
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
সকাল থেকে রোদের দাপট ছিল অন্যান্য দিনের মতোই। তবে বিকেলের পর থেকে হঠাৎই আকাশে মেঘের ঘনঘটা। কলকাতার কিছু কিছু অংশে বৃষ্টিও শুরু হয়ে গিয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এর ফলে সাময়িক ভাবে তাপমাত্রা কমবে। তবে গরমে স্থায়ী স্বস্তির সম্ভাবনা এখনই নেই।
গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন বাংলাদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে, সমুদ্রতল থেকে যার উচ্চতা ১.৫ কিলোমিটার। এ ছাড়া, পশ্চিম বিহার এবং আশপাশের এলাকার উপর আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। সমুদ্রতল থেকে তার উচ্চতা ০.৯ কিলোমিটার। এর ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। সমগ্র উত্তরবঙ্গে এবং দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলিতে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া থাকবে।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৭: বীতেচ্ছ-জাতক — তুই যাহারে দিলি ফাঁকি

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৬৯: আকাশ এখনও মেঘলা

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৭ : হাঙরের পেটে মুক্তো
বুধবার বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং হুগলিতে। বৃহস্পতিবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে বীরভূম, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদে। শুক্রবার এই জেলাগুলির পাশাপাশি ঝড়বৃষ্টি হবে পূর্ব বর্ধমান, পুরুলিয়াতেও। শুক্রবার পর্যন্ত এই সমস্ত জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫১: ইরাবতী ডলফিন
ঝড়বৃষ্টি বেশি হবে উত্তরবঙ্গে। উত্তরের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে প্রায় সব জেলাতেই ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) হবে। শুক্রবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কিছু অংশে অতি ভারী বর্ষণের (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহারে ভারী বৃষ্টি চলবে। শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তরের এই সমস্ত জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। বৃষ্টির সঙ্গে চলবে বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৮: রাক্ষস খর ও রামের সংঘাতে, যুদ্ধের বিবিধবার্তা

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট
বুধবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে দুই ডিগ্রি বেশি। মঙ্গলবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল ৩৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৪ ডিগ্রি কম।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!
অনুমান করা হয়তো অসঙ্গত নয় যে, বোধিসত্ত্বের সংস্পর্শে বাঁদরের হৃদয়ে পরিবর্তন এসেছিল। তাও সে তার প্রভুকে ভোলেনি। সংসারী জীব মায়ার বশীভূত। সাপুড়ে স্বভাবক্রুর। আত্মসুখের উদযাপনে সে তার সন্তানতুল্য বাঁদরটিকে অন্যত্র রেখে যেতে পারে। বোঝা যায়, তাদের একাত্মতা অঙ্গাঙ্গী নয়। সে যে পদ্ধতিতে জীবিকানির্বাহ করে তা-ও ভয়াবহ। বাঁদর সর্পদংশনে আহত হয়ে তার অন্নসংস্থান করে দেয়। তমোগুণসম্পন্ন মানুষের সান্নিধ্য থেকে মুক্ত হলে, সত্সঙ্গ লাভ করলে নিজেকে চেনা যায়। সেই ক্ষেত্র মনে হয় প্রস্তুত হচ্ছিল। বন্ধনমুক্তির জন্য একটি অনুঘটক দরকার ছিল কেবল। তমোগুণসম্পন্ন সাপুড়ের একটি আঘাত বাঁদরের চৈতন্যোদয় ঘটালো। তার গাছে উঠে যাওয়া হল উত্তরণের প্রতীক। বাঁদর ভোগসুখের প্রলোভনে পা দিল না। চঞ্চল বাঁদর এবার মন দিয়েছে সুমিষ্ট আম্রভক্ষণে। এ হল প্রজ্ঞাদীপ্ত হৃদয়ের সাধনসুখ, যে উচ্চমার্গে তার উত্তরণ ঘটে গেছে অনিত্য সংসারের আঘাতে, তা থেকে সে আর ফিরে আসবে না। নেমে আসবে না। কর্মচাঞ্চল্য ও আসক্তিনির্ভর রজোগুণ অতিক্রম করে সে এখন সাত্ত্বিক। তার হৃদয় নির্মল, জ্ঞানাকাঙ্ক্ষাই এখন তার জীবনের লক্ষ্য, সেই রহস্যঘন ক্ষেত্রের মহারণ্যে মুক্তিকামী প্রবেশ করে এবার। —চলবে।
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।















