কলকাতায় বৃষ্টি
নুনিয়াকে সশস্ত্র পুলিশি প্রহরার মধ্যে রাখার ব্যবস্থা হয়েছিল। খোদ এসপি নির্দেশ দিয়েছেন, আন-ওয়ান্টেড কেউই সেখানে ঢুকতে পারবে না। এমনকি এসপির নামে কোনও লেটার কিংবা চিঠি দেখালেও না। এসপি কাউকেই এখন এই অনুমতি দেবেন না বলে জানিয়েছেন। নুনিয়ার সঙ্গে শেফালিকা আছেন, আছে গোবিন্দ। এদের কাছ থেকে নুনিয়ার বিপদের কোনও ভয় নেই। শাক্য সিংহ এদের দু’জনকে নুনিয়ার একান্ত শুভানুধ্যায়ী বলে তাদের কাস্টডিতেই নুনিয়াকে রাখবার কথা পইপই করে বলে দিয়েছে। এরা দু’জন ছাড়া নুনিয়ার কাছে কেবল যেতে পারবে ডিএম, এসপি এবং শাক্য নিজে। সত্যব্রত এখনও অন্তরালে আছেন। জোর করেই রাখা হয়েছে। যদিও তিনি হেলথ-সেন্টারের কাজে ফেরার জন্য ছটফট করছেন। কিন্তু এখনই তাঁকে সেই পারমিশন দেওয়া হচ্ছে না। কলকাতা থেকে তাঁর স্ত্রী এসে পৌঁছেছেন। সঙ্গে বাচ্চা দুটিও। সকলে এসপির নিজস্ব গেস্ট-হাউজে আছেন তাঁরা। সেখানেও কড়া পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শেফালিকা আছেন বলে নুনিয়ার খাওয়া-দাওয়ার কোনও অসুবিধা নেই। বাইরের খাবার দেওয়ার উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নুনিয়াকে রাজসাক্ষী করা হবে এটাই ঠিক আছে। এই অবস্থায় তার প্রাণের উপর আবার অ্যাটেম্পট হলে ওইটুকু বাচ্চার প্রাণ তো যাবেই, কেসের ভবিষ্যতও বিশ বাঁও জলে চলে যাবে। খাবার বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী গোবিন্দ কিনে নিয়ে আসে। তার সঙ্গে সশস্ত্র পুলিশ থাকে। আর শুকনো খাবারদাবার ডিএম নিজের উদ্যোগেই পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। যতদিন না কোর্টে কেস উঠছে এবং নুনিয়াকে রাজসাক্ষী করার প্রস্তাব গ্রহণ করছেন আদালত, ততদিন এ-ভাবেই নুনিয়াকে থাকতে হবে। হেলথ-সেন্টারের কাজকর্ম স্বাভাবিক রাখার জন্য সাময়িকভাবে দু’জন জুনিয়ার ডাক্তার এবং দু’জন নার্সকে পাঠানো হয়েছে। আপাতত তাঁরা ছয় মাস ওই সেন্টারের দায়িত্বে থাকবেন। সত্যব্রত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেলেও তাঁকে অন্যত্র ট্রান্সফারের ব্যবস্থা প্রায় পাকা। শাক্য এই ব্যাপারটা সমর্থনও করেছে। কারণ, সত্যব্রত এখানে থাকা মানে, যে-কোন দিন তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৮ : পথে এবার নাম সাথী

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০৮ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ১

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭১: কৃষ্ণের প্রতি ভীষ্মের শ্রদ্ধার্ঘ্য, শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে মানুষ ও দেবতার সমন্বয়

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা

এখন সকাল দশটা। নুনিয়ার ব্রেকফাস্ট অনেক আগেই কম্পলিট। শেফালিকা খাতা-পেনের ব্যবস্থা করেছেন, নুনিয়ার ক্লাসের উপযোগী বইপত্তরও জোগাড় করা হয়েছে। আপাতত তাকে পড়ানোর ভার নিয়েছেন শেফালিকা। যদিও নুনিয়া মনোযোগী ছাত্রী নয়। অঙ্ক কষতে-কষতে থেকে-থেকেই সে উদাস দৃষ্টিতে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।

