
পত্রালির আজ জন্মদিন। একুশ বছর হল। গানের ক্লাসে দেবলীনা, মহুয়া আর সৌমিকা ওর জন্য কেক নিয়ে এসেছিল। হইহই করে সকলে হ্যাপি বার্থ ডে পালন করল।
পত্রালি টুকটাক লেখালিখি করে। মূলত ফেসবুকেই লেখে নিজের নানা ধরনের অভিজ্ঞতার নিরিখে। লেখক বোধ করি আজ সকলেই। তবে একেক জনের লেখার মধ্যে অনেক মানুষ নিজের জীবনের মিল খুঁজে পায়। পত্রালি এমনই একজন। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ওর ফলোয়ারও অনেক।
বিদ্বজ্জনে হয়তো বলবেন এসব লেখার পর্যায়েই পড়ে না। এই যেমন ওদের গানের স্যার অলোকসুন্দর সেন। তিনি বুঝে উঠতে পারেন না এসব আনকোরা ছেলেমেয়েদের ততোধিক আনকোরা লেখা, যা লেখা না বলে কাগের ঠ্যাং বগের ঠ্যাং বললেও প্রশংসাই করা হয়, লোকের এত পছন্দ হয় কী করে! যা হোক, অনেক ভেবে তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, যা অনেকের ভালো লাগে, তার মধ্যে সারবত্তা খুঁজতে না যাওয়াই ভালো। জনগণের বিচারবুদ্ধিতে আস্থা তাঁর চাকরিজীবনেও ছিল না, এখন তো নেইই। লেখার গুণমানের চেয়ে কে কেন কী উদ্দেশ্যে লাইক করছেন, তা সৎ সাহিত্যের ক্ষেত্রে যেমন, তেমন নবাগত লেখকের ক্ষেত্রেও বিচার্য। ছাত্রছাত্রীদের পত্রালিকে নিয়ে মাতামাতির মধ্যেও তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘লিখবে, অবশ্যই লিখবে, তবে লেখাপড়া করে লিখবে। মনে রাখবে, না পড়লে লেখার মানও পড়ে যায়’।
দেবলীনারা স্যারের কথা খুব একটা গ্রাহ্য করে না। উনি সব ব্যাপারেই সন্দেহপ্রবণ। ওরা পত্রালির জন্য একটা ডায়েরি গিফ্ট এনেছিল। চুপিচুপি ভরে দিল ওর ব্যাগে। কানে কানে বলল, ‘এতে লিখবি। আরও লিখবি’।
পত্রালি একটু চুপচাপ মেয়ে। তবে বন্ধুদের হইচই পছন্দই করে। কলেজের বন্ধুরাও ওকে ভালবাসত। স্নিগ্ধা, অনন্যা, সোমা ওদের বন্ধুদের একটা গ্রুপ ছিল। সুমন স্যারের ব্যাচে একসঙ্গে পড়ার সুবাদে ওদের বন্ডিংটাও ছিল চমৎকার। কিন্তু দিন তো কেটেই যায়। দু’মাস আগে ফাইনাল পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে। তারপর থেকে আর দেখা হচ্ছে না। হওয়ার চান্সও ক্ষীণ। হয়ত পুজোর সময় প্ল্যান করে দেখা করা যাবে।
পত্রালি টুকটাক লেখালিখি করে। মূলত ফেসবুকেই লেখে নিজের নানা ধরনের অভিজ্ঞতার নিরিখে। লেখক বোধ করি আজ সকলেই। তবে একেক জনের লেখার মধ্যে অনেক মানুষ নিজের জীবনের মিল খুঁজে পায়। পত্রালি এমনই একজন। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ওর ফলোয়ারও অনেক।
