বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
আত্রেয়ী তার কাজে গেল! মৃতদেহ মর্গে গেছে। বাসনা চলে গিয়েছে। নীলাঞ্জনা চোয়াল শক্ত করে চলে গিয়েছে। বুম ক্যামেরা মোবাইলের আছড়ে পড়া ঢেউ কোনওভাবেই তাকে থামাতে পারেনি। ওপরের বারান্দা থেকে দেখা যাচ্ছিল। নীলাঞ্জনা দৃঢ়পায়ে তার কালো রঙের এসইউভিতে গিয়ে উঠল! পিছনের দরজা খুলে গাড়িতে উঠলেন তার সেক্রেটারি ও বাউন্সার। সাধারণত নামী নায়ক-নায়িকারা মার্সিডিজ বা বিএমডব্লিউ চড়েন। সিনেমার দ্বিতীয়সারিরা হুন্ডাই বা ওই ধরণের দামের গাড়ি রাখেন। কোনও কোনও নায়ক এসইউভি পছন্দ করলেও নায়িকারা আয়েস করে পিছনের সিটে এলিয়ে থাকেন। তাঁদের গাড়ির দরজা খুলে কেউ না দাঁড়ানো পর্যন্ত তাঁরা মাটিতে পা রাখেন না।
নীলাঞ্জনা বহুদিন টেলিভিশনের খুব জনপ্রিয় অভিনেত্রী। সিনেমায় উপযুক্ত চরিত্র না পাওয়ার জন্য এখনও কাজ করেননি। কিন্তু অদ্ভুতভাবে পলিটিক্যাল নেতাদের মতো নীলাঞ্জনা ড্রাইভারের পাশের সিটে বসেন। সাঙ্গপাঙ্গরা তাঁর পিছনে। পছন্দ করেন না নিশ্চয়ই। তাই দরজা খুলে কেউ দাঁড়ায় না। অনেকটা উপর থেকে নীলাঞ্জনাকে দেখতে দেখতে এই কথাগুলোই মনে হচ্ছিল ধৃতিমানের। দাঁড়িয়েছিল লম্বা বারান্দাটার একটা কোণে। মাঝে বারান্দার গ্রিলের গেটটার কাছে কাজ করছেন ফরেনসিক টিম। ধৃতিমান বারান্দা থেকে ঘরে ফিরতেই শ্রেয়ার একটা অদ্ভুত প্রশ্নের মুখোমুখি হল।
—আত্রেয়ীকে আগে চিনতেন?

কখনও কখনও আচমকা প্রশ্ন মানুষকে ধরাশায়ী করে দেয়। কাজের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচিতি সুবিধে করে দেয় নিশ্চয়ই। মফিজুলের সঙ্গে ধৃতিমানের বন্ধুত্ব ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের অনেক তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। গোয়েন্দা কর্তা ভূপতি চক্রবর্তী সেটা জানেন।
আরও পড়ুন:

সংসার ভেঙে… চলে গেলেন শঙ্কর

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫১: জরাসন্ধ কাহিনির আধুনিকতা

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৩ : অপারেশন উদ্বাস্তু এবং গুরু-শিষ্য সংবাদ

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৭ : ঘুঘুর ফাঁদ

ধৃতিমান গলা শুনে বুঝেছিল কে। কিন্তু এই প্রশ্নের কারণ খুঁজতে ফিরে দেখতে হল। যিনি প্রশ্ন করেছেন তাঁকে। তাঁর মানসিক অবস্থা জানার জন্য এই ফিরে দেখাটা জরুরি। শ্রেয়া ধৃতিমানের সঙ্গে সবচেয়ে কাছাকাছি থেকে কাজ করে। দীর্ঘদিনের পরিচিতির সুবাদে দু’জনের কাজের বোঝাপড়াটা খুব ভালো। মফিজুলের সঙ্গে পরিচয়ের আগে থেকে শ্রেয়ার সঙ্গে পরিচিতি। আত্রেয়ী ধৃতিমানের পরিচিত নয়। আগে কখনও একসঙ্গে কাজ করেনি। আজ মফিজুল আসতে পারছে না তাই আত্রেয়ী এসেছে। সে ল্যাবের বাইরে স্যামপ্লিং করছে এই প্রথম। এসব শ্রেয়া জানে। তা সত্ত্বেও সে কেন আচমকা এভাবে এখন ধৃতিমানকে এই প্রশ্নটা করল। এতদিন ধরে শ্রেয়াকে দেখছে ধৃতিমান আজকে শ্রেয়াকে অন্যরকম লাগছে। তবে এত কিছু ভাবতে ধৃতিমান একেবারেই সময় নেয়নি। দীর্ঘদিনের অভিনেতা নাট্যপরিচালক চিত্রপরিচালক। গলায় এতটুকু বিস্ময়ের তারতম্য ছাড়াই সামান্য অন্যমনস্ক উত্তর দিল!
—উহুঁ! আগে দেখিনি!
আরও পড়ুন:

