

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৮ : পথে এবার নাম সাথী

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০৮ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ১

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭১: কৃষ্ণের প্রতি ভীষ্মের শ্রদ্ধার্ঘ্য, শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে মানুষ ও দেবতার সমন্বয়

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা
জানালার বাইরে অনেক গাছপালা, ফুলফলের বাগান। পাখি ডাকছে। রোদ ঝলমল করছে চারদিকে। একটু পরেই ঝাঁ-ঝাঁ করে রোদ চড়ে যাবে। তখন বাইরে বেরুনোর উপায় থাকবে না। এই বাংলোয় এসি আছে। গরমে অসুবিধা হওয়ার অতএব কোন আশঙ্কা নেই। জানালা দিয়ে অনেকটা দূরের লালইঁটের তৈরি দু-মানুষ উঁচু বাউন্ডারি ওয়াল চোখে পড়ছে। থেকে-থেকে নুনিয়ার বুকের মধ্যে থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসছে। তার মনে হচ্ছে, একছুটে সে ওই বাইরের মুক্ত প্রকৃতির কোলে ছুটে যায়। এইভাবে বন্দি হয়ে থাকতে তার মোটেই ভালো লাগে না। শেফালিকা অ্যান্টি দশ-দশটা অঙ্ক কষতে বলেছেন। কিন্তু তার মাত্র দুটি হয়েছে। যদিও সে জানে না, সে-দুটিও ঠিক হয়েছে কি-না। কিন্তু তার মনে হচ্ছে, ঠিক হোক বা না-হোক, অনেকটা সময় ওই দুটি অঙ্কের পিছনে খরচ করে ফেলেছে সে। এখন তার একটা লং-ব্রেক দরকার।

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৪৬: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৬

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

দশভুজা : আমি আর কখনওই ফিরে আসার প্রত্যাশা করি না…
শেফালিকা এইসময় রান্নাঘর থেকে তার নাম ধরে ডাকলেন। “নুনিয়া?”
“ঊঁ…” সাড়া দিল নুনিয়া। যদিও সে জানে, পরের প্রশ্নটা শেফালিকা আন্টি কী করতে যাচ্ছে। করলও, যা ভেবেছিল সে।
“কটা অঙ্ক হল তোর?”
“করছি…” একটু ডিপ্লোম্যাটিক্যালি উত্তর দিল নুনিয়া।
“করছিস তো বুঝলাম। কিন্তু ক’টা এখনও পর্যন্ত করে উঠতে পেরেছিস, সেটা জানতে চাইলাম। বল…”
“গুণে দেখিনি আবার কী রে? এমনভাবে বলছিস, যেন তোকে একশোটা অঙ্ক করতে দিয়েছি আর তুই সত্তর-পঁচাত্তরটা করে ফেলেছিস! কই দেখি…” বলে আঁচলে হাত মুছতে-মুছতে শেফালিকা আন্টি বেরিয়ে এলেন কিচেন থেকে।
নুনিয়া প্রমাদ গুনল।
শেফালিকা নুনিয়ার খাতাটা নিয়ে পাতা উল্টে দেখে বললেন, ‘সে কী রে! মাত্র দুটি করেছিস। তাও তো দেখছি, একটা মনে হয় ভুল। এক ঘন্টা ধরে বসে তুই মাত্র দুটি প্রবলেম সলভ করতে পেরেছিস? আর বলছিস, গুণে দেখিসনি? তোর ব্যাপারটা কী বল দেখি!”
নুনিয়ার এক গাল মাছি। সে কী জবাব দেবে ভেবে পেল না।
“চুপ করে থাকিস না, জবাব দে! এরপর এখান থেকে ছাড়া পেয়ে তুই যখন নিজের ক্লাসে ফিরবি, তখন তোকে দেখে সবাই হাসাহাসি করবে। তুই এত পিছয়ে পড়বি যে, হয়ত এ-বছর পরীক্ষাই দিতে দেবে না। এসব কথা তোকে তো এক হাজার একবার বলেছি। তাতেও কি তোর প্রত্যয় হবে না?”
নুনিয়া বলল, “আমি পরে ঠিক ম্যানেজ করে নেব। এখন মুড অফ্!”
“হ্যাঁ, পরে তুমি আর করেছ! আর মুড অফ! মুড অফ হওয়ার কারণটা কি শুনি!”
“কিছু না। আন্টি, আমি কি একটুক্ষণের জন্য বাইরের বাগানে যেতে পারি?”
“না!” চাপা গলায় চিৎকার করে ওঠেন শেফালিকা, “খবরদার না! তুই জানিস না, বাইরে যাওয়া তোর বারণ। কেন বারণ, তা-ও তো জানিস তুই। তাহলে?”
“আমাকে যে ডাকছে ওরা!”
“ওরা ডাকছে? কারা?” শিউরে উঠে বললেন শেফালিকা।
“বাইরের গাছপালা, পাখি, প্রজাপতি…এরা। কতদিন ওদের মাঝে সময় কাটাইনি। ওদের কত গল্প জমে গিয়েছে এতদিনে। ওরা সে-সব আমায় শোনাবে বলে ডাকছিল। ওই দেখ না, গরাদের কাছে কটা প্রজাপতি এসে চুপ করে আমাদের কথা শুনছে…” বলে আঙুল তুলে দেখায়।
তাকে অনুসরণ করে নির্দিষ্ট দিকে তাকিয়ে, জানালায় এসে বসা প্রজাপতিটিকে দেখতে পেলেন শেফালিকা। মনটা ভালো হওয়ার পরিবর্তে খারাপ হয়ে গেল তাঁর। সত্যি, বাচ্চা মেয়ে। তার উপর জঙ্গলে-জঙ্গলে আপনমনে ঘুরে বেড়ানোই ছিল যার নিত্যদিনের কাজ এবং একমাত্র ভালবাসার কাজ, তাকে যদি এই খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়, তাহলে তার মন খারাপ হতে বাধ্য। তিনি নুনিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “বুঝলাম। কিন্তু এখন তো বিশেষ কারণে তোর বাইরে যাওয়া বন্ধ। তুই ওকে সে-কথা জানিয়ে দে। ও ঠিক গাছপালা, ফুলফলের কাছে গিয়ে তোর বাইরে না-যাওয়ার কারণ বুঝিয়ে বলে দেবে!”
নুনিয়া কিছু বলল না। চোখ বন্ধ করল। তার চোখে জল।