বিদ্বজ্জনে হয়তো বলবেন এসব লেখার পর্যায়েই পড়ে না। এই যেমন ওদের গানের স্যার অলোকসুন্দর সেন। তিনি বুঝে উঠতে পারেন না এসব আনকোরা ছেলেমেয়েদের ততোধিক আনকোরা লেখা, যা লেখা না বলে কাগের ঠ্যাং বগের ঠ্যাং বললেও প্রশংসাই করা হয়, লোকের এত পছন্দ হয় কী করে! যা হোক, অনেক ভেবে তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, যা অনেকের ভালো লাগে, তার মধ্যে সারবত্তা খুঁজতে না যাওয়াই ভালো। জনগণের বিচারবুদ্ধিতে আস্থা তাঁর চাকরিজীবনেও ছিল না, এখন তো নেইই। লেখার গুণমানের চেয়ে কে কেন কী উদ্দেশ্যে লাইক করছেন, তা সৎ সাহিত্যের ক্ষেত্রে যেমন, তেমন নবাগত লেখকের ক্ষেত্রেও বিচার্য। ছাত্রছাত্রীদের পত্রালিকে নিয়ে মাতামাতির মধ্যেও তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘লিখবে, অবশ্যই লিখবে, তবে লেখাপড়া করে লিখবে। মনে রাখবে, না পড়লে লেখার মানও পড়ে যায়’।
দেবলীনারা স্যারের কথা খুব একটা গ্রাহ্য করে না। উনি সব ব্যাপারেই সন্দেহপ্রবণ। ওরা পত্রালির জন্য একটা ডায়েরি গিফ্ট এনেছিল। চুপিচুপি ভরে দিল ওর ব্যাগে। কানে কানে বলল, ‘এতে লিখবি। আরও লিখবি’।
পত্রালি একটু চুপচাপ মেয়ে। তবে বন্ধুদের হইচই পছন্দই করে। কলেজের বন্ধুরাও ওকে ভালবাসত। স্নিগ্ধা, অনন্যা, সোমা ওদের বন্ধুদের একটা গ্রুপ ছিল। সুমন স্যারের ব্যাচে একসঙ্গে পড়ার সুবাদে ওদের বন্ডিংটাও ছিল চমৎকার। কিন্তু দিন তো কেটেই যায়। দু’মাস আগে ফাইনাল পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে। তারপর থেকে আর দেখা হচ্ছে না। হওয়ার চান্সও ক্ষীণ। হয়ত পুজোর সময় প্ল্যান করে দেখা করা যাবে।
একটা অন্য সমস্যাও তৈরি হয়েছে। সুমন স্যারকে পত্রালির ভালো লাগে, সেকথা সোমাকে বলে ফেলেছিল একদিন। সোমা বুদ্ধিমতী। বলেছিল, ‘কিছু বলার আগে একটু ভেবে নিস। স্যার তো সবার সঙ্গেই আন্তরিকভাবে মেশে, হাসি ঠাট্টা করে’। পত্রালির ভালো লাগেনি বলাই বাহুল্য। অন্যদের আর বলেনি, কে জানে কার মনে কী আছে।
বছরখানেক আগে ওর বাবার একটা স্কুটার অ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল। পায়ের হাড় গুঁড়ো হয়ে গিয়েছিল। সুমনদা জানতে পেরে খুব হেল্প করেছিলেন। নার্সিংহোমে ভর্তি করা, প্রায় দিন ভিজিটিং আওয়ারে দেখতে যাওয়া। অপারেশনের পর প্রথম প্রথম প্রায় রোজ আসতেন। বাড়ি ফেরার পর একজন ফিজিওথেরাপিস্ট ঠিক করে দিয়েছিলেন। না আসতে পারলে ফোনে বা মেসেজে খবর নিতেন। এই করতে করতে মেসেজ চালাচালিটা সেই যে চলতে শুরু করল, আর থামল না। বাবা এখন মোটামুটি লাঠি নিয়ে হাঁটে, দোকান বাজার যায়। কিন্তু সকালে পত্রালি ঘুম থেকে উঠেই সুমনকে গুডমর্নিং মেসেজ পাঠিয়ে দিন শুরু করে। তারপর দুপুরে খাবার আগে শুভ দ্বিপ্রহর, বিকালে শুভ অপরাহ্ন ও রাতে শোবার আগে গুড নাইট। এগুলো এখন রুটিনে পরিণত হয়েছে।
সুমন ভালো ছেলে। শিক্ষিত, ভদ্র। সকলের সঙ্গে মিষ্টি ব্যবহার। তার দিক থেকে পত্রালি খুব আশ্বাসজনক কিছু না পেলেও মেসেজের উত্তরে কখনও পেয়েছে পালটা মেসেজ, কখন হাসিমুখের ইমোজি, কখনও আবার হাতের বুড়ো আঙ্গুল। সুমন ফেসবুকেও পত্রালির বন্ধু। পত্রালির টুকটাক লেখায় লাইক করে, কমেন্টও করে মাঝেমাঝে। ‘বাহ’, ‘দারুণ’, ‘বেশ লিখেছিস’ এইসব।
