
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
ঋষি উগ্রশ্রবা তাঁর পলিতকেশদাম ও শ্বেতশ্মশ্রুভারের অন্তরাল থেকে উজ্জ্বল নেত্রদুটি বিস্ফারিত করে প্রশ্ন করলেন, “হে প্রভো! আমরা দোলযাত্রার কথা জানি, কলিযুগের মর্ত্যধামে হোরিখেলার কথাও শ্রবণ করেছি, এও জানি যে কালে কালে হোরিখেলা “হ্যাপ্পি হোলি”তে পর্যবসিত হবে, এবং তা বিধিসম্মত, যেহেতু রলয়োরভেদঃ। তবে কলিযুগের মর্ত্যে “দোলি” উৎসবটি কীদৃশ হবে এ বিষয়ে আমাদের আলোকিত করুন, নিঃসংশয় করুন।
বসন্ত সমাগত। নৈমিষারণ্য পাখপাখালির কলতানে মুখরিত। তরুদল নববসন্তের রাগিনীতে শিহরিত, লতাকুঞ্জ পুঞ্জপুঞ্জ বিচিত্রবর্ণ পুষ্পদলে মণ্ডিত, বাতাসে সুখস্পর্শ, জলে স্থলে নভোলোকে অনাবিল আনন্দধ্বনির অনুরণন।
বসন্ত সমাগত। নৈমিষারণ্য পাখপাখালির কলতানে মুখরিত। তরুদল নববসন্তের রাগিনীতে শিহরিত, লতাকুঞ্জ পুঞ্জপুঞ্জ বিচিত্রবর্ণ পুষ্পদলে মণ্ডিত, বাতাসে সুখস্পর্শ, জলে স্থলে নভোলোকে অনাবিল আনন্দধ্বনির অনুরণন।
ঋষি বৈশম্পায়ন ঈষৎহাস্যে বললেন, এ হল যুগলমূর্তি, অর্ধনারীশ্বরের রূপ যেমন, তেমন-ই দোলযাত্রা ও হোলিখেলার অদ্বৈতরূপ হল দোলি। স্যাণ্ডুইচ কিংবা টুয়িন-ওয়ানের যে তত্ত্ব এখানেও তাই। দোল থেকে হোলি পর্যন্ত বর্ণিল যাপনের সংক্ষিপ্তরূপ হল “দোলি”। এতে সময় বাঁচল, শ্রম বাঁচল, কালিও বাঁচল। কোনটি লোকাল কোনটি ন্যাশনাল সেসব তর্ক এখানে বৃথা। দোলির মধ্যে দোলের ফাগ, পবিত্রতা, আনন্দ থাকল, হোলির রং, মস্তি, বিন্দাস-ভাব ইত্যাদি প্রভৃতিও থাকল। কলিকালের মর্ত্যধাম দোলির রঙে ও ভাঙে দোদুল্যমান হবে।”
সমবেত মধুচ্ছন্দা, কুত্স, মরীচি, অঙ্গিরা, দুর্বাসা, ভৃগু, বসিষ্ঠ প্রমুখ ঋষিগণ এই অভিনব কলিবার্তায় আপ্লুত হয়ে “অহো অহো” রবে ব্যাকুল হলেন। মহর্ষি কাত্যায়ন জিজ্ঞাসা করলেন “এই দোলির বিষয়ে আরও জানার জন্য আমাদের চিত্ত আকুল হয়েছে। এর স্বরূপ জেনে চমত্কৃত হয়েছি, এমন অনায়াস অদ্বৈতভাব মনুজগণের পরম আকাঙ্ক্ষিত, তার অবগতি, উপলব্ধি-ও সুলভ নয়। কলিযুগের ধীমানগণের কী অনায়াসেই এমন অভেদপ্রতিপত্তি হয় ভেবেই রোমাঞ্চিত হই, তাঁরা নিশ্চয়ই অক্ষরব্রহ্ম হবেন। চিরকাল মুড়ি-মিছরি, শাক-মাছ, ইতি-নেতি ইত্যাদির একান্ত প্রভেদ জেনে এলাম, কলিকালে এসব নিতান্তই মায়ারূপে উপলব্ধ হবে অনুমান করি। হে গুরো! এই দোলির পদ্ধতি ও প্রয়োগ কীদৃশ? আমাদের অজ্ঞান মোচন করুন।”
