কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

সম্মুখযুদ্ধে রাক্ষস খর, রামের মুখোমুখি হয়েছে। খরের রথ বিধ্বস্ত, ধনুক ছিন্ন, রথের ঘোড়াগুলি মৃত, সারথি নিহত, তবু তার প্রবল আস্ফালন, গদাহাতে অবতীর্ণ হল সেই রাক্ষস। রাম তাকে কঠোরভাষায় ভর্ৎসনা করলেন। রাম তার প্রাণনাশের হুমকি দিলেন। উত্তরে খরের একটুও চৈতন্যোদয় হল না। সে প্রত্যুত্তরে আরও ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে বিশাল গদা নিক্ষেপ করল। রাম বহু বাণে শূন্যে সেই গদাটি খণ্ডবিখণ্ড করলেন। খরের গদা, রামের বাণাঘাতে, মন্ত্র ও ওষধির প্রভাবে শীর্ণা বিষধরী সাপিনীর মতো লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। রাম স্মিত হেসে, ক্রুদ্ধ খরকে বললেন, তোমার সব শক্তি তো দেখালে। আমার থেকে তোমার শক্তি কম, অথচ বৃথা গর্জন করছ। এতৎ তে বলসর্ব্বস্বং দর্শিতং রাক্ষসাধম। শক্তিহীনতরো মত্তো বৃথা ত্বমুপগর্জ্জসি।। রাম ধিক্কার দিলেন, ছিন্ন গদা মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। খর আস্ফালন করে বহু কথা বলছিল, এইবার খরের আত্মবিশ্বাস চূর্ণ হল তো?
রাম মনে করিয়ে দিলেন, খর হুমকি দিয়ে বলেছিলেন নিহত রাক্ষসদের স্বজনদের চোখের জল মুছিয়ে দেবে। সে কথা আজ রাম মিথ্যা করবেন। গভীর আত্মপ্রত্যয়ী রাম, ঘোষণা করলেন, হে রাক্ষস, তুমি নীচ, দুর্বৃত্ত, মিথ্যাবাদী। গরুড় যেমন অমৃত হরণ করেছিলেন তেমনই আমি তোমার প্রাণ হরণ করব। নীচস্য ক্ষুদ্রশীলস্য মিথ্যাবৃত্তস্য রাক্ষস। প্রাণানপহরিষ্যামি গরুত্মানমৃতং যথা।। আজ রামের শরাঘাতে রাক্ষসের গলা খণ্ডিত ও বিদীর্ণ হলে,ধরণী তার বুদবুদসহ সফেন রক্ত পান করবে। রাম যেন রাক্ষস খরের অন্তিম ভবিতব্যর ছবি আঁকলেন। ধূলায় ধূসর হবে তোমার সর্বাঙ্গ, শিথিল হবে হাতদুটি। দুর্লভা প্রমদা নারীর মতো যে পৃথিবী, তাঁকে আলিঙ্গন করে তুমি শুয়ে পড়বে। পাংশুরূষিতসর্বাঙ্গঃ স্রস্তন্যস্তভুজদ্বয়ঃ। স্বপ্স্যসে গাং সমাশ্লিষ্য দুর্লভাং প্রমদামিব।। খরের বিনাশের পরবর্তী অরণ্যের ছবিটি কেমন হবে? রাম বর্ণনা করলেন দণ্ডকারণ্যের একাধারে স্বস্তি ও অস্বস্তিকর অবস্থা। রাক্ষসাধম খর গভীর নিদ্রাভিভূত হলে দণ্ডকারণ্য আশ্রয়প্রার্থীদের প্রকৃত আশ্রয় হবে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৫: রাজসূয় যজ্ঞে কৃষ্ণের ভূমিকা, যে কোনও কাজে সাফল্যের অনুপ্রেরণা হতে পারে কী?

