রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

মায়ের কাছে শুনেছিল কিন্তু এবার দুলালের বিয়ের কার্ড দেখেই মাথায় আগুন জ্বলে উঠল, যেন নিজের স্বামীর কাছে গুরুত্ব না পেয়ে মায়ের কাছে এসে উঠেছে স্নিগ্ধা। দুলালকে সেদিন দেখে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করেছিল কিন্তু দুলাল এই জন্যই তাকে এড়িয়ে যাচ্ছিল!

প্রথমে ভাবল দুলালের ভাবী শ্বশুরবাড়িতে একটা চিঠি পাঠিয়ে দুলালের নামে কুৎসা করবে, সে কিছুতেই চায় না তাকে প্রত্যাখ্যান করার পর দুলালের বিবাহিত জীবন সুখের হোক! কিন্তু কানাঘুষোয় সব খবর জোগাড় করে ফেলল স্নিগ্ধা। মেয়েটার মা-বাবা নেই। এক ভাই ছিল সেও মারা গিয়েছে। জ্যাঠামশায়ের সংসারে আশ্রিতা। সুতরাং ভাংচির পলকা চালে বিয়ে ভাঙবে না!
স্নিগ্ধা ও তার মায়ের সঙ্গে তান্ত্রিকদের যোগাযোগ ছিল। তারা দু’জনেই বাণ মারা, বশীকরণে খুব বিশ্বাসী। দুলালের বিয়ের ঠিক হয়েছে শুনে হিংসেয় জ্বলে যাচ্ছে স্নিগ্ধা! যত তার স্বামীর অনাদর উদাসীনতা স্পষ্ট হচ্ছে ততই ক্ষোভ বাড়ছে! কিন্তু মেয়ের চেয়ে মায়ের মাথা খেলে বেশি, ছন্দা মেয়েকে উপদেশ দিলেন—
—এখুনি ওসব রাস্তা নিস না খুকি। জানাজানি হলে হিতে বিপরীত হবে! পাড়াতে থাকা মুশকিল হয়ে যাবে!
—জানাজানি কেন হবে শুনি?
—আমি কাউকে বিশ্বাস করি না ফলু ঠাকুরের পেট পাতলা, নেশা ভাং করে। নেশার ঝোঁকে ভুলভাল বকতে বকতে কাকে কখন কী বলে দেবে…
—এতদিন এত কিছু করেছো কেউ জানতে পেরেছে!
—এত খরচাপাতি পুজোআচ্চা করে জামায়ের বশীকরণ করা হল কি লাভ হয়েছে?
—দুলালদার মতো সে উনিও ঠাকুর দেবতা মানে না। ফলুঠাকুরের দেওয়া মন্ত্রপূত মাদুলি তো পরলো না।
—দুলাল দুলাল দুলাল, রাতদিন কেবল দুলালের নামজপা বন্ধ করবি খুকি!
—না করবো না – তোমার গায়ের জ্বালা ধরলে কান বন্ধ করে রাখো!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-১৯: আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১১৭: আপাতত পরিত্রাণ

ইদানিং মা মেয়ের এই ঝগড়া মোটামুটি সপ্তাহে দু-তিন বার হয়। এরই মধ্যে বাড়ির সামনে ম্যারাপ বেঁধে টুনিবালব জ্বেলে তৃপ্তির সঙ্গে দুলালের বিয়ে-বৌভাত হয়ে গেল। দুলাল বেশি খরচাপাতি করতে চায়নি। বলেছিল, রেজিস্ট্রি বিয়ে করবে তারপরে মন্দিরে গিয়ে তৃপ্তির সিঁথিতে সিঁদুর দিয়ে মালাবদল করে নেবে। দিদি জামাইবাবুরা রাজি হননি। দুলালের মাও চেয়েছিলেন। সকলের অনুষ্ঠান করে বিয়ে হয়েছে দুলালের বেলায় হবে না কেন? তাছাড়া যেহেতু তৃপ্তি জ্যাঠামশায়ের সংসারের মানুষ আর তার কেউ নেই। নিজের ভাইটাও চলে গিয়েছে, তিনিও চান দাঁড়িয়ে থেকে যথাবিহিত অনুষ্ঠান করে আপন মেয়ের মতই তৃপ্তির বিয়ে দেবেন।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০১: ছিট ঘুঘু

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০০: অসুস্থ শরীরেও ভক্তদের দীক্ষাদান শ্রীমার

