
ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।
ভাইফোঁটার দিনটা তৃপ্তির মনখারাপ করে থাকে। ১৭ বছরের ভাই রাজনৈতিক বোমাবাজির মধ্যে বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিল। বেঘোরে প্রাণ হারায়। অবশ্য সে মৃত্যুর কোনও দায় কেউ নেয়নি। পোস্টমর্টেমে যে কী পাওয়া গিয়েছিল সেটা আজও জানা যায়নি! কালীপুজোর সময় থেকেই তৃপ্তির মন খারাপ থাকে। সেদিন তার জ্বর এসেছিল।
কালীপুজোর দিন দুলালের ছুটি। দুপুরে খাবার সময় দুলাল মাকে বলল—
—তৃপ্তি খায়নি?
—পুজোর দিন সে তো জ্বর বাঁধিয়ে ঘরে শুয়ে আছে। সে অবিশ্যি খাসি-মুরগি কোনও মাংসই খেতে চায় না। একটু দুধসাবু দিয়েছিলুম খেয়ে শুয়েছে!
দুলাল মুরগির ঠ্যাং-এ জড়িয়ে থাকা মাংসের নরম কোয়া হাত দিয়ে ছাড়িয়ে নিল। কালীপুজো, মায় ছুটির দিন তাই একটু মুরগির মাংস এনেছিল দুলাল! তৃপ্তির জন্য পমফ্রেট মাছ!
—জ্বরজালি! ওকে আর একদিন ওর পমফ্রেটটা করে দেবো। জ্বর বেশি নয়, ছ্যাঁকছ্যাঁকে। ক্লান্তিটাই বেশি!
—তৃপ্তি খায়নি?
—পুজোর দিন সে তো জ্বর বাঁধিয়ে ঘরে শুয়ে আছে। সে অবিশ্যি খাসি-মুরগি কোনও মাংসই খেতে চায় না। একটু দুধসাবু দিয়েছিলুম খেয়ে শুয়েছে!
দুলাল মুরগির ঠ্যাং-এ জড়িয়ে থাকা মাংসের নরম কোয়া হাত দিয়ে ছাড়িয়ে নিল। কালীপুজো, মায় ছুটির দিন তাই একটু মুরগির মাংস এনেছিল দুলাল! তৃপ্তির জন্য পমফ্রেট মাছ!
—জ্বরজালি! ওকে আর একদিন ওর পমফ্রেটটা করে দেবো। জ্বর বেশি নয়, ছ্যাঁকছ্যাঁকে। ক্লান্তিটাই বেশি!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-২৭: আকাশ এখনও মেঘলা

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৫: রবীন্দ্রনাথের বিয়ের রাতে মারা গিয়েছিলেন ঠাকুরবাড়ির জামাই

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১০: ভুতুম প্যাঁচা
—না, এই ভাইফোঁটার সময়টা তো ওর মনমেজাজও…দুলাল কথা শেষ না করেই চুপ করে যায়। দূরে কোথাও মাইকে শোনা যায় হিন্দিগান ‘সাগর কিনারে’। দুলালের মা চাপাস্বরে জিজ্ঞেস করলেন—
—রাগ না করলে তোকে একটা কথা বলি।
বিয়ের পর মায়ের কাছে এই ধরনের কথা শুনলে বিবাহিত ছেলেদের প্রথমে যেটা মনে হয় সেটা হল মা আর বউয়ের সঙ্গে কোনও সমস্যা হয়েছে। দুলালও তার ব্যতিক্রম নয়।
—তৃপ্তি কি কিছু বলেছে?
—ওমা না না, বৌমা কেন কিছু বলবে? সে-সব কোনও ব্যাপার নয়!
—তাহলে?
—তোকে কখনও ছন্দা কিছু বলেছিল?
—কী বলবে?
—না, মানে স্নিগ্ধার সঙ্গে বিয়ে নিয়ে কিছু?
খাসি বা মুরগি’র মেটে মানে লিভারের অংশ দুলালের খুব প্রিয়! কথাটা শুনে সে মেটের টুকরোটা হাতে নিয়েও রেখে দিল।
—আজ এতদিন বাদে আবার এসব নিয়ে কথা কেন?