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৪০: অমিতাভ হত্যারহস্য / ২১

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৫: পদ বা ক্ষমতা পেলেই কি ভিতরের স্বভাব বদলে যায়? পঞ্চতন্ত্রের অমোঘ শিক্ষা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৪ : শেষ অঙ্ক

জনস্থানে রামের বাণে রাক্ষসের মৃত্যু হলে মুনিরা বনের সর্বত্র নির্ভয়ে বিচরণ করবেন। আজ ভয়ঙ্করী রাক্ষসীরা হতবান্ধব হয়ে চোখের জলে ভেজা মুখ নিয়ে, দীনদশায় উপনীত হয়ে, ভয়ার্ত অবস্থায় সেখান থেকে পালাবে। তীব্র বাক্যবাণে বিদ্ধ করলেন রাম, আজ তোমার মতো স্বামীর রাক্ষসী স্ত্রীরা, শোকরসের (করুণ রস) স্বাদ পাবে। অদ্য শোকরসজ্ঞাস্তা ভবিষ্যন্তি নিরর্থিকাঃ। অনুরূপকুলাঃ পত্ন্যো যাসাং ত্বং পতিরীদৃশঃ।। খরকে তিরস্কারের শেষ নেই যেন। নৃশংসশীল ক্ষুদ্রাত্মন্ নিত্যং ব্রাহ্মণকণ্টক। ত্বৎকৃতে শঙ্কিতৈরগ্নৌ মুনিভিঃ পাত্যতে হবিঃ।।

নিষ্ঠুর নীচমনা সর্বদা ব্রাহ্মণদের কাঁটা তোমার জন্য ভয়ত্রস্ত মুনিরা আগুনে আহুতি দান করেন। অরণ্যে রাম কঠোর তিরস্কার করতে থাকলেন। তখন খর ততোধিক তীক্ষ্ণস্বরে ভর্ৎসনা করে বলল, বড় গর্ব হয়েছে তোর, ভয়েও নির্ভয়, মৃত্যুর কবলে পড়েও কি বলা উচিত বা অনুচিত বুঝতে পারছিস না। যারা মৃত্যুর পাশে আবদ্ধ হয় তাদের ছয়টি ইন্দ্রিয় অবশ হয়ে কাজ ও অকাজের বিবেচনাবোধ লোপ পায়। এই বলে রামের দিকে সক্রোধে ভ্রূকুটি করে কিছু দূরে একটি শালগাছ দেখতে পেলেন। নিশাচর খর,যুদ্ধে অস্ত্রের জন্য চারিদিকে তাকিয়ে, ঠোঁট কামড়ে ধরে, শালগাছটি উৎপাটিত করল। মহাবলশালী খর, সেটিকে তুলে ধরে, গর্জন করতে করতে, দুই হাতে রামের দিকে নিক্ষেপ করল, বলে উঠল— হতস্ত্বমিতি তুই মারা গেলি।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৮ : মহাপুরুষ—কাল আজ পরশু

