
যখন দুলালকে নিয়ে পুরনোদিনের কথা পাড়ারই একজন নতুন করে তুললো। ছন্দা ঘটে যাওয়া সত্যিগুলোকে উল্টো করে পুরো দোষটা দুলালের নামেই চাপিয়ে দিল! দুলাল স্নিগ্ধাকে বিয়ে করার জন্য ঝুলোঝুলি করছিল। কিন্তু যেহেতু পাড়ার মধ্যে ভাইবোনের সম্পর্ক তাই ছন্দাই সে বিয়েতে রাজি হয়নি। দুলাল স্নিগ্ধার বেশ কয়েকটা সম্বন্ধ নিজেই ভেঙে দিয়েছে। শেষে একদিন বাড়িতে ডেকে ছন্দা দুলালকে বেশ করে ধমকধামক দিয়ে প্রায় জোর করেই স্নিগ্ধার বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর দুলাল নিশ্চয়ই কিছু কল কাঠি নেড়েছে।
তাই স্নিগ্ধার স্বামী ভুল বুঝে তাকে বাপের বাড়িতেই রেখে দিয়েছে, নিজের কাছে আর নিয়ে যায়নি। যাদের মিথ্যে কথা বলার স্বভাব তারা মন খুলে মিথ্যে কথা বলতে পারলে একটা ভীষণ সুখ অনুভব করে। ছন্দার সেরকমই মনে হয়েছিল। ছন্দার কুটিল স্বভাব হলেও তাতে বিষ নেই, সে খানিকটা ঢোঁড়া সাপের মতো। ফোঁস করে এইমাত্র, কিন্তু তাতে ভয় কম! কিন্তু তার মেয়ে স্নিগ্ধা কালনাগিনীর মতো ভয়ংকর! লোহার বাসর ঘরে সিঁদকাটা সূক্ষ্মগর্ত দিয়ে কালো লিকলিকে চেহারা নিয়ে ঢুকে লখিন্দরকে মারণ বিষের এক ছোবলে চিরঘুমের দেশে পাঠিয়ে দিতে পারে!
আরও পড়ুন:

আকাশ এখনও মেঘলা /পর্ব-৩১:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৪: তালবাতাসি

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৯: চেন টেনে উমাচরণের জেল হয়েছিল

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৯: পথিমধ্যে অতর্কিতে
কিন্তু দুলাল যেরকম শক্ত মনের মানুষ তাকে এই ধরনের স্ক্যান্ডাল দিয়ে কোনভাবেই দাবানো যাবে না। তাই আরও রগরগের স্ক্যান্ডাল ক্রিয়েট করতে হবে! মালিকপক্ষের পরামর্শদাতারা বললেন এমন সুযোগ হাতছাড়া করার কোন মানে হয় না। পারিবারিক নানা দুর্যোগের মধ্যে দুলাল সেন এখন অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে আছে। তাকে মোক্ষম আঘাত করার এটাই সুযোগ। কাকে ব্যবহার করা যাবে পরামর্শদাতারা একযোগে বলল যাকে নিয়ে স্ক্যান্ডাল তাকেই ব্যবহার করতে হবে। স্বামী পরিত্যক্তা স্নিগ্ধা।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৭: আশ্রমকন্যা শকুন্তলার পুত্রের উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে চিরন্তন মাতৃত্বের প্রকাশ এবং দুষ্মন্তের লাম্পট্য ও প্রতারণা, সব যুগেই বিদ্যমান

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৩: রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক
স্নিগ্ধার সঙ্গে চর অনুচরেরা কথা বলল, ধুরন্ধর স্নিগ্ধা তাদের এক কথায় ফেরত পাঠিয়ে দিল। কথা বললে সে একেবারে মালিকের সঙ্গে কথা বলবে। একদিন সকালবেলায় স্নিগ্ধার বাড়ির সামনে গাড়ি এসে দাঁড়াল। সেজেগুজে স্নিগ্ধা সেই গাড়িতে উঠে বসল। ছন্দা জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন, মেয়ে চাকরির চেষ্টা করছিল। আজ তার ফাইনাল ইন্টারভিউ। একা মেয়ে কলকাতা থেকে চুঁচুড়া যাবে তাই কোম্পানির মালিক গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। ছন্দা মিথ্যে বললেও বোকাসোকা নয়, তাঁর মনে সন্দেহ হল যতই হোক মা! স্বামী পরিত্যক্তা স্নিগ্ধা কোনও ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে না তো! কিন্তু মেয়ের মুখের উপর তাকে জিজ্ঞেস করবার সাহস ছন্দার নেই!
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৮: নীতি কেবল মুখোশ, রাজনীতির মূল হল কৌশল আর ছলনা