স্নিগ্ধা রিল বানায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে, সিনেমা দেখতে গিয়ে। কিছু দৃশ্য আর সঙ্গে পছন্দসই হিন্দি বা বাংলা গানের কলি। পত্রালির নিজের ধারণা ওকে দেখতে তেমন ভাল নয়। গায়ের রং শ্যামলা, কালোর দিকেই। গালে ব্রণর দাগ। উজ্জ্বল চোখ দুটি ছাড়া তেমন বলার মতো কিছু নেই। তাই নিজের ছবি পোস্ট না করে দুকলম লিখতে শুরু করেছিল।
প্রথমে মাকে নিয়ে লিখেছিল। পত্রালির মা সাধারণ গৃহবধূ। সারাদিন কাজ আর কাজ। সারাদিন মেজাজ সপ্তমে। সারাদিন সব কিছু নিয়ে খিট খিট। বিরক্ত লাগত ওর। কিন্তু যেদিন প্রথম মাকে নিয়ে লিখল, মায়ের সারাদিনের যত সাংসারিক কাজের খুঁটিনাটি বিবরণ তুলে ধরল, বহু মানুষ তার সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পেল। শুধু বন্ধুরা নয়, তার বাইরেও অনেক মহিলা কমেন্টে প্রশংসা জানাল। নিজের মাকে ভালবাসে এমন মানুষেরা ওর পোস্ট শেয়ার করল। পত্রালি মাকে দেখে দেখে বিরক্ত হলেও নিজের কাজের বিষয় নিয়ে খুশি না হয়ে পারল না। চিরকেলে বদমেজাজি মা যে এমন চমৎকার কন্টেন্ট হতে পারে, আবার সেই আবিষ্কারটাও পুরোপুরি ওর নিজের, ভেবে ভেবে নিজেরই পিঠ চাপড়াতে ইচ্ছে করছিল ওর।
বছরখানেক আগে ওর বাবার একটা স্কুটার অ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল। পায়ের হাড় গুঁড়ো হয়ে গিয়েছিল। সুমনদা জানতে পেরে খুব হেল্প করেছিলেন। নার্সিংহোমে ভর্তি করা, প্রায় দিন ভিজিটিং আওয়ারে দেখতে যাওয়া। অপারেশনের পর প্রথম প্রথম প্রায় রোজ আসতেন। বাড়ি ফেরার পর একজন ফিজিওথেরাপিস্ট ঠিক করে দিয়েছিলেন। না আসতে পারলে ফোনে বা মেসেজে খবর নিতেন। এই করতে করতে মেসেজ চালাচালিটা সেই যে চলতে শুরু করল, আর থামল না। বাবা এখন মোটামুটি লাঠি নিয়ে হাঁটে, দোকান বাজার যায়। কিন্তু সকালে পত্রালি ঘুম থেকে উঠেই সুমনকে গুডমর্নিং মেসেজ পাঠিয়ে দিন শুরু করে। তারপর দুপুরে খাবার আগে শুভ দ্বিপ্রহর, বিকালে শুভ অপরাহ্ন ও রাতে শোবার আগে গুড নাইট। এগুলো এখন রুটিনে পরিণত হয়েছে।
সুমন ভালো ছেলে। শিক্ষিত, ভদ্র। সকলের সঙ্গে মিষ্টি ব্যবহার। তার দিক থেকে পত্রালি খুব আশ্বাসজনক কিছু না পেলেও মেসেজের উত্তরে কখনও পেয়েছে পালটা মেসেজ, কখন হাসিমুখের ইমোজি, কখনও আবার হাতের বুড়ো আঙ্গুল। সুমন ফেসবুকেও পত্রালির বন্ধু। পত্রালির টুকটাক লেখায় লাইক করে, কমেন্টও করে মাঝেমাঝে। ‘বাহ’, ‘দারুণ’, ‘বেশ লিখেছিস’ এইসব।
স্নিগ্ধা রিল বানায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে, সিনেমা দেখতে গিয়ে। কিছু দৃশ্য আর সঙ্গে পছন্দসই হিন্দি বা বাংলা গানের কলি। পত্রালির নিজের ধারণা ওকে দেখতে তেমন ভাল নয়। গায়ের রং শ্যামলা, কালোর দিকেই। গালে ব্রণর দাগ। উজ্জ্বল চোখ দুটি ছাড়া তেমন বলার মতো কিছু নেই। তাই নিজের ছবি পোস্ট না করে দুকলম লিখতে শুরু করেছিল।
