
প্রত্যাখ্যাত পুরুষ কষ্ট পায়, একা একা যন্ত্রণা সহ্য করে। অনেকে হয়ত ডিপ্রেশনে চলে যায়। তারপর সময় যায়। আরও সময় যায়। বয়স বাড়ে, কমবয়সের প্রত্যাখ্যান একদিন সময়ের পলিতে চাপা পড়ে একটা পুরনো প্রায় ভুলে যাওয়া জীবনের গল্প হয়ে যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। রিসার্চ বলে নারী বা পুরুষ নির্বিশেষে শতকরা মাত্র কয়েক শতাংশ মানুষ এই যন্ত্রণা সহ্য না করে ভয়ংকর প্রতিশোধ নিতে চায়। রাগ প্রতিহিংসা প্রতিশোধ এগুলো মানবিক অনুভূতি।
প্রাণিকুল এটাকে লুকোতে পারে না। কারণ মানুষের মতো ভালো মানুষের মুখোশে চেহারা ঢেকে ভিতরের আসল অনুভূতিটাকে লুকিয়ে রাখতে তারা শেখেনি। বাঘ সিংহ কুকুর বা একটা হাঁস দেখলে কিন্তু স্পষ্ট বোঝা যায়, সে রেগে রয়েছে। একজন শিশুকে দেখেও আন্দাজ করা যায় সে রেগে গিয়েছে ! কিন্তু একজন পূর্ণবয়স্ক অভিনয়ে পটু নারী বা পুরুষকে দেখলে সেটা বোঝা যায় না। মানুষের মধ্যেও কেউ কেউ মনের ভাব লুকোতে পারে না খোলামেলাভাবে তার চোখমুখের ভাব কথাবার্তা শুনলে বা চেহারা দেখলে বোঝা যায় সে ভিতরে ভিতরে ফুঁসছে। কিছু কিছু সাপের মতো মানুষ আছে ছোবল মারার আগে পর্যন্ত যাদের দেখে মনে হয় না যে তারা কোন ক্ষতি করতে পারে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-১৮: আকাশ এখনও মেঘলা

বিখ্যাতদের বিবাহ-বিচিত্রা, পর্ব-১৭: একাকিত্বের অন্ধকূপ/২: অন্ধকারের উৎস হতে
স্নিগ্ধা বিয়ে ঠিক হওয়ার পরে ভেবেছিল তার কথায় উঠবে বসবে হাতের মুঠোর মধ্যে থাকবে এমন একটা নিজস্ব পুরুষমানুষ সে পাবে। বিয়ের পর মানুষটিকে দেখে তার স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে। এ এক অত্যন্ত কঠিন মনের মানুষ, নারীত্বের আকর্ষণ দিয়ে তাকে বশ করা যাচ্ছে না। নতুন বিয়ে করা বরের সঙ্গে মানসিক শারীরিক দূরত্ব যত বেড়েছে ততই দুলালের প্রতি শরীর ও মনের তীব্র আকর্ষণ আরো তীব্রতর হয়েছে স্নিগ্ধার।
হয়তো বয়সের কারণেই মানুষটি বেশি রোমাঞ্চকর নয়। নতুন বৌয়ের প্রতি তেমন উদ্দাম আকর্ষণও অনুভব করেননি স্নিগ্ধার স্বামী। তিনি তো জানেনই না যে স্নিগ্ধা – দুলালের কাছে প্রত্যাখিত হয়ে বাঘিনীর মতো ভেতরে ফুঁসছে। বরের সঙ্গে নতুন জীবনে ভেসে গিয়ে দুলালকে সে ভুলে যেতে চেয়েছিল।সেটা হয়নি। বাপেরবাড়ি ফিরে স্নিগ্ধা আবার নতুন করে দুলালকে আঁকড়ে ধরতে চাইল।
হয়তো বয়সের কারণেই মানুষটি বেশি রোমাঞ্চকর নয়। নতুন বৌয়ের প্রতি তেমন উদ্দাম আকর্ষণও অনুভব করেননি স্নিগ্ধার স্বামী। তিনি তো জানেনই না যে স্নিগ্ধা – দুলালের কাছে প্রত্যাখিত হয়ে বাঘিনীর মতো ভেতরে ফুঁসছে। বরের সঙ্গে নতুন জীবনে ভেসে গিয়ে দুলালকে সে ভুলে যেতে চেয়েছিল।সেটা হয়নি। বাপেরবাড়ি ফিরে স্নিগ্ধা আবার নতুন করে দুলালকে আঁকড়ে ধরতে চাইল।
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-৯৮: মা সারদার জন্মতিথিতে তাঁর অপূর্ব অমানবীয় রূপ ফুটে উঠল

