রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
এখন গভীর রাত। তবু তৃপ্তি একাই বাড়ি ফিরতে চাইল। শ্রমিক সংগঠনের সহকর্মীরা চেয়েছিল সঙ্গে যেতে, তৃপ্তি শান্ত গলায় বলেছিল, ‘থাক আমার আর কোনও বিপদ হবে না’। কণ্ঠস্বরে এমন একটা দৃঢ়তা ছিল দুলালের সহকর্মীরা আর কথা বাড়াবার সাহস পায়নি।

বিপদের আশঙ্কা নিয়ে ভয়ে ভয়ে বেঁচে থাকা তৃপ্তি। এই আচমকা কলঙ্কের ধাক্কায় অনেকটা কঠিন হয়ে গিয়েছে। মা-বাবার মৃত্যুর খবর এসেছিল থানা থেকে, ভাইয়ের মৃতদেহ হাতে পেয়েছিল থানাতেই। আর আজ আবার সেই থানা থেকেই কুৎসার মুকুট পরে বাড়ি ফিরছে তৃপ্তি। বাড়িটা কি আর বাড়ি থাকল?
থানা থেকে ফিরতে গেলে, বড় রাস্তা থেকে স্নিগ্ধাদের বাড়ির সামনের দিয়ে আসা গলিটা দিয়েই ফিরতে হবে। যাওয়ার সময় যখন ওই রাস্তা দিয়ে গেছে তখন তাদের বাড়ির সামনে কিছু মানুষের গুঞ্জন দেখেছিল কিন্তু তখন আশপাশে কি ঘটছে সেদিকে তাকানোর মতো মনের অবস্থা ছিল না। এখন থানা থেকে ফেরবার সময় তৃপ্তি দূর থেকে দেখতে পেল স্নিগ্ধাদের বারান্দার আলো জ্বলছে সেখানে কেউ দাঁড়িয়ে আছেন।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৭: আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৫ ন হন্যতে

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২: মালা বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৯: হাট্টিমা

তৃপ্তি মাথা নামিয়ে দ্রুত পায়ে হাঁটছে স্নিগ্ধাদের বাড়িটা পেরিয়ে যাবার মুখে অন্ধকার থেকে একটা ছায়ামূর্তি তার পথ আগলে দাঁড়াল —
—আমাকে মাফ করো তৃপ্তি। আমার কিছু করার ছিল না!

তৃপ্তির উত্তর না দিয়ে পাশ কাটিয়ে যেতে চায়। কিন্তু স্নিগ্ধা দোতলা থেকে হাঁপাতে হাঁপাতে এমনি নেমে আসেনি। সে এই কলঙ্কের জ্বালাটা তৃপ্তির শরীরে বিঁধিয়ে দিতে চায়। তৃপ্তির চোখ মুখ দেখে যাতে একটা পাশবিক আনন্দ অনুভব করা যায় তাই সে নেমে এসেছে।
—ছেলে কি বাড়িতে একা নাকি?
এবারও তৃপ্তি কোন উত্তর দেয় না চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়ে থাকে! স্নিগ্ধা এবার অপমানের মাত্রাটা আরও বাড়াতে শুরু করল!
—দুলালদা যে এইরকম একটা নোংরামি করবে এটা আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি ভাই!
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৩: মহর্ষিকে অনুসরণ করে তাঁর পত্নীও বাড়ির পুজোতে যোগ দিতেন না

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে

তৃপ্তি চোখ তুলে তাকায়। তার দু-চোখে জ্বলন্ত দৃষ্টি দেখে স্নিগ্ধা মনে মনে খুব খুশি। তার মানে ওষুধে কাজ করছে। ঠিক তখনই বারান্দা থেকে স্নিগ্ধার মা ছন্দাকাকিমার গলা পাওয়া গেল।
—স্নিগ্ধা? কি করছিস ওখানে? কে কথা বলছে?
—তৃপ্তি বউদি গো! দুলালদার বৌ ! থানা থেকে ফিরছে।
—তার সঙ্গে তোর কী? এখনও তাঁর মুখ দেখতে ইচ্ছে যাচ্ছে?
—আরে ওর কি দোষ বলো! ওতো আর আমার ওপর ঝাঁপায়নি সে তো ওর বর!
আরও পড়ুন:

আমার দুর্গা: বিজ্ঞানী রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩২: লৌকিকও অলৌকিকের টানাপোড়েনের বিনির্মাণ—ঋষিকবির মহাকাব্য রামায়ণ

মা-মেয়ের নাটুকেপনা শুরু হতেই তৃপ্তি দ্রুতপদে হাঁটা দিয়ে পাশ কাটিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল! স্নিগ্ধা দেখলো এত রাতে আর বাড়াবাড়ি করে আর লাভ নেই।
—পাখার কাঠচেরা একঘেয়ে ছন্দ আর ঝিঁঝিঁর তান ছাড়া শব্দহীন থানাটা। মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে সাব ইন্সপেক্টর হাসান আলি একবার সেলে গিয়ে দেখল দুলাল সেন একই ভাবে বসে আছে। এলাকার বড়বড় পুজোপ্যাণ্ডেলে যুবক বয়েসে এই লোকটার আবৃত্তি শুনেছে হাসান। জুটমিলের গেটে দাপুটে ভাষণ শুনেছে। সে ভাষণ পেশাদার ট্রেড ইউনিয়ন নেতার স্বরলিপিতে বাঁধা নয় – সরাসরি বুকের ভেতর থেকে টাটকা ঝলমলে সত্যিকথা!
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

একেবারে হৃদয় থেকে সহজভাবে বলা কথাতে বালি-কাঁকর মিশে থাকে, মস্তিষ্কের ফিল্টার লাগলেই সে কথা যে ছাঁকনি-দেওয়া তা কিন্তু স্পষ্ট বোঝা যায়। কিন্তু ছকেবাঁধা চালাক লোকজন সাধারণত একটু নির্লজ্জ হয়। মাথায় দূর্বুদ্ধি ঠাসা হলেও বুদ্ধির সূক্ষ্মতা একটু কম বরং চোখের চামড়ার মতই তা একটু পুরু। তারা ভাবে চালাকিটা অপরজন ধরতেই পারেনি। স্নিগ্ধার চালাকি বা জুট মিল মালিক মহেশ্বরীর চক্রান্ত স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, কিন্তু আমাদের আইন ব্যবস্থায় সত্যি সত্যি দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন কি হয়! পুলিশের উর্দি গায়ে দেওয়া সাব-ইন্সপেক্টর হাসান আলির মাথায় প্রায়ই এসব প্রশ্ন খোঁচা মারে। — চলবে

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ । এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content