
অ্যাম্বুলেন্সটা দ্রুতই এগোচ্ছিল। হঠাৎ সজোরে ব্রেক কষায় গাড়ির আরোহীরা সকলেরই প্রায় উপুড় হয়ে পড়বার জোগাড়। ফাদার নিজে অ্যাম্বুলেন্সের সামনে ড্রাইভারের পাশের সিটে বসেছিলেন। কাল সারারাত দুশ্চিন্তায় ঘুম হয়নি, ফলে একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন। বর্ডারের প্রায় কাছাকাছি এসে পড়েছে তাঁদের অ্যাম্বুলেন্স। আর মিনিট কুড়ির মধ্যে বর্ডার পার হয়ে যাবেন আশা রাখেন। তারপর আর কোন চিন্তা নেই। ওদিকে আলাদা ব্যবস্থা আছে। এই ভেবে মনটা একটু হালকা লাগছিল। কেউ কিছুমাত্র সন্দেহ করেনি যে, তিনি পাকাপাকিভাবে এ-দেশ ছাড়ছেন। এটা তাঁর প্রফুল্লতার আর এক কারণ। ফলে একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছিলেন। আচমকা গাড়ির ব্রেক কষাতে তাঁর ঘুম ভেঙে গেল। বিরক্ত হলেন তিনি। আর একটু হলে ড্যাশবোর্ডে তাঁর মাথা ঠুকে যেত। বেশ উষ্মার সঙ্গে বললেন, “কী হল ডোনাল্ড, আচমকা ব্রেক কষলে কেন?”
ডোনাল্ড বলল, “কিচ্ছু করার নেই ফাদার। সামনের দিকে তাকিয়ে দেখুন। বর্ডারের চেকপোস্টে কয়েকটা গাড়ি এমনভাবে দাঁড়িয়ে যে কোনদিক দিয়ে যাওয়ার উপায় নেই!”
ডোনাল্ড বলল, “কিচ্ছু করার নেই ফাদার। সামনের দিকে তাকিয়ে দেখুন। বর্ডারের চেকপোস্টে কয়েকটা গাড়ি এমনভাবে দাঁড়িয়ে যে কোনদিক দিয়ে যাওয়ার উপায় নেই!”
ফাদার চোখ রগড়ে ভালো করে দেখলেন, তাই তো। অন্তত খান পাঁচ-সাত গাড়ি দাঁড়িয়ে। তার মধ্যে বড় গাড়িও আছে দুটি। একটি আবার লোডেড। চেকপোস্টে যে সব পুলিশ এবং কাস্টমসের লোক থাকেন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে, তাদের অনেককেই ফাদার চেনেন ভালো করে। চার্চের গাড়ি, বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স দেখলে তারা রুটিনমাফিক কেবল একবার উঁকি দিয়ে দেখে। পেশেন্ট থাকলে তো কথাই নেই। সঙ্গে-সঙ্গে ছেড়ে দেয়। সব সময় তো ফাদার নিজে থাকেন না। কিন্তু চার্চের গাড়ি আলাদা ট্রিটিমেন্ট পায় পুলিশ-প্রশাসনের কাছ থেকে।
“অ্যাকসিডেন্ট-টেন্ট হল নাকি?” ফাদার জিজ্ঞাসা করলেন। তাঁর গলায় বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট। খামোকা দেরি হয়ে যাচ্ছে। যদিও ফাদার নিজে আছেন বলে, আশা করা যায়, কাস্টমস্ সেভাবে ঝামেলা করবে না।
ডোনাল্ড বলল, “কী জানি ফাদার! নেমে দেখে আসব?”
ফাদার বললেন, “না না, তোমার নামার দরকার নেই। তুমি রেডি থাকো। আমি নিজেই নামছি। আমি গেলে ওঁরা খামোকা আটকে না রেখে গাড়ি সরিয়ে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সকে ঠিক পথ করে দেবে।”
“কিন্তু আমি বলছি কী, আপনার কি নামা ঠিক হবে? যেখানে আমি উপস্থিত। সেখানে আপনাকে নামতে হলে পরে আবার চার্চে গিয়ে না জবাবদিহি করতে হয়!” ডোনাল্ড চিন্তিত মুখে বলল।
“ডোনাল্ড, জবাবদিহিটা চাইলে আমিই চাই, অন্তত চেয়ে এসেছি এতদিন! এখন সেই আমিই যখন তোমায় গাড়িতে বসে থাকতে বলছি, তখন আশা করি, আমিই আবার তোমার কাছে সে-জন্য জবাবদিহি চাইব না!”