প্রথমে মাকে নিয়ে লিখেছিল। পত্রালির মা সাধারণ গৃহবধূ। সারাদিন কাজ আর কাজ। সারাদিন মেজাজ সপ্তমে। সারাদিন সব কিছু নিয়ে খিট খিট। বিরক্ত লাগত ওর। কিন্তু যেদিন প্রথম মাকে নিয়ে লিখল, মায়ের সারাদিনের যত সাংসারিক কাজের খুঁটিনাটি বিবরণ তুলে ধরল, বহু মানুষ তার সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পেল। শুধু বন্ধুরা নয়, তার বাইরেও অনেক মহিলা কমেন্টে প্রশংসা জানাল। নিজের মাকে ভালবাসে এমন মানুষেরা ওর পোস্ট শেয়ার করল। পত্রালি মাকে দেখে দেখে বিরক্ত হলেও নিজের কাজের বিষয় নিয়ে খুশি না হয়ে পারল না। চিরকেলে বদমেজাজি মা যে এমন চমৎকার কন্টেন্ট হতে পারে, আবার সেই আবিষ্কারটাও পুরোপুরি ওর নিজের, ভেবে ভেবে নিজেরই পিঠ চাপড়াতে ইচ্ছে করছিল ওর।
আরও পড়ুন:

শারদীয়ার গল্প/১ : ষষ্ঠীর সন্ধ্যা

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-১৫৬: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৮: প্রতিপক্ষ অন্ধকার

মহালয়া
তার পর থেকে কখনও লিখেছে কলেজের টুকিটাকি নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে, কখনও লিখেছে শপিং মলের অভিজ্ঞতা নিয়ে, কখনও রকমারি কেনাকাটার দরদস্তুর নিয়ে… এরকম আরও কত কি।
পরীক্ষা শেষ। এই মুহূর্তে ওর মন জুড়ে আছে সুমনদা। মনে মনে ওরা সমুদ্রের তীরে ঢেউয়ে পা ভিজিয়ে হাত ধরাধরি করে হাঁটে, সুমনদার রসিকতায় হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ে ওর কাঁধে, মোবাইলমগ্ন সুমনদার কানে কানে বলে ‘আই লাভ ইউ’। পরীক্ষাশেষের হাওয়ায় একতরফা ফ্যান্টাসির পক্ষীরাজ উড়ে যায় সীমানা ছাড়িয়ে আরো অনেক অনেক দূর, যা কাউকে কক্ষনও বলা চলে না, শুধু নীরব হাসি দিয়ে লুকিয়ে রাখতে হয়। যদিও সুমনদা পত্রালিকে নিয়ে কী ভাবে, আদৌ কিছু ভাবে কি না ও জানে না। জানতে ইচ্ছে করে বড্ড।
জন্মদিনের সন্ধেটা সুমনদার সঙ্গে কাটাতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু এসময় ওর পড়ানো থাকে। গানের ক্লাসের শেষে বাড়ি ফিরে একটা মেসেজ পাঠাল পত্রালি। ‘কী করছ?’
সাড়ে সাতটায় মেসেজ পাঠানোর পর সময় যেন কাটছিলই না। বারে বারে ফোন তুলে দেখছিল নীল টিক হল কি না। দু’বার ডিলিট করতে গিয়েও করেনি।
রাত দশটায় সুমনদার মেসেজ ঢুকল, ‘কী আর, যা করি। আমার আর জীবনে কী আছে’। এতটাও আশা করেনি পত্রালি। হাসিখুশি সুমনদার গলায় এই বিষণ্ণতা ভাল লাগে ওর। সুমনদার যেকোন রোগের এক অদ্বিতীয় ওষুধ পত্রালিই তো হয়ে উঠতে চেয়েছে এতদিন।
সে আরও একটু সাহসী হয়ে লেখে, ‘তোমার জীবন কি তোমার একার সুমনদা? এভাবে ভাবছ কেন?’
উত্তর আসে চটপট, ‘আরে, সেই জন্যেই তো বলছি। বাবা মা ভাই সবাই আমার উপরে ডিপেন্ড’। কী কথার কি উত্তর! পত্রালি সোজাসুজি পয়েন্টে আসতে চায়, ‘আরে তোমার জীবনে নিশ্চয়ই স্পেশাল কেউ আছে, তার কথাই বলছি’।
কপাল চাপড়ানো টাইপ একটা ইমোজি আসে। সঙ্গে লেখা, ‘কি যে বলিস! প্রাইভেট টিউটরের জীবনে আবার স্পেশাল কেউ!’