দিদি জামাইবাবু মনি মনির বর মনির শ্বশুর শাশুড়ি সকলের উদ্যোগে বেশ হইচই করে দুলালের বিয়ে হল। দুলালের জুটমিলের বড়কর্তারা এসেছিলেন জুটমিল ইউনিয়নের প্রথম সারির নেতারা লোকাল পার্টি অফিসের বড় মেজ নেতারা সকলেই দুলালের বিয়েতে এলেন। মনির বিয়েতে নিমন্ত্রণ না জানালেও নিজের বিয়েতে দুলাল, বাবার এক সময়ের ছাত্র রজতকে ডাকে নিমন্ত্রণ পাঠিয়েছিল। সঙ্গে একটা হাতচিঠি দিয়েছিল ‘আপনি ব্যস্ত মানুষ সময় করতে পারলে দয়া করে আসবেন’ রজত আসেনি। দুলালের মুখোমুখি সে হবে না সেটা দুলাল আন্দাজ করেছিল। তবু খানিকটা ভদ্রতা করেই নিমন্ত্রণ ছেড়েছিল। রজত ইংরেজি কায়দায় টেলিগ্রাম করে শুভেচ্ছা পাঠিয়েছিল! যেন দায়সারা ভদ্রতার নিমন্ত্রণের উত্তরে দায়সারা লৌকিকতার সৌজন্য!
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮০: রাজনীতিতে সবাই চায় সবলের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে, দুর্বলরা সব সময়ই একা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৬: রাম যৌথ পরিবারের আদর্শনিষ্ঠ জ্যেষ্ঠ, তাঁর যেন এক ঘরোয়া ভাবমূর্তি

পাড়ার বাড়ি প্রতি নিমন্ত্রণ তো করতেই হয় সেই হিসেবেই ছন্দা নিমন্ত্রিত এবং স্নিগ্ধা যেহেতু মায়ের কাছে রয়েছে তাকেও নিমন্ত্রণ করতে হয়েছিল। মাকে নিয়ে দুলালের বৌভাতে চোখে পড়ার মতো উগ্র সাজগোজ করে এসেছিল স্নিগ্ধা! দেখে মনে হল পার্লারে গিয়ে সেজে এসেছে। সে সময়ে আজকের মতো বিয়েবাড়িতে পার্লারে যাওয়ার রীতি খুব একটা ছিল না এমনকি বিয়ের নতুন কণেকেও বাড়িতে কণে-সাজানোয়-পটু কেউ সাজিয়ে দিত। একান্ত তেমন কেউ না থাকলে, কাছেপিঠের পার্লার থেকে মেয়েরা বাড়িতে এসে কণে সাজিয়ে যেত!
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১১৭: রবীন্দ্রনাথ ব্যারিস্টার হতে চেয়েছিলেন

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৮: হেলিকপ্টারে সওয়ার হয়ে চূড়ার কাছাকাছি গিয়ে পাহাড় দেখার রোমাঞ্চটাই আলাদা

স্নিগ্ধা এল দারুণ সাজগোজ করে! দামি কালো সিল্কের শাড়ি ম্যাচিং কালো স্লিভলেস ব্লাউজ, চোখে ঘন কাজল, ঠোঁটে গাঢ় কালচে-লাল লিপস্টিক, নাকে টানা নথ, চুলের সঙ্গে লম্বা ফলস বেণীতে বেলফুলের মালা জড়ানো! নতুন বিয়ের কণেকে যেন ছাপিয়ে যাওয়ার একটা তীব্র চেষ্টা, যাতে সকলের দৃষ্টি তার দিকে পড়ে। দুলাল মনে মনে চায়নি স্নিগ্ধাকে ডাকা হোক। কদিন আগে স্নিগ্ধার ব্যবহারে সেই অস্বস্তিটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বাড়িতে কাউকে সেটা বলতে পারেনি। অদ্ভুতভাবে দুলালের মাও চাননি স্নিগ্ধা দুলালের বিয়েতে আসুক। স্নিগ্ধার বিয়েতে গিয়ে তার কথাবার্তা শুনে একেবারেই ভালো লাগেনি দুলালের মায়ের। কিন্তু কেন স্নিগ্ধাকে বাদ দিতে হবে সেটা আর দুলালের মতই বাড়িতে তিনি বলতে পারেননি। ফলে স্নিগ্ধা বিয়েতে এসে চোখে পড়ার মতো বাড়াবাড়ি শুরু করল।—চলবে।
< strong > জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। উপন্যাস লেখার আগে জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১ম খণ্ড)’। এখন লিখছেন বসুন্ধরা এবং…এর ৩য় খণ্ড।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content