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৬: গ্রিন টি /৪
দুপুরটা কাটিয়ে সন্ধের মুখে স্নিগ্ধা ফিরে এসে জানালো চাকরি হয়ে গিয়েছে।
—কিসের চাকরি?
—পাবলিক রিলেশন অ্যাসোসিয়েট
—সে আবার কি?
—হেড অফিসে বসতে হবে !
—এইচএস পাশ করেই চাকরি হয়ে?
—পার্সোনালিটিটা আসল মা! যে কাজে যেমন লোক লাগবে সেখানে বিএ, এমএ পাশটা কোনও ব্যাপার না। আর ওঁরা প্রথমে ট্রেনিং দেবেন কাজ শিখতে পারলে তবে পার্মানেন্ট হবো!
ছন্দা কথা বাড়াল না। আর মেয়ে এভাবে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাড়িতে পড়ে থাকার থেকে এই চাকরির ব্যাপারটা বরং ভালো। এরপর কেউ এসব কথা তুললে বানিয়ে বানিয়ে বলা যাবে যে মেয়ে আসলে চাকরি করতে চেয়েছিল জামাই তাকে আপত্তি করেছিল তাই সে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে এসেছে।
—কিসের চাকরি?
—পাবলিক রিলেশন অ্যাসোসিয়েট
—সে আবার কি?
—হেড অফিসে বসতে হবে !
—এইচএস পাশ করেই চাকরি হয়ে?
—পার্সোনালিটিটা আসল মা! যে কাজে যেমন লোক লাগবে সেখানে বিএ, এমএ পাশটা কোনও ব্যাপার না। আর ওঁরা প্রথমে ট্রেনিং দেবেন কাজ শিখতে পারলে তবে পার্মানেন্ট হবো!
ছন্দা কথা বাড়াল না। আর মেয়ে এভাবে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাড়িতে পড়ে থাকার থেকে এই চাকরির ব্যাপারটা বরং ভালো। এরপর কেউ এসব কথা তুললে বানিয়ে বানিয়ে বলা যাবে যে মেয়ে আসলে চাকরি করতে চেয়েছিল জামাই তাকে আপত্তি করেছিল তাই সে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে এসেছে।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৯ : মণিহারা: করিডর, সেজবাতি আর…

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
স্নিগ্ধা সরাসরি মালিকের সঙ্গে একা কথা বলতে চেয়েছিল। মালিক প্রথমে রাজি না হলেও পরামর্শদাতারা বলেছিল কথা বলে দেখা যেতে পারে। মাড়োয়ারি মালিক বুঝতে পেরেছিলেন এই মেয়েটির সাহস রয়েছে।
—বলেন ম্যাডাম কি বলতে চান?
—আমি বলতে চাইনি আপনি কথা বলতে চেয়েছেন! আমি আপনার সাগরেদদের সঙ্গে কথা বলবো না, সরাসরি তাই আপনার সঙ্গে কথা বলতে! আপনি বলুন আপনার কি প্ল্যান?
ধুরন্ধর ব্যবসায়ী কয়েক মুহূর্ত টেবিলে শ্বেত পাথরের গণেশ মূর্তির দিকে তাকিয়ে রইলেন।
—দুলাল বাবুকে আপনি চিনেন তো?
—চিনি এবং যথেষ্ট ভালো করে চিনি বলেই চুঁচুড়া থেকে কলকাতার আর এন মুখার্জি রোডে আপনি গাড়ি পাঠিয়ে নিয়ে এসেছেন আবার আজকথা বলার পর গাড়ি দিয়ে আমায় চুঁচুড়া ফেরত পাঠাবেন।
—দুলাল আমার সোঙ্গে পাঙ্গা নিচ্ছে।আমি ওকে শিখসা দিতে চাই! আপনার হেল্প লাগবে!
—কি ধরনের হেল্প!
—একটা হেলপ্লেস মেয়ের একটিং করতে হবে।—চলবে।
—বলেন ম্যাডাম কি বলতে চান?
—আমি বলতে চাইনি আপনি কথা বলতে চেয়েছেন! আমি আপনার সাগরেদদের সঙ্গে কথা বলবো না, সরাসরি তাই আপনার সঙ্গে কথা বলতে! আপনি বলুন আপনার কি প্ল্যান?
ধুরন্ধর ব্যবসায়ী কয়েক মুহূর্ত টেবিলে শ্বেত পাথরের গণেশ মূর্তির দিকে তাকিয়ে রইলেন।
—দুলাল বাবুকে আপনি চিনেন তো?
—চিনি এবং যথেষ্ট ভালো করে চিনি বলেই চুঁচুড়া থেকে কলকাতার আর এন মুখার্জি রোডে আপনি গাড়ি পাঠিয়ে নিয়ে এসেছেন আবার আজকথা বলার পর গাড়ি দিয়ে আমায় চুঁচুড়া ফেরত পাঠাবেন।
—দুলাল আমার সোঙ্গে পাঙ্গা নিচ্ছে।আমি ওকে শিখসা দিতে চাই! আপনার হেল্প লাগবে!
—কি ধরনের হেল্প!
—একটা হেলপ্লেস মেয়ের একটিং করতে হবে।—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩খণ্ড)’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