জানালার বাইরে অনেক গাছপালা, ফুলফলের বাগান। পাখি ডাকছে। রোদ ঝলমল করছে চারদিকে। একটু পরেই ঝাঁ-ঝাঁ করে রোদ চড়ে যাবে। তখন বাইরে বেরুনোর উপায় থাকবে না। এই বাংলোয় এসি আছে। গরমে অসুবিধা হওয়ার অতএব কোন আশঙ্কা নেই। জানালা দিয়ে অনেকটা দূরের লালইঁটের তৈরি দু-মানুষ উঁচু বাউন্ডারি ওয়াল চোখে পড়ছে। থেকে-থেকে নুনিয়ার বুকের মধ্যে থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসছে। তার মনে হচ্ছে, একছুটে সে ওই বাইরের মুক্ত প্রকৃতির কোলে ছুটে যায়। এইভাবে বন্দি হয়ে থাকতে তার মোটেই ভালো লাগে না। শেফালিকা অ্যান্টি দশ-দশটা অঙ্ক কষতে বলেছেন। কিন্তু তার মাত্র দুটি হয়েছে। যদিও সে জানে না, সে-দুটিও ঠিক হয়েছে কি-না। কিন্তু তার মনে হচ্ছে, ঠিক হোক বা না-হোক, অনেকটা সময় ওই দুটি অঙ্কের পিছনে খরচ করে ফেলেছে সে। এখন তার একটা লং-ব্রেক দরকার।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৪৬: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৬

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

শেফালিকা রান্নাঘরে আছেন। দুপুরের খাবার তোড়জোর করছেন। গোবিন্দ পিছনের বারান্দায় উবু হয়ে বসে হয়ত বিড়বিড় করছে। নিজের সঙ্গে কী যে এত কথা বলে গোবিন্দদা, বোঝেনা নুনিয়া। তবু গোবিন্দদা সুখী, নুনিয়া ভাবে, বারান্দায় বসে আছে মানে গাছপালার ঘ্রাণ আরও বেশি করে টের পাচ্ছে। কিন্তু তার তো বারান্দায় যাওয়ার অনুমতি পর্যন্ত নেই। কারণটা অবশ্য সে জানে, তার উপর যে-কোনও মুহূর্তে চরম আঘাত নেমে আসতে পারে। নুনিয়া জানে সেটা কেন হবে। সে এত বেশি জেনে গিয়েছে যে, তার মুখ বন্ধ করতে পারলেই পাজি বদমাশগুলি নিশ্চিন্ত হয়। কিন্তু নুনিয়াও যায়, বদমাশগুলি সব্বাই এবার ধরা পড়ুক। অনেক অপরাধ এরা করেছে। আর নয়। তার নিজের উপর যারা অপরাধ করেছিল, তাদের মধ্যেও তো কেউ-কেউ এখন খুল্লমখুল্লা ঘুরছে। সাক্ষী দিতে না পারায় কোর্ট তাদের বেকসুর খালাস করেছে। একটা কথা নুনিয়া বোঝে না, রেপ করলে কেউ কি সাক্ষীটাক্ষি রেখে করে? তাহলে কেন যে উকিলরা আদালতে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্ন করেন যে, ‘তোমার উপর যখন অত্যাচার করা হচ্ছিল, তখন কেউ কি সাক্ষী ছিল?’ আজব কথা। রেপ্ করার সময় যদি আর-কেউ থাকে, তাহলে সে-ও নিশ্চয়ই একই দলের সদস্য হবে। তাহলে সে কীভাবে অপরাধ হয়েছে বলে সাক্ষী দেবে? এইসব মাথার মধ্যে ঘুরছিল তার। আর ভাবছিল, এইসব কোর্ট-কাছারির চক্করে চার্চের নিরাপদ আশ্রয়টি যদি সে হারায়, তাহলে কোথায় যাবে সে? অবশ্য তারপরেই তার মনে হল, চার্চ আর তার পক্ষে নিরাপদ নয়। চার্চের হোস্টেলেই তো তার উপর অ্যাটাকটা হল। ভাগ্যিস সে পালাতে পেরেছিল, নাহলে এতদিনে লাশ হয়ে আর কোথাও চালান হয়ে যেত। জঙ্গলের কোন গভীর জায়গায় ওরা তার লাশকে নিশ্চয়ই পুঁতে ফেলত। মাথাটা কেমন এলোমেলো হয়ে যায় তার। অঙ্কে আর মন বসে না।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

