
ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।
আমরা অনেক সময় বলে থাকি, আমাদের এটা দোষ, ওটা দোষ। এটা অনেকটাই মঙ্গলপ্রদ, কারণ আমরা আমাদের দোষটা দেখতে পাই। অনেকে তো নিজেকে সর্বদাই দোষমুক্ত মনে করেন। অনেকে আমরা রাগী, কেউ বা পরনিন্দা করি, কোনও বিষয়ের প্রতি অত্যধিক আসক্ত ইত্যাদি অনেক রকম ত্রুটি আমাদের থাকতে পারে। কিন্তু যদি আমরা তা ভুল বলে বুঝতে পারি, তাহলে সংশোধন করার অবশ্যই চেষ্টা করব। আবার এটাও হতে পারে প্রতিটি ইন্দ্রিয়কে আমরা সুস্থ ও নীরোগ করার জন্য প্রার্থনা করতে পারি। এতে সুস্থ সবল থাকতে এবং মনকে শুদ্ধ ও ত্রুটিমুক্ত করতে সক্ষম হব আমরা।
আমরা শারীরিকভাবে এক একটি অঙ্গকে ত্রুটিমুক্ত করব, এমনটা কখনোই সম্ভব নয়। বরং নিজের আত্মশক্তির ধারণার দ্বারা সার্বিকভাবে ত্রুটিমুক্ত হওয়া যায়। সর্বদা সব বিষয়ে সজাগ থাকলে মনের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা যায়। ফলে মন ক্রমশ সচেতন হয়। সচেতনতার সঙ্গে করা মন বা ইন্দ্রিয় একবার যা অনুভব করে, তা চিত্রের মতো থেকে যায়। আমরা নিজেদের ব্যস্ততার জন্য বা অন্য কোনও কারণে সেই ছবিকে দেখতে পাই না বা অনেক ক্ষেত্রে এড়িয়ে যাই।
আরও পড়ুন:

অনন্ত এক পথ পরিক্রমা, পর্ব-৮৮ ধর্মের সংস্কৃতি, সংস্কৃতির ধর্ম

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৫: পাতি গাঙচিল

পৃথিবীর সর্বোচ্চ একক আর্চ ব্রিজের নির্মাণে বিনয়ী এক অধ্যাপিকা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩০: চুপি-চুপি আসে

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৮: স্ত্রী সীতার ব্যক্তিত্বের প্রভায় রামচন্দ্রের আলোকিত উত্তরণ সম্ভব হয়েছে কি?
আমাদের মন অনেকটা ‘ক্যামেরা কাম প্রজেক্ট’র এর মতো। যদি এমন হতো যে পুরানো ছবিগুলো পরপর দেখতে পেতাম বা অবচেতন মনে যে সব ছবিগুলো রয়েছে সেগুলো পরপর দেখতে পাচ্ছি, তাহলে আমরা সেগুলো দেখে আনন্দ বা দুঃখ অনুভব করতে পারতাম। ভালো ছবিতে আনন্দ পেতাম। কিন্তু কত খারাপ কিছু নির্বিচারে যে মনের মধ্যে প্রবেশ করেছে তার জন্য নিজেকে দুঃখী মনে হত, তা সামলানো যেত না। যা প্রয়োজনীয় সৎগুণ রাশি তা অর্জনের জন্য আমরা জীবনে এগোতে পারি। সৎগুণ রাশি মনের সচেতনতার উপর নির্ভরশীল।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৩: রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক
আমরা সর্বদা বাক্য-মন-দর্শন-শ্রবণের সংযত ভাবের দ্বারা শান্তিপূর্ণ আনন্দময় আধ্যাত্মিক জীবন গঠন করতে পারি। “শরীর সুস্থ ও নীরোগ থাকতে থাকতে, বার্ধক্য আসার পূর্বেই, ইন্দ্রিয় সমূহ সবল সমর্থ থাকাকালীন এবং আয়ু নাশ হওয়ার পূর্বেই, বিবেকগণের আপন কল্যাণের অর্থাৎ মোক্ষ প্রাপ্তির জন্য জ্ঞান বৈরাগ্যাদি উত্তম রূপে অভ্যাস করা কর্তব্য। নতুবা গৃহে একবার আগুন লেগে গেলে কূপ খনন করবার উদ্যম বৃথা।”—ভর্তৃহরি।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩০: ঠাকুরবাড়ির জামাই রমণীমোহনকে মন্ত্রী করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৭: গ্রিন টি /৫
এ সংসারে মানুষের কর্তব্যকর্ম কতই রয়েছে। কিন্তু তা পরিমিত আয়ুর মধ্যে সকল সম্পূর্ণ করা অসম্ভব। তাই বিচার করে আত্যন্তিক কল্যাণের জন্য সাধন-ভজনই করা কর্তব্য। শাস্ত্রে সত্যকে ধরে থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সত্যকে রক্ষা করা খুবই কঠিন। যে ধরে থাকে তাকে অনেক সময় অবাস্তবিক মনে হয়। জ্ঞাতসারে এই হৃদয়কে হয়তো শ্মশান ক্ষেত্রে পরিণত করতে হতে হবে। অনেক সময় মৃত্যু ভয় পর্যন্ত আসতে পারে। আসক্তি জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করে। সত্য সে মুহূর্তগুলোকে কেড়ে নেয়।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
আমরা স্বপ্ন দেখি জেগে বা ঘুমিয়ে। সত্যকে ধরে থাকলে সে স্বপ্নভঙ্গ হতেই পারে। স্বপ্ন অনেক সময় আমাদের আবেগকে নষ্ট করে দেয়। আমাদের ভালোবাসা ও প্রভুত্বের আত্মগরিমা ছোট ছোট স্বপ্ন দেখতে চায়। যতক্ষণ না আশ মেটে, আমরা চেষ্টা করে যাই। কিন্তু সত্য অনেক সময় এগুলিকে ভেঙে দেয়। নতুন কিছু তৈরি করে। প্রথমত এগুলি খারাপ মনে হলেও যা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত তা দীর্ঘস্থায়ী হয়। পরবর্তীকালে আনন্দ দেয়। আমাদের হৃদয়কে নির্মমভাবে ঘষেমেজে পরিষ্কার করে পবিত্র শুদ্ধ করলে সত্য অন্তঃস্থলে প্রবেশ করতে পারে। তখন পরম শান্তি লাভ হয়। এর জন্য চাই আপসহীন মানসিকতা। কারণ দুর্বলেরা কখনও সত্য লাভ করতে পারে না। —চলবে।
* অনন্ত এক পথ পরিক্রমা (Ananta Ek Patha Parikrama) : স্বামী তত্ত্বাতীতানন্দ (Swami Tattwatitananda), সম্পাদক, রামকৃষ্ণ মিশন, ফিজি (Fiji)।


















