রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
কিন্তু ছন্দার মাথায় এটা কিছুতেই ঢুকছে না যে স্নিগ্ধা এই ঝঞ্ঝাটে গেল কেন? তার স্বামী তাকে নিয়ে যায়নি। এর জন্য তো দুলালের কোনও দোষ নেই। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে ছন্দা মনেপ্রাণে চেয়েছিল দুলালের সঙ্গে স্নিগ্ধার বিয়েটা হোক। মা হলেও মেয়ে তো? ছন্দা বুঝতে পারে দুলালকে স্নিগ্ধা মন-প্রাণ-শরীর সবটুকু দিয়ে চেয়েছিল! দুলালের প্রত্যাখ্যানে সে খানিকটা জেদ করে বাড়ির থেকে দূরে কল্যাণীতে, বয়সে বড় মাথায় টাক মানুষটাকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু সেখানে ছন্দপতন ঘটল কেন? তার স্বামীর কি কোনও অন্য সম্পর্ক ছিল? মেয়ের যন্ত্রণার মধ্যে এই প্রশ্নটা মা হয়ে আর করতে পারেনি ছন্দা!
জিজ্ঞেস করলেও অবশ্য উত্তরটা পেত না। স্নিগ্ধা জানে খোঁজখবর নিয়েই বিয়েটা হয়েছিল! বয়েসের তফাত হোক না বাড়ির থেকে দূরে দুলালের পরিধির এক্কেবারে বাইরে গিয়ে উদ্দাম ভালোবাসায় নতুন সংসার গড়তে চেয়েছিল স্নিগ্ধা। হোঁচট খাওয়ার শুরু ফুলশয্যার রাতে।
আরও পড়ুন:

আকাশ এখনও মেঘলা/৪০

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৫: কিশোরীর মেঘবেলা

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৫: সুস্থ থাকলে কেউ কি কবিতা লেখে?

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৯: ‘বেতারে দু-খানা গান গাইলাম, পারিশ্রমিক পেলাম দশ টাকা’

সেই বয়ঃসন্ধি থেকে নিজস্ব পুরুষের সান্নিধ্যের কল্পনায় এতগুলো বছর কেটেছে। বহু চেষ্টা করেও দুলালের হাত কখনও তার শরীর ছোঁয়নি! ফুলশয্যার সেই রোমান্টিক রাতে নিজের জীবনের সব চাওয়া-পাওয়াটুকু নিঃশেষ করে দেবে এমন একটা কল্পনা ছিল। কিন্তু মানুষটা তার ভাইপো-ভাইজি, পিসতুতো, মাসতুতো ভাই-বোনদের সঙ্গে ঠাট্টা মশকরা খুনসুটি সেরে প্রায় মাঝরাতে ঘরে এল! এসে এমন একটা অদ্ভুত কথা বলল যেটা সম্ভবত কোন বর তার বউকে ফুলশয্যার রাত্রে বলেনি।
— এ কী ঘুমোওনি! এখনও জেগে আছো? আমি তো ভাবলাম… সারাদিনের ধকলের পর ঘুমিয়ে পড়েছো!
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৩: সুন্দরবনের পাখি: বাটান

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১২ : স্বপ্নের নায়ক, নায়কের স্বপ্ন

পাশের লাগোয়া ছোট্ট ঘর থেকে বরের সাজ পাল্টে গেঞ্জি আর লুঙ্গি পরে নিল স্নিগ্ধার স্বামী! শোবার ঘরটা ছোট। খাট-আলমারি রেখে আলনা, ড্রেসিং টেবিল রাখার জায়গা নেই। পাশের একটা ছোট্টঘরে পোশাক বদলানোর ব্যবস্থা দেখে স্নিগ্ধা খারাপ লাগেনি। আর এ বাড়িতে তো বেশিদিন নয়। কলেজের কোয়ার্টার পেলেই স্নিগ্ধা স্বামীর সঙ্গে সেখানে চলে যাবে। ন’মাসে ছ’মাসে একবার কল্যাণীতে এলে তখন এই ঘরে থাকার ব্যবস্থা হবে।
—এসব ধরাচূড়ো ছাড়ো! এভাবে ঘুমোবে নাকি?
পাশের ঘরে রাতপোশাক পরতে পরতে স্নিগ্ধা ভাবতে লাগল। এতদিন হিন্দি সিনেমাতে সুহাগ রাতের যা যা দৃশ্য দেখেছে সেসব কি সাজানো? বিবাহিতা বান্ধবীরা বিয়ের পর ‘ধুলোপায়ে’ বাপের বাড়ি এসে, হেসে খুটিপাটি হয়ে যেসব গল্প বলতো….সেগুলো কি মিথ্যে?
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৫: মহর্ষি নারদের প্রশ্নচ্ছলে উপদেশগুলি যেন রাজনীতির পাঠ