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৩ : পিঞ্জরে অচিন পাখি

প্রতাপবান রাম বহু বাণে প্রায় পড়ে যেতে উদ্যত শালগাছটি ছিন্ন করে খরকে বধ করতে ক্রোধ আহরণ করলেন। ক্রোধে আরক্তচোখে, ঘামে ভেজা শরীরে, রাম, যুদ্ধে হাজার বাণে খরকে বিদ্ধ করলেন। পার্বত্য প্রস্রবণের স্রোতের মতো বাণাঘাতে খরের রক্তাক্ত শরীর থেকে ফেনিল রক্তধারা বইতে লাগল। যুদ্ধে রামের বাণে খর বিকল হল, রক্তের গন্ধে প্রমত্ত খর তাঁর দিকে দ্রুত ধেয়ে গেল। রক্তাক্ত খরকে সক্রোধে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখে অস্ত্রনিপুণ রাম, সবিক্রমে দ্রুত দুই তিন পা পিছিয়ে গেলেন। তার পরে, তিনি খরকে হত্যা করতে, অগ্নিতুল্য অন্য এক ব্রহ্মদণ্ডের মতো শর তুলে নিলেন। ধীমান দেবরাজ ইন্দ্র এই বাণটি রামকে দিয়েছিলেন। ধর্মাত্মা রাম সেই বাণ খরের উদ্দেশ্যে মুক্ত করলেন। ধনুক নত করে রামের মুক্ত মহাশর মেঘগর্জনে খরের বুকের ওপরে গিয়ে পড়ল। শ্বেতারণ্যে রুদ্র যেমন অন্ধককে দগ্ধ করেছিলেন তেমনই বাণের আগুনে দগ্ধ খর ভূপতিত হল। বজ্রাহত বৃত্রাসুরের মতো, ফেনহত নমুচির মতো এবং অশনিহত বলের মতো নিহত খর মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। দেবতারা চারণদের সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে দুন্দুভি বাজিয়ে রামের ওপর পুষ্পবৃষ্টি করতে লাগলেন। তাঁরা রামের প্রতি পরম সন্তুষ্ট হলেন এই ভেবে, এই মহাযুদ্ধে মাত্র দেড় মুহূর্তে রাম শাণিত বাণে, খর ও দূষণ যাদের প্রধান সেই চোদ্দ হাজার যথেচ্ছ রূপধারী রাক্ষসকে বধ করলেন। মুগ্ধতার সঙ্গে তাঁরা রামের প্রশংসা করলেন,আহা,আত্মজ্ঞানী রামের কী মহত্ত্বপূর্ণ কাজ।আহা বিষ্ণুর মতো বীর্য্যবত্তা ও দৃঢ়তা দেখা যাচ্ছে। অহোবত মহৎ কর্ম্ম রামস্য বিদিতাত্মনঃ। অহো বীর্য্যমহো দার্ঢ্যং বিষ্ণোরিব হি দৃশ্যতে।। এই বলে তাঁরা নিজের জায়গায় ফিরে গেলেন।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০২ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট

রাজর্ষি ও মহর্ষিবৃন্দ সকলে, মহর্ষি অগস্ত্যর সঙ্গে সানন্দে অভিনন্দন জানালেন, এই জন্যই মহাতেজস্বী পাকশাসন পুরন্দর ইন্দ্র শরভঙ্গমুনির আশ্রমে এসেছিলেন। রামের এই আশ্রমে অবস্থানের উদ্দেশ্য কী? মহর্ষিগণ জানালেন, মহর্ষিরা এই পাপকাজে নিরত রাক্ষসদের বধের জন্য কৌশলে রামকে এই স্থানে নিয়ে এসেছেন। গভীর আত্মতৃপ্তিতে আপ্লুত মহর্ষিগণ জানালেন, হে দশরথনন্দন, তুমি আমাদের এই উদ্দেশ্য সফল করেছ। মহর্ষিরা এখন দণ্ডকারণ্যে (নিশ্চিন্তে) নিজেদের ধর্ম প্রচার করবেন। তদিদং নঃ কৃতং কার্য্যং ত্বয়া দশরথাত্মজ। স্বধর্ম্মং প্রচরিষ্যন্তি দণ্ডকেষু মহর্ষয়ঃ।। এই সময়ে বীর লক্ষ্মণ সীতার সঙ্গে (তাঁদের আশ্রয়) গিরিদুর্গ হতে বেরিয়ে আনন্দিতমনে আশ্রমে প্রবেশ করলেন। বিজয়ী রাম মহর্ষিদের দ্বারা সম্মানিত এবং লক্ষ্মণের দ্বারাও বন্দিত হলেন। শত্রুহন্তা রাম, মহর্ষিদের সুখাবহ পরিবেশ দিয়েছেন। তাঁকে দেখে সানন্দে আলিঙ্গন করলেন বৈদেহী সীতা। রাক্ষসরা নিহত হয়েছে এবং রাম অক্ষতদেহে আছেন দেখে, পরমানন্দিতা জনকনন্দিনী সীতা পরম সন্তুষ্ট হলেন। জনকদুহিতা সীতা রাক্ষসদের দমনকারী, আনন্দিত মহাত্মা মুনিদের দ্বারা যথাযোগ্যভাবে সম্মানিত, রামকে, আনন্দপূর্ণমুখে বার বার আলিঙ্গন করে অত্যন্ত আনন্দ লাভ করলেন।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৭: ধেড়ে ইঁদুর