সমবেত মধুচ্ছন্দা, কুত্স, মরীচি, অঙ্গিরা, দুর্বাসা, ভৃগু, বসিষ্ঠ প্রমুখ ঋষিগণ এই অভিনব কলিবার্তায় আপ্লুত হয়ে “অহো অহো” রবে ব্যাকুল হলেন। মহর্ষি কাত্যায়ন জিজ্ঞাসা করলেন “এই দোলির বিষয়ে আরও জানার জন্য আমাদের চিত্ত আকুল হয়েছে। এর স্বরূপ জেনে চমত্কৃত হয়েছি, এমন অনায়াস অদ্বৈতভাব মনুজগণের পরম আকাঙ্ক্ষিত, তার অবগতি, উপলব্ধি-ও সুলভ নয়। কলিযুগের ধীমানগণের কী অনায়াসেই এমন অভেদপ্রতিপত্তি হয় ভেবেই রোমাঞ্চিত হই, তাঁরা নিশ্চয়ই অক্ষরব্রহ্ম হবেন। চিরকাল মুড়ি-মিছরি, শাক-মাছ, ইতি-নেতি ইত্যাদির একান্ত প্রভেদ জেনে এলাম, কলিকালে এসব নিতান্তই মায়ারূপে উপলব্ধ হবে অনুমান করি। হে গুরো! এই দোলির পদ্ধতি ও প্রয়োগ কীদৃশ? আমাদের অজ্ঞান মোচন করুন।”
আরও পড়ুন:

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৩ : ফেলুদার শেষদৃশ্য— শেষের পরে, শেষের পারে

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৫ : সাথী হারা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৫ : অতর্কিতে হামলা

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৯ : দুই সাপের বিবাদ ও রাজকন্যার গুপ্তধন লাভ! প্রাকারকর্ণের চাণক্য-নীতিতে মুগ্ধ উলূকরাজ
বৈশম্পায়ন স্মিত হেসে বললেন, “তোমাদের জ্ঞানপিপাসা আমাকে নিতান্তই প্রসন্ন করেছে। মন দিয়ে শ্রবণ করো। ত্রিভুবনে এই কলিবার্তা কেবল পুণ্যাত্মক নয়, এর যাপনে-মননে শ্রোত্রবৃত্তি সার্থক হয়, শ্রবণসুখোত্সব যাকে বলে। কলির মহাত্মাগণ দোলির শুভাগমে প্রথমেই চিত্র-বিচিত্র বর্ণের প্রতি আকৃষ্ট হবেন। এই উত্সবে শ্রীরাধিকা-শ্রীকৃষ্ণ বাসন্তিক ফাগের রঙে মাতেন। কলিকালের উত্সবপ্রিয় নরনারীগণ দোলের পূর্বদিনে নগরের নানা বিপণি থেকে লাল-নীল-সোনালি-কালো ইত্যাদি রঙ, ও আনুষঙ্গিক অনুপান যথা নানা স্বাদের পিচকারি, বেলুন, ভয়াবহ মুখোশ, শিবের জটা, এছাড়াও নানা চৈনিক সম্ভার খরিদ করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবেন। এগুলি আপাতঃ প্রীতিকর হলেও যথাকালে তা ভয়াবহ হবে। ক্রীড়াবিদ্গণ সকালে জলখাবার গ্রহণ করেই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাঠে নেমে পড়বেন। প্রথমে ফাগ, আবির ইত্যাদির বিনিময়ে সান্ধ্য জলসার রবীন্দ্রসঙ্গীততুল্য ভদ্রজনোচিত অনুষ্ঠান, ক্রমে ক্রমে তা তুরীয় অবস্থা প্রাপ্ত হবে। জলসায় যেমন মাতৃভাষার লঘুসঙ্গীত অতঃপর চটুল বিজাতীয় গান, ততঃপর যেমন ভয়াবহ অজ্ঞেয় গীতবাদ্যের ধারা সহযোগে ঈষত্ নৃত্যপ্রচেষ্টা দেবাদিদেবের তাণ্ডবে পর্যবসিত হওয়া-ই রীতি, তেমন-ই দোলের দিনেও প্রাজ্ঞ ক্রীড়াবিদের দল ঈষত্ সক্রিয়, ক্রমে অতিসক্রিয় বর্ণরাজি ও আনুষঙ্গিক দ্রব্যের প্রয়োগে প্রাতঃকালীন খেলাকে মধ্যাহ্নকালীন লীলায় পরিণত করবেন। এখানে লীলাপদ ব্যঙ্গাত্মক মনে হলেও তা কলির মহামানবগণের দৈব বিভূতির প্রকাশক। ঈশ্বর যেমন ঐশ্বর্যমণ্ডিত হন, তেমন-ই