—না, এর মধ্যে স্নিগ্ধার বিয়ের দিনে তোর না যাওয়া নিয়ে মা-মেয়ে ট্যাঁকট্যাঁক করে কথা শুনিয়েছিল!
—তুমি বলনি তো কিছু!
—না, আসলে আমি সে-কথায় আমি অতো গুরুত্ব না দিলেও, আমি তোর বিয়েতে ওদের ডাকতে চাইনি।
—কি আশ্চর্য। আমিও চাইনি, পাড়ার পুরোনো লোক। পাছে তুমি কিছু বলো তাই আর…।
— আমি কেন চাইনি সেটা তো শুনলি! তোর আপত্তি কেন ছিল!
—ছোটবেলায় একরকম ছিল। কিন্তু স্নিগ্ধা বড় হবার পর অদ্ভুত হয়ে গিয়েছে। এমন ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বলে যেটা শুনতে একরকম লাগে কিন্তু মানেটা অন্যরকম! ছন্দাকাকিমা চিরকালই একটু কেমন মতো। স্নিগ্ধার বিয়ের আগে এক রবিবার বাড়িতে ডেকে অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলতে লাগল…
—রাগ না করলে তোকে একটা কথা বলি।
বিয়ের পর মায়ের কাছে এই ধরনের কথা শুনলে বিবাহিত ছেলেদের প্রথমে যেটা মনে হয় সেটা হল মা আর বউয়ের সঙ্গে কোনও সমস্যা হয়েছে। দুলালও তার ব্যতিক্রম নয়।
—তৃপ্তি কি কিছু বলেছে?
—ওমা না না, বৌমা কেন কিছু বলবে? সে-সব কোনও ব্যাপার নয়!
—তাহলে?
—তোকে কখনও ছন্দা কিছু বলেছিল?
—কী বলবে?
—না, মানে স্নিগ্ধার সঙ্গে বিয়ে নিয়ে কিছু?
খাসি বা মুরগি’র মেটে মানে লিভারের অংশ দুলালের খুব প্রিয়! কথাটা শুনে সে মেটের টুকরোটা হাতে নিয়েও রেখে দিল।
—আজ এতদিন বাদে আবার এসব নিয়ে কথা কেন?
—না, এর মধ্যে স্নিগ্ধার বিয়ের দিনে তোর না যাওয়া নিয়ে মা-মেয়ে ট্যাঁকট্যাঁক করে কথা শুনিয়েছিল!
—তুমি বলনি তো কিছু!
—না, আসলে আমি সে-কথায় আমি অতো গুরুত্ব না দিলেও, আমি তোর বিয়েতে ওদের ডাকতে চাইনি।
—কি আশ্চর্য। আমিও চাইনি, পাড়ার পুরোনো লোক। পাছে তুমি কিছু বলো তাই আর…।
— আমি কেন চাইনি সেটা তো শুনলি! তোর আপত্তি কেন ছিল!
—ছোটবেলায় একরকম ছিল। কিন্তু স্নিগ্ধা বড় হবার পর অদ্ভুত হয়ে গিয়েছে। এমন ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বলে যেটা শুনতে একরকম লাগে কিন্তু মানেটা অন্যরকম! ছন্দাকাকিমা চিরকালই একটু কেমন মতো। স্নিগ্ধার বিয়ের আগে এক রবিবার বাড়িতে ডেকে অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলতে লাগল…
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৬: আমরা আসলে কাকে পুজো করছি? ঈশ্বরকে, নাকি রক্তমাখা অভ্যাসকে?

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৮: সকলের উপর মা সারদার ছিল সমান অধিকার
—কী অদ্ভুত?
—ছাড়ো তো মা। ওরা কিছু কি বলেছে তোমায়!
—ওরা নয়, কিন্তু আমার কানেও কিছু কিছু কথা এসেছে। এখন আমার বাড়িতে বউ এসেছে। কেউ বদ উদ্দেশ্য নিয়ে আমার ছেলের ঘর ভাঙ্গাবে সেটা তো আমিও মেনে নেবো না!
—এর মধ্যে আবার এসব কোত্থেকে এলো?