রামের রাক্ষসনিধনের অভিযান, দণ্ডকারণ্যের দুর্বৃত্তায়ন প্রতিরোধে তাঁর একক সংগ্রাম। মুনি ও ঋষিগণের স্বচ্ছন্দ কাঙ্খিত জীবনদান তাঁর লক্ষ্য। তাঁর সম্পূর্ণ জীবনটাই কোন কোন প্রতিশ্রুতিরক্ষার কারণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। প্রথমে ব্যক্তিগত পরিসরে পিতৃসত্যরক্ষার্থে তাঁর রাজসিংহাসনত্যাগ। পরবর্তীপর্যায়ে ভাই ভরতের আন্তরিক অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়ে নিজের প্রতিজ্ঞাপূরণের লক্ষ্যে অনমনীয় দৃঢ়তা। বনবাসে বহু শুভাকাঙ্খীদের সান্নিধ্যে লাভ করেছেন রাম। তাঁদের সঙ্গ, উপদেশ যেন তাঁর জীবনের আশীর্বাদ, রাম সকৃতজ্ঞ আন্তরিকতার সেগুলি গ্রহণ করে ধন্য হয়েছেন। যে কোনও জীবনাভিজ্ঞতায় কোনও আপাত কষ্টের অনুভব থাকলেও সেই অভিজ্ঞতা মানুষকে সমৃদ্ধ করে, কোনও না কোনও ঘটনা বা কোন মানুষের সঙ্গ তাঁকে পূর্ণতা এনে দেয়,যা পরবর্তীপর্যায়ে পথচলার পাথেয় হয়ে ওঠে। “জীবনের ধন কিছুই যায় না ফেলা”। রামের ঘটনাবহুল জীবনে এমন চমকপ্রদ অভিজ্ঞতার অভাব নেই।

খরের প্রতি রামের ভর্ৎসনায় ছিল তীব্রতা। বিচারক চরম দণ্ডদানের পূর্বে যেমন দণ্ডদানের কারণ-সহ দণ্ডের প্রকৃতি বর্ণনা করেন, তেমনই অমোঘ কঠোর নিস্পৃহতায় ভরা তাঁর বক্তব্য। তিনি দণ্ডদানের পরে দণ্ডকারণ্যের স্থিতাবস্থার ছবিও বর্ণনা করেছেন। কেন এই শাস্তি? সেই কারণও ব্যখ্যা করেছেন। রাম একাধারে কঠোর ও কোমল ব্যক্তিত্বের এক মানুষ। নরখাদক রাক্ষসদের বধ করতে উদ্যত রামের কোন অনুশোচনা নেই, তিনি নির্মম, কঠোর। অকম্পিতকণ্ঠে খরের মৃত্যুদণ্ডাজ্ঞা ঘোষণা করেছেন, অদ্য তে ভিন্নকণ্ঠস্য ফেনবুদ্বুদভূষিতম্। বিদারিতস্য মদ্বাণৈর্মহী পাস্যতি শোণিতম্।। আমার বাণে ছিন্নকণ্ঠ তোর, ফেনা ও বুদ্বুদ-সহ রক্ত পান করবে পৃথিবী। শুধু তাই নয় রাক্ষসের শোককাতর প্রিয় স্ত্রীদের শোকার্ত করে তবে তাঁর শান্তি। রাক্ষস খর রামের সঙ্গে বাগ্-যুদ্ধে অনেকটাই ম্রিয়মাণ। নরখাদক রাক্ষস মনে মনে হয়তো আসন্ন বিপদসংকেত আঁচ করতে সমর্থ হয়েছিল। তাঁর ভাষা সংযত,কিন্তু আচরণে মানববিরোধিতা সুস্পষ্ট। সর্বোচ্চ শাস্তি ঘোষণার সময়ে বিচারকের ভাষা হয় কঠোর, কঠিন, দ্ব্যর্থহীন। রাম বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে যেন সেই চরম দণ্ড ঘোষণা করেছেন।
কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