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

মুভি রিভিউ: আজও অর্ধাঙ্গিনী: ভালোবাসার পরেও যে সম্পর্ক বেঁচে থাকে
নুনিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে অস্ফুট স্বরে বলল, “টানে তো…”
“কে?”
“মা টানে। মাঝেমধ্যেই স্বপ্নে দেখা দিয়ে বলে, আমার কাছে চলে আয় নুনিয়া। এরা তোকে বাঁচতে দেবে না!”
তার কথা শুনে কেঁপে ওঠেন শেফালিকা। আরও জোরে চেপে ধরেন নুনিয়াকে নিজের বুকের মধ্যে। বলেন, “মা তো আর সরাসরি তোর কাছে আসতে পারবেন না। গড্ অ্যালাউ করবেন না। কিন্তু মা ছাড়া আর কোন মানুষ তোকে টানে?”
“বাবা!”
“কিন্তু তিনিও তো আর নেই। আসতে পারবেন না কোনওভাবেই!”
নুনিয়া একচোট কেঁদে নিল সেকথা শুনে। তারপর চোখ মুছে ধরা গলায় বলল, “আচ্ছা, ডক্টর কোথায়?”
“বাইরে আছেন। কাজে গিয়েছেন!”
“আমি এখানে আছি, তা জানেন?”
এ-সব কথার উত্তর শেফালিকা জানেন না। জানার কথাও নয়। কিন্তু আপাতত নুনিয়াকে শান্ত করার জন্য একঝুড়ি মিথ্যে বলার দরকার হলে তা তাঁকে বলতে হবে। সেইমতো তিনি বললেন, “তা আবার জানবেন না? সব তো দূরে থেকেও তিনিই কন্ট্রোল করছেন। এই যেমন, আমি যদি তোকে ঠিকমতো দেখাশুনা না করি, তাহলে আমাকেও ফোন করে যাচ্ছেতাই বলবেন!”
“ডক্টর আংকেল কখনও খারাপভাবে বলতেই পারেন না!” নুনিয়া অবিশ্বাসীর গলায় বলল।
“তাই না-কি?”
“হ্যাঁ। ডক্টর আংকেলকে আমি কি আজ থেকে চিনি?”
“সেটা ঠিক! আমরা আর কতটুকু চিনি? তুই বাচ্চা মেয়ে তুই তো বেশি চিনবিই।”
“আংকেল ভালো আছেন?”
“হ্যাঁ!”
“আমার কাছে কবে আসবেন?”
“কাজ মিটিয়েই!”
“আচ্ছা, শেফালিকা আন্টি, একটা কথা জিজ্ঞাসা করি। আমি ডক্টর আংকেলকে একটা মোবাইল ফোন দিয়েছিলাম, সেটা কোথায়?”
“মোবাইল ফোন! তোর নিজের?”
“না না, কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। বলেছিলাম, পুলিশ আংকেলকে দিয়ে দিতে!”
“ওহ্। তাহলে হয়তো তিনি অলরেডি দিয়ে দিয়েছেন। আমাকে তো এ-ব্যাপারে কিছু বলেননি কেউ।”
“কেউ জানে না, টপ সিক্রেট। তুমিও যেন কাউকে বলো না!”
“নাহ্, নিশ্চিন্ত থাক। তোর শেফালিকা আন্টিকে কেটে ফেললেও কেউ জানবে না!”
“আন্টি, তুমি খুউব ভালো !” নুনিয়া জড়িয়ে ধরে শেফালিকাকে।
শেফালিকাও তাকে আদরে ভরিয়ে দিয়ে বলেন, “তাহলে বল, আর কে তোকে টানে?”
নুনিয়া শেফালিকার বুকের মধ্যে মুখ গোঁজা অবস্থাতে বলল, “ডক্টর আংকেল। আমাকে ভালবাসেন ঠিক যেন আমার বাবার মতন!”
শুনে শেফালিকার বুক দিয়ে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস বেরিয়ে এল। অন্য কোন উত্তর আশা করেছিলেন হয়তো তিনি। কিন্তু মানুষ যা চায়, সবই কি আর পায়? —চলবে।


















