
—আমি জানি তোমার ভয়ঙ্কর খারাপ লাগছে এখানে এসে, আর কখনও এসো না, আজই শেষবারের মতো আমি তোমাকে ডেকেছি। তৃপ্তি, জানি না কার অভিশাপে আমাদের জীবনটা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। একমাত্র শান্তি যে ফাদার স্যামুয়েল অতনুর সব দায়িত্ব নিয়েছেন। বাড়ির দলিল টাকাপয়সা গয়নাগাটি যা আছে, মণির বরকে বোলো সেগুলো তোমার আর অতনুর নামে করে দিতে। এখনই। আর যেন দেরি না করে। আমি মণির বরকে বলেছি সে যেন মণিকে এ নিয়ে কিছু না জানায়। সন্তান হারিয়ে সে এখনও মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নয়! আর দিদিদের তো নয়ই, তারা যখন কোনও যোগাযোগ রাখে না… যাই হোক যেটা বলতে ডেকেছি, তুমি আর উকিলের পেছনে আর একটা পয়সাও খরচা করবে না।
—কী বলছ তুমি?
— ঠিকই বলছি। ভারতবর্ষের সেরা উকিল এলেও মহেশ্বরী তাকে কিনে নেবে! আমি আমার লড়াই একাই লড়বো!
—তা কি হয় নাকি?
— হয় ! আমাদের সংবিধান আমাদের সেই অধিকার দিয়েছে!
— কিন্তু তুমি তো আইন পড়োনি!
—যাঁরা আইন পড়ে এসেছিলেন তারা তো বেআইনি কাজ করছেন, তাদের পেছনে আর পয়সা খরচা করার কোন মানে নেই। নিজেই দেখি চেষ্টা করে।
—কাল তোকে চার্চে ফাদার স্যামুয়েলের কাছে দিয়ে আসব। এখানকার স্কুলে তুই টিকতে পারবি না। লোকজন তোকে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে দেবে না। কিন্তু তোকে অনেক বড় হতে হবে। আমি বা তোর বাবা লড়াইয়ে যদি হেরে যাই, বড়ো হয়ে লড়াইটা কিন্তু তোকে করতে হবে তনু! এইসব অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে হবে সেদিন। আর একটা কথা, ফাদার স্যামুয়েলের কাছে চার্চের কাছে আমাদের ঋণের কোনও শেষ নেই, সেটা কোনোদিন ভুলিস না! তাঁর জন্যে শিক্ষার যে সুযোগ তুই পাবি, তার একটা মিনিট একটা কণাও যেন বৃথা না যায়!

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৪৭: আকাশ এখনও মেঘলা

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১২: এ দিন যাবে, রবে না

পিতার ঔজ্জ্বল্য কখনও ম্লান হয়নি পুত্রের খ্যাতিতে

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৬: বক্সনগরে আবিষ্কৃত হয়েছে বৌদ্ধ স্তুপ, চৈত্যগৃহ ও একটি মঠ

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩০: কাদাখোঁচা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৬ : মায়ামৃগ

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৫: জরুরি একটি ফোন

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪০: রামের সত্যরক্ষা, প্রবাদপ্রতিম রামরাজ্যের স্রষ্টার বৈরাগ্যের রূপ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৭ : কাঞ্চনজঙ্ঘা: দেখা হবে চন্দনের বনে

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৩: মাঝ-রাতে আশ্রমে একটি বালক কাঁদছিল কেন?
—ভাই আজ কোর্টে কি হল?
ছেলেটি সাইকেল থেকে নেমে একমুহূর্ত মাথা নিচু করে তারপর চিৎকার করে কেঁদে উঠে বলল
—আজ সব শেষ হয়ে গেল বৌদি! দুলালদার দু’ বছরের জেল ২৫ হাজার টাকা জরিমানা না দিলে আরো এক বছর। হিসাবে চিন্তা করবেন না আমরা চাঁদা তুলে হায়ার কোর্টে আপিল করব!
ছাতের আলসের একটা অংশের পাঁচিলটা ভেঙে গিয়েছে। সারাবে সারাবে ভেবেছিল, সারানো হয়নি। সেখানটা একটা বাঁশের আগল দেওয়া আছে। তৃপ্তি সেই জায়গাটার দিকে উদ্ভ্রান্তের মত এগিয়ে আসছে।
ছেলেটা সদর দরজার বাইরে থেকে ছাদের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে—
—বৌদি সাবধান! পড়ে যাবেন! পাঁচিলটা যে ভাঙ্গা!
তৃপ্তি যেন কোনও কিছু শুনতে পাচ্ছে না, চোখে দেখতে পাচ্ছে না সামনে পাঁচিল নেই। পড়ে থাকা বাঁশটা জল পড়ে পচে গিয়েছে, টলতে টলতে এগিয়ে আসা তৃপ্তির পা লেগে ক্ষয়ে যাওয়া ভঙ্গুর বাঁশের কঙ্কালটা মট করে ভেঙে গেল।
— বৌদি!
পাড়ার লোকজনকে নিয়ে সদর দরজা ভেঙে ভেতরে এসে দেখা গেল উঠোনে তৃপ্তির দলাপাকানো শরীরটা থকথকে রক্তে ভেসে যাচ্ছে। টকটকে লাল কাঁচা রক্ত!—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