লীলান্তে, ক্রীড়ান্তে প্রাতঃকালের স্ফুট নরনারীগণ অপরাহ্নে অস্ফুট, বিলীনরূপ ও অজ্ঞেয় হয়ে উঠবেন। ক্রীড়ার প্রভাবে তাঁদের নরসত্তায় তারল্য আসবে, তাঁরা লীলান্তে উপদেব কিংবা উপদেবীরূপে আত্মপ্রকাশ করবেন। এইসময়ে সৃষ্টিসুখের নানা পর্যায়ের মতোই তাঁরা অপূর্ব নবলীলায় আক্রান্ত হয়ে পরস্পরের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন। এই মৌষলপর্বে প্রত্যেকেই পরস্পরকে ও তত্সহ যথাসম্ভব তাঁদের ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষগণকে অভূতপূর্ব, অশ্রুতপূর্ব বিচিত্র অভিধায় অভিহিত করবেন, মুষ্টিযোগ প্রয়োগ করবেন। একে সমাগত রসলিপ্সু রসিকমণ্ডলী বাকপারুষ্য ভাবলেও এ হল পোটেনশিয়াল দেবদেবীগণের আকস্মিক পুণ্যাভিব্যঞ্জক মর্ত্যলীলা।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা : পর্ব-৫৯: আকাশ এখনও মেঘলা

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৪: ত্রিপুরায় রিয়াং বিদ্রোহ
তবে সকলেই এই ঐশ্বর্যের অধিকারী হবেন না, বলা বাহুল্য। নরলোকে এই বর্ণাসক্তির দিনে কোথাও কোথাও এতাদৃশ চমৎকার ঘটবে, অন্যত্র বীরপুঙ্গবগণ ক্রীড়ান্তে মোদকাদি মিষ্টান্ন গ্রহণ করে, আপাদমস্তক অনির্বচনীয় হয়ে দ্বিপদ কিংবা চতুষ্পদে গৃহে প্রত্যাবর্তন করবেন। যাঁরা নিতান্তই অপারগ, তাঁরা ক্ষেত্রস্থ হয়ে যোগনিদ্রায় অভিভূত থাকবেন। তাঁদের স্বজন-পরিজনগণ বহু অন্বেষণে ইষ্টপ্রাপ্তির মতোই তাঁদের লাভ করে সম্মার্জনীর অভ্যর্থনায় তাঁদের স্বগৃহে আপ্যায়িত করবেন।
আরেকদল সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বগৃহ অন্বেষণ করে করে ব্যর্থ হয়ে পথপ্রান্তে তরুতলে মর্মরমূর্তির তুল্য হয়ে পূরক-কুম্ভকাদি অবলম্বন করে ধ্যানস্থ হবেন। পরে রাজপুরুষগণ তাঁদের গৃহসঙ্কেত স্মরণ করিয়ে গৃহে প্রেরণ করবেন। লীলাময়গণ রোদনে, হাস্যে, তাড়নে, তর্জনে পঞ্জরস্থ সিংহশাবকের তুল্য বিক্রম প্রদর্শন করবেন, শেষে অনন্যোপায় হবেন।
আরেকদল সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বগৃহ অন্বেষণ করে করে ব্যর্থ হয়ে পথপ্রান্তে তরুতলে মর্মরমূর্তির তুল্য হয়ে পূরক-কুম্ভকাদি অবলম্বন করে ধ্যানস্থ হবেন। পরে রাজপুরুষগণ তাঁদের গৃহসঙ্কেত স্মরণ করিয়ে গৃহে প্রেরণ করবেন। লীলাময়গণ রোদনে, হাস্যে, তাড়নে, তর্জনে পঞ্জরস্থ সিংহশাবকের তুল্য বিক্রম প্রদর্শন করবেন, শেষে অনন্যোপায় হবেন।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪১: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — গড়িয়োল

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৯: মহাভারতের কথা অমৃতসমান কেন?
