রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
কল্যাণী থেকে বাসভাড়া করে পৌঁছনো হয়েছিল তিন ঘণ্টা দূরে বহরমপুরের সেই অস্থায়ী আস্তানায়। একতলায় বড় একটা বসার ঘর দু’খানা বাথরুম। বড়সড় রান্নাঘর। দোতলায় বারান্দা তিনটে শোবার ঘর একখানা বাথরুম। আর নদীর গা-ঘেঁষা সে বাড়িতে ছিল বিশাল ছাদ! কচিকাচারা এক ঘরে, মেয়েরা এক ঘরে আর পুরুষমানুষদের আর একটা ঘর। সুতরাং সেখানেও নতুন বিয়ে হওয়া স্বামী-স্ত্রীর একত্র কাটাবার কোনও সম্ভাবনা নেই।
কল্যাণী ফিরে আসার পরদিন, আবার স্বামী চলে যাবেন হরিণঘাটায়, কৃষিকলেজের মেসবাড়িতে। সেদিন রাতে ঘুমোতে যাবার আগে স্নিগ্ধা একবার জানতে চেয়েছিল—
—আমি কি এখানেই থাকবো আজীবন?
— কেন? কি অসুবিধা হচ্ছে এখানে!
—না মানে, বিয়ের পর একা একা এভাবে, কলেজের কোয়ার্টার না পাওয়া গেলে নয় বাড়িভাড়া করে থাকবো।
—আমার পরিবার আমার মাইনের উপর নির্ভর করে। ওখানে বাড়িভাড়া করে আলাদা করে সংসারপাতার অনেক খরচ। মেসবাড়িতে আমার যৎসামান্য খরচে চলে যায়। সুবিধে-অসুবিধেগুলো বুঝতে তো হবে। কোয়ার্টারের জন্য এপ্লাই করেছি, এতদিনে পেয়ে গেলে নিশ্চয়ই তোমায় নিয়ে যেতাম।
আরও পড়ুন:

আকাশ এখনও মেঘলা/৪১

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৯: শেফালিকার বিপদ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৭: বিলেতে হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের অস্ত্রোপচার

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৬: বিষণ্ণ সকাল, নিঃসঙ্গ আদিনাথ

এভাবে মাসছয়েক কাটার পর স্নিগ্ধা অস্থির হয়ে উঠেছিল। ছোটবেলা থেকেই সে যথেষ্ট ডাকাবুকো। সচরাচর মেয়েদের যে সমস্ত আতঙ্ক থাকে স্নিগ্ধার সেসব কোনওকালেই ছিল না। কল্যাণীর বাড়িতে সে জানাল, চুঁচুড়ার এক আত্মীয়ের সঙ্গে তার বাজারে দেখা হয়েছিল। তার কাছেই জানতে পেরেছে যে, মায়ের শরীর ভালো নয়। কিন্তু স্নিগ্ধা চিন্তাভাবনা করবে, বলেই বোধহয় মা আর কোন খবর পাঠাননি। মা একা থাকেন তাই স্নিগ্ধার যাওয়াটা খুব জরুরি। কল্যাণী থেকে নৈহাটি, সেখান থেকে নদী পেরিয়ে চুঁচুড়া। এমন কিছু কঠিন রাস্তা নয়, একটা ব্যাগে জামাকাপড় গুছিয়ে নিয়ে স্নিগ্ধা বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল। কিন্তু ট্রেনে নৈহাটি না গিয়ে সে মোহনপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। নিজে গিয়ে একবার দেখতে চায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সত্যিই কোয়ার্টার পাওয়ার অসুবিধে কতোটা বা জায়গাটা কেমন? স্বামীকে খানিকটা চমকে দিতেও চায় সে। দরকার হলে সেখানে কোন হোটেলে গিয়ে উঠবে। থাকার জায়গা তো নিশ্চয়ই আছে।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৪: সুন্দরবনের পাখি: গোত্রা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৯: ‘বেতারে দু-খানা গান গাইলাম, পারিশ্রমিক পেলাম দশ টাকা’

মোহনপুর পৌঁছে স্নিগ্ধা সরাসরি কলেজ অফিসে ব্যাগ রেখে প্রিন্সিপ্যালের সঙ্গে দেখা করল! সৌভাগ্যবশত প্রিন্সিপাল একজন মহিলা! কলেজ ফাঁকাই ছিল। জানা গেল একজন বয়স্ক অনেক পুরনো অফিসস্টাফ বহুদিন ভুগছিলেন। হাসপাতালে ছিলেন। কাল মারা গিয়েছেন। তাই আজ তাঁর স্মৃতিতে কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মহিলা বলেই হয়ত প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম একটু বাড়তি সৌজন্য দেখালেন।
—আপনি কি কলেজে কোনও কোর্সের ব্যাপারে খোঁজ নিতে এসেছেন বা কোনও স্টুডেন্টের ব্যাপারে?
— না আমার স্বামী এই কলেজে শিক্ষকতা করেন!
—তাই নাকি! কী নাম ওঁর?
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৩ : জনঅরণ্য: সরস্বতী না লক্ষ্মী?