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৭: আলাস্কায় এমন অপরূপ দৃশ্যও দেখা যায়, যেখানে পাহাড়-সমুদ্র-হিমবাহ একসঙ্গে বিরাজমান
এরই মধ্যে শ্যামনগরে দুলালের যে বিয়ে ঠিক হয়েছে সেই খবরটা মা ছন্দা মারফৎ স্নিগ্ধার কানে উঠল!
— তোমায় কে বলল?
— মিত্র জুয়েলার্স-এর ছোটভাই নবীন মিত্তির!
— গয়না গড়াতে দিয়েছে বুঝি?
— হ্যাঁ, একটা হাল্কাপলকা হার আর একজোড়া চুড়ি! জুটমিলের চাকরিতে আর কি দেবে!
— তাও বোধহয় ধারে করাবে না হলে কলকাতার বড় জুয়েলারির দোকান ছেড়ে চুঁচুড়োর দোকানে বিয়ের গয়না কেন গড়াবে?
— তবে হ্যাঁ, দুই দিদি জামাইবাবু আছে তারা দেবে-থোবে।
— বিয়ে কোথায় হচ্ছে। ?
— সেটা তো জানি না!
— যাঃ আসল খবরটাই নাওনি?
— আমার কি দরকার?
— আমার দরকার আছে?
— তোর? কেন?
— তোমায় কে বলল?
— মিত্র জুয়েলার্স-এর ছোটভাই নবীন মিত্তির!
— গয়না গড়াতে দিয়েছে বুঝি?
— হ্যাঁ, একটা হাল্কাপলকা হার আর একজোড়া চুড়ি! জুটমিলের চাকরিতে আর কি দেবে!
— তাও বোধহয় ধারে করাবে না হলে কলকাতার বড় জুয়েলারির দোকান ছেড়ে চুঁচুড়োর দোকানে বিয়ের গয়না কেন গড়াবে?
— তবে হ্যাঁ, দুই দিদি জামাইবাবু আছে তারা দেবে-থোবে।
— বিয়ে কোথায় হচ্ছে। ?
— সেটা তো জানি না!
— যাঃ আসল খবরটাই নাওনি?
— আমার কি দরকার?
— আমার দরকার আছে?
— তোর? কেন?
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১১৬: শান্তিনিকেতনে কবির প্রথম জন্মোৎসব

