কলকাতায় বৃষ্টি
ওয়েলেসলি জুটমিল কবে লাটে উঠে গিয়েছে। দুলাল সেন জুটমিল বিক্রিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দুলালের সামাজিক বলি হবার পর জুটমিল বিক্রি করে দিতে একটুও সময় নেয়নি ধুরন্দর ব্যবসায়ী কানাইলাল মহেশ্বরী। জুটমিল মালিক কানাইলাল মহেশ্বরী এখন মহেশ্বরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান। ছোটখাট নানান ব্যবসার মধ্যে প্লাস্টিকের জলের ট্যাংক তৈরি করে ওরা। অনেক কোম্পানি আছে ওরাও তাদের মধ্যে একজন। কেএলএম ব্র্যান্ড (KLM brand) এর চৌকো বক্সের মত সিলিন্ড্রিক্যাল ব্যারেল তৈরি করে। ছেলে ভিকি মহেশ্বরী এখন সিইও। অতনু কানাইলালকে বিতানের তালিকা থেকে বের করে নিয়েছে। সেটা সে নিজে সামলাবে।
বিতান নিজে একদিন শ্রীরামপুরে সার্কেল ইন্সপেক্টরের অফিসে গেল। নিজেকে একজন লেখক হিসেবে পরিচয় দিল। জানালো ১৯ বছর আগে হাসান আলি যখন চুঁচুড়া থানায় পোস্টেড ছিলেন তখন দুলাল সেন বলে একজনকে শ্লীলতাহানির অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে খুনের অপরাধে তার যাবজ্জীবন সাজা হয়।
বিতান তাঁকে নিয়ে সত্যি ঘটনা অবলম্বনে অপরাধমূলক একটা সিরিজ লিখছে। সে বিষয়ে হাসান আলির সাহায্য চাই।
— এসব নিয়ে কথা বলার সময় আমার নেই। চুঁচুড়ায় যান। পুরনো মানুষ খুঁজে পেলে জানতে পারবেন।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৯: ইরাবতীর ডায়েরি থেকে/১

শারদীয়ার গল্প/১ : ষষ্ঠীর সন্ধ্যা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৮: ঘরচিতি

উপন্যাস, পর্ব-৯২ : আকাশ এখনও মেঘলা

বিতান বহুদিন ব্যবসা করছে। কি জানি ইনফরমেশন এর সোর্স কে কীভাবে সাবধানে ব্যবহার করতে হয় ফট করে মানুষের ইগোতে ঠক্কর লাগলে লাভের লাভ তো কিছুই হবে না উল্টে এ জগতে আরেকজন শত্রু বেড়ে যাবে। ফিরে এল। তার মধ্যে অন্য লোকজনের খোঁজ করতে লাগলো। হঠাৎ করে খোঁজ পেয়ে গেল সেই উকিল হরিদাস সাহার। কথায় বলে লোভে পাপ পাপে মৃত্যু! হরিদাস সাহার দুরারোগ্য ক্যানসার রোগে ভুগছেন। চিকিৎসার খরচ যোগাতে চুঁচুড়া শহরের বাড়ি বিক্রি করে দিতে হয়েছে। হুগলি জেলার মাজিনানে গ্রামে শরিকি বাড়িতে এসে আশ্রয় নিতে হয়েছে। নিঃসন্তান। স্ত্রী ছাড়া দেখার কেউ নেই।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৯: রাজসূয়যজ্ঞে চেদিপতি শিশুপাল ও কুরুপ্রধান ভীষ্মের কথোপকথনে সদর্থক ও নঞর্থক চিন্তার সংঘাত,মহাকাব্যে প্রতিফলিত জীবনবোধ

শারদীয়া স্পেশাল, রাজীব হত্যা : অমীমাংসিত প্রশ্নচিহ্ন অনিন্দ্য ভুক্ত

অনেক খোঁজ করে করে হরিদাসের বাড়ি পাওয়া গেল। গলাতেই কর্কট বাসা বেঁধেছে। খুব কষ্ট করে কথা বলেন। হরিদাস সাহার বাড়িতে গিয়ে বিতানের খুব খারাপ লাগলো। ১৯ বছর আগেমুখ বন্ধ করে রেখে দুলাল সেনকে বিপদে ফেলার জন্য কত টাকা পেয়েছে লোকটা? খুব বেশি হলে পনের-বিশ হাজার! তখন অনেক টাকা সেটা! ঈশ্বর সেই মুখ শেষমেশ বন্ধই করে দিয়েছেন! খাবার খাওয়ার জন্য গলায় ফুটো করতে হয়েছে। কিন্তু ঈশ্বরও কি সঠিক বিচার করতে গিয়ে ক্ষমতাবানদের ক্ষেত্রে একটু সংকোচ বোধ করেন! না হলে উকিল বেচারি হরিদাস সাহা তো একলা দুলাল সেনকে হাজতবাসে পাঠিয়ে দেয়নি।
আরও পড়ুন:

দশমী

শারদীয়ার গল্প/২ : কনটেন্ট

সরকার পক্ষের উকিল পাবলিক প্রসিকিউটর বা সেই মামলার বিচারপতি যিনি ছিলেন একজন নির্দোষ শাস্তি পাচ্ছেন কিনা সেটা দেখার দায়িত্ব তাদের ছিল। ওই যে সব বলা হয় না হাজার জন দোষী মুক্তি পাক কিন্তু একজনও না নির্দোষ যেন শাস্তি পায়। এই কথার প্রথম অংশটা সত্যি। তাতে একটা শব্দ খালি কম আছে। হাজার জন ‘প্রভাবশালী দোষী’ মুক্তি পাক। ৮০ বছরের স্বাধীনতায় আমরা তাই দেখে এসেছি। ঈশ্বর যদি অন্যায়ের বিচারে হরিদাস সাহার শাস্তি দান করেন তাহলে এই ঘটনার মূলচক্রী ওয়েলেসলি জুটমিলের মালিক কানাইলাল মহেশ্বরীর কোন শাস্তি দিয়েছেন ঈশ্বর! যিনি একটা গোটা পরিবারকে ছারখার করে দিলেন তিনিও বহাল তবিয়তে আছেন তার ব্যবসা ও রমরম করে চলছে!
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

শারদীয়া স্পেশাল : সুদূর অতীতে উঃপূর্বাঞ্চলে দুর্গাপুজো

বিতান বুদ্ধিমান তাই হরিদা সাহার খবরটা সরাসরি ফোন করে অতনুকে জানালো। উত্তর এল
— হরিদাস সাহাকে আপনার লিস্ট থেকে ডিলিট করে দিন ওটা আমি দেখছি।
এইসবে এক সপ্তাহ কেটে গেল। বিতান আবার ফিরলো শ্রীরামপুরের সার্কেল অফিসে। হাসান আলির কাছে।
— কি ব্যাপার আপনি আবার এসেছেন ? আমি তো বললাম এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। আপনি চুঁচুড়ায় গিয়েছিলেন?—চলবে।
*জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content