীরে খুঁজে পাওয়া যায়। কোনও নঞর্থক পরিস্থিতির শিকার হয়ে সঙ্কটের মোকাবিলায় মানুষ কোন পরম শক্তির উপস্থিতির আশ্রয় সন্ধান করে, তাতেই আছে মানসিক শান্তি, সকল জটিলতাময় দ্বন্দ্বের অবসান।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৬: শাঁখামুটি

প্রতিপক্ষ শিশুপাল একের পর এক রাজাদের নামোল্লেখ করেছেন।তাঁর মতে সেই রাজারা কৃষ্ণের থেকেও বেশি স্তুতিলাভের যোগ্য পাত্র। শিশুপালের মতে, ভীষ্ম নিতান্ত গোপালক দুর্বৃত্ত কৃষ্ণের মধ্যে সমস্ত জগতের সমাবেশ লক্ষ্য করছেন। শিশুপাল মনে করেন,ভীষ্মের এই মোহ বা অজ্ঞতাবশত বিভ্রান্তিময় কৃষ্ণস্তুতি, অতিভক্তির প্রকাশমাত্র। কেউ এই ভক্তি (আবেগের প্রকাশ) স্বীকার করেন না। যদস্তব্যমিমং শশ্বন্মোহাৎ সংস্তৌষি ভক্তিতঃ। কেশবং তচ্চ তে ভীষ্ম! ন কশ্চিদনুমন্যতে।। যখন মানুষ নঞর্থক দৃষ্টিতে কোন ব্যক্তি বা বস্তু কিংবা পরিস্থিতির বিচার করে তখন সব সদর্থক ভাবনা নঞর্থকতায় ভরে যায়। শিশুপালের দৃষ্টিভঙ্গী ধ্বংসাত্মক, বিনাশমুখী। তিনি নিজেই নিজের মৃত্যুর আয়োজনে মত্ত হয়েছেন তাই হয়তো সমস্ত বক্তব্যে নঞর্থকতা প্রকট হয়েছে। শিশুপাল, ভীষ্মের ধর্মচিন্তার মধ্যে কুলিঙ্গপক্ষিণীর স্বভাবের সাযুজ্য খুঁজে পেয়েছেন। কুলিঙ্গপক্ষিণী অপরকে ‘সাহস কোর না’ বলে নিজে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। আচরণ ও কাজ, এই দুটির মধ্যে সাযুজ্য নেই এবং সেই বুদ্ধি প্রকৃতিস্থ নয়। ভীষ্ম গোপালক দুর্বৃত্তকে বিশ্বজগতের নিয়ন্তা মনে করছেন,হয়তো এই বিন্দুতে সিন্ধুদর্শনকে অপ্রকৃতিস্থ বুদ্ধির প্রকাশ বলে মনে করেছেন শিশুপাল।
কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী।

মানুষের জীবনবোধ মহাকাব্য বা যে কোন সাহিত্যের বিষয় হয়ে থাকে। মানুষের অন্তর্দৃষ্টি প্রতিফলিত হয় কথায়, চিন্তার প্রকাশে এবং ব্যবহারে। মানুষের মনে নিরন্তর কালো ও আলোর খেলা চলছে। নিজের মনে কালো,আলো হবে কি না, সবটাই নিয়ন্ত্রণ করছে স্বভাব, বুদ্ধি এবং কিছুটা হয় তো পরিস্থিতিও। রাজসূয়যজ্ঞের আয়োজন অচিরেই পরিবর্তিত হয়েছে এক বাক্-যুদ্ধের আসরে,সেই পরিস্থিতি হয় তো ছিল কল্পনার অতীত। এই মহাকাব্যের পরতে পরতে রঙবদল, কালো ও আলো, ইতি ও নেতির সংঘাত নিরন্তর রামধনু রং বিস্তার করেছে।তাই বোধ হয়, যা নেই ভারতে তা নেই মহাভারতে।ভরতবংশীয়দের লাল নীল কালোর রঙবাহার ফুটে ওঠে সাদা আলোর প্রচ্ছদে যার নাম মহাভারত।—চলবে।
* মহাকাব্যের কথকতা (Epics monologues of a layman): পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় (Panchali Mukhopadhyay) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, যোগমায়া দেবী কলেজে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content