পত্রালির উত্তর যেন তৈরিই ছিল, ‘না হবার কি আছে? এমনও তো হতে পারে তুমি জান না কিন্তু কেউ তোমাকে লাইক করে’।
এরপর মিনিট দশেক নীরবতা। পত্রালির হৃদয় কাঁপতে থাকে। সুমন না দেখলে ডিলিট করা যেত। কিন্তু সে দেখেছে।
উত্তর এল অবশেষে। ‘গরমে তোর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ঘুমিয়ে পড়’।
পত্রালি কী লিখবে, আদৌ উত্তর দেবে কি না ভাবছিল। স্নিগ্ধা ফোন করল সে-সময়।
‘পরশু বিকালে স্যারের বাড়ি যাব। তুইও আসিস’।
পত্রালি অবাক হয়ে বলে, ‘কেন রে, হঠাৎ কি হল’?
স্নিগ্ধা নিচুস্বরে বলে, ‘আরে বলিস না। সৌগতর সঙ্গে দেখা করতে পারছি না। মা ভীষণ জ্বালাচ্ছে। কিছুতে বেরোতে দিচ্ছে না। কাল বেরোব। মাকে বলেছি স্যারের বাড়িতে গেট টুগেদার আছে। স্যারকে এমনিই ফোন করেছিলাম। যাব বলতে স্যার বলল, তাহলে সবাই মিলেই আয়। আসিস ভাই। রাখি। আবার শুনে ফেলবে’।
পরীক্ষা শেষ। এই মুহূর্তে ওর মন জুড়ে আছে সুমনদা। মনে মনে ওরা সমুদ্রের তীরে ঢেউয়ে পা ভিজিয়ে হাত ধরাধরি করে হাঁটে, সুমনদার রসিকতায় হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ে ওর কাঁধে, মোবাইলমগ্ন সুমনদার কানে কানে বলে ‘আই লাভ ইউ’। পরীক্ষাশেষের হাওয়ায় একতরফা ফ্যান্টাসির পক্ষীরাজ উড়ে যায় সীমানা ছাড়িয়ে আরো অনেক অনেক দূর, যা কাউকে কক্ষনও বলা চলে না, শুধু নীরব হাসি দিয়ে লুকিয়ে রাখতে হয়। যদিও সুমনদা পত্রালিকে নিয়ে কী ভাবে, আদৌ কিছু ভাবে কি না ও জানে না। জানতে ইচ্ছে করে বড্ড।
জন্মদিনের সন্ধেটা সুমনদার সঙ্গে কাটাতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু এসময় ওর পড়ানো থাকে। গানের ক্লাসের শেষে বাড়ি ফিরে একটা মেসেজ পাঠাল পত্রালি। ‘কী করছ?’
সাড়ে সাতটায় মেসেজ পাঠানোর পর সময় যেন কাটছিলই না। বারে বারে ফোন তুলে দেখছিল নীল টিক হল কি না। দু’বার ডিলিট করতে গিয়েও করেনি।
রাত দশটায় সুমনদার মেসেজ ঢুকল, ‘কী আর, যা করি। আমার আর জীবনে কী আছে’। এতটাও আশা করেনি পত্রালি। হাসিখুশি সুমনদার গলায় এই বিষণ্ণতা ভাল লাগে ওর। সুমনদার যেকোন রোগের এক অদ্বিতীয় ওষুধ পত্রালিই তো হয়ে উঠতে চেয়েছে এতদিন।
সে আরও একটু সাহসী হয়ে লেখে, ‘তোমার জীবন কি তোমার একার সুমনদা? এভাবে ভাবছ কেন?’
উত্তর আসে চটপট, ‘আরে, সেই জন্যেই তো বলছি। বাবা মা ভাই সবাই আমার উপরে ডিপেন্ড’। কী কথার কি উত্তর! পত্রালি সোজাসুজি পয়েন্টে আসতে চায়, ‘আরে তোমার জীবনে নিশ্চয়ই স্পেশাল কেউ আছে, তার কথাই বলছি’।
কপাল চাপড়ানো টাইপ একটা ইমোজি আসে। সঙ্গে লেখা, ‘কি যে বলিস! প্রাইভেট টিউটরের জীবনে আবার স্পেশাল কেউ!’
