বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত। সংশ্লিষ্ট সংস্থার সৌজন্যে।

কার্ত্তিকমাসের শুক্ল দ্বিতীয়ায় ভাইফোঁটা, ভ্রাতৃদ্বিতীয়া। যমুনা যমকে ফোঁটা দেয়, দিদি বোনরাও ভাইকে লোহার ভাঁটা হয়ে দীর্ঘায়ু হওয়ার শুভাকাঙ্ক্ষা জানায়। শক্তিরূপিণী নারী তাঁর জীবনের জয়তিলক এঁকে দেন ভাইয়ের কপালে। আজকের দুনিয়ায় ভাইফোঁটা দিতে হলে আসন পেতে না বসলেও চলে। ইন্টারনেটে ফোঁটা হয়, হোয়াটসঅ্যাপে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। সিনেমার পর্দায় দেখা যায় দেয়ালে ফোঁটা দিতে, জেলনিবাসী ভাইয়ের জন্য। সেখানেও প্রাণের উষ্ণতার অভাব থাকে না। তাছাড়া আজকাল ভাই বোনকে, ভাই ভাইকে, বোন বোনকেও ফোঁটা দিতে পারে।

এছাড়াও, ঠাকুমা দিদিমারা নাতি নাতনিদের, মালিক মালকিন আদরের পোষ্যকে ভাইফোঁটায় আপ্যায়িত করেন। বসুধৈব কুটুম্বকম্ সেই কবেকার বাণী, দূরকে নিকট করে সৌভ্রাতৃত্বের সৌজন্যকে দেশ-জাতি-প্রথা নির্বিশেষে প্রতিষ্ঠা করার দিন আজ। কালক্রমে পৃথিবীতে এলিয়েনদের আবির্ভাব ঘটলে তাঁরাও ভাইফোঁটায় বঞ্চিত হবেন না এ নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই। এভাবেই “নিয়ম” যুগবাহিত হয়ে নিজের মতো করে পথ খোঁজে বৈকী। নিয়মের কথাই এল যখন, তখন যমের প্রসঙ্গ-ও এসে পড়বে।
ভ্রাতৃদ্বিতীয়ায় মূল আলোকবৃত্তে ভাইয়ের দল শোভমান, বলা বাহুল্য। কপাল তাদের এদিন সবিশেষ প্রসন্ন থাকে। বাজার ও বিপণনের দুনিয়ায় ভাইয়ের সাজপোষাক, খাবার দাবার থেকে পছন্দ অপছন্দ নিয়ে দুস্তর চর্চা, তাদের পরিতৃপ্ত করার জন্য বাজার প্রস্তুত তার ডালা নিয়ে। যম এত কথা ভেবেছিলেন কি?
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৪: রামের অমল মহিমা, অরণ্যবাসের সাধুসঙ্গ

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৭: জীবনখাতার প্রতি পাতায়

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৫: সুস্থ থাকলে কেউ কি কবিতা লেখে?

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৯: ‘বেতারে দু-খানা গান গাইলাম, পারিশ্রমিক পেলাম দশ টাকা’

কথা-কাহিনির আঁকে বাঁকে নিয়মের কর্তা, মৃত্যুর দেবতা যম বোন যমুনার থেকে ফোঁটা নিয়ে অমর হন যেমন, তেমনই ভাইদের মৃত্যুঞ্জয়ী হওয়ার আশীর্বাদদান আর আকাঙ্ক্ষাপোষণ বোনদের জন্য বিহিত হয়েছে। এই সম্পর্কবন্ধনের মাধুর্যে সামাজিক টানাপোড়েনটুকু গৌণ থাকলেই মঙ্গল।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২২: সুন্দরবনের পাখি: ডোরা-লেজ জৌরালি

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১২ : স্বপ্নের নায়ক, নায়কের স্বপ্ন

নারীদের জন্য বিহিত কোনও অনুষ্ঠান পুরুষরা দখল করেছে, জামাইষষ্ঠী এলেই এর জোর চর্চা। ভাইফোঁটায় তেমন কিছুর সম্ভাবনা জেগেছে কীনা কে জানে, তবে ঋগ্বেদের যম-যমী সংবাদে যমী যমকে কামনা করছেন আর সংযমী যম তাকে নিবৃত্ত করছেন এই উপস্থাপনা পবিত্র সম্পর্কের মাধুর্যকে জাগিয়ে তোলে। পরে কী হয়েছিল জানা নেই, তবে যম-যমী সহোদর একথা সত্য, তারাই কি পৃথিবীর আদি মাতা ও পিতা তাও স্পষ্ট নয় যদিও, তবে ভগ্নী-ভগিনী-ভোগিনীর যাত্রাপথে ভোগ তথা সম্ভোগের প্রসঙ্গ উঁকি দেয়। সময়, নিয়ম, সমাজ, রীতি পরিবর্তিত হতে থাকে। যে সূর্যপুত্র যম এককালে অসংযত হয়ে বিমাতার বঞ্চনার প্রতিবাদে সৌজন্যের ধার ধারেননি, সেই তিনি স্থিত হয়ে নিয়মের পালনে, জীবনের অমোঘ সত্য মৃত্যুর যাপনে নিয়োজিত। তিনি জীবনকে সীমায় বাঁধেন, নিয়মে আটকে রাখেন, তাই তিনি যম।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৪: কথা বলা অতীত

আকাশ এখনও মেঘলা/৪০

বাবা-কাকা-দাদা-মামা নির্বিশেষে পৃথিবীজোড়া যে যুদ্ধ লেগেছিল মানুষ সভ্য হয়ে ওঠার পর থেকেই তাকে চালিয়ে নিয়ে যেতে ভাইদের সুস্থ সবল থেকে আরও বলবান হয়ে ওঠার বিশেষ দরকার। সে যুদ্ধ আজও চলছে বৈকী। তাছাড়া ‘ভাই’ তো কেবল লিঙ্গসাপেক্ষ নয়, তাই অক্লেশে বলা যায় “গুণবতী ভাই আমার মন কেমন করে।” তাই বাল্মীকিপ্রতিভার লীলা সিন্ধুকে বলে— “না ভাই, কাল সকালে মায়ের কাছে নিয়ে যাব ধরে। মা বলেছে ঋষির সাজে সাজিয়ে দেবে তোরে।”
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৫: ইন্দ্রধনু আর ‘ইন্দ্রাণী’

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৪: অ্যাঙ্করেজের সঙ্গে সিউয়ার্ডকে জুড়েছে পৃথিবীখ্যাত সিউয়ার্ড হাইওয়ে

ভাইফোঁটা এই ভাইদের দিন। তিনি কে, কি এবং কেন, প্রতিপদ না দ্বিতীয়া, ভাই না বোন, পুরুষ না নারী, ঘড়ি না শাড়ি ইত্যাদি কাটাছেঁড়ার বদলে ঔদার্য ও মাধুর্যটুকু দীর্ঘতর হোক। ভাইফোঁটা নিয়মের পালক যমের নামে প্রসিদ্ধ হলেও আজ নিয়মহীন শৈথিল্যের দিন। সহোদর কিংবা নানা তুতো কিংবা পাতানো বোন-দিদিদের দল অথবা বৃদ্ধাশ্রমের “মুখোমুখি বসিবার” বাণপ্রস্থী তরুণী বোন বা দিদি অনেকবার সাধাসাধি করবে, জোর করেই পাতে তুলে দেবে আরেকটা মিষ্টি, আরেকটু অযাচিত আশা, অপ্রত্যাশিত ভালবাসা। আজ ভাইফোঁটা।

* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content