—দেখ দুলাল মানুষ তো চিরকাল থাকে না। দুম করে তোর বাবা চলে গেলেন! যাবার বয়েস তো হয়নি! কতদিন হয়ে গেল! আমিও একদিন চলে যাবো। তোকে আগুপিছু ভেবে কাজ করতে হবে! আজ বাদে কাল তোদের ছেলেমেয়ে হবে। তাদের ভালোমন্দ নিয়ে ভাবতে হবে। তাই ঘরেবাইরে নজর রাখতে হবে, কে তোর ভালো চায় আর কে পিছনে ছুরি মারতে চাইছে খেয়াল করতে হবে! তাই তো কথাগুলো খুঁটিয়ে জানতে চাইছি!
—ওই তো, স্নিগ্ধার বিয়ের সম্বন্ধ নাকি আমাকে জড়িয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে!
—তার মানে?
—ছাড়ো তো মা। ওরা কিছু কি বলেছে তোমায়!
—ওরা নয়, কিন্তু আমার কানেও কিছু কিছু কথা এসেছে। এখন আমার বাড়িতে বউ এসেছে। কেউ বদ উদ্দেশ্য নিয়ে আমার ছেলের ঘর ভাঙ্গাবে সেটা তো আমিও মেনে নেবো না!
—এর মধ্যে আবার এসব কোত্থেকে এলো?
—দেখ দুলাল মানুষ তো চিরকাল থাকে না। দুম করে তোর বাবা চলে গেলেন! যাবার বয়েস তো হয়নি! কতদিন হয়ে গেল! আমিও একদিন চলে যাবো। তোকে আগুপিছু ভেবে কাজ করতে হবে! আজ বাদে কাল তোদের ছেলেমেয়ে হবে। তাদের ভালোমন্দ নিয়ে ভাবতে হবে। তাই ঘরেবাইরে নজর রাখতে হবে, কে তোর ভালো চায় আর কে পিছনে ছুরি মারতে চাইছে খেয়াল করতে হবে! তাই তো কথাগুলো খুঁটিয়ে জানতে চাইছি!
—ওই তো, স্নিগ্ধার বিয়ের সম্বন্ধ নাকি আমাকে জড়িয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে!
—তার মানে?
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৫: কতদিন পরে এলে

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৪: আনন্দমূর্তি রামের অভাবে অযোধ্যায় নৈরাশ্যের ছায়া, বাস্তব জীবনেও কি আনন্দহীনতা অবসাদ ডেকে আনে?
—ওই একসঙ্গে নাচ আবৃত্তির প্রোগ্রাম একসময় করতাম তো।
— সে তো অনেকেই করে একসঙ্গে প্রোগ্রাম করলে তাকে বিয়ে করতে হবে!
— সেটাই তো কথা, তারপর অনেক কথা…আমাদের দেখার কেউ নেই। ঘরের কাছে বিয়ে হলে মেয়ে দূরে কোথাও যাবে না।
—মা হয়ে নিজেই বলেছে এসব? কি নির্লজ্জ, কি বেহায়া মেয়েমানুষ রে!!
—হ্যাঁ, ঘাবড়ে গিয়ে তো আমার হাতের কাপ থেকে চা চলকে সাদা পাঞ্জাবিটা।
—ও হরি ওই যে হুটোপুটি করে পাঞ্জাবীটা লন্ড্রিতে দিয়ে এলি সে তো অনেককাল।
—হ্যাঁ স্নিগ্ধার বিয়ের আগে আগে ! সেদিন আবার ছন্দাকাকীমা বলেছিলেন ওদের বাড়িটা উনি নাকি বিয়ের পর মেয়ে-জামাইয়ের নামে লিখে দেবেন! শুনে আমি বললাম এমন শুনলে তো সুপাত্রের লাইন পড়ে যাবে! এরপর বিয়ের সম্বন্ধে ভাংচি পড়লে আমায় বলবেন, আমি যাবো কথা বলতে। আর আপনি যে আমায় কথাগুলো বলছেন এসব কি স্নিগ্ধা জানে?
—শুনে ছন্দা কি কিছু বলল?
—বলল হ্যাঁ!
—হবেই তো। কথায় বলে না যেমন মা তার তেমনি ছা!
— সে তো অনেকেই করে একসঙ্গে প্রোগ্রাম করলে তাকে বিয়ে করতে হবে!
— সেটাই তো কথা, তারপর অনেক কথা…আমাদের দেখার কেউ নেই। ঘরের কাছে বিয়ে হলে মেয়ে দূরে কোথাও যাবে না।
—মা হয়ে নিজেই বলেছে এসব? কি নির্লজ্জ, কি বেহায়া মেয়েমানুষ রে!!
—হ্যাঁ, ঘাবড়ে গিয়ে তো আমার হাতের কাপ থেকে চা চলকে সাদা পাঞ্জাবিটা।
—ও হরি ওই যে হুটোপুটি করে পাঞ্জাবীটা লন্ড্রিতে দিয়ে এলি সে তো অনেককাল।
—হ্যাঁ স্নিগ্ধার বিয়ের আগে আগে ! সেদিন আবার ছন্দাকাকীমা বলেছিলেন ওদের বাড়িটা উনি নাকি বিয়ের পর মেয়ে-জামাইয়ের নামে লিখে দেবেন! শুনে আমি বললাম এমন শুনলে তো সুপাত্রের লাইন পড়ে যাবে! এরপর বিয়ের সম্বন্ধে ভাংচি পড়লে আমায় বলবেন, আমি যাবো কথা বলতে। আর আপনি যে আমায় কথাগুলো বলছেন এসব কি স্নিগ্ধা জানে?
—শুনে ছন্দা কি কিছু বলল?
—বলল হ্যাঁ!
—হবেই তো। কথায় বলে না যেমন মা তার তেমনি ছা!
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৮ : গরুর চোখে জল

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৫: ইন্দ্রধনু আর ‘ইন্দ্রাণী’
—আমিও মুখের ওপর বলে দিয়েছিলাম আমার সেরকম কিছু মনে হলে আমি আমার মা, দুই দিদি-জামাইবাবুদের আগে জানাতাম।
—বেশ করেছিস, যেমন ঢ্যাঁটা স্বভাবচরিত্র তার মুখে তেমন জুতো পড়েছে!
—তাতে স্নিগ্ধা এসে আমায় দুটো কথা শুনিয়ে দিল তার বিয়ে নিয়ে আমায় মাথা ঘামাতে হবে না। হ্যানা-ত্যানা!
—খোকা তুই এসব ঘুণাক্ষরে কেন একবারও বললি না – অকারণে বিয়েবাড়ি গেলুম, রূপোর সিঁদুর কৌটোর পিছনে কটা টাকা নষ্ট হল!
একা একা শুয়ে শুয়ে ভালো লাগছিল না – জ্বর নেই ক্লান্তিটাও একটু কম তাই তৃপ্তি পায়ে পায়ে রান্নাঘরে যেতে গিয়ে স্নিগ্ধাকে নিয়ে মা-ছেলের কথাবার্তা শুনতে পেয়ে থমকে গেল! —চলবে।
—বেশ করেছিস, যেমন ঢ্যাঁটা স্বভাবচরিত্র তার মুখে তেমন জুতো পড়েছে!
—তাতে স্নিগ্ধা এসে আমায় দুটো কথা শুনিয়ে দিল তার বিয়ে নিয়ে আমায় মাথা ঘামাতে হবে না। হ্যানা-ত্যানা!
—খোকা তুই এসব ঘুণাক্ষরে কেন একবারও বললি না – অকারণে বিয়েবাড়ি গেলুম, রূপোর সিঁদুর কৌটোর পিছনে কটা টাকা নষ্ট হল!
একা একা শুয়ে শুয়ে ভালো লাগছিল না – জ্বর নেই ক্লান্তিটাও একটু কম তাই তৃপ্তি পায়ে পায়ে রান্নাঘরে যেতে গিয়ে স্নিগ্ধাকে নিয়ে মা-ছেলের কথাবার্তা শুনতে পেয়ে থমকে গেল! —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩খণ্ড)’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















