কলকাতায় বৃষ্টি
সুনীল গাঙ্গুলি “কেউ কথা রাখেনি” কবিতাটা ঠিক কবে লিখেছিলেন জানা নেই, কিন্তু ১৯৩৪ সালে জন্ম। জন্ম থেকে ৩৩ বছর কাটলো ধরলে ১৯৬৭ সাল। আর ছেলেবেলায় নাদের আলি যখন বলেছিল, তখন ধরা যেতে পারে ছয়-সাত বছর। তার মানে ১৯৭৩-৭৪। মানে নকশাল আমলের আদর্শ শেষ হবার পরে সবে ঠগ জোচ্চোর চোর চিটিংবাজে চারদিক ভরে গিয়েছে। সুনীলের কথা শুনলে, ১৯৪০ সাল থেকে কেউ কথা রাখছেন না। আর ১৯৪০ থেকে আজ ৮০/৮৫ বছর বছর মিথ্যে কথা বলাটাই দস্তুর হয়ে উঠেছে।
উনিশ শতকে নাকি একটা খুব চালু প্রবাদ ছিল— জাল-জোচ্চুরি-মিছেকতা, এই তিনে মিলে কলকেতা । ২০০ বছরে অনেক বদল এসেছে। ঝাঁ চকচকে বাড়িঘর। আকাশে বিমান পাতালে রেল। জীবনের গতি বেড়েছে। বহির্বিশ্বে যোগাযোগ। রাজনীতি এখন আর মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেবার লড়াই নেই। এটাও এখন আর পাঁচটা পেশার মতোই। তবে ঝুঁকিহীন নয়। মারধর-চটিজুতো-কালি থেকে ডিম। সবকিছুর জন্য তৈরি থাকতে হয়। কপাল খুব খারাপ হলে জীবনটাও যেতে পারে। তবে ঝুঁকি বেশি, তাই লাভ বেশি। ব্যবসার মতো। টিকে গেলে নিজের এবং আগামী প্রজন্মের জন্য চিরস্থায়ী এক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এমএলএ বা এমপি হবার শিকে ছিঁড়তে পারলেই সরকারি অর্থ আসে আজীবন। এভাবেই জালিয়াতি লোক ঠকানো আজ এক শ্রেণির অ-মানুষের জীবিকাও বটে। আর মিথ্যে কথাটা জীবনের সর্বাঙ্গে জড়িয়ে আছে। সেটাতে কারও কোনও ছুৎমার্গ নেই। আগেরদিনে গালিগালাজ ছিল। এখনও আছে। পরচর্চা পরনিন্দার চণ্ডীমণ্ডপ বা পুকুরঘাট ছিল। আজও সোশ্যাল মিডিয়া তাঁরই নামান্তর।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস, পর্ব-৮৭ : আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৫: আইসিইউ কেবিন নং ২০৪

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

বিনায়ক : বিশ্বকর্মা

ঢপ বললে আজ শতকরা ৯৯ জন বঙ্গসন্তান মিথ্যে বলা বুঝবেন। ক্ষয়িষ্ণু এক শতাংশ ভাববেন অষ্টাদশ শতাব্দীর ঢপ কীর্তনের কথা! যা কিনা সাবেকী বৈষ্ণবকীর্তনের দিব্যভাব ছাড়া একটি লৌকিক রূপ। কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় মধুসূদন কিন্নর ও রূপচাঁদ পক্ষী (দাস) যে ঢপকীর্তনকে ভীষণ জনপ্রিয় করেছিলেন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৫: কৃষ্ণবিরোধিতার প্রসঙ্গে ভীষ্মের বিরূপ সমালোচনা সত্ত্বেও কে স্মরণীয়? শিশুপাল? না ভীষ্ম?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

এই সময়ে পৌঁছে একজন ব্যবসায়ী তার কথা রাখবেন সে কথা ছেলেটি স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি! সব বন্ধুরা চাকরি পেয়ে গিয়েছে, নিজের আত্মবিশ্বাসের স্তম্ভগুলো যখন অবিশ্বাস আর হতাশার ঢেউতে ক্ষয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনি ফোনে জরুরি তলব পেয়ে ছেলেটি প্রায় পাগলের মতো সেক্টর ফাইভে টেক সলিউশন কলকাতার অফিসে ছুটে এসেছিল। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার সামনে দেখে স্যালারি জয়েনিং এসব না দেখেই অতনুর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ছেলেটি টয়লেটে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

টেক সলিউশন একটা রেসিডেন্সিয়াল ফ্ল্যাট থেকে করা অফিস। তাই দেখানে দুটো ছোট ছোট টয়লেট ভেঙে একটা বড় টয়লেট করা হয়েছিল। অতনু সিইও হলেও নিজের জন্যে আলাদা ব্যবস্থা রাখেনি। অতনু কী ভেবে উঠে টয়লেটে গিয়ে দেখল সেই ছেলেটি বেসিনে হাত রেখে হাউ হাউ করে কাঁদছে।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৬: শাঁখামুটি

সে কান্না বড়ও পবিত্র! নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবার আনন্দাশ্রু! এতদিনের জমে থাকা অপমান গ্লানিকে ধুয়ে মুছে সাফ করার অশ্রুজল। সেই ছেলেটি সেদিনই জয়েন করেছিল। শুধু তাই নয়, দুপুরের পরে একটা ট্যাক্সি নিয়ে বাড়ি গিয়ে মাকে সুখবর জানিয়ে ফিরে এসেছিল অফিসে তারপর সে নিজেকে টিমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে একটা সপ্তাহ দিনরাত কাজ করেছিল টানা। অতনুর মতো সিইও-র জন্য এরকম পাগল এমপ্লয়ি না হলে মানাবে কেন? বস নয়। দাদার মতো সকলের পারিবারিক সুখে-দুঃখে অতনু সময় দেয়, প্রয়োজনে সাধ্যমতো অতিরিক্ত সাহায্য করে। তাই টেক সলিউশনের পুরো টিম যে কোনও অসম্ভব টার্গেটকে অ্যাচিভ করতে পারে। যেন প্রত্যেকে এই ব্যবসার অংশীদার। স্টার্টআপ উদ্যোগে সাফল্যের প্রথম চাবিকাঠি পারস্পরিক বিশ্বাস আর সংস্থার ভালোমন্দের সঙ্গে নিজের ভালোমন্দকে জড়িয়ে ফেলা। অতনু এই মন্ত্রে সকলকে একসঙ্গে দীক্ষিত করতে পেরেছে। কিন্তু অতনুর মনের ভিতরের দরজা, তার অতীতের দরজাটা শক্তপোক্তভাবে বন্ধ করা। —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content