কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

ন জাতু কামঃ কামানামুপভোগেন শাম্যতি
হবিষা কৃষ্ণবর্ত্মেব ভূয় এবাভি বর্ধতে।। [মনুস্মৃতি ২৷৯৪]


কাম বাসনা সকল ভোগের দ্বারা তৃপ্ত হয় না, নিবৃত্তি আসে না। যেমন অগ্নিতে আহুতি দিলে নির্বাপিত হয় না, বাড়তেই থাকে।

অনেকে ধর্ম বন্ধনের কারণ বলে মনে করেন। কোনও ধর্মাবলম্বী হতে চান না, বা মতাদর্শে চলতে পছন্দ করেন। ধর্ম ত্যাগ করাটাই বা কোনও ধর্মের অবলম্বী না হয়ে থাকাটাই নতুন সমাজ ভাবনা মনে করে। কিন্তু ধর্মের কি অন্য কোনও দিক আছে, যা মানুষকে ঈশ্বর ভাবা-পন্ন করে করা ছাড়াও আর বিশেষ কিছু করতে পারে? আমার উত্তর হবে ধর্মের আরেকটা ভালো রূপ হচ্ছে সংস্কৃত বান, চরিত্রবান করে তোলা। আবার সংস্কৃতবান পুরুষই ধর্মের স্পর্শে নতুন আলো পায়, নিজেকে দেখতে এবং অপরকে দেখাতে পায়। আত্মার আলোকে সহানুভূতি, শ্রদ্ধা যেমন নিজের মধ্যে আসে, তেমন অপরের প্রতি সম্মান সমানভাবে জাগরুক হয়। ধর্ম যদি বস্ত্র হয় সংস্কৃতি তার অঙ্গবস্ত্র। যথাযথ মর্যাদা সম্পন্ন মার্জিত আচারে মোড়া হয় জীবন।
ধর্মাবলম্বী মানে আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে শুধু ব্যাপীত থাকা নয়, বরঞ্চ আরও কিছু অতিরিক্ত। অন্তঃসত্ত্বার পরিবর্তনে উজ্জ্বল চারিত্রিক ব্যক্তিত্বের প্রকাশ পাওয়া ধর্ম। সংস্কৃতবান মানুষের ধর্ম পালনে চরিত্রবান এবং সত্য গুণের মাধুর্য বাড়ে। জাগতিক পঙ্কিলতার সীমা ছাড়িয়ে পবিত্রতম প্রেমের সমতার প্রবাহ এনে দিতে পারে। আনন্দ নির্ভর নির্ভয়তা আসে চারিদিকে। সিদ্ধ হলে আলু পটল যেন নরম হয়, তেমন ঈশ্বরের প্রেমে, ধর্মলাভ হলে মানুষ নরম হয়। তার ভাবে ও ভাবের প্রকাশে জোর থাকে। তার যেমন পৃথক সত্তা হারায়, তার সাথে যে থাকে তারও পৃথক সত্তা হারিয়ে যায়।
আরও পড়ুন:

অনন্ত এক পথ পরিক্রমা, পর্ব-৮৭: লৌকিক বাসনা ত্যাগই ঈশ্বর প্রাপ্তির হেতু

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৫: রবীন্দ্রনাথের বিয়ের রাতে মারা গিয়েছিলেন ঠাকুরবাড়ির জামাই

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১০: ভুতুম প্যাঁচা

যথাযথভাবে মনকে শান্ত রাখার জন্য পবিত্রতার প্রয়োজন। মনকে শান্ত করার জন্য সৎ এবং সম্পূর্ণ শুদ্ধচিন্তার দরকার, যা দেহ সংস্কারের দ্বারা বদ্ধ নয়। মানসিক পবিত্রতার জন্য প্রার্থনার অনুসরণ করা। নিয়মিত প্রার্থনা, মনের মধ্যে প্রবেশে চেষ্টারত কুচিন্তাকে প্রবেশে বাধা দেয়। শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, হরিনাম করলে কাম চিন্তা চলে যায়।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৬: আমরা আসলে কাকে পুজো করছি? ঈশ্বরকে, নাকি রক্তমাখা অভ্যাসকে?

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৮: সকলের উপর মা সারদার ছিল সমান অধিকার

তেমনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা দ্বারা রক্ষা পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে সকলের জন্য মঙ্গল চিন্তা করলে সুফল পাওয়া যায়। সকলের প্রতি প্রেম ভাবে মঙ্গল হয়। প্রকৃত প্রার্থনায় মানসিক শান্তি, পবিত্রতা ও আত্মার প্রশান্তি লাভ হয়।

আমরা প্রত্যেকে বড় হতে চায়। আর যা কিছু আছে তার থেকেও বেশি চায়। নিজের অপূর্ণতায় ভুগি। এটা ঠিক যে আমাদের সকলেই ব্যক্তিসত্তাকে অনুভব করি। আর তার থেকে বড় করে দেখতে চাই। আর সুখ ভোগ করতে চাই। আধ্যাত্মিকতার চাহিদাও হল ঠিক একই। বলা যেতে পারে, অপূর্ণতা থেকে পূর্ণতা প্রাপ্তির। ব্যক্তিসত্তাকে সমষ্টি ব্যক্তিসত্তার সাথে জুড়ে দেওয়া। অল্প সুখকে চরম সুখের সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া। এ ব্যাপারে যে যতটা সফলতা লাভ করে, সে তত বেশি আধ্যাত্মিক ও মুক্তির তত কাছে। আমরা অনুভব করি পুরুষ বা নারী, কর্তা বা ভোক্তা, ভালো বা মন্দ, যত আমরা পূর্ণসত্তার দিকে এগোবো ততই ব্যক্তি জীবন সত্তা ম্লান হয়ে যাবে, তত সমষ্টি সত্তার সঙ্গে এক হতে থাকব।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৫: কতদিন পরে এলে

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৪: আনন্দমূর্তি রামের অভাবে অযোধ্যায় নৈরাশ্যের ছায়া, বাস্তব জীবনেও কি আনন্দহীনতা অবসাদ ডেকে আনে?

অহিংসা একটি শক্তির প্রকাশ। এর অর্থ এই নয় যে, নিজেকে গুটিয়ে রাখা বা সরিয়ে রাখা। এটি সম্পূর্ণ দ্বেষ রোহিত মানসিক অবস্থা। প্রেম ও সাহসের সর্বোচ্চ প্রকাশ। আমাদের আত্মশক্তির ক্ষয় হয়। আর অহিংসাতে আত্মশক্তির সঞ্চার হয়। বিদ্বেষ আর আসক্তিতে বিশেষ পার্থক্য এই যে দুটি বিপরীতভাবে সমান ও ক্ষতিকারক।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৮ : গরুর চোখে জল

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৫: ইন্দ্রধনু আর ‘ইন্দ্রাণী’

অহিংসা আধ্যাত্মিক গুণ। যখন সে ব্যক্তির বিপরীত বা অপরবোধ কেটে যায় তখন সে অহিংসায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এটি একটি বিদ্যাশক্তি। প্রকৃত অহিংসা খুব উচ্চ আদর্শ। ধাপে ধাপে এগোতে হবে, মনকে নোংরা চিন্তা উত্তেজনা থেকে পরিষ্কার করতে হবে। চারিত্রিক দৃঢ়তা অবলম্বন না করলে অহিংসা পাওয়া যায় না। বিপরীতভাবে জীবন কষ্টসাধ্য হয়। জগতের মন্দ ভাবের সঙ্গে মোকাবিলার জন্য শক্তির প্রয়োজন। তার মানে এই নয় যে, আমাদের হিংসার পথ গ্রহণ করতে হবে। হিংসা অন্তরে ক্রোধের প্রকাশ ও দগ্ধ করে মানুষকে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অহিংসা অন্তরে পালন করা ও তাতে মনের জোর বাড়বে। বলবান লোকই অহিংসায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে মানসিকভাবে দুর্বলেরা নয়।

যে দেহ কে ‘আমি’ বলে বোধ করে, সে দেহ ও মনের সাথে সম্পর্ক যতই বিচ্ছিন্ন হয়ে গণ্ডির সীমাকে বাড়িয়ে অনন্তের সাথে এক করতে পারবো ততই ভেদ কমে যাবে, স্বতন্ত্রতা লাভ হবে। ব্যক্তি নেই, আমার নেই বা তোমার নেই। পবিত্র এক চির-শাশ্বত সত্তায় সকলে অবস্থান করবে।—চলবে।
* অনন্ত এক পথ পরিক্রমা (Ananta Ek Patha Parikrama) : স্বামী তত্ত্বাতীতানন্দ (Swami Tattwatitananda), সম্পাদক, রামকৃষ্ণ মিশন, ফিজি (Fiji)।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content