“হ্যাঁ…মানে…” আমতা-আমতা করে বলল ডোনাল্ড।
“ডোণ্ট ট্রাই টু বি আ বস্! যা বলছি কর। আমি দেখছি। গাড়ি এক্ষুনি চালু করার ব্যবস্থা করে ফিরছি!” বলে ফাদার নেমে গেলেন গাড়ি থেকে।
“আরে ফাদার, আপনি?” ফাদারকে দেখে কাস্টমসের এক অফিসার এগিয়ে এলেন।
“অ্যাকসিডেন্ট-টেন্ট হল নাকি?” ফাদার জিজ্ঞাসা করলেন। তাঁর গলায় বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট। খামোকা দেরি হয়ে যাচ্ছে। যদিও ফাদার নিজে আছেন বলে, আশা করা যায়, কাস্টমস্ সেভাবে ঝামেলা করবে না।
ডোনাল্ড বলল, “কী জানি ফাদার! নেমে দেখে আসব?”
ফাদার বললেন, “না না, তোমার নামার দরকার নেই। তুমি রেডি থাকো। আমি নিজেই নামছি। আমি গেলে ওঁরা খামোকা আটকে না রেখে গাড়ি সরিয়ে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সকে ঠিক পথ করে দেবে।”
“কিন্তু আমি বলছি কী, আপনার কি নামা ঠিক হবে? যেখানে আমি উপস্থিত। সেখানে আপনাকে নামতে হলে পরে আবার চার্চে গিয়ে না জবাবদিহি করতে হয়!” ডোনাল্ড চিন্তিত মুখে বলল।
“ডোনাল্ড, জবাবদিহিটা চাইলে আমিই চাই, অন্তত চেয়ে এসেছি এতদিন! এখন সেই আমিই যখন তোমায় গাড়িতে বসে থাকতে বলছি, তখন আশা করি, আমিই আবার তোমার কাছে সে-জন্য জবাবদিহি চাইব না!”
“হ্যাঁ…মানে…” আমতা-আমতা করে বলল ডোনাল্ড।
“ডোণ্ট ট্রাই টু বি আ বস্! যা বলছি কর। আমি দেখছি। গাড়ি এক্ষুনি চালু করার ব্যবস্থা করে ফিরছি!” বলে ফাদার নেমে গেলেন গাড়ি থেকে।
“আরে ফাদার, আপনি?” ফাদারকে দেখে কাস্টমসের এক অফিসার এগিয়ে এলেন।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮০: যাত্রাপথে

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১০ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৩

মানুষকে দেখি গণদেবতার বেশে…

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬২: ছুঁচো
ফাদার আন্তোনিও হাসিমুখে বললেন, “বাবা, কতদিন পরে আপনাকে দেখলাম। তা আজ স্পেশাল কোন কেস নাকি? তা-না-হলে তো আপনাদের সচরাচর ফিল্ডে ডিউটি পড়ে না!”
“না না, ওটা কোন নিয়ম না। প্রায়ই দরকারে-অদরকারে আমাদের ফিল্ডে নামতে হয়। সুতরাং…”
“বুঝলাম। তা এখানে কি রুটিন চেকিং চলছে? আমি ভাবলাম, অ্যাকসিডেন্ট-টেন্ট হল বুঝি!”
“না না, অ্যাকসিডেন্ট হলে আমাদের নয়, পুলিশকে দেখতে পেতেন। স্পেশাল কেস!”
“স্পেশাল কেস!” ফাদারের মুখে একটা চিন্তার ছায়া দেখা দিয়েই সরে গেল। মুখে হাসি টেনে ফাদার বললেন, “নিশ্চয়ই সোনা-হীরে কিংবা আফিম-চরস ইত্যাদি পাচারের ইনফরমেশন আছে?”
“ওই আর কি!” কাস্টমসের অফিসার বললেন, “সে-জন্যই নাকা-চেকিং হচ্ছে। আপনাদের একটু সময় লাগবে!”
“তাহলে তো মুশকিল হয়ে গেল অফিসার। আমাদের যে এক্ষুনি না-ছাড়লেই নয়। গুরুতর অসুস্থ পেশেন্টকে নিয়ে যাচ্ছি আমাদের বড় হসপিটালে। প্রতি মুহূর্তে প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা। আমাদের যেভাবেই হোক আগে ছেড়ে দিন!” ফাদারের গলায় আশঙ্কা এবং অনুনয় ঝরে পড়ল।
“স্যরি ফাদার। আমি আধা ঘণ্টা চেয়ে নিচ্ছি। এই ছোট গাড়িগুলিকে চেক করেই তারপর না হয়…”
“আর ইউ ম্যাড্? আমি বলছি, আমাদের তাড়া আছে, নাহলে পেশেন্টকে বাঁচানো ইমপসিবল্ হয়ে পড়বে আর আপনি বলছেন, আরও হাফ অ্যান আওয়ার ওয়েট করতে ? আপনি জানেন, পেশেন্ট কে?”