তবে এইসকল মহাপুরুষ কোটিতে গুটি, এঁরা অবিরল নন। এঁদের দেহকে অতিক্রম করে মনলোকেও একপ্রকার সাধারণীকরণ ঘটে, এই উত্সবে এও এক বিশেষ প্রাসঙ্গিকতা। এখন তোমরা ভাবতে পারো, হ্যাপ্পি হোলির দিনে কি এর ব্যত্যয় ঘটে নাকি অন্যতর কোনও দৃশ্যকাব্যের মঞ্চায়ন ঘটবে? না, এখানে দোল আর হোলিও সাধারণীকৃত। যাঁরা লীলাপটু তাঁদের কী দোল, কী-ই বা হোলি! তাঁরা উত্সবের প্রারম্ভেই হোলি হ্যায়! দোলি হ্যায়! ইত্যাদি কাকুরব করে লীলাস্থ হবেন। তাঁরা আশুতোষের তুল্য। অল্প কিছু বাঁদুরে রঙ, বাঘ-সিংগি-পিশাচ-ঘ্যাঁঘাসুরাদির মুখোশ ও ভূতনাথের জটায় ভূষিত হয়ে সহক্রীড়ক ও অন্তরাত্মাকে বাসন্তিকী সংবেদনা ও তারল্যে অভিভূত করেই সৃষ্টি কিংবা প্রলয়ের কাজে অবতীর্ণ হবেন। এঁদের মধ্যে যাঁরা ভুয়োদর্শী, নিতান্ত নিপুণ ও লোকোত্তর গুণের অধিকারী তাঁরাই দোলির হিরো হয়ে “রঙবাজ” নামে খ্যাতকীর্তি হবেন। নিন্দুকগণ তাঁদের শৌর্যকে “রঙবাজি” বলবেন বটে, তবুও তাঁদের লীলাক্ষেত্রে বহুকালযাবত্ “সেইবার উনি এমন করেছিলেন” এতাদৃশ চরিতগাথা অমর হয়ে থাকবে। বাকি সকলের সাধারণীকরণ ঘটবে কেবল দৃশ্যমান দেহলোকে। এই যেমন দোলিখেলার শেষে ট্যাঁপাকে বাপ্পা, টেঁপিকে ক্ষেপি, চম্পাকে শম্পা, গণশাকে কাত্তিক বলে ভ্রম হবে। তাঁদের কপাল রক্তবর্ণ, কপোল কৃষ্ণ, কণ্ঠ নীল, ওষ্ঠ ধবল। চক্ষুদুটি কাকতাড়ুয়ার তুল্য প্রোজ্জ্বল। একটি হস্ত হরিদ্বর্ণ তো অন্যটি পীত। অন্যান্য সকল অঙ্গ নববর্ষার শ্যামঘনের মতোই ঘোরবর্ণ হবে। যাঁরা অত্যুচ্চমানের ক্রীড়ক এবং যাঁদের লীলাকাঙ্ক্ষা অমিত তাঁরা বর্ণগন্ধাদি অপ্রতুল হলে মৃত্তিকা, নালি-পঙ্ক, গোময় কিংবা কর্দমের দ্বারাই লীলাচাঞ্চল্য সচল রাখবেন। উদ্যোগী জন-ই যে পুরুষকার লাভ করেন এই সারভূত সত্যকে অনুভব করার তিথি হল দোলি। যাঁরা এই সাধনার সর্বোচ্চলোকে উত্তীর্ণ হতে পারবেন, তাঁরা তুরীয় অবস্থা প্রাপ্ত হয়ে ঘূর্ণিতনেত্র বিহ্বল হয়ে মনোতুল্য দ্রুতগামী, সর্বত্রগামী হয়ে