
সাইকেল থমথমে মুখে জিজ্ঞাসা করল, “কী হল ডাগ্দারবাবু, চুপ করে গেলেন কেন? বলেন, কী বলেছিল নুনিয়া আপনাকে যে, আপনি থানায় যেতেন?”
সত্যব্রত সামলে নিলেন। বেফাঁস কথাটি বলে ফেলেছেন, এখন থুতু গেলা ছাড়া তাঁর আর কোনও উপায় নেই। যে-ভাবেই হোক ব্যাপারটা ম্যানেজ করতে হবে। না হলে কেবল নিজেরই বিপদ না, নুনিয়াকেও বিপদে ফেলে দেওয়া হবে। এমনিতেই ওরা নুনিয়াকে শেষ করে দেওয়ার জন্য শিকারী কুকুরের মতো খুঁজছে, এবারে একেবারে মরিয়া হয়ে উঠবে।
সত্যব্রতকে চুপ থাকতে দেখে সাইকেল চেঁচিয়ে বলল, “অ্যাই ডাগদারবাবু, শালা দিল্লাগি করো না। তাহলে একেবারে খালাশ করে দেবো। এই সাইকেলের হাতে ছুরি-চাকু-পিস্তল—সব চলে সব। আমার সঙ্গে দোস্তের মতো ব্যবহার করবে তো তেমনটাই ফিরে পাবে। না হলে পাছায় বোঙ্গা ভরে দেবো। শালা হারামি! কথা বল্। বল কেন তুই থানায় যেতে চেয়েছিলি? কী বলেছে ওই হারামজাদি মেয়েটা?” সাইকেলের গলায় হিংস্রতা ফুটে উঠল। তার গলার স্বরে আর চেষ্টাকৃত কোমলতা নেই। বিনয়ের ছদ্মবেশ উধাও। উত্তেজনায় একেবারে তুমি থেকে তুইতে নেমে এসেছে সে।
সত্যব্রত ভিতরের উত্তেজনাকে গোপন করে যতদূরসম্ভব ঠান্ডা গলায় বললেন, “আরে সাইকেল, এত উত্তেজিত হয়ে কথা বলছ কেন? আমি তো বললাম, নুনিয়ার মাথার ঠিক নেই। কত কল্পনা করে, সেগুলিকেই দেখে চোখের সামনে। একে ডাক্তারি ভাষায় হ্যালুশিনেশন বলে। বুঝলে!”
“কী শিসান?” সাইকেল সন্দিগ্ধ গলায় প্রশ্ন করল।
“হ্যালুসিনেশন। মানে ধর তুমি মনে-মনে কিছু কল্পনা করতে থাকলে, তারপর তুমি নিজেই ভুলে গেলে যে তুমি কল্পনা করছ। তখন মনে করতে থাকলে যে, আসলে ওগুলি তোমার কল্পনা নয়। বাস্তবেই ঘটছে। তখন সে-সবকে বিশ্বাস করে তুমি সেইরকমভাবে আচরণ করতে আরম্ভ করলে। এই আর কী! তা নুনিয়ার যে সে-রোগ আছে, তা কি তোমরা জানো না?”
“না! কোনওদিন তো শুনিনি। ও হারামজাদির কখন জ্বর-জাড়িও তো হয়েছে বলে শুনি নি। ওকে কালাদেওও ছোঁবে না! ডায়েন আছে ও! ডায়েন!”
“ডায়েন?” বিস্ময়ের ভাব ফুটিয়ে তোলেন সত্যব্রত, “ডায়েন আবার হয় না-কি কেউ? ও-সব হল আরেকরকম হ্যালুসিনেশন। মানসিক ভ্রান্তি। মানে মনের ভুল আর-কি”
“যা জানিস না, তা নিয়ে বেশি কথা বলিস ক্যানে ডাগদার্ ? দু’ পাতা লিখাপড়া করেছিস বলে কি দুনিয়ার সবকিছু জেনে গেছিস ? আমাদের এদিকে এইরকম বজ্জাত মেয়েছেলেরা ডায়েন হয়ে যায়!”
সত্যব্রত সামলে নিলেন। বেফাঁস কথাটি বলে ফেলেছেন, এখন থুতু গেলা ছাড়া তাঁর আর কোনও উপায় নেই। যে-ভাবেই হোক ব্যাপারটা ম্যানেজ করতে হবে। না হলে কেবল নিজেরই বিপদ না, নুনিয়াকেও বিপদে ফেলে দেওয়া হবে। এমনিতেই ওরা নুনিয়াকে শেষ করে দেওয়ার জন্য শিকারী কুকুরের মতো খুঁজছে, এবারে একেবারে মরিয়া হয়ে উঠবে।
সত্যব্রতকে চুপ থাকতে দেখে সাইকেল চেঁচিয়ে বলল, “অ্যাই ডাগদারবাবু, শালা দিল্লাগি করো না। তাহলে একেবারে খালাশ করে দেবো। এই সাইকেলের হাতে ছুরি-চাকু-পিস্তল—সব চলে সব। আমার সঙ্গে দোস্তের মতো ব্যবহার করবে তো তেমনটাই ফিরে পাবে। না হলে পাছায় বোঙ্গা ভরে দেবো। শালা হারামি! কথা বল্। বল কেন তুই থানায় যেতে চেয়েছিলি? কী বলেছে ওই হারামজাদি মেয়েটা?” সাইকেলের গলায় হিংস্রতা ফুটে উঠল। তার গলার স্বরে আর চেষ্টাকৃত কোমলতা নেই। বিনয়ের ছদ্মবেশ উধাও। উত্তেজনায় একেবারে তুমি থেকে তুইতে নেমে এসেছে সে।
সত্যব্রত ভিতরের উত্তেজনাকে গোপন করে যতদূরসম্ভব ঠান্ডা গলায় বললেন, “আরে সাইকেল, এত উত্তেজিত হয়ে কথা বলছ কেন? আমি তো বললাম, নুনিয়ার মাথার ঠিক নেই। কত কল্পনা করে, সেগুলিকেই দেখে চোখের সামনে। একে ডাক্তারি ভাষায় হ্যালুশিনেশন বলে। বুঝলে!”
“কী শিসান?” সাইকেল সন্দিগ্ধ গলায় প্রশ্ন করল।
“হ্যালুসিনেশন। মানে ধর তুমি মনে-মনে কিছু কল্পনা করতে থাকলে, তারপর তুমি নিজেই ভুলে গেলে যে তুমি কল্পনা করছ। তখন মনে করতে থাকলে যে, আসলে ওগুলি তোমার কল্পনা নয়। বাস্তবেই ঘটছে। তখন সে-সবকে বিশ্বাস করে তুমি সেইরকমভাবে আচরণ করতে আরম্ভ করলে। এই আর কী! তা নুনিয়ার যে সে-রোগ আছে, তা কি তোমরা জানো না?”
“না! কোনওদিন তো শুনিনি। ও হারামজাদির কখন জ্বর-জাড়িও তো হয়েছে বলে শুনি নি। ওকে কালাদেওও ছোঁবে না! ডায়েন আছে ও! ডায়েন!”
“ডায়েন?” বিস্ময়ের ভাব ফুটিয়ে তোলেন সত্যব্রত, “ডায়েন আবার হয় না-কি কেউ? ও-সব হল আরেকরকম হ্যালুসিনেশন। মানসিক ভ্রান্তি। মানে মনের ভুল আর-কি”
“যা জানিস না, তা নিয়ে বেশি কথা বলিস ক্যানে ডাগদার্ ? দু’ পাতা লিখাপড়া করেছিস বলে কি দুনিয়ার সবকিছু জেনে গেছিস ? আমাদের এদিকে এইরকম বজ্জাত মেয়েছেলেরা ডায়েন হয়ে যায়!”
সত্যব্রত চাইছিলেন সাইকেলের কথার মোড অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে, যাতে সাইকেল আস্তে-আস্তে তার আগের প্রশ্নমালা ভুলে যায়। যাবে কি-না সে-ব্যাপারে নিঃসন্দেহ নন তিনি, কিন্তু চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কী? তিনি বললেন, “আচ্ছা, ধর তোমার মতটাই মেনে নিলাম যে, নুনিয়া একজন ডায়েন। তা ডায়েনদের শুনেছি অনেক অদ্ভুত ক্ষমতা থাকে। আর তারা শত্রুদের নানা অলৌকিক উপায়ে মন্ত্রতন্ত্র দিয়ে নিকেশ করে কিংবা ক্ষতি করে। আচ্ছা, ভালো করে ভেবে বল তো, নুনিয়া তোমাদের কারুর সঙ্গে কোনওদিন এইরকম কিছু করেছে?”
সত্যব্রতর প্রশ্ন শুনে সাইকেল একটু থমকে গেল। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “করেছে কি-না তা কী করে জানবো ? করেনি যে তারই বা প্রমাণ কী?”
“এই দেখ, তুমি নিজেই তোমার কথার জালে জড়িয়ে গেলে। নিজেই প্রথমে বললে যে, নুনিয়া একজন ডায়েন। তারপর বললে যে, সে ডায়েন হিসাবে যা-যা ক্ষতি করার কথা, কিংবা নিজের শক্তি দেখানোর কথা, তা দেখায়নি। ক্ষতিও করেনি কারও। আবার পরমুহূর্তেই বললে যে, করেনি যে তার প্রমাণ কোথায়? আচ্ছা, এই ছোট্ট পিশাচপাহাড়ে তার ঘোরাফেরা। এর বাইরে কোনওদিন সে কোথাও পা রেখেছে বলে তো আমার জানা নেই। তার যদি এমন কোনও ক্ষমতা থাকত, মানে সে যদি তোমার ভাষায় ‘ডায়েন’ হত, তাহলে সে-খবর কি তোমার কানে পৌঁছতো না ? তোমার নেটওয়ার্ক এত খারাপ তো নয়। হলে আমাকে এভাবে হেলথসেন্টার থেকে তুলে আনতে পারতে না!”
সত্যব্রতর প্রশ্ন শুনে সাইকেল একটু থমকে গেল। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “করেছে কি-না তা কী করে জানবো ? করেনি যে তারই বা প্রমাণ কী?”
“এই দেখ, তুমি নিজেই তোমার কথার জালে জড়িয়ে গেলে। নিজেই প্রথমে বললে যে, নুনিয়া একজন ডায়েন। তারপর বললে যে, সে ডায়েন হিসাবে যা-যা ক্ষতি করার কথা, কিংবা নিজের শক্তি দেখানোর কথা, তা দেখায়নি। ক্ষতিও করেনি কারও। আবার পরমুহূর্তেই বললে যে, করেনি যে তার প্রমাণ কোথায়? আচ্ছা, এই ছোট্ট পিশাচপাহাড়ে তার ঘোরাফেরা। এর বাইরে কোনওদিন সে কোথাও পা রেখেছে বলে তো আমার জানা নেই। তার যদি এমন কোনও ক্ষমতা থাকত, মানে সে যদি তোমার ভাষায় ‘ডায়েন’ হত, তাহলে সে-খবর কি তোমার কানে পৌঁছতো না ? তোমার নেটওয়ার্ক এত খারাপ তো নয়। হলে আমাকে এভাবে হেলথসেন্টার থেকে তুলে আনতে পারতে না!”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১১৬: বিপদে মোরে রক্ষা করো

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০০: অসুস্থ শরীরেও ভক্তদের দীক্ষাদান শ্রীমার
সত্যব্রতর যুক্তি শুনে সাইকেল একটু বিভ্রান্ত বোধ করে। অকাট্য যুক্তি, তা মানতেই হবে। সত্যিই তো, নুনিয়ার তেমন কোন কাণ্ডের কথা সে কখন শোনেনি। সে ইতস্তত করছিল। কী বলবে ভেবে পাচ্ছিল না। এমনস্ময় ঘরে উপস্থিত সাইকেলের এক স্যাঙাত বলল, “আমি জানি নুনিয়া ডায়েন আছে বট্যে। একবার ও কেবল চোখ দিয়ে একখানা লোহার শিক বেঁকিয়ে দিয়েছিল।”
সত্যব্রত অবাক হলেন। তবে কি…! কিন্তু এখন অবাক হওয়ার সময় নয়। ওদের কথাবার্তার মোডটি ঘুরে গিয়েছে। এইভাবেই আগের জিজ্ঞাসাকে ভুলিয়ে দিতে হবে। তিনি বললেন, “ভাই, তোমার নাম জানি না, তুমি করেই বলছি। নুনিয়া যে চোখের দৃষ্টি দিয়েই লোহার রড বাঁকিয়ে দিয়েছে, সে-কি তুমি নিজের চোখে দেখেছিলে?”
প্রশ্ন শুনে লোকটা একটু ইতস্তত করল। তারপর বলল, “আমি দেখিনি। কিন্তু শুনেছি। যার কাছে শুনেছি, সে মিথ্যে কথা বলেই না!”
শুনে সত্যব্রত ইচ্ছে করেই সশব্দে হাসলেন। বললেন, “আচ্ছা, দুনিয়ায় এমন কোন মানুষ থাকতে পারে যে কি-না সত্যবাদী যুধিষ্ঠির? আরে যুধিষ্ঠিরকেও কিন্তু একবার মিথ্যে বলতে হয়েছিল। আর তোমার ওই লোকটি নিশ্চয়ই যুধিষ্ঠিরের চেয়ে সত্যবাদী নয়?”
“ও-সব ফালতু বাত রাখ। আসল কথায় আয়, নুনিয়া তুকে কী বলেছিল যে তুই থানায় যাচ্ছিলি?” সাইকেল ঝাঁঝিয়ে উঠল।
সত্যব্রত হতাশ হলেন। নাহ্, লোকটা ঘোড়েল, একেবারে হার্ডকোর ক্রিমিন্যাল। এত সহজে একে আয়ত্ত করা যাবে না। নুনিয়ার কথাটাকে এমনভাবে বলতে হবে যাতে বিভ্রান্ত হয়। তিনি বললেন, “বললাম যে, ও-সব কথার কোন মানে হয় না!”
“সে মানে হয় কী না-হয়, সে-সব আমরা বুঝবো। তুই কেবল বল, নুনিয়া কী বলেছে?”
“সে অনেক কথা। পুরানা মোকামের জঙ্গলে না-কি পিশাচেরা থাকে। তাদের নামেই না-কি জায়গাটার নাম পিশাচপাহাড়। তাই না-কি সাইকেল?”
“হবে! আমি জানি না। তুই আগে বল…! আমার টাইমের অনেক দাম আছে!” সাইকেল দাঁতমুখ খিঁচিয়ে বলল।
“সে তো বলছি। তা সেই পুরানা মোকামের জঙ্গল থেকে পিশাচদের দলেরা না-কি চার্চের পিছনের জঙ্গলেও আসে মাঝেমধ্যে। রাতের বেলায় ঘোরাফেরা করে। আলেয়ার আলো জ্বেলে কী-সব যেন খোঁজে!” বলে তিনি সাইকেলের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য তার দিকে স্পষ্ট করে তাকালেন।
সত্যব্রত অবাক হলেন। তবে কি…! কিন্তু এখন অবাক হওয়ার সময় নয়। ওদের কথাবার্তার মোডটি ঘুরে গিয়েছে। এইভাবেই আগের জিজ্ঞাসাকে ভুলিয়ে দিতে হবে। তিনি বললেন, “ভাই, তোমার নাম জানি না, তুমি করেই বলছি। নুনিয়া যে চোখের দৃষ্টি দিয়েই লোহার রড বাঁকিয়ে দিয়েছে, সে-কি তুমি নিজের চোখে দেখেছিলে?”
প্রশ্ন শুনে লোকটা একটু ইতস্তত করল। তারপর বলল, “আমি দেখিনি। কিন্তু শুনেছি। যার কাছে শুনেছি, সে মিথ্যে কথা বলেই না!”
শুনে সত্যব্রত ইচ্ছে করেই সশব্দে হাসলেন। বললেন, “আচ্ছা, দুনিয়ায় এমন কোন মানুষ থাকতে পারে যে কি-না সত্যবাদী যুধিষ্ঠির? আরে যুধিষ্ঠিরকেও কিন্তু একবার মিথ্যে বলতে হয়েছিল। আর তোমার ওই লোকটি নিশ্চয়ই যুধিষ্ঠিরের চেয়ে সত্যবাদী নয়?”
“ও-সব ফালতু বাত রাখ। আসল কথায় আয়, নুনিয়া তুকে কী বলেছিল যে তুই থানায় যাচ্ছিলি?” সাইকেল ঝাঁঝিয়ে উঠল।
সত্যব্রত হতাশ হলেন। নাহ্, লোকটা ঘোড়েল, একেবারে হার্ডকোর ক্রিমিন্যাল। এত সহজে একে আয়ত্ত করা যাবে না। নুনিয়ার কথাটাকে এমনভাবে বলতে হবে যাতে বিভ্রান্ত হয়। তিনি বললেন, “বললাম যে, ও-সব কথার কোন মানে হয় না!”
“সে মানে হয় কী না-হয়, সে-সব আমরা বুঝবো। তুই কেবল বল, নুনিয়া কী বলেছে?”
“সে অনেক কথা। পুরানা মোকামের জঙ্গলে না-কি পিশাচেরা থাকে। তাদের নামেই না-কি জায়গাটার নাম পিশাচপাহাড়। তাই না-কি সাইকেল?”
“হবে! আমি জানি না। তুই আগে বল…! আমার টাইমের অনেক দাম আছে!” সাইকেল দাঁতমুখ খিঁচিয়ে বলল।
“সে তো বলছি। তা সেই পুরানা মোকামের জঙ্গল থেকে পিশাচদের দলেরা না-কি চার্চের পিছনের জঙ্গলেও আসে মাঝেমধ্যে। রাতের বেলায় ঘোরাফেরা করে। আলেয়ার আলো জ্বেলে কী-সব যেন খোঁজে!” বলে তিনি সাইকেলের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য তার দিকে স্পষ্ট করে তাকালেন।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১১৭: রবীন্দ্রনাথ ব্যারিস্টার হতে চেয়েছিলেন

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৮: হেলিকপ্টারে সওয়ার হয়ে চূড়ার কাছাকাছি গিয়ে পাহাড় দেখার রোমাঞ্চটাই আলাদা
কথাটা শুনে সাইকেল চমকে উঠল। তবে ঘাঘু লোক বলে সামলেও নিল। তীক্ষ্ণ স্বরে বলল, “চার্চের পিছনের জঙ্গলে যে পিচাশ আসে, তা উ-কী করে জানলো? রাতের বেলা তার তো বাইরে থাকার কথা নয়!”
“আরে বাইরে থাকবে কেন ? ওর ঘরের জানালা দিয়ে দেখেছে!”
“তারা কারুর রূপ ধরে এসেছিলো? পিচাশেরা শুনেছি অন্য কারুর রূপ ধরতে উস্তাদ! উ-হারামজাদী কার রূপ ধরে এসেছিল তা দেখেনি?”
“অত দূর থেকে দেখবে কী করে যে, কার রূপ ধরে এসেছিল? সে দেখেছে সাদা মতো কারা যেন আলেয়ার টর্চ হাতে করে জঙ্গলে ঘুরছে-ফিরছে!”
শুনে আশ্বস্ত হলেও পরমুহূর্তেই সন্দেহের মেঘ ঘনায় সাইকেলের চোখে। “আচ্ছা, আর-কী দেখেছে? উ-তো দুপুরবেলায় ওইসব জঙ্গলে-জঙ্গলে ঘুরেফিরে বেড়াত! তখন কিছু দেখেনি?”
“কী দেখার কথা বলছ সাইকেল ? একটি বাচ্চা মেয়ে কতটুকুই বা দেখবে? আর সে থোড়াই জঙ্গলের ভিতরে ঢুকতে গিয়েছে! ঢুকলে বেরুতে পারত এত সহজে? তবে হ্যাঁ, সে কালাদেওকে দেখেছে!”
“মানে?” প্রায় চিৎকার করে উঠল সাইকেল, “কবে? কোথায়?”
“সঠিক তারিখ তো আর বলতে পারেনি ও। তবে দেখেছে। যেখানে রাস্তার উপর খুনটা হয়েছিল, তার পাশের জঙ্গলে দেখেছে।”
“আরে বাইরে থাকবে কেন ? ওর ঘরের জানালা দিয়ে দেখেছে!”
“তারা কারুর রূপ ধরে এসেছিলো? পিচাশেরা শুনেছি অন্য কারুর রূপ ধরতে উস্তাদ! উ-হারামজাদী কার রূপ ধরে এসেছিল তা দেখেনি?”
“অত দূর থেকে দেখবে কী করে যে, কার রূপ ধরে এসেছিল? সে দেখেছে সাদা মতো কারা যেন আলেয়ার টর্চ হাতে করে জঙ্গলে ঘুরছে-ফিরছে!”
শুনে আশ্বস্ত হলেও পরমুহূর্তেই সন্দেহের মেঘ ঘনায় সাইকেলের চোখে। “আচ্ছা, আর-কী দেখেছে? উ-তো দুপুরবেলায় ওইসব জঙ্গলে-জঙ্গলে ঘুরেফিরে বেড়াত! তখন কিছু দেখেনি?”
“কী দেখার কথা বলছ সাইকেল ? একটি বাচ্চা মেয়ে কতটুকুই বা দেখবে? আর সে থোড়াই জঙ্গলের ভিতরে ঢুকতে গিয়েছে! ঢুকলে বেরুতে পারত এত সহজে? তবে হ্যাঁ, সে কালাদেওকে দেখেছে!”
“মানে?” প্রায় চিৎকার করে উঠল সাইকেল, “কবে? কোথায়?”
“সঠিক তারিখ তো আর বলতে পারেনি ও। তবে দেখেছে। যেখানে রাস্তার উপর খুনটা হয়েছিল, তার পাশের জঙ্গলে দেখেছে।”
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৭৯: সময় বুঝে প্রত্যাঘাতের জন্য রাজনীতিতে অনেক সময় পিছিয়েও দাঁড়াতে হয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৫: অগ্নির কি শুধুই দহনজ্বলা? মহর্ষি মন্দপালের অগ্নিস্তুতিতে অগ্নির কোন সদর্থকতার ইঙ্গিত?
ভয়ে মুখ সাদা হয়ে গেল সাইকেলের। “তুই সত্যি বলছিস?”
“এইরকম অবস্থায় কেউ মিথ্যে বলে? তোমার বিশ্বাস না করার হয় করো না। আমি বারবার যা শুনেছি সেটাই বলবো।”
“কিন্তু উ যদি কালাদেওকে দেখেছে, তাহলে কালাদেওও নিশ্চয়ই উয়াকে দেখেছেন। তাহলে কালাদেও ওকে ছেড়ে দিলে ক্যানে? এতেই কি প্রমাণ হয় না যে, উ ডায়েন আছে?”
“দেখ, নুনিয়া যা বলেছে আমায়, কালাদেও মেয়েদের কিছু করে না। গায়ে হাত দেওয়া তো দূর, মেয়েদের দেখলে দূরে সরে যায়। নুনিয়াকে দেখেও গিয়েছিলো। আচ্ছা, তুমিই বল, এতদিন ধরে কালাদেও তাঁর গুহা থেকে বেরিয়ে মানুষকে হত্যা করছে, এতজন খুনও হয়েছে, কিন্তু ভেবে দেখেছ কী-যে একজন মেয়ে আজ অবধি কালাদেওর হাতে মারা যায়নি? কেন ? কালাদেও কি মেয়েদের হত্যা করে না, না-কি মেয়েদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলে? কোন্টা?”
সাইকেল স্তব্ধ হয়ে যায়। তার মুখে কোন কথা সরে না। কথাটা সে কোনদিন ভাবেইনি। এখন মনে হচ্ছে, সত্যিই তো, এখনও পর্যন্ত কালাদেওর বলি হয়নি একজন মেয়েও। কেন?
সত্যব্রত বললেন, “তবে কালাদেও কিন্তু বেশ আপডেটেড!”
“মানে?” শব্দের অর্থটা বুঝতে না পেরে ভুরু কুঁচকে সত্যব্রতর দিকে তাকাল সাইকেল।
“মানে খুব আধুবিক। সময়ের সাথে-সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ভালোবাসেন!”
“কী-সব বলছিস তুই? জানিস, কালাদেও আমাদের দেওতা?”
“জানি। আর আমি তো কোনও নিন্দে করছি না, বরং তাঁর প্রশংসাই করছি। নুনিয়া কালাদেওকে দেখেছে, মোবাইলে কথা বলতে!”
“কী?” বিস্ময়ে প্রায় চিৎকার করে উঠল সাইকেল, “কালাদেও মোবাইলে কথা বলছেন? কিন্তু তিনি কি মোবাইল ব্যবহার করতে জানেন? আর মোবাইলই বা পেলেন কোথায়?”
“মোবাইল চাইলেই পাওয়া যায়। আমি সেটা নিয়ে ভাবছি না। আমি ভাবছি অন্য কথা!” সত্যব্রত বললেন।
“কী কথা?”
“মোবাইলের সিমটা কার নামে?”
“হয়তো, কোথাও কুড়িয়ে পেয়েছে। সেটাই দেখছিলেন হাতে ধরে। বাকিটা নুনিয়ার বানানো!” বলে সাইকেল। তবে তার গলার স্বরে এবার সতর্কতা।
“ধরে নিলাম কালাদেও মোবাইলটা কুড়িয়ে পেয়েছে। কিন্তু আজকাল সবাই মোবাইল লক্ করে রাখে, প্রাইভেসি সেটিংস্-এর জন্য। তাহলে কালাদেও মোবাইল আনলক করল কী করে, আর কথাই বা বলছিল কার সঙ্গে ? কালাদেও তাহলে মোবাইলের ব্যবহার ভালোই জানে!”
“এইরকম অবস্থায় কেউ মিথ্যে বলে? তোমার বিশ্বাস না করার হয় করো না। আমি বারবার যা শুনেছি সেটাই বলবো।”
“কিন্তু উ যদি কালাদেওকে দেখেছে, তাহলে কালাদেওও নিশ্চয়ই উয়াকে দেখেছেন। তাহলে কালাদেও ওকে ছেড়ে দিলে ক্যানে? এতেই কি প্রমাণ হয় না যে, উ ডায়েন আছে?”
“দেখ, নুনিয়া যা বলেছে আমায়, কালাদেও মেয়েদের কিছু করে না। গায়ে হাত দেওয়া তো দূর, মেয়েদের দেখলে দূরে সরে যায়। নুনিয়াকে দেখেও গিয়েছিলো। আচ্ছা, তুমিই বল, এতদিন ধরে কালাদেও তাঁর গুহা থেকে বেরিয়ে মানুষকে হত্যা করছে, এতজন খুনও হয়েছে, কিন্তু ভেবে দেখেছ কী-যে একজন মেয়ে আজ অবধি কালাদেওর হাতে মারা যায়নি? কেন ? কালাদেও কি মেয়েদের হত্যা করে না, না-কি মেয়েদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলে? কোন্টা?”
সাইকেল স্তব্ধ হয়ে যায়। তার মুখে কোন কথা সরে না। কথাটা সে কোনদিন ভাবেইনি। এখন মনে হচ্ছে, সত্যিই তো, এখনও পর্যন্ত কালাদেওর বলি হয়নি একজন মেয়েও। কেন?
সত্যব্রত বললেন, “তবে কালাদেও কিন্তু বেশ আপডেটেড!”
“মানে?” শব্দের অর্থটা বুঝতে না পেরে ভুরু কুঁচকে সত্যব্রতর দিকে তাকাল সাইকেল।
“মানে খুব আধুবিক। সময়ের সাথে-সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ভালোবাসেন!”
“কী-সব বলছিস তুই? জানিস, কালাদেও আমাদের দেওতা?”
“জানি। আর আমি তো কোনও নিন্দে করছি না, বরং তাঁর প্রশংসাই করছি। নুনিয়া কালাদেওকে দেখেছে, মোবাইলে কথা বলতে!”
“কী?” বিস্ময়ে প্রায় চিৎকার করে উঠল সাইকেল, “কালাদেও মোবাইলে কথা বলছেন? কিন্তু তিনি কি মোবাইল ব্যবহার করতে জানেন? আর মোবাইলই বা পেলেন কোথায়?”
“মোবাইল চাইলেই পাওয়া যায়। আমি সেটা নিয়ে ভাবছি না। আমি ভাবছি অন্য কথা!” সত্যব্রত বললেন।
“কী কথা?”
“মোবাইলের সিমটা কার নামে?”
“হয়তো, কোথাও কুড়িয়ে পেয়েছে। সেটাই দেখছিলেন হাতে ধরে। বাকিটা নুনিয়ার বানানো!” বলে সাইকেল। তবে তার গলার স্বরে এবার সতর্কতা।
“ধরে নিলাম কালাদেও মোবাইলটা কুড়িয়ে পেয়েছে। কিন্তু আজকাল সবাই মোবাইল লক্ করে রাখে, প্রাইভেসি সেটিংস্-এর জন্য। তাহলে কালাদেও মোবাইল আনলক করল কী করে, আর কথাই বা বলছিল কার সঙ্গে ? কালাদেও তাহলে মোবাইলের ব্যবহার ভালোই জানে!”
আরও পড়ুন:

গীতা: সম্ভবামি যুগে যুগে, পর্ব-২৩: বন্ধু হে আমার…

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০১: ছিট ঘুঘু
“আপনি এ-সব কথা বিশ্বাস করে পুলিশকে বলতেন?”
“পাগল? করলে তো অনেকদিন আগেই করে ফেলতে পারতাম। পুলিশ আমাকে যখন জেরা করেছিল বুধনের কেসের ব্যাপারে, তখনই বলতে পারতাম। কিন্তু বলিনি, কারণ, আগেই বলেছি, নুনিয়া হ্যালুসিনেশনের শিকার। ও যা দেখে, তা হয়তো নেই, আর যা-নেই, হয়তো তা-ই দেখে ও! তাছাড়া থানায় গিয়ে বললেই তো হলো না ! প্রমাণ কোথায়? কার ভিত্তিতে পুলিশ বিশ্বাস করে তদন্ত শুরু করবে? এত সহজ নয়। আমি উল্টে নুনিয়াকে বুঝিয়েছি যে, সে একধরণের মনের অসুখের বলি। অতএব সে যা দেখেছে বলে মনে হচ্ছে, বাস্তবে তার কোন যোগ নেই। এমন অবস্থায় পুলিশে রিপোর্ট করা উচিত কাজ হবে না। সে-কারণেই তো এতদিন পুলিশে যাইনি। গেলে পুলিশ আগেই থানা থেকে বাইরে বের করে দিতো।”
“তোর কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। আপাতত তুই এখানে ক’দিন থাক। তারপর তোর ব্যবস্থা করবো। এখন যাই, আমার অন্য কাজ আছে!” বলে সাইকেল যেমন ঝড়ের গতিতে এসেছিল, তেমনই ঝড়ের গতিতে বেরিয়ে গেল।
সত্যব্রত বুঝলেন, আজকের মতো পরিত্রাণ পেলেন তিনি। নাহলে সাইকেলের আজ যা মতিগতি দেখছিলেন, তাতে আজকেই হয়তো মেরে এখানে লাশ হিসেবে ফেলে রেখে যেত কিংবা পুড়িয়ে ফেলতো।
সাইকেল যাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে তার চ্যালা-চামুণ্ডারাও চলে গেল ঘর ছেড়ে। কেউ একজন ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে দিল, তার মুখ দেখা গেল না। আচ্ছা, এরা কী ভেবেছে ? তিনি কি জানোয়ার ? মানুষের খিদে-তেষ্টার সঙ্গে-সঙ্গে অন্য প্রাকৃতিক নিডস্-ও তো আছে ? তিনি কী এই ঘরেই সেইসব করবেন না-কি ? জল খাওয়ার ফলে তাঁর এখন ছোট বাইরে পেয়েছে। কিন্তু কী করবেন ? কাকে ডাকবেন ? সাতপাঁচ ভেবে তিনি দরজার কাছে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিলেন। ডাকলেন, “কেউ আছো ? আমার টয়লেট পেয়েছে, বাইরে যাবো।…”
সামান্য সময় পর দরজার ওপারে শব্দ হল। কেউ তালা খুলছিল…!—চলবে।
“পাগল? করলে তো অনেকদিন আগেই করে ফেলতে পারতাম। পুলিশ আমাকে যখন জেরা করেছিল বুধনের কেসের ব্যাপারে, তখনই বলতে পারতাম। কিন্তু বলিনি, কারণ, আগেই বলেছি, নুনিয়া হ্যালুসিনেশনের শিকার। ও যা দেখে, তা হয়তো নেই, আর যা-নেই, হয়তো তা-ই দেখে ও! তাছাড়া থানায় গিয়ে বললেই তো হলো না ! প্রমাণ কোথায়? কার ভিত্তিতে পুলিশ বিশ্বাস করে তদন্ত শুরু করবে? এত সহজ নয়। আমি উল্টে নুনিয়াকে বুঝিয়েছি যে, সে একধরণের মনের অসুখের বলি। অতএব সে যা দেখেছে বলে মনে হচ্ছে, বাস্তবে তার কোন যোগ নেই। এমন অবস্থায় পুলিশে রিপোর্ট করা উচিত কাজ হবে না। সে-কারণেই তো এতদিন পুলিশে যাইনি। গেলে পুলিশ আগেই থানা থেকে বাইরে বের করে দিতো।”
“তোর কথা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। আপাতত তুই এখানে ক’দিন থাক। তারপর তোর ব্যবস্থা করবো। এখন যাই, আমার অন্য কাজ আছে!” বলে সাইকেল যেমন ঝড়ের গতিতে এসেছিল, তেমনই ঝড়ের গতিতে বেরিয়ে গেল।
সত্যব্রত বুঝলেন, আজকের মতো পরিত্রাণ পেলেন তিনি। নাহলে সাইকেলের আজ যা মতিগতি দেখছিলেন, তাতে আজকেই হয়তো মেরে এখানে লাশ হিসেবে ফেলে রেখে যেত কিংবা পুড়িয়ে ফেলতো।
সাইকেল যাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে তার চ্যালা-চামুণ্ডারাও চলে গেল ঘর ছেড়ে। কেউ একজন ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে দিল, তার মুখ দেখা গেল না। আচ্ছা, এরা কী ভেবেছে ? তিনি কি জানোয়ার ? মানুষের খিদে-তেষ্টার সঙ্গে-সঙ্গে অন্য প্রাকৃতিক নিডস্-ও তো আছে ? তিনি কী এই ঘরেই সেইসব করবেন না-কি ? জল খাওয়ার ফলে তাঁর এখন ছোট বাইরে পেয়েছে। কিন্তু কী করবেন ? কাকে ডাকবেন ? সাতপাঁচ ভেবে তিনি দরজার কাছে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিলেন। ডাকলেন, “কেউ আছো ? আমার টয়লেট পেয়েছে, বাইরে যাবো।…”
সামান্য সময় পর দরজার ওপারে শব্দ হল। কেউ তালা খুলছিল…!—চলবে।
* ধারাবাহিক উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer atanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