“ফাদার, আপনি বৃথা মাথা গরম করছেন। আমরা অফিসিয়াল ডিউটি করছি। আমাদের হাত-পা বাঁধা। তাছাড়া আগের গাড়িগুলিকে না ছাড়লে আপনাদের যেতে দেওয়ার রাস্তা পাওয়াও তো মুশকিল। দেখছেন তো কেমন ন্যারো এই চেকপোস্টটা!”
“সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আপনারা ইচ্ছে করেই এটা করেন, যাতে আপনাদের চেকিং-এর সময় এদিক-ওদিক দিয়ে কেউ পালাতে না পারে গাড়ি নিয়ে। কিন্তু সে-সব টেকনিক্যাল ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় আমাদের নেই। অ্যাম্বুলেন্সে ফাদার রডরিগ আছেন। তাঁর জন্যই আপনাদের এত করে বলছি!”
“ফাদার রডরিগ? তিনি তো অনেকদিন ধরেই গুরুতর অসুস্থ। তাঁর ট্রিটমেন্ট তো চার্চেই হচ্ছিল। তাহলে?”
“চার্চে আর ট্রিটমেন্ট সম্ভব নয়। এখানে তো সবরকম ফেসিলিটিজ নেই। সেইকারণে আমাদের বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একজন ডাক্তার এবং অ্যাটেনডেন্টও আছেন সঙ্গে। স্যালাইন চলছে। আপনি দেখতে পারেন…!”
“না না, ওটা কোন নিয়ম না। প্রায়ই দরকারে-অদরকারে আমাদের ফিল্ডে নামতে হয়। সুতরাং…”
“বুঝলাম। তা এখানে কি রুটিন চেকিং চলছে? আমি ভাবলাম, অ্যাকসিডেন্ট-টেন্ট হল বুঝি!”
“না না, অ্যাকসিডেন্ট হলে আমাদের নয়, পুলিশকে দেখতে পেতেন। স্পেশাল কেস!”
“স্পেশাল কেস!” ফাদারের মুখে একটা চিন্তার ছায়া দেখা দিয়েই সরে গেল। মুখে হাসি টেনে ফাদার বললেন, “নিশ্চয়ই সোনা-হীরে কিংবা আফিম-চরস ইত্যাদি পাচারের ইনফরমেশন আছে?”
“ওই আর কি!” কাস্টমসের অফিসার বললেন, “সে-জন্যই নাকা-চেকিং হচ্ছে। আপনাদের একটু সময় লাগবে!”
“তাহলে তো মুশকিল হয়ে গেল অফিসার। আমাদের যে এক্ষুনি না-ছাড়লেই নয়। গুরুতর অসুস্থ পেশেন্টকে নিয়ে যাচ্ছি আমাদের বড় হসপিটালে। প্রতি মুহূর্তে প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা। আমাদের যেভাবেই হোক আগে ছেড়ে দিন!” ফাদারের গলায় আশঙ্কা এবং অনুনয় ঝরে পড়ল।
“স্যরি ফাদার। আমি আধা ঘণ্টা চেয়ে নিচ্ছি। এই ছোট গাড়িগুলিকে চেক করেই তারপর না হয়…”
“আর ইউ ম্যাড্? আমি বলছি, আমাদের তাড়া আছে, নাহলে পেশেন্টকে বাঁচানো ইমপসিবল্ হয়ে পড়বে আর আপনি বলছেন, আরও হাফ অ্যান আওয়ার ওয়েট করতে ? আপনি জানেন, পেশেন্ট কে?”
“ফাদার, আপনি বৃথা মাথা গরম করছেন। আমরা অফিসিয়াল ডিউটি করছি। আমাদের হাত-পা বাঁধা। তাছাড়া আগের গাড়িগুলিকে না ছাড়লে আপনাদের যেতে দেওয়ার রাস্তা পাওয়াও তো মুশকিল। দেখছেন তো কেমন ন্যারো এই চেকপোস্টটা!”
“সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আপনারা ইচ্ছে করেই এটা করেন, যাতে আপনাদের চেকিং-এর সময় এদিক-ওদিক দিয়ে কেউ পালাতে না পারে গাড়ি নিয়ে। কিন্তু সে-সব টেকনিক্যাল ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় আমাদের নেই। অ্যাম্বুলেন্সে ফাদার রডরিগ আছেন। তাঁর জন্যই আপনাদের এত করে বলছি!”