প্রখ্যাত মুনিরা, দণ্ডকারণ্যের গহন বনাঞ্চলে রাক্ষসদের অত্যচার প্রতিহত করতে কষ্টার্জিত তপঃশক্তির অপব্যবহার করতে ইচ্ছুক হননি। রামের কাছে তাঁদের অনুরোধ ছিল—রাক্ষসমুক্ত বনাঞ্চল এবং নিভৃত শান্ত নিরুপদ্রব তপশ্চর্যার আদর্শ পরিবেশ। তাঁদের অনুরোধ রক্ষা করতে তৎপর হয়েছিলেন রামচন্দ্র। এই উদ্যোগের সূচনায় তিনি স্বয়ং সপরিবারে আক্রান্ত হয়েছেন। রামের এই অভিজ্ঞতা,তাঁকে রাক্ষসনিধনে উদ্বুদ্ধ করেছে। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার অভিঘাতজনিত প্রতিক্রিয়া মানুষকে চরমপর্যায়ে নিয়ে যায়। রাম, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে মুনি ও ঋষিগণের মানসিক অবস্থা অনুভব করতে সক্ষম হয়েছেন। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে, মানুষ মরিয়া হয়ে ওঠে আর তিনি ঋষি বিশ্বামিত্রের কাছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্ষত্রিয় বীর রাজকুমার। তাঁর ওপরে তাঁর চরিত্রে যেন প্রচ্ছন্ন রয়েছে ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য’এই নীতির ওপরে অপরিসীম আস্থা। সত্যরক্ষার অঙ্গীকারবদ্ধতায় ঋজু সরল একাগ্র তাঁর নৈতিকতা। তিনি পরিপূর্ণ আদর্শনিষ্ঠ এক মানুষ, অবতার নন। অবতারের নৈতিকতার নিরিখে চারিত্রিক মূল্যায়ন হয় না। অবতার দেবত্বের সৌরভে আচ্ছন্ন করে রাখে মানুষের মন। দেবতার সত্যনিষ্ঠতার অঙ্গীকার, বোধ হয় প্রশ্নাতীত, কল্পনাতীত তো বটেই। মানুষ রামের হাতে খর-সহ বিশাল রাক্ষসদল মৃত্যু বরণ করেছে। দুই পক্ষের নির্মম লড়াই। শুভাশুভর দ্বন্দ্বে, শুভশক্তির জয় চিরন্তন। আদি মহাকাব্যে তার প্রতিফলিত হয়েছে। স্বামীর কৃতিত্বে স্ত্রী সীতা আনন্দে আত্মহারা হয়েছেন। এই প্রতিক্রিয়া অরণ্যবাসী মুনি, ঋষি সকলের আনন্দ। নিশ্চিন্ত উপদ্রবমুক্ত শান্ত জীবনের কামনা — গৃহী, সর্বত্যাগী তপস্বী, সকলের। শত অশুভশক্তির প্রভাবে দ্রুত আচ্ছন্ন এই দুনিয়ায় শুভবোধে প্রাণিত ভারতাত্মা চিরকাল ধরে সমাহিত শান্ত নিভৃত পরিবেশ প্রার্থনা করে এসেছে, মনে মনে কামনা করেছেন রামের মতো কোন আদর্শ পুরুষের উপস্থিতির, এখন পর্যন্ত, আজও।—চলবে।
* মহাকাব্যের কথকতা (Epics monologues of a layman): পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় (Panchali Mukhopadhyay) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, যোগমায়া দেবী কলেজে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content