মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

‘শিলালিপি সংগ্ৰহ’ গ্রন্হটির ভূমিকায় ত্রিপুরার প্রত্ন সম্পদ ও প্রাচীন জলাশয় সম্পর্কে পণ্ডিত চন্দ্রোদয় লিখেছেন, “…১৩১২ ত্রিপুরাব্দের শেষ ভাগে শ্রীশ্রীযুত মাণিক্য বাহাদুর (রাধাকিশোর মাণিক্য) ত্রিপুরা রাজ্যের প্রাচীন রাজধানী উদয়পুর পরিদর্শন করিতে যান এবং সেখানে তাঁহার পূর্ব্বপুরুষগণের অনুপম কীর্ত্তিকলাপ অবলোকন করিয়া মুগ্ধ হন। শ্রীশ্রীযুত উদয়পুর হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়া দেবালয় ও জলাশয়াদির যথাযথ বিবরণ সংগ্ৰহ করিবার জন্য আমার প্রতি আদেশ করেন।…”
পরবর্তীকালে সমালোচকরা ‘শিলালিপি সংগ্ৰহ’ গ্রন্হটির উচ্চ প্রশংসা করেছেন। এ সি ভট্টাচার্য তাঁর ‘প্রোগ্রেসিভ ত্রিপুরা’ বইটিতে এ সম্পর্কে লিখেছেন। বইয়ে তিনি লেখেন, The book was published in 1905 and was recognized as a work of a great value. The author had to take great pain in the completion of the book as he had to travel throughout the length and breadth of the state and of the zamindaris and in jungles and caves to trace the works of art and architecture of a distant past.
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭২: রাজার ইচ্ছানুসারে ‘অরুণ’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছিলেন পণ্ডিত চন্দ্রোদয়

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৮: রাখে হরি, মারে কে?

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৯: চেন টেনে উমাচরণের জেল হয়েছিল

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৩: শকুন

শুধুমাত্র ‘শিলালিপি সংগ্ৰহ’-এর মতো গ্রন্হই নয়, পণ্ডিত চন্দ্রোদয়ের বিভিন্ন কাজের আরও তথ্য ছড়িয়ে আছে সেদিনের নানা গ্রন্হ ও পত্রিকায়। ত্রিপুরার রাজা গোবিন্দ মাণিক্যের পৃষ্ঠপোষকতায় বৃহন্নারদীয় পুরাণ বাংলাতে অনূদিত হয়েছিল। ১৬৬০ থেকে ১৬৭৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে দু’দফায় রাজত্ব করেছিলেন গোবিন্দ মাণিক্য। এই সময়কালের মধ্যেই পুরাণটি বাংলাতে অনূদিত হয়েছিল।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৬: চিত্রকূটে রামচন্দ্রের প্রতি তপস্বীদের অনাস্থাপ্রকাশ এবং অত্রিপত্নী অনসূয়ার উপদেশের কোনও প্রাসঙ্গিকতা আছে?

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭০: ত্রিপুরায় বারবার দেশের ইংরেজ শাসন বিরোধী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে

পরবর্তী সময়ে মহারাজা রাধাকিশোরের আদেশে মুদ্রিত আকারে প্রকাশিত হয়েছিল বৃহন্নারদীয় পুরাণের এই বঙ্গানুবাদ। পণ্ডিত চন্দ্রোদয় বিদ্যাবিনোদ ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে আগরতলার বীরচন্দ্র লাইব্রেরি থেকে গ্রন্হটি প্রকাশিত হয়েছিল। গ্রন্হের মুখবন্ধ অংশের কয়েকটি লাইন এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে—
“শ্রীযুত গোবিন্দদেব নৃপ অনুপাম।
ধর্ম্ম অনুসারে রাজ্য করয়ে পালন,
অনুক্ষণ চিন্তে রাজা ধর্ম্মের কারণ।
সর্ব্বশাস্ত্র বিশারদ বিষ্ণু পরায়ণ,
করিয়া অশেষ দান তোষে দ্বিজগণ।”…
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৮: নীতি কেবল মুখোশ, রাজনীতির মূল হল কৌশল আর ছলনা

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৩: অগত্যা আমার গাড়িতে বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম আলাস্কা ভ্রমণে

রাজা গোবিন্দ মাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক। রাজধানীর প্রজাদের অনেকের ঘরে সেদিন গ্রন্হের প্রতিলিপি রাখাও হয়েছিল। কিন্তু কালের কবলে পড়ে একসময় সবই হারিয়ে যায়। পরবর্তীকালে আগরতলার উজির বাড়িতে রক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি পণ্ডিত চন্দ্রোদয় বিদ্যাবিনোদের তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত হয়েছিল। বলাই বাহুল্য সেটিও এখন দুষ্প্রাপ্য। মহারাজা রাধাকিশোর পণ্ডিত চন্দ্রোদয়কে মূল রাজমালা পুণঃসম্পাদনারও দায়িত্ব দিয়েছিলেন। দক্ষতার সঙ্গে যথাযথ ভাবে তিনি এই কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন। ১৯০২ সালে চারটি খণ্ডে ‘রাজমালা’র সামান্য কিছু কপি মুদ্রিত হয়েছিল মূলত প্রাসাদের গ্রন্থাগার সহ রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৯ : মণিহারা: করিডর, সেজবাতি আর…

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

ঘনরাম চক্রবর্তীর শ্রীধর্ম্মমঙ্গল কাব্যের উপাখ্যানাংশ নিয়ে একটি গ্রন্থ সংকলন করেছিলেন পণ্ডিত চন্দ্রোদয়। গ্রন্হটি শিলচর এরিয়েন অ্যান্ড ইন্সিওরেন্স কোম্পানি কর্তৃক প্রকাশিত হয় ১৩১৯ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণে। গ্রন্হটির ভূমিকায় তিনি লিখেছেন, “…ঘনরাম চক্রবর্তীর জীবন সম্বন্ধে বিশেষ বিবরণ জানিবার কোন উপায় নাই, গ্রন্হের স্হান বিশেষের ভণিতা দেখিয়া যাহা কিছু সংগ্ৰহ করা যায়, তাহাই আমাদের অবলম্বন। ভণিতায় আছে তাঁহার পিতার নাম গৌরকান্ত চক্রবর্তী, মাতার নাম সীতাদেবী। তিনি রামের উপাসক ছিলেন। —চলবে।
* ত্রিপুরা তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলের বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে পান্নালাল রায় এক সুপরিচিত নাম। ১৯৫৪ সালে ত্রিপুরার কৈলাসহরে জন্ম। প্রায় চার দশক যাবত তিনি নিয়মিত লেখালেখি করছেন। আগরতলা ও কলকাতার বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে ইতিমধ্যে তার ৪০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ত্রিপুরা-সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের ইতিহাস ভিত্তিক তার বিভিন্ন গ্রন্থ মননশীল পাঠকদের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও সে-সব উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। রাজন্য ত্রিপুরার ইতিহাস, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ত্রিপুরার রাজ পরিবারের সম্পর্ক, লোকসংস্কৃতি বিষয়ক রচনা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জাত ব্যতিক্রমী রচনা আবার কখনও স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাস ইত্যাদি তাঁর গ্রন্থ সমূহের বিষয়বস্তু। সহজ সরল গদ্যে জটিল বিষয়ের উপস্থাপনই তাঁর কলমের বৈশিষ্ট্য।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content