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৭: জীবনখাতার প্রতি পাতায়

ঘরে এসে আবিষ্কার করল প্রথম রাতেই তার বিবাহিত স্বামী নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছে! ঝাঁপিয়ে পড়ে লোকটার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিতে ইচ্ছে হল! কিন্তু পারলো না! মা আকারে ইঙ্গিতে বলেও নিশ্চিন্ত হননি বলে, পরে এক খুড়তুতো দাদার বউকে দিয়ে বলিয়েছে—
—শোনো ভাই! জেঠিমার খুব ভয়! নিজের মুখে তো তোমায় বলতে পারেন না। তাই আমায় বুঝিয়ে বলতে বলেছেন!
—কী?
— বরের সঙ্গে বেশি ঝাঁপাঝাঁপি করো না। একটু রয়ে-সয়ে। লজ্জাভাব না দেখলে বর ভাববে বিয়ের আগে থেকেই এসব অভ্যেস আছে! খারাপ মেয়ে ভাববে!
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৮: দুর্গম গিরি কান্তার ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৪: অ্যাঙ্করেজের সঙ্গে সিউয়ার্ডকে জুড়েছে পৃথিবীখ্যাত সিউয়ার্ড হাইওয়ে

সেই বৌদি বলেছে, দুটো অচেনা মানুষের পরিচিতি হতে সময় লাগে! সেই সময়ের অপেক্ষায় ছিল স্নিগ্ধা। আর তার মাঝেই বিয়ের পর ‘ধুলোপায়ে’ বাপের বাড়ি এসে যখন আবার কল্যাণী ফিরল তখনও অল্পস্বল্প কথাবার্তা ছাড়া দু’জনে কাছাকাছি আসতে পারেনি। হনিমুনের কত গল্প শুনেছে, পড়েছে! কিন্তু তাদের নিজেদের সম্পর্কে মধ্যে রোমান্টিক চাঁদও উঠল না, মিষ্টিমধুর ভালোবাসার খোঁজও মিলল না। ছুটির সমস্যা, পরীক্ষা চলছে একের পর এক বাধা।
যাওয়া হল সকলকে নিয়ে দু’দিনের পিকনিকে বহরমপুরে। সেখানকার নদীর ধারেই বাড়িটা ছিল বিশাল ছাদ। এত কবিতা আবৃত্তি নাচের অনুষ্ঠান করা সত্ত্বেও সেদিন স্নিগ্ধা কোন কিছুতেই অংশ নেয়নি। জেদ করেই নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিল।
—আমি ঠিক এসব… দেখতে খুব ভালো লাগে!
স্নিগ্ধার স্বামী তার এক ভাগ্নিকে শিখণ্ডী খাড়া করে ক্যারামের রিবাউন্ড শর্ট এর মতো প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিল।
—বিয়ের আগে শুনলুম তোর মামি নাকি নাচ আবৃত্তি এসবে প্রাইজটাইজ পেয়েছে?
স্নিগ্ধাও সেই ভাগ্নির দেওয়াল সম্বল করেই রিবাউন্ড উত্তর পৌঁছে দিয়েছিল
— সে সব কবে কোন ছোটবেলায়! স্কুলে!
স্নিগ্ধা জানতো বিয়ের যোগাযোগ হতেই মা দুলালের সঙ্গে তোলা ছবি বা বড়বেলায় পাওয়া কাপ শিল্ড সব চিলেকোঠার কাঠের সিন্দুকে বাক্সবন্দী করে রেখেছেন। —চলবে।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ । এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content