পত্রালির উত্তর যেন তৈরিই ছিল, ‘না হবার কি আছে? এমনও তো হতে পারে তুমি জান না কিন্তু কেউ তোমাকে লাইক করে’।
এরপর মিনিট দশেক নীরবতা। পত্রালির হৃদয় কাঁপতে থাকে। সুমন না দেখলে ডিলিট করা যেত। কিন্তু সে দেখেছে।
উত্তর এল অবশেষে। ‘গরমে তোর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ঘুমিয়ে পড়’।
পত্রালি কী লিখবে, আদৌ উত্তর দেবে কি না ভাবছিল। স্নিগ্ধা ফোন করল সে-সময়।
‘পরশু বিকালে স্যারের বাড়ি যাব। তুইও আসিস’।
পত্রালি অবাক হয়ে বলে, ‘কেন রে, হঠাৎ কি হল’?
স্নিগ্ধা নিচুস্বরে বলে, ‘আরে বলিস না। সৌগতর সঙ্গে দেখা করতে পারছি না। মা ভীষণ জ্বালাচ্ছে। কিছুতে বেরোতে দিচ্ছে না। কাল বেরোব। মাকে বলেছি স্যারের বাড়িতে গেট টুগেদার আছে। স্যারকে এমনিই ফোন করেছিলাম। যাব বলতে স্যার বলল, তাহলে সবাই মিলেই আয়। আসিস ভাই। রাখি। আবার শুনে ফেলবে’।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৯: রাজসূয়যজ্ঞে চেদিপতি শিশুপাল ও কুরুপ্রধান ভীষ্মের কথোপকথনে সদর্থক ও নঞর্থক চিন্তার সংঘাত,মহাকাব্যে প্রতিফলিত জীবনবোধ

মহালয়া
পত্রালি হাতে চাঁদ পায়। কতদিন দেখা হয়না সুমনদার সঙ্গে। সেদিন বিকেলে সাজতে একটু বেশি সময় নিল ও। সুমনদার বাড়ি গিয়ে পৌঁছাতে দেরিই হল সামান্য। গিয়ে দেখল স্নিগ্ধারা অলরেডি পৌঁছে গিয়েছে। সুমনদার মস্ত টেবিলের একধারে চেয়ারে বসে আছে একটি রোগা করে মেয়ে, শাড়ি পরে খোলা চুলে হাল্কা সাজগোজে দিব্যি দেখাচ্ছে মেয়েটাকে। কোনদিন দেখেছে বলে মনে পড়ে না ওর। সুমনদাও ওর পাশের চেয়ারটায় লাজুক মুখে বসে আছে।
ওকে দেখে বলে উঠল, ‘আয় রে পত্রালি। এত দেরি করলি কেন? আয়’।
পত্রালি ওর পাশের মেয়েটির দিকে তাকাচ্ছিল জিজ্ঞাসু চোখে। তাই দেখে সুমন বলল,
‘আলাপ করিয়ে দিই, আমার কলেজের বন্ধু রিমলি’।
পাশ থেকে স্নিগ্ধারা হইহই করে উঠল, ‘আরে আসল পরিচয়টা দাও’।
উত্তরের অপেক্ষায় না থেকে ওরাই সমস্বরে বলে, ‘স্যারের হবু ম্যাম, বুঝলি? এতদিন আমাদের যেমন বকা দিয়েছেন, আজ থেকে স্যারকে বকার একটা লোক হল’।
পত্রালি ঘটনার আকস্মিকতায় নির্বাক হয়ে যায়। সুমন ওকে আরও অবাক করে দিয়ে বলে, – ‘তবে পত্রালির জন্যেই এটা হল জানিস! নইলে আমি তো সাহস করেই উঠতে পারছিলাম না। সেদিন রাতে তুই স্পেশাল কারো কথা বললি, আমিও টুক করে মেসেজ করলাম রিমলিকে। ব্যাপারটা এত সহজে ঠিকঠাক হয়ে যাবে, এত তাড়াতাড়ি, ভাবতেই পারিনি। এর জন্যে তোর স্পেশাল একটা খাওয়া পাওনা রইল’।
পত্রালির মনে হচ্ছিল লজ্জায় মাটিতে মিশে যাবে। কে জানে সোমা কাউকে বলেছে কি না। কে জানে ওরা হয়ত সব জেনেশুনেই আজ আসার প্ল্যান করেছে। পত্রালির কানদুটো লাল হয়ে ওঠে অপমানে। এর চেয়ে কেউ যদি দু’ঘা মