রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

স্নিগ্ধা গিয়ে গায়ে পড়ে আলাপ সারলো! ধরে নিয়ে গিয়ে প্রায় জোর করে ঝালমুড়ি খাওয়ালো।- কথায় কথায় জেনে ফেললো তৃপ্তি মাঝে মাঝেই বিকেলের দিকটায় বাজারে আসে।
—বাঃ খুব ভালো হল! তোমার সঙ্গে মাঝে মাঝে গল্প করা যাবে!
—কেন তোমার বুঝি বন্ধু নেই?
—কী করে থাকবে? তাদের সব্বার বিয়ে হয়ে ছেলেপুলে হয়ে গিয়েছে তারা বর আর শ্বশুরবাড়ি সামলাতে ব্যস্ত!
—আর তুমি?
মুখটা দুঃখী দুঃখী করে তৃপ্তির দিকে তাকিয়ে রইল স্নিগ্ধা! তৃপ্তির মনে হল কথাটা বড় বেশি পার্সোনাল হয়ে গিয়েছে! জিজ্ঞেস করাটা বোধ হয় উচিত হয়নি! সে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চেয়ে বলল—
—সরি গো আমি… তুমি কিছু মনে করো না!
আসলে স্নিগ্ধার মাথায় তখন লিকেলিকে লাউডগা সাপের মতো সবুজ হিংসের সুতোরা জট পাকাচ্ছিলো।
—আরে কী মুশকিল। খুব স্বাভাবিক প্রশ্ন, বর না ছেড়ে দিলে কোন বিয়েওলা মেয়েই বা অ্যাতোদিন ধরে বাপের বাড়ি থাকে… আমার অবশ্য অন্য কেস। বর দিল্লিতে কি একটা ট্রেনিংয়ে গিয়েছে, ৬ মাস পরে ফিরবে!
কথাটা বলে স্নিগ্ধা হাসতে লাগল। যে সব মেয়েরা এভাবে মাড়ি বের হাসে তাদের দেখতে কুৎসিত লাগে!
আজকাল কথায় কথায় বডিশেমিং নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া শশব্যস্ত। সেকালে এসবের বালাই ছিল না তাই কালো, বেঁটে, মোটা, কানা, অন্ধ, খোঁড়া, ল্যাংড়া এসব প্রায়শই বলা হতো। কিন্তু সেটা সামাজিক অন্যায় ছিল। গায়ের রং, চেহারার গড়ন বা অঙ্গহানি তো কারও স্ব-ইচ্ছায় হয় না! কিন্তু বদভ্যেস! বিশ্রিভাবে হাসা, চিৎকার করে কথা বলা, কথার সময় থুতু ছিটকে পড়া, নাক-কান খোঁটা এগুলোতে সহবৎ শিক্ষার অভাব। দেরিতে হলেও শুধরানো যায়, ভালো অভ্যাস রপ্ত করা যায়!
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৪: ভুবন চিল ও শঙ্খচিল

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৩: মা সারদা নিজের কষ্ট গোপন রাখতেন

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৪: ত্রিপুরার মাণিক্য রাজাগণ সাহিত্য সংস্কৃতির অকৃপণ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন

এরপর স্নিগ্ধা নির্দ্ধিধায় এমন একটা কথা বলল যেটা সামান্য আলাপে কোনও মেয়ে কাউকে বলতে পারে এটা তৃপ্তি ভাবতেও পারে না! কিন্তু মুখে একমুঠো ঝালমুড়ি ফেলে স্নিগ্ধা অবলীলায় বলে দিল—
—আর বর কাছে না থাকলে বাচ্চাকাচ্চা হবে কী করে বলো?
আবার আগের মতো বিশ্রিভাবে হাসতে লাগলো স্নিগ্ধা!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-২২: আকাশ এখনও মেঘলা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৯: খাণ্ডবদহনের প্রেক্ষিতে জরিতা,লপিতা ও ঋষি মন্দপালের উপাখ্যানের আজ প্রাসঙ্গিকতা কোথায়?

