রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

দুলাল সেন স্থির চোখে সামনের গরাদের দিকে তাকিয়ে। দুলাল কি ক্রমশ কালো হয়ে যাওয়া ভবিষ্যৎকে দেখতে চাইছে? পরদিন তাকে কোর্টে তোলা হবে। হাসান জানতে চাইল, কোনও উকিলের ব্যবস্থা হয়েছে কি না। চলে যাবার আগে শ্রমিক সংগঠনের লোকজন দুলালের সঙ্গে দেখা করেছিল। দুলাল জানায়, ইউনিয়নের লোকজন কী করবে, না করবে তার জানা নেই।

পরদিন কোর্টে উকিল এল। শ্রমিক সংগঠনের লোকজন রাতে গিয়ে লোকাল পার্টির নেতাদের ধরে উকিলের ব্যবস্থা করেছিল।
— দেখুন এখানে তো সেক্সুয়াল পেনিট্রেশন কিছু হয়নি। জামাকাপড় ছিঁড়ে খুঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। ডায়েরিতে ৩৫৪ বলছে। আমি দেখছি যদি কোনওভাবে বেলটা করানো যায়। আর এখানে জুটমিলের অ্যাঙ্গেলটা রয়েছে। এমনকি গাড়ি, ড্রাইভার সবই জুটমিলের মালিকের। তাই দুলালবাবুর বিরুদ্ধে কন্সপিরেসিটা নেহাৎ ফেলনা নয়। আইপিসির হান্ড্রেড টোয়েন্টি-বি লাগাতে পারলে একটা কাউন্টার করা যায়।
কোর্ট শুরু হওয়ার আগে সকাল দশটার সময় যে উকিল এই কথাগুলো বলল, বারোটার সময় দুলালকে কোর্টে তোলার পর সেই উকিলের মুখে তালা চাবি পড়ে গেল। দুলালের সাত দিনের পুলিশ কাস্টডি ধার্য হল। দুপুরবেলা ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের পাশের অন্নপূর্ণা হোটেলে মাছভাত খাবার পর মৌরি মুখে ফেলে দাঁত খুঁটতে খুঁটতে উকিলবাবু জানালেন, আরেব্বাবা এতো কিছু করাই গেল না! পুলিশ এমন ভাবে কেস সাজিয়েছে যে, কন্সপিরেসি আনতে গেলে ওরা আবার আইপিসি ৩৫২ লাগিয়ে ফিজিক্যাল অ্যাসাল্ট-এর অভিযোগ করতো। চিন্তা করবেন না নেক্সট হিয়ারিং-এ বেল হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৮: আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৫ ন হন্যতে

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৭, অন্য পুজো: ইতিহাসের আলোকে ত্রিপুরায় দুর্গাপূজা

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৩: শঙ্করের দেশান্তর, আখ্যানের অন্য পথ

ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের ছাতাপড়া কালো কোর্টপরা উকিলবাবুকে সেদিন সন্ধেবেলায় কলকাতার চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউর হতশ্রী ঘুপচি ডিউক রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে দেখা গেল। আরএন মুখার্জী রোডের অফিস থেকে একজন কর্মচারী এসে সাদা খামে কালো টাকা ভরে দিয়ে গিয়েছে। সেখান থেকেই দু-চারগাছা আঁশটে গন্ধের একশটাকার নোটের সুবাদে পরোটা মাংসের সঙ্গে জলের বদলে বিয়ার নিয়েছেন উকিলবাবু! হুইস্কির দাম চড়া, তাছাড়া এরপর মিনিবাসে হাওড়া স্টেশন, ট্রেনে চেপে চুঁচুড়া! নেশা হয়ে গেলে কেলেঙ্কারি! বৌকে বলেছে, কলকাতায় কর্পোরেট ক্লায়েন্ট মিটিং!
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৩: মহর্ষিকে অনুসরণ করে তাঁর পত্নীও বাড়ির পুজোতে যোগ দিতেন না

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে

ঘড়িতে তখন সকাল দশটা-পাঁচ একজন এসে হাতে একটা কাগজ গুঁজে দিল। তাতে স্পষ্ট অক্ষরে গোদা বাংলায় লেখা, ‘কেসে মাথা না ঘামালে বিনাশ্রমে পুরস্কার। সন্ধে ছটায় ১১নং সিআর অ্যাভিনিউ। এই কাগজ না ছিঁড়ে ফেললে পারিবারিক দূর্গতি।‘

দিনের পর দিন মক্কেলকে ঘোল খাইয়ে সংসারের রসদ জোগাড় করা উকিলবাবুর চিরকুটের ইশারা বুঝতে বিন্দুমাত্র অসুবিধে হয়নি! গতকাল প্রায় মাঝরাতে ইউনিয়নের লোকজনের সনির্বন্ধ অনুরোধে দরজা খুলে সবটুকু শোনার পরেই তিনি আন্দাজ করেছিলেন, ঠিক কী হয়েছে! আজ এই মহার্ঘ চিরকুটটি হাতে আসতেই সমীকরণ স্পষ্ট!
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৯: হাট্টিমা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৩: যুধিষ্ঠিরের সভায় উপস্থিত মহর্ষি নারদের প্রশ্নগুলি যেন রাজনীতির সার্বিক দিগদর্শন

ডিসট্রিক্ট কোর্টের আলকাতরা দিয়ে লেখা ‘পাবলিক প্রস্রাবখানা’ যথেষ্ট পুতিগন্ধময়! কিন্তু এমন সাঙ্কেতিক চিরকুটের গভীর গোপনীয়তা বজায় রাখতে সেই নরকই উপযুক্ত স্থান, ১১ সি আর অ্যাভিনিউ মাথায় গেঁথে চিরকুট কাগজের কুচিকুচি টুকরো নানান জায়গায় ছড়িয়ে দিলেন উকিলবাবু। যেমন নামি-দামী নেতা-মন্ত্রীদের চিতাভস্ম দেশের নানান নদী-সাগরে বিসর্জন দেওয়া হয়, তেমনই দুলাল সেনের খুন হওয়া চরিত্রের দেহাবশেষ নরকের দুর্গন্ধে বিসর্জিত হল।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

সেদিন রাতে তৃপ্তি অন্ধকারে উন্মাদের মতো পা ফেলছিল, ঝোপেঝাড়ে লুকিয়ে থাকা যদি কোনও বিষাক্ত ছোবলে সব শেষ হয়ে যেত, তবে যেন তার শান্তি! মিউনিসিপ্যালিটির আলো কিছুটা এসে বাকি রাস্তাকে বিদায় জানিয়েছে! আসছে ভোটে আবার হবে! কিন্তু মানুষ তো সর্বংসহা! তারা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে দূরে দূরে আলো লাগিয়েছে। তবে এই আলোরা নামেই বাড়ির কানেকশনে জ্বলে। আসলে তা চুরির বিদ্যুতে আলো ছড়ায়। চুঁচড়া-চন্দননগর অঞ্চলের আলোর রোশনাইয়ের প্রতিভা জগতসংসার জানে। তাদেরই কেউ কেউ এই কৃতিত্বের অধিকারী। দূরে দূরে জ্বলা টিমটিমে আলোয় ছায়া পড়ে না। হঠাৎ তৃপ্তির মনে হল সে কী ছায়াহীন হয়ে যাচ্ছে? — চলবে

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ । এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content