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৪: জীবনের নশ্বরতা ও আত্মানুসন্ধান বিষয়ে রামের উপলব্ধি যেন এক চিরন্তন সত্যের উন্মোচন
মায়ের কথার কোন উত্তর না দিয়ে স্নিগ্ধা উঠে গিয়েছিল। মাথার মধ্যে তার অনেকগুলো সুতো ঘুরছে। প্রতিবিম্ব প্রেসে দুলালের যাতায়াত। পাড়ার ফাংশনের কার্ড পোস্টার সুভেনির সবকিছু প্রতিবিম্ব প্রেসের আনিসুর ছাপতো। আনিসুর দুলালের সঙ্গে স্কুলে স্কুল ফাইনালে পড়তো। পড়াশোনা ছেড়ে পৈতৃক ব্যবসা ছাপাখানায় কাজ শুরু করে। আনিসুরের বাবা কম বয়সে মারা যান। আনিসুর স্নিগ্ধাকে বহুদিন চেনে। দুলালের কথায় অনেকবার আনিসুরের প্রেস থেকে প্রুফ নিয়ে এসেছে। আনিসুর সহজ সরল মানুষ, তাকে কায়দা করে সব জেনে নেওয়াটা স্নিগ্ধার কাছে খুব একটা সমস্যার কিছু নয়।
— কবিতা?
— হ্যাঁ!
— তোমার লেখা কবিতার বই ছাপবে?
— হ্যাঁ এতে এত অবাক হবার কি আছে?
— না মানে তুমি কখনো কবিতা-টবিতা…
— রেসিটেশন করতাম না!
— হ্যাঁ তা করতে কিন্তু লেখালেখির ব্যাপারে তো
— আমি বহুদিন ধরেই লিখি। বিয়ের পর আমার বর সেগুলো দেখে আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। কলেজে পড়ান তো উনি আবার এসব কবিতা উপন্যাস নিয়ে খুব উৎসাহী। আমি রাজি হইনি কিন্তু উনি এমন জোর করলেন, বলেছেন প্রথম বইটা ছাপিয়ে তারপর শ্বশুরবাড়ি ফিরতে! মানি অর্ডার করে টাকাও পাঠিয়ে দিয়েছেন।
— কবিতা?
— হ্যাঁ!
— তোমার লেখা কবিতার বই ছাপবে?
— হ্যাঁ এতে এত অবাক হবার কি আছে?
— না মানে তুমি কখনো কবিতা-টবিতা…
— রেসিটেশন করতাম না!
— হ্যাঁ তা করতে কিন্তু লেখালেখির ব্যাপারে তো
— আমি বহুদিন ধরেই লিখি। বিয়ের পর আমার বর সেগুলো দেখে আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। কলেজে পড়ান তো উনি আবার এসব কবিতা উপন্যাস নিয়ে খুব উৎসাহী। আমি রাজি হইনি কিন্তু উনি এমন জোর করলেন, বলেছেন প্রথম বইটা ছাপিয়ে তারপর শ্বশুরবাড়ি ফিরতে! মানি অর্ডার করে টাকাও পাঠিয়ে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:

গীতা: সম্ভবামি যুগে যুগে, পর্ব-২২: সন্ন্যাস

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০০: নীল কটকটিয়া
আনিসুর মনে মনে স্নিগ্ধার স্বামীর প্রশংসা করল, এমন লোক আজকের বড় একটা দেখা যায় না। পাতা কেমন হবে? ক’ফরমার বই? সাইজ হবে কত? কত ছাপলে কত খরচ? কিরকম কভারডিজাইন হবে? এসব নিয়ে কথাবার্তা চালিয়ে যেতে লাগলো স্নিগ্ধা! আনিসুর হিসেব করে একটা খরচার আন্দাজ তৈরি করছি! এরই মধ্যে কম্পোজিটর ঘোষবাবু আনিসুরকে একটা প্রুফ দেখাতে নিয়ে এল! আনিসুর হিসেবটার মাঝে ছিল তাই হাত দেখিয়ে বলল, এক মিনিট !
স্নিগ্ধা একটা পুরনো ছাপানো ম্যাগাজিন টেনে নেবার নাম করে ঘোষবাবুর হাতে ধরা প্রুফটা ভালো করে দেখে নিল! সেটা দুলালের বিয়ের কার্ড!—চলবে।
স্নিগ্ধা একটা পুরনো ছাপানো ম্যাগাজিন টেনে নেবার নাম করে ঘোষবাবুর হাতে ধরা প্রুফটা ভালো করে দেখে নিল! সেটা দুলালের বিয়ের কার্ড!—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। উপন্যাস লেখার আগে জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১ম খণ্ড)’। এখন লিখছেন বসুন্ধরা এবং…এর ৩য় খণ্ড।


