প্রথমদিন দেখে যতটা খারাপ মনে হয়েছিল স্নিগ্ধাকে পরের দিকে আর তৃপ্তির ততটা খারাপ লাগছিল না। মাঝে মাঝে দেখা হতো, এটা সেটা কথা। তবে স্নিগ্ধা কিছুতেই দুলালদের বাড়িতে যেতো না!
—আমার সঙ্গে তোমার যে দেখা-সাক্ষাৎ হয় দুলালদাকে বলেছো?
—না সেরকম ভাবে…। কেন বলতো?
—বলার দরকার নেই!
তৃপ্তি অবাক!
—কেন?
স্নিগ্ধা কায়দা করতে গিয়ে মুস্কিলে পড়ে গিয়েছে। এখন কী উত্তর দেবে?
—না মানে দুলালদা জানলে মাসীমা জানবেন!
—মাসীমা জানলে কী? সে তো মাকে আমিও কোনওদিন বলে দিতাম।
—এখনও বলোনি যখন, আর বলবার দরকার নেই!
—কিন্তু কেন? ওনাকে লুকবো কেন?
—জানি না। মাসীমা মনে হয় আমায় ঠিক… পছন্দ করেন না!
—কেন তোমায় কোনদিন উনি কিছু বলেছেন?
—না সেভাবে কখনই বলেননি কিছু। কিন্তু সেটা বোঝা যায়… এই যে তুমি আমায় পছন্দ করো কোনোদিন কি মুখে বলেছো? বলোনি তো! কিন্তু আমি বুঝতে পারি!
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২০: রবীন্দ্রনাথ আশ্রমের একমাত্র তাঁকেই প্রণাম করতেন

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬০: পাহাড়ের চূড়ায় বসে দেখলাম হিমবাহের সেই অপরূপ শোভা

ধীরে ধীরে সহজ সরল মিতভাষী তৃপ্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও গাঢ় করে ফেলল স্নিগ্ধা! দু’-একবার একসঙ্গে সিনেমা দেখতে যাবার কথা বলেছে তবে তৃপ্তি রাজি হয়নি। অতটা সময় বাইরে কাটানো যাবে না। আর তৃপ্তি নিজে সিনেমাহলে গিয়ে সিনেমা দেখতে খুব একটা পছন্দ করে না, বরং জ্যাঠামোশায়ের বাড়িতে দূরদর্শণের পর্দায় সাদা-কালো পুরনো বাংলা ছবি দেখতে বেশি ভালো লাগতো! ভাই-বোনেরা জোরজার করলে এক-দুবার গিয়েছে সিনেমা হলে কিন্তু বাড়িতে সে অনেক স্বচ্ছন্দ। এখন অবশ্য দুলালের বাড়িতে টিভি নেই।
—দুলালদা তো টিভি কেনেনি?
—নাহ! ও তো বাড়িতে পত্রপত্রিকা গল্পউপন্যাস পড়ে সময় কাটায়। আমার রান্নাবান্না ঘর গোছানো থাকে, সময় পেলে আমিও বই পড়ি! মাতো আজকাল বেশিরভাগ সময়ই পুজোর ঘরে থাকেন।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৩: পরেশের পরশপাথর

—তোমার একা একা লাগে না?
—ওমা কেন? একা কেন লাগবে? বাড়িতে সারাদিন কত কাজ থাকে জানো? তারপরে ছুটির দিনে মাঝেমধ্যেই বড় দিদি মেজদিদি বা মণির বাড়ি যাওয়ার থাকে। ওরা আসে!
—আমাদের বাড়ি চলো না একদিন!
—কেন এই তো বেশ! দেখা হচ্ছে গল্প করছি!
—না, মা বলছিল একদিন তোমায় নিয়ে আসতে!
—আচ্ছা বেশ যাবো!
অনেকবারের চেষ্টায় স্নিগ্ধা তৃপ্তিকে একদিন তাদের বাড়িতে নিয়ে গেল। ইনিয়েবিনিয়ে মিথ্যেবলা আর নাটক করাতে স্নিগ্ধা পঞ্চাশ হলে তার মা ছন্দা একশ’য় একশ! —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। উপন্যাস লেখার আগে জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১ম খণ্ড)’। এখন লিখছেন বসুন্ধরা এবং…এর ৩য় খণ্ড।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content