দোলি হ্যায়!

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৫: ত্রিপুরায় স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রভাব

আর খানিকক্ষণের মধ্যে ফরেনসিকের কাজ শেষ হল। পুরো বাড়ি সিল করে লোকাল থানায় প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে শ্রেয়া গিয়ে সরাসরি পুলিশের জিপে গিয়ে বসল। দূরে ধৃতিমান দাঁড়িয়ে। কিন্তু তাকে একবার জিজ্ঞেস করল না সে কোথায় যাবে। একবার হাত দেখাল। জিপ চলে গেল। ফরেনসিকের জন্য একটা গাড়ি এলো। আত্রেয়ী গাড়ি থেকে মুখ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করল।
—মিঃ চৌধুরী আপনি?
—না না আমি মেট্রোতে চলে যাবো!
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪১: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — গড়িয়োল

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৯ : দুই সাপের বিবাদ ও রাজকন্যার গুপ্তধন লাভ! প্রাকারকর্ণের চাণক্য-নীতিতে মুগ্ধ উলূকরাজ

শ্রেয়ার এই ব্যবহারে বেশ একটু অবাক হয়েই ধৃতিমান আনমনে রাস্তা হাঁটছিল। মোড় থেকে একটা অটো ধরে টালিগঞ্জ ষ্টেশন চলে যাবে। যার পোশাকি নাম মহানায়ক উত্তমকুমার। হঠাৎ গা ঘেঁষে একটা মোটরবাইক এসে দাঁড়াল। অবাক হয়ে দেখলো লোকাল থানার এএসআই। বরুণ দত্ত। আজ সকালেই আলাপ হয়েছে।
—বলুন!
—উঠে আসুন।
—কোথায় যাবো!
—আপনি যেখানে বলবেন!
—আমি তো মেট্রো ধরবো!
—জানি তো শোভাবাজার সুতানুটি নামবেন! আপনি চাইলে আপনাকে উল্টোডাঙার আরিফ রোড ছেড়ে আসতে পারি।
—না না কোন দরকার নেই! আমি অটো নিয়ে!
—কী যে বলেন? শ্রেয়া ম্যাডাম ফোন করে বললেন, আপনি যেখানে যাবেন সেখানে গিয়ে আপনাকে ছেড়ে আসছে। বললেন আপনি নর্থ ক্যালকাটায় উল্টোডাঙ্গার আরিফ রোডে থাকেন।
—ও! টালিগঞ্জ কাছে হবে তো?
—হিসেবে করলে নেতাজি কাছে হওয়া উচিত। কিন্তু মুর অ্যাভিন্যু দিয়ে ঘুরে যেতে হবে। উত্তমকুমার এনএসসি বোস রোড ধরে সোজা রাস্তা।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৬ : অগ্নি সংস্কার

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনে পৌঁছোতেই ট্রেন এলো। অফিস ফেরতা ভিড়ের উল্টোদিকের রাস্তা। ভিড় নেই। জানালার পাশে একটা বসার জায়গায় বসে। শ্রেয়া পরে আবার বরুণকে ফোন করল কেন? ধৃতিমান ভাবছিল।
—স্ত্রীয়াশ্চরিত্রম দেবা ন জানন্তি কুতো মনুষ্যা। —চলবে।

অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content