বাইক নামক যানে আরূঢ় হয়ে বিপুল আলোড়নে নরলোক পরিক্রমা করবেন সতীনাথ শিবের মতোই। দোল থেকে হোলি পর্যন্ত এই হোলি (Holy) পুণ্যতিথিতে তাঁরা কখনও রুদ্র, কখনও মদনদেব, কখনও শিব তো কখনও ইন্দ্র, বরুণ কিংবা অন্যান্য উপদেবতুল্য হয়ে বিশ্বরূপধারী হবেন, কলিযুগের দোলিকে সার্থক করবেন।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৩ : অপারেশন উদ্বাস্তু এবং গুরু-শিষ্য সংবাদ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
তবে এই লীলাও নিতান্ত অনিত্য হবে কালে কালে। জাগতিক রঙের পরিবর্তে কলির আগামী প্রজন্ম ভার্চুয়াল রঙে পরস্পরকে রঞ্জিত করবে হয়তো। তাঁরা নিতান্তই দেহ-সচেতন এবং কর্মব্যস্ত হবেন। বর্ণে বর্ণে রঞ্জিত হওয়ার প্রণোদনা তাঁদের স্পর্শ করবে না। দোলিও নিতান্ত তত্ত্বগত হয়ে দূরদর্শনে সিরিয়ালস্থ হবে। উদযাপন হবে পর্দায়, ক্রীড়ক হবেন দর্শক। সকলেই শ্বেতধবল অভিনব মহার্ঘ্য শৃঙ্গারবেশ ধারণ করে রঙ খেলবেন। আগামীর কলিকালে তরুণের চোখে, স্বপ্নে, প্রেমিকার অধরে, বীরের শোণিতধারায়, সকল কর্মে, মর্মে, নভোলোকের নীলিমায় রঙের সকল প্রভা ও মাধুর্য কতটা থাকবে তা ভবিষ্যবার্তা, তবে বর্ণপ্রীতি নয়, বর্ণপরিবর্তক কৃকলাস বা গিরগিটির তুল্য হয়ে বর্ণ থেকে বর্ণান্তরে অবিরাম ভ্রমণলিপ্সাই প্রধান হবে। এই বর্ণবিপর্যয় কলির প্রাণ। ওই নীলবর্ণশৃগালের ভেক কলির ঐশ্বর্য। আর বর্ণ থাকবে কূটনীতিতে, বহুব্যাপক আড়ম্বরে, প্রদর্শনে, বেশে, কেশে, শ্মশ্রুগুম্ফে, আপাদমস্তক আসক্তি, বাহ্য আচরণে, বাসে-ট্রেনে-হাটে-বাটে “চড়িয়ে কান লাল করে দেব”, “মাকালফল” ইত্যাদি মহাভাষণে। কিন্তু অন্তর্লোক কেমন হবে তা তো মহাকালের গর্ভে! তাই, হে মহামুনিসকল, আপনারা অদ্ভুতকর্মা কলিজীবিগণের বিচিত্র ধর্ম ও রাগের অনুধ্যানে রঞ্জিত হয়ে উঠুন, তা-ই একান্ত ধ্যেয়, সেখানেই পরম সুখ, অলমিতি।”
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।


