“ফাদার রডরিগ? তিনি তো অনেকদিন ধরেই গুরুতর অসুস্থ। তাঁর ট্রিটমেন্ট তো চার্চেই হচ্ছিল। তাহলে?”
“চার্চে আর ট্রিটমেন্ট সম্ভব নয়। এখানে তো সবরকম ফেসিলিটিজ নেই। সেইকারণে আমাদের বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একজন ডাক্তার এবং অ্যাটেনডেন্টও আছেন সঙ্গে। স্যালাইন চলছে। আপনি দেখতে পারেন…!”
আরও পড়ুন:

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!
“অনেকদিন ফাদার রডরিগকে দেখিনি। তাঁকে কি একবার দেখা যায়?”
“দেখুন, ফাদার একদম চড়া আলো সহ্য করতে পারেন না। ফলে আপাদমস্তক কালো কাপড়ে তাঁর চোখ-মুখ ঢাকা দিয়ে উপরে মেডিকেল শিট ঢাকা দেওয়া হয়েছে। ফলে দেখতে পাওয়া মুশকিল। দেখুন,আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম রাতেই নিয়ে যাব। কিন্তু নানা কারণে রাতে ফাদারের শরীর ভালো না থাকায় আমরা আর রিস্ক নিইনি। এখন নিয়ে যাচ্ছিস তার কারণ একে তো দিনের বেলা, কোন বিপদে-আপদে অনেককে পাব রাস্তাতেই সাহায্য করার জন্য যাদের বলতে পারি। কিন্তু রাতের বেলা হলে তো আর সেই সুযোগ পাব না। আর ফাদার রডরিগের ব্যাপারে আমি কোন রিস্কই নিতে চাই না!”
অফিসার বললেন, “ঠিক আছে, দেখছি কী করা যায়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনাদের গাড়ি ছেড়ে দিচ্ছি!”
“এক্ষুনি নয় কেন?”
“আমার হাত-পা বাঁধা। আমি চেষ্টা করতে পারি, কথা দিতে পারি না !”
“আমি ডিএমকে ফোন করছি। কিংবা এসপিকে। তাঁদের নির্দেশ পেলে নিশ্চয়ই আপনারা আর উচ্চবাচ্য করবেন না?”
“তাঁরা ঊর্দ্ধতন অফিসার। তাঁদের কথা মানতে আমরা বাধ্য!”
“বেশ,” বলে ফাদার মোবাইল বার করে কাউকে ডায়াল করতে লাগলেন। তারপর ওপ্রান্ত থেকে ফোন তুললে বললেন, “হ্যালো, ডিএম সাহেব? আমি পিশাচপাহাড় চার্চের ফাদার আন্তনিও বলছি। আপনি কি বিজি আছেন? একটু জরুরি দরকার ছিল আর-কি!”
“আরে ফাদার। বলুন বলুন। কতদিন পরে আপনার ফোন পেলাম। আর বিজি থাকলেও আপনার মতো মানুষের কথা শোনার জন্য সময় বার করে নিতেই হবে। বলুন…”
ফাদার সমস্ত কিছু বলে বললেন, “আমাদের কাছে প্রতিটা মুহূর্ত এখন মূল্যবান্। সেই কারণেই আমাদের অ্যাম্বুলেন্সকে যত তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলে বাধিত হব!”
ডিএম বললেন, “এটা এসপির জুরিশডিকশনে পড়ে। আমি তাঁকে ফোন করে বলছি। তিনি নিশ্চয়ই আপনার সমস্যা বুঝবেন। আপনি দয়া করে আর পাঁচ মিনিট ওয়েট করুন। আমি দেখছি…”
ডিএম ফাদারের ফোন রেখে দিয়েই শাক্যকে ফোন করলেন। শাক্য ফোন ধরায় উল্লাসের সঙ্গে বললেন, “মি. সিংহ, আপনি মার্ভেলাস অফিসার। সত্যিই জুয়েল!”
“মানে? এ-সব কথা এখন…” একটু অবাক হল শাক্য।
“দেখুন, ফাদার একদম চড়া আলো সহ্য করতে পারেন না। ফলে আপাদমস্তক কালো কাপড়ে তাঁর চোখ-মুখ ঢাকা দিয়ে উপরে মেডিকেল শিট ঢাকা দেওয়া হয়েছে। ফলে দেখতে পাওয়া মুশকিল। দেখুন,আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম রাতেই নিয়ে যাব। কিন্তু নানা কারণে রাতে ফাদারের শরীর ভালো না থাকায় আমরা আর রিস্ক নিইনি। এখন নিয়ে যাচ্ছিস তার কারণ একে তো দিনের বেলা, কোন বিপদে-আপদে অনেককে পাব রাস্তাতেই সাহায্য করার জন্য যাদের বলতে পারি। কিন্তু রাতের বেলা হলে তো আর সেই সুযোগ পাব না। আর ফাদার রডরিগের ব্যাপারে আমি কোন রিস্কই নিতে চাই না!”
অফিসার বললেন, “ঠিক আছে, দেখছি কী করা যায়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনাদের গাড়ি ছেড়ে দিচ্ছি!”
“এক্ষুনি নয় কেন?”
“আমার হাত-পা বাঁধা। আমি চেষ্টা করতে পারি, কথা দিতে পারি না !”
“আমি ডিএমকে ফোন করছি। কিংবা এসপিকে। তাঁদের নির্দেশ পেলে নিশ্চয়ই আপনারা আর উচ্চবাচ্য করবেন না?”
“তাঁরা ঊর্দ্ধতন অফিসার। তাঁদের কথা মানতে আমরা বাধ্য!”
“বেশ,” বলে ফাদার মোবাইল বার করে কাউকে ডায়াল করতে লাগলেন। তারপর ওপ্রান্ত থেকে ফোন তুললে বললেন, “হ্যালো, ডিএম সাহেব? আমি পিশাচপাহাড় চার্চের ফাদার আন্তনিও বলছি। আপনি কি বিজি আছেন? একটু জরুরি দরকার ছিল আর-কি!”
“আরে ফাদার। বলুন বলুন। কতদিন পরে আপনার ফোন পেলাম। আর বিজি থাকলেও আপনার মতো মানুষের কথা শোনার জন্য সময় বার করে নিতেই হবে। বলুন…”
ফাদার সমস্ত কিছু বলে বললেন, “আমাদের কাছে প্রতিটা মুহূর্ত এখন মূল্যবান্। সেই কারণেই আমাদের অ্যাম্বুলেন্সকে যত তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলে বাধিত হব!”
ডিএম বললেন, “এটা এসপির জুরিশডিকশনে পড়ে। আমি তাঁকে ফোন করে বলছি। তিনি নিশ্চয়ই আপনার সমস্যা বুঝবেন। আপনি দয়া করে আর পাঁচ মিনিট ওয়েট করুন। আমি দেখছি…”
ডিএম ফাদারের ফোন রেখে দিয়েই শাক্যকে ফোন করলেন। শাক্য ফোন ধরায় উল্লাসের সঙ্গে বললেন, “মি. সিংহ, আপনি মার্ভেলাস অফিসার। সত্যিই জুয়েল!”
“মানে? এ-সব কথা এখন…” একটু অবাক হল শাক্য।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস, হ্যালো বাবু! পর্ব-১৪৭: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৭

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা
ডিএম বললেন, “আপনার অনুমানই সঠিক। ফাদার আন্তোনিও বর্ডারেই দাঁড়িয়ে। উনি হয়তো রাঁচি দিয়েই অন্যত্র যাওয়ার প্ল্যান করেছেন। একবার বর্ডার পার হতে পারলে অনেকটাই নিশ্চিন্ত…”
“বাহ্, এটা তো ভালো খবর। তাহলে যে-ভাবেই হোক আটকে রাখুন!”
“সে তো কাস্টমস্ অফিসার রেখেছেন। সে-জন্যই তো ফাদার আমাকে ফোন করে রিক্যুয়েস্ট করেছেন, যেভাবেই হোক, ওঁদের গাড়িটা এক্ষুনি যেন ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিই!”
“একদম না । নানা ছলছুতোয় দেরি করুক!”
“আপনারা এখন কোথায় আছেন মানে কতদূরে?”
“জায়গার নাম তো আমি বলতে পারব না। তবে ওই যেখানে জঙ্গলের ধারে চুরি যাওয়া বাইক পাওয়া গিয়েছিল, তার কাছাকাছিই মনে হচ্ছে। তাই না সুদীপ্ত?”
সুদীপ্ত বলল, “আর বড় জোর মিনিট দশেক বর্ডার পৌছতে…”
শাক্য সে-কথা জানাল ডিএমকে। তারপর বলল, “এসপি সাহেবকে জিজ্ঞাসা করুন, বর্ডারের ওখানে খান-দশেক পুলিশ পাঠিয়ে দিয়েছেন কিনা! না-পাঠালে এক্ষুনি পাঠাতে বলুন।”
“হোপফুলি উনি পাঠিয়েছেন কিংবা তার ব্যবস্থা করেছেন। আর একটা কথা, পিপলপোতার কাছ থেকে তাহলে ফোর্স সরিয়ে নিতে বলি? ওদিকে তো ফাদার যাননি!”
“সেটাই তো মুশকিল। আমি এখনই আপনাকে বলব, ফোর্স না সরাতে। কে বলতে পারে, এদিকে ব্যস্ত রেখে ওদিক দিয়ে হয়ত আসল জিনিস পাচার হয়ে গেল!”
“আসল জিনিস বলতে কী বোঝাচ্ছেন?”
“সেটা জানি না। কিন্তু যা খুশি হতে পারে। চার্চের ব্যাপারে আমি যতদূর ওয়াকিবহাল, তাতে ওখানে ঘাঁটি গেড়ে যে কেউ, যা খুশি করতে পারে। অতএব আমার মতে, ওদিকে যেমন ফোর্স আছে থাক এবং তারা র্যা নদাম চেক করুক। কোন গাড়ি সে বড় হোক বা ছোট, যেন না চেক করে ছাড়া হয়!”
“বেশ আমি জানিয়ে দিচ্ছি এসপিকে। যাই হোক, মি. সিংহ, আপনি কিন্তু সাবধানে যা করার করবেন। যে-কোন দরকারে আমাকে ফোন করবেন। হেজিটেট করবেন না!”
“আরে না না, এ হেজিটেশনের সময় নয়! এখন যত দ্রুত সম্ভব আমাদের সম্ভাব্য সব কিছুকে বাজিয়ে দেখে ঝাড়াই-বাছাই করতে হবে ! ফাদারের এত তাড়াহুড়ো সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে না কি?”
“হচ্ছে। আবার ভাবছি, সত্যিই যদি ফাদার রডরিগ থাকেন…! তিনি যে গুরুতর অসুস্থ, সে-কথা আমার কানে এসেছে!”
“আপনি ফাদার রডরিগকে দেখেছেন কখনও?”
“আমি এখানে আসার অনেক আগে থেকেই ফাদার অসুস্থ হয়ে অন্তরালে চলে গেছেন। ফলে আমার সৌভাগ্য হয়নি তাঁকে স্বচক্ষে দেখার!”
“তাহলে এতদিন পরে জনসমক্ষে তিনি এলেন এবং তাঁকে কলকাতায় না নিয়ে গিয়ে রাঁচিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এটা কি সন্দেহজনক কাজ বলে আপনার মনে হচ্ছে না?”
ডিএম আমতা-আমতা করে বললেন, “অদ্ভুত এক ডায়ালেমার মাঝে ফেলে দিলেন। কী যে বলি!”
“দেখুন, যদি দেখা যায়, ফাদার রডরিগ অ্যাম্বুলেন্সে আছেন এবং আর সব কিছু ঠিক আছে, তাহলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমরা গাড়ি ছেড়ে দেব। কিন্তু তা যদি না হয়, আমাদের সামান্যতম সংশয় হলেও আমরা কিন্তু গাড়ি ছাড়ব না। দুই ফাদারকেও না!”
“জানি আমি। সে-কারণেই আমি কিন্তু কাস্টমস্ কিংবা আর কোথাও ফোন না করে আপনাকে ফোন করেছি। কারণ, যত তাড়াতাড়ি আপনারা ওখানে পৌঁছাতে পারবেন, ততই আমি নিশ্চিন্ত হব…”
“বাহ্, এটা তো ভালো খবর। তাহলে যে-ভাবেই হোক আটকে রাখুন!”
“সে তো কাস্টমস্ অফিসার রেখেছেন। সে-জন্যই তো ফাদার আমাকে ফোন করে রিক্যুয়েস্ট করেছেন, যেভাবেই হোক, ওঁদের গাড়িটা এক্ষুনি যেন ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিই!”
“একদম না । নানা ছলছুতোয় দেরি করুক!”
“আপনারা এখন কোথায় আছেন মানে কতদূরে?”
“জায়গার নাম তো আমি বলতে পারব না। তবে ওই যেখানে জঙ্গলের ধারে চুরি যাওয়া বাইক পাওয়া গিয়েছিল, তার কাছাকাছিই মনে হচ্ছে। তাই না সুদীপ্ত?”
সুদীপ্ত বলল, “আর বড় জোর মিনিট দশেক বর্ডার পৌছতে…”
শাক্য সে-কথা জানাল ডিএমকে। তারপর বলল, “এসপি সাহেবকে জিজ্ঞাসা করুন, বর্ডারের ওখানে খান-দশেক পুলিশ পাঠিয়ে দিয়েছেন কিনা! না-পাঠালে এক্ষুনি পাঠাতে বলুন।”
“হোপফুলি উনি পাঠিয়েছেন কিংবা তার ব্যবস্থা করেছেন। আর একটা কথা, পিপলপোতার কাছ থেকে তাহলে ফোর্স সরিয়ে নিতে বলি? ওদিকে তো ফাদার যাননি!”
