কলকাতায় বৃষ্টি
স্নিগ্ধার শ্লীলতাহানির মিথ্যে নাটকে আরও কিছু পাত্র-পাত্রী জড়ো করে দুলালকে দোষী সাব্যস্ত করা হল। তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। যে উকিল দুলাল সেনের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তাকে কানাইলাল মহেশ্বরী মোটা টাকা দিয়ে কিনে নেন। সেই উকিল আদালতে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। ধর্ষণের মামলায় দুলাল সেনের সাজা হল। তৃপ্তির একটা ক্ষীণ আশা ছিল দুলাল আদালতে ন্যায়বিচার পাবে।
আগেই ছেলে অতনুকে চার্চে ফাদারের কাছে রেখে এসেছিল। কারণ এই এলাকার যে কোনও স্কুলে বাবার বিরুদ্ধে এই কুৎসা ছেলেটাকে শেষ করে দেবে। শেষ আশাটুকু এভাবে চুরমার হয়ে যেতে দেখে তৃপ্তি বাঁচা ইচ্ছে হারিয়ে ফেলেছিল। ছাদের ভাঙা আলসের থেকে পড়ে যায় তৃপ্তি নিচের চাতালে। প্যারোল কাস্টোডিতে ছাড়া পেয়ে অতনুর সাজাপ্রাপ্ত বাবা দুলাল সেন স্ত্রী তৃপ্তির সৎকার করতে গিয়েছিলেন। এই ছারখার হয়ে যাওয়া সংসারের মূল চক্রান্তকারীকে শ্মশানে দেখতে পেয়ে দুলাল নিজেকে আর সামলাতে পারেননি। পাহারাদার কনস্টেবলের রাইফেল ছিনিয়ে নিয়ে স্নিগ্ধাকে প্রথমে বন্দুকের বাঁট দিয়ে মাথায় মেরে মাটিতে ফেলেছে। তারপর বুকের উপর রাইফেল রেখেই গুলি চালিয়ে দেন।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৮৯ : আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৭: স্কুপ-নিউজ

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৭০ : ঘটজাতক/৫ : সে আসিছে আজ কাল-বৈশাখে

লক্ষ্যভ্রষ্ট হবার সুযোগ ছিল না। এখন খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজায় রয়েছেন দুলাল সেন। মায়ের অতীত মায়ের কাছেই শুনেছিল অতনু। বাকি ঘটনার সবটুকু একটু একটু করে তাকে ফাদার স্যামুয়েল শুনিয়েছেন। ফাদার বলেছিলেন তিনি চাননি লোকমুখে ভুল ইতিহাস শুনে অতনু কোনওভাবে তার নিরাপরাধ মা-বাবাকে ভুল বুঝুক! তাই ঈশ্বরের কাছে অতনুর একরাশ প্রশ্ন। তার মা তৃপ্তিকে, এত কষ্ট ঈশ্বর কেন দিলেন? কেন দুলাল সেন তার ইচ্ছে অনুসারে এমএ পাশ করে একটা সুস্থ স্বাভাবিক জীবন পেলেন না? কোন অপরাধে অতনুর অতীতটা অন্ধকার হয়ে গিয়েছে?
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৮: যুদ্ধে ছলনার আশ্রয় এবং বলপ্রয়োগ, উভয়ের কোনও তারতম্য আছে কি?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

আজ কিন্তু অতনু তার জীবনের সিদ্ধান্ত একা একা নেয়! বাবা এখন আর সাংসারিক চাপ নেবার অবস্থায় নেই। মা চলে গিয়েছেন চিরকালের মতো। ফাদার স্যামুয়েলের অনেকটা বয়েস হয়ে গিয়েছে। উনি অতনুকে সেই কিশোরবেলা থেকে আগলে রেখেছিলেন! আর তাঁকে বেশি ব্যস্ত করা যাবে না। আর অতনুর কোনও বন্ধু নেই। স্বজন নেই! কাজের জায়গায় সহকর্মীরা আছেন। তাঁরা যথেষ্ঠ বিশ্বস্ত। কোম্পানির ভালো-মন্দের জন্য তাদের কথা শুনতে হয় তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়। নিজের সিদ্ধান্তের ভেরিফিকেশন করার জন্য অতনুর কাউকে দরকার নেই। কারণটা খুব সোজা। অতনুর কেউ নেই।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

শ্রদ্ধাঞ্জলি : সঙ্গীতই আমার ফার্স্ট লাভ : শচীন দেববর্মণ

বিবি এন্টারপ্রাইস। সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সি। বিতান ঘোষ। তার ফোন বেজে উঠল। অফিসের ফোন। বিতানের ফোনে সেভ করা আছে।
— হ্যাঁ স্যার বলুন!
— আমি অতনু সেন। টেক সলিউশন।
— আপনার নম্বর সেভ করা আছে। বলুন স্যার।
— একটু সামনাসামনি কথা বলতে চাই।
— নো প্রবলেম স্যার! বলুন কোথায় কখন আসতে হবে।
— আফটার অফিস! বাইরে কোথাও!
— ঠিক আছে স্যার আমি টেবিল বুক করে রাখবো আপনি বলুন আপনি কি ধরনের রেস্তঁরা প্রেফার করছেন! চাইনিজ কন্টিনেন্টাল।
— টেবিল আপনি বুক করুন। কিন্তু অন্য ওয়ান কণ্ডিশন। আমি কারও ট্রিট নিই না।
— নো প্রব্লেম স্যার! আপনি যেভাবে কমফর্টেবল।
— একটু ফাঁকা জায়গা। যেখানে বসে কথা বলা যায়।
— আপনার আপত্তি না থাকলে আমরা হায়াতে যেতে পারি। সেক্টর ফাইভ থেকে সল্টলেক হয়ে ভেতর দিয়ে
মিনিট পনেরো ম্যাক্সিমাম।
— বেশ!
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৬: শাঁখামুটি

La Cucina হায়াত রিজেন্সি বিধাননগরের ছিমছাম ইটালিয়ান রেস্তঁরা! বিদেশে অতনু ইতালিয়ান খাবারে খুব অভ্যস্ত ছিল। প্যান সিয়ার্ড স্যামন। চেনা ডিস। স্যামন মাছের ফিলে বেশ আষ্ঠেপৃষ্ঠে ভাজাভাজা। সি-ফুড স্যস, ব্রকোলি, বিনস, জ্যুকিনি, গাজর দেওয়া । সেকেন্ডো বা সেকেন্ডি ইতালি খানাপিনায় সেকেন্ড কোর্স মাছ মাংস ডিম জাতীয় আমিষ। প্রাইমো হল ফার্স্ট কোর্স, কার্বোহাইড্রেট ডিশ পাস্তা, রিসোটো বা স্যুপ। তার আগে আমাদের চেনা স্টার্টার বা অ্যাপেটাইজারের সংস্করণ হল অ্যান্টিপ্যাস্তো! অ্যান্টিহিরোর মতো। কন্টর্নো হল সেকেন্ডো বা সেকেন্ডির সঙ্গী—ভেজিস, স্ম্যাশড পোট্যাটো, সেদ্ধ আলুর মিহি তাল।—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content