স্নিগ্ধার কাছে নামটা শোনার পরেই মহিলা চুপ করে গেলেন। আগেই বেয়ারাকে দিয়ে চায়ের ব্যবস্থা করেছিলেন, চা আসার পর – স্নিগ্ধাকে চা খেতে অনুরোধ করলেন! চা শেষ হলে বললেন—
—দেখুন উনি তো এখন কলেজে নেই। আর আজ শনিবার কাল রবিবার ছুটি – হয়ত কাছেপিঠে কোথাও গিয়েছেন। একদম সোমবার ফিরে কলেজ করবেন। আমি কোয়ার্টারে ফিরবো। এই মাঠটার ওপারে, আপনি আসুন না!
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৬: জীবন নিয়ে কৌতুক আর ‘যৌতুক’

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!

প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম চাইছিলেন স্নিগ্ধা তাঁর সঙ্গে যায়। মহিলা তাঁর মায়ের বয়সী। হয়তো বিধবা কিংবা বিয়ে করেননি। কোয়ার্টারে গিয়ে জানতে পারল তার দ্বিতীয় অনুমানটাই সত্যি। প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম অনূঢ়া! বাড়িতে গিয়ে মহিলা একেবারে বদলে গেলেন। স্নেহশীলা আত্মীয়ার মতো পাশে এসে পিঠে হাত রেখে বলতে লাগলেন।
—দেখনু ভাই আপনি আমার থেকে বয়েসে অনেক ছোট! হয়তো আপনার মা বা মাসী আমারই বয়সী হবেন! আমি তোমায় তুমি করে বলি?
—হ্যাঁ, নিশ্চয়ই!
— এসব একেবারে ব্যক্তিগত ব্যাপার কিন্তু আমি জিজ্ঞেস না করে পারছি না। তোমার কতদিন বিয়ে হয়েছে?
—আটমাস মতো!
—সম্বন্ধ করে বিয়ে?
— হ্যাঁ!
—তোমার বাড়ি থেকে ভালো করে খোঁজ-খবর করেছিলেন!
—একথা বলছেন কেন?
— কতকগুলো কথা তোমায় বলা দরকার। তাই কলেজ থেকে কোয়ার্টারে নিয়ে এলাম! তোমার স্বামী কতদিন ছাড়া বাড়ি যান?
একটু চুপ করে থেকে স্নিগ্ধা জবাব দেয়—
—অনেক দিন বাদে বাদে।
— তুমি স্বামীর কাছে এসে থাকো না কেন?
—উনি বলেছেন কোয়ার্টার পাওয়া যায়নি। এখানে উনি মেসে থাকেন।
—এখানে ফ্যামিলি কোয়ার্টারের কিন্তু কোনও অভাব নেই! অ্যাপ্লাই করলেই অ্যালটমেন্ট হয়ে যাবে।
—মানে!
— আমি এখানে মাস ছ’য়েক দায়িত্ব নিয়েছি! স্টাফ কোয়ার্টার খালি থাকা সত্ত্বেও মেসে ভিড় বেশি। যেহেতু ওখানে খাওয়াদাওয়াটা পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের মেসের স্টাফ কম। খুব সমস্যা! শুনলাম বিবাহিত লোকজন ফ্যামিলি না এনে ব্যাচেলরস মেস অকুপাই করে আছেন। আমি কথা বলতে গেলে যাঁদের থেকে সবচেয়ে রেজিস্ট্যান্স পেলাম তাঁরা হলেন তোমার স্বামী আর তাঁর এক বন্ধু-সহকর্মী! পরে খোঁজ নিয়ে জানলাম, মেসে শুধু একটা ট্রিপল শেয়ারিং রুম! সেটা উনি আর অনার বন্ধু মাস্টারমশাই ডাবল শেয়ারিং করে বহুদিন রয়েছেন! আর ওঁদের মানে…দু’জনের মধ্যে সম্পর্কটা শুনেছি স্বাভাবিক নয়। দেয়ার গে! আই মিন…
—বুঝেছি, হোমোসেক্সুয়াল!—চলবে।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ । এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content