“সেটাই তো মুশকিল। আমি এখনই আপনাকে বলব, ফোর্স না সরাতে। কে বলতে পারে, এদিকে ব্যস্ত রেখে ওদিক দিয়ে হয়ত আসল জিনিস পাচার হয়ে গেল!”
“আসল জিনিস বলতে কী বোঝাচ্ছেন?”
“সেটা জানি না। কিন্তু যা খুশি হতে পারে। চার্চের ব্যাপারে আমি যতদূর ওয়াকিবহাল, তাতে ওখানে ঘাঁটি গেড়ে যে কেউ, যা খুশি করতে পারে। অতএব আমার মতে, ওদিকে যেমন ফোর্স আছে থাক এবং তারা র্যা নদাম চেক করুক। কোন গাড়ি সে বড় হোক বা ছোট, যেন না চেক করে ছাড়া হয়!”
“বেশ আমি জানিয়ে দিচ্ছি এসপিকে। যাই হোক, মি. সিংহ, আপনি কিন্তু সাবধানে যা করার করবেন। যে-কোন দরকারে আমাকে ফোন করবেন। হেজিটেট করবেন না!”
“আরে না না, এ হেজিটেশনের সময় নয়! এখন যত দ্রুত সম্ভব আমাদের সম্ভাব্য সব কিছুকে বাজিয়ে দেখে ঝাড়াই-বাছাই করতে হবে ! ফাদারের এত তাড়াহুড়ো সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে না কি?”
“হচ্ছে। আবার ভাবছি, সত্যিই যদি ফাদার রডরিগ থাকেন…! তিনি যে গুরুতর অসুস্থ, সে-কথা আমার কানে এসেছে!”
“আপনি ফাদার রডরিগকে দেখেছেন কখনও?”
“আমি এখানে আসার অনেক আগে থেকেই ফাদার অসুস্থ হয়ে অন্তরালে চলে গেছেন। ফলে আমার সৌভাগ্য হয়নি তাঁকে স্বচক্ষে দেখার!”
“তাহলে এতদিন পরে জনসমক্ষে তিনি এলেন এবং তাঁকে কলকাতায় না নিয়ে গিয়ে রাঁচিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এটা কি সন্দেহজনক কাজ বলে আপনার মনে হচ্ছে না?”
ডিএম আমতা-আমতা করে বললেন, “অদ্ভুত এক ডায়ালেমার মাঝে ফেলে দিলেন। কী যে বলি!”
“দেখুন, যদি দেখা যায়, ফাদার রডরিগ অ্যাম্বুলেন্সে আছেন এবং আর সব কিছু ঠিক আছে, তাহলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমরা গাড়ি ছেড়ে দেব। কিন্তু তা যদি না হয়, আমাদের সামান্যতম সংশয় হলেও আমরা কিন্তু গাড়ি ছাড়ব না। দুই ফাদারকেও না!”
“জানি আমি। সে-কারণেই আমি কিন্তু কাস্টমস্ কিংবা আর কোথাও ফোন না করে আপনাকে ফোন করেছি। কারণ, যত তাড়াতাড়ি আপনারা ওখানে পৌঁছাতে পারবেন, ততই আমি নিশ্চিন্ত হব…”
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭২: কামোদ্দীপক প্ররোচনা ও রাবণের পরস্ত্রী-অপহরণের লোলুপতা আজও অব্যাহত
বলতে-বলতে গাড়ির গতি কমে এল। সুদীপ্ত বলল, “চলে এসেছি। ওই দেখুন…সামনে অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে। ওটা চার্চের অ্যাম্বুলেন্স। পিছনে লেখা আছে দেখুন। আর ওই যে ফাদার অস্থিরভাবে পায়চারি করছেন…!”
শাক্য ডিএমকে বলল, “আমরা পৌঁছে গিয়েছি। এসপি সাহেবের ফোর্স পৌঁছেছে কিনা জানি না। আমরা আমাদের কাজ শুরু করছি। তারপর যা হয় দেখা যাবে…। কাস্টমসকে আমাদের আসার কথা বলে রেখেছেন নিশ্চয়ই?”
“হ্যাঁ, তা আর বলতে? সে-কারণেই তো ওরা এত চেলিং-এর নাটক করছে। ওই গাড়িগুলি, এমনকি লোডেড ট্রাকগুলিতে সব আমাদেরই লোক রয়েছে। ওগুলি ফলস চেকিং হচ্ছে। গাড়িগুলির প্রাইমারি কাজ রাস্তাটাকে এমনভাবে ব্লক করে রাখা যে, চাইলেও চার্চের গাড়ি বর্ডার ক্রস করতে পারবে না। আপনি কাজ শুরু করুন, আর সময় পেলে আপডেট দিন। আমি এসপিকে আর-একবার বলে দিচ্ছি…” বলে ফোন রাখলেন ডিএম।
গাড়ি একেবারেই থেমে গেলে শাক্য এবং সুদীপ্ত দুজনেই নামল গাড়ি থেকে। তারপর এগিয়ে গেল সামনের দিকে।
শাক্যকে ফাদার না-চেনার ভান করে সুদীপ্তর দিকে এগিয়ে এলেন। তারপর অনুযোগের সুরে বললেন, “দেখুন সুদীপ্তবাবু, আপনারা এসেছেন, এবার একটা কিছু সুরাহা হবে। আপনাদের নিশ্চয়ই ডিএম সাহেব পাঠিয়েছেন? হ্যাঁ, আমিই তাঁকে ফোন করেছিলাম। এখন আপনারা কাস্টমসকে একটু বলে এই গাড়িগুলি সরিয়ে আমাদের যাওয়ার রাস্তা করে দিলে বাধিত হই!”
শাক্য গম্ভীর গলায় বলল, “সে তো হবে নিশ্চয়ই। তার আগে আপনাদের অ্যাম্বুলেন্স ভালো করে চেক্ করা হবে!”
শুনে ফাদারের মুখ থমথম করে উঠল। মনের ক্রোঢ মনেই চেপে বললেন, “আপনি কে?”
“শাক্য সিংহ, স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসার ফ্রম লালবাজার। নাও উই উইল চেক ইয়োর অ্যাম্বুলেন্স। জাস্ট হেল্প আস সো উই ক্যান ডু আওয়ার ডিউটিজ্ !” —চলবে।
শাক্য ডিএমকে বলল, “আমরা পৌঁছে গিয়েছি। এসপি সাহেবের ফোর্স পৌঁছেছে কিনা জানি না। আমরা আমাদের কাজ শুরু করছি। তারপর যা হয় দেখা যাবে…। কাস্টমসকে আমাদের আসার কথা বলে রেখেছেন নিশ্চয়ই?”
“হ্যাঁ, তা আর বলতে? সে-কারণেই তো ওরা এত চেলিং-এর নাটক করছে। ওই গাড়িগুলি, এমনকি লোডেড ট্রাকগুলিতে সব আমাদেরই লোক রয়েছে। ওগুলি ফলস চেকিং হচ্ছে। গাড়িগুলির প্রাইমারি কাজ রাস্তাটাকে এমনভাবে ব্লক করে রাখা যে, চাইলেও চার্চের গাড়ি বর্ডার ক্রস করতে পারবে না। আপনি কাজ শুরু করুন, আর সময় পেলে আপডেট দিন। আমি এসপিকে আর-একবার বলে দিচ্ছি…” বলে ফোন রাখলেন ডিএম।
গাড়ি একেবারেই থেমে গেলে শাক্য এবং সুদীপ্ত দুজনেই নামল গাড়ি থেকে। তারপর এগিয়ে গেল সামনের দিকে।
শাক্যকে ফাদার না-চেনার ভান করে সুদীপ্তর দিকে এগিয়ে এলেন। তারপর অনুযোগের সুরে বললেন, “দেখুন সুদীপ্তবাবু, আপনারা এসেছেন, এবার একটা কিছু সুরাহা হবে। আপনাদের নিশ্চয়ই ডিএম সাহেব পাঠিয়েছেন? হ্যাঁ, আমিই তাঁকে ফোন করেছিলাম। এখন আপনারা কাস্টমসকে একটু বলে এই গাড়িগুলি সরিয়ে আমাদের যাওয়ার রাস্তা করে দিলে বাধিত হই!”
শাক্য গম্ভীর গলায় বলল, “সে তো হবে নিশ্চয়ই। তার আগে আপনাদের অ্যাম্বুলেন্স ভালো করে চেক্ করা হবে!”
শুনে ফাদারের মুখ থমথম করে উঠল। মনের ক্রোঢ মনেই চেপে বললেন, “আপনি কে?”
“শাক্য সিংহ, স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসার ফ্রম লালবাজার। নাও উই উইল চেক ইয়োর অ্যাম্বুলেন্স। জাস্ট হেল্প আস সো উই ক্যান ডু আওয়ার ডিউটিজ্ !” —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