দশভুজা : আমি আর কখনওই ফিরে আসার প্রত্যাশা করি না…

একটা প্রজাপতি উড়ে এসে জানালার পৈঠার উপর বসল। ও কি তাকিয়ে আছে নিনুয়ার দিকে? তাকে বাইরে যেতে বলছে?
শেফালিকা এইসময় রান্নাঘর থেকে তার নাম ধরে ডাকলেন। “নুনিয়া?”
“ঊঁ…” সাড়া দিল নুনিয়া। যদিও সে জানে, পরের প্রশ্নটা শেফালিকা আন্টি কী করতে যাচ্ছে। করলও, যা ভেবেছিল সে।
“কটা অঙ্ক হল তোর?”
“করছি…” একটু ডিপ্লোম্যাটিক্যালি উত্তর দিল নুনিয়া।
“করছিস তো বুঝলাম। কিন্তু ক’টা এখনও পর্যন্ত করে উঠতে পেরেছিস, সেটা জানতে চাইলাম। বল…”
“গুণে দেখিনি আবার কী রে? এমনভাবে বলছিস, যেন তোকে একশোটা অঙ্ক করতে দিয়েছি আর তুই সত্তর-পঁচাত্তরটা করে ফেলেছিস! কই দেখি…” বলে আঁচলে হাত মুছতে-মুছতে শেফালিকা আন্টি বেরিয়ে এলেন কিচেন থেকে।
নুনিয়া প্রমাদ গুনল।
শেফালিকা নুনিয়ার খাতাটা নিয়ে পাতা উল্টে দেখে বললেন, ‘সে কী রে! মাত্র দুটি করেছিস। তাও তো দেখছি, একটা মনে হয় ভুল। এক ঘন্টা ধরে বসে তুই মাত্র দুটি প্রবলেম সলভ করতে পেরেছিস? আর বলছিস, গুণে দেখিসনি? তোর ব্যাপারটা কী বল দেখি!”
নুনিয়ার এক গাল মাছি। সে কী জবাব দেবে ভেবে পেল না।
“চুপ করে থাকিস না, জবাব দে! এরপর এখান থেকে ছাড়া পেয়ে তুই যখন নিজের ক্লাসে ফিরবি, তখন তোকে দেখে সবাই হাসাহাসি করবে। তুই এত পিছয়ে পড়বি যে, হয়ত এ-বছর পরীক্ষাই দিতে দেবে না। এসব কথা তোকে তো এক হাজার একবার বলেছি। তাতেও কি তোর প্রত্যয় হবে না?”
নুনিয়া বলল, “আমি পরে ঠিক ম্যানেজ করে নেব। এখন মুড অফ্!”
“হ্যাঁ, পরে তুমি আর করেছ! আর মুড অফ! মুড অফ হওয়ার কারণটা কি শুনি!”
“কিছু না। আন্টি, আমি কি একটুক্ষণের জন্য বাইরের বাগানে যেতে পারি?”
“না!” চাপা গলায় চিৎকার করে ওঠেন শেফালিকা, “খবরদার না! তুই জানিস না, বাইরে যাওয়া তোর বারণ। কেন বারণ, তা-ও তো জানিস তুই। তাহলে?”
“আমাকে যে ডাকছে ওরা!”
“ওরা ডাকছে? কারা?” শিউরে উঠে বললেন শেফালিকা।
“বাইরের গাছপালা, পাখি, প্রজাপতি…এরা। কতদিন ওদের মাঝে সময় কাটাইনি। ওদের কত গল্প জমে গিয়েছে এতদিনে। ওরা সে-সব আমায় শোনাবে বলে ডাকছিল। ওই দেখ না, গরাদের কাছে কটা প্রজাপতি এসে চুপ করে আমাদের কথা শুনছে…” বলে আঙুল তুলে দেখায়।
তাকে অনুসরণ করে নির্দিষ্ট দিকে তাকিয়ে, জানালায় এসে বসা প্রজাপতিটিকে দেখতে পেলেন শেফালিকা। মনটা ভালো হওয়ার পরিবর্তে খারাপ হয়ে গেল তাঁর। সত্যি, বাচ্চা মেয়ে। তার উপর জঙ্গলে-জঙ্গলে আপনমনে ঘুরে বেড়ানোই ছিল যার নিত্যদিনের কাজ এবং একমাত্র ভালবাসার কাজ, তাকে যদি এই খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়, তাহলে তার মন খারাপ হতে বাধ্য। তিনি নুনিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “বুঝলাম। কিন্তু এখন তো বিশেষ কারণে তোর বাইরে যাওয়া বন্ধ। তুই ওকে সে-কথা জানিয়ে দে। ও ঠিক গাছপালা, ফুলফলের কাছে গিয়ে তোর বাইরে না-যাওয়ার কারণ বুঝিয়ে বলে দেবে!”
নুনিয়া কিছু বলল না। চোখ বন্ধ করল। তার চোখে জল।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

মুভি রিভিউ: আজও অর্ধাঙ্গিনী: ভালোবাসার পরেও যে সম্পর্ক বেঁচে থাকে

শেফালিকার চোখে পড়েছে নুনিয়ার অশ্রুসিক্ত চোখ। তিনি আঁচলে সে-জল মুছে দিয়ে বললেন, “হ্যাঁ রে নুনিয়া, ওই যে গাছপালা, ফুল-পাখি—এদের জন্য তুই কাঁদছিস, কোন মানুষ তোকে টানে না?”
নুনিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে অস্ফুট স্বরে বলল, “টানে তো…”
“কে?”
“মা টানে। মাঝেমধ্যেই স্বপ্নে দেখা দিয়ে বলে, আমার কাছে চলে আয় নুনিয়া। এরা তোকে বাঁচতে দেবে না!”

তার কথা শুনে কেঁপে ওঠেন শেফালিকা। আরও জোরে চেপে ধরেন নুনিয়াকে নিজের বুকের মধ্যে। বলেন, “মা তো আর সরাসরি তোর কাছে আসতে পারবেন না। গড্ অ্যালাউ করবেন না। কিন্তু মা ছাড়া আর কোন মানুষ তোকে টানে?”
“বাবা!”
“কিন্তু তিনিও তো আর নেই। আসতে পারবেন না কোনওভাবেই!”
নুনিয়া একচোট কেঁদে নিল সেকথা শুনে। তারপর চোখ মুছে ধরা গলায় বলল, “আচ্ছা, ডক্টর কোথায়?”
“বাইরে আছেন। কাজে গিয়েছেন!”
“আমি এখানে আছি, তা জানেন?”
এ-সব কথার উত্তর শেফালিকা জানেন না। জানার কথাও নয়। কিন্তু আপাতত নুনিয়াকে শান্ত করার জন্য একঝুড়ি মিথ্যে বলার দরকার হলে তা তাঁকে বলতে হবে। সেইমতো তিনি বললেন, “তা আবার জানবেন না? সব তো দূরে থেকেও তিনিই কন্ট্রোল করছেন। এই যেমন, আমি যদি তোকে ঠিকমতো দেখাশুনা না করি, তাহলে আমাকেও ফোন করে যাচ্ছেতাই বলবেন!”
“ডক্টর আংকেল কখনও খারাপভাবে বলতেই পারেন না!” নুনিয়া অবিশ্বাসীর গলায় বলল।
“তাই না-কি?”
“হ্যাঁ। ডক্টর আংকেলকে আমি কি আজ থেকে চিনি?”
“সেটা ঠিক! আমরা আর কতটুকু চিনি? তুই বাচ্চা মেয়ে তুই তো বেশি চিনবিই।”
“আংকেল ভালো আছেন?”
“হ্যাঁ!”
“আমার কাছে কবে আসবেন?”
“কাজ মিটিয়েই!”
“আচ্ছা, শেফালিকা আন্টি, একটা কথা জিজ্ঞাসা করি। আমি ডক্টর আংকেলকে একটা মোবাইল ফোন দিয়েছিলাম, সেটা কোথায়?”
“মোবাইল ফোন! তোর নিজের?”
“না না, কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। বলেছিলাম, পুলিশ আংকেলকে দিয়ে দিতে!”
“ওহ্। তাহলে হয়তো তিনি অলরেডি দিয়ে দিয়েছেন। আমাকে তো এ-ব্যাপারে কিছু বলেননি কেউ।”
“কেউ জানে না, টপ সিক্রেট। তুমিও যেন কাউকে বলো না!”
“নাহ্, নিশ্চিন্ত থাক। তোর শেফালিকা আন্টিকে কেটে ফেললেও কেউ জানবে না!”
“আন্টি, তুমি খুউব ভালো !” নুনিয়া জড়িয়ে ধরে শেফালিকাকে।
শেফালিকাও তাকে আদরে ভরিয়ে দিয়ে বলেন, “তাহলে বল, আর কে তোকে টানে?”
নুনিয়া শেফালিকার বুকের মধ্যে মুখ গোঁজা অবস্থাতে বলল, “ডক্টর আংকেল। আমাকে ভালবাসেন ঠিক যেন আমার বাবার মতন!”
শুনে শেফালিকার বুক দিয়ে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস বেরিয়ে এল। অন্য কোন উত্তর আশা করেছিলেন হয়তো তিনি। কিন্তু মানুষ যা চায়, সবই কি আর পায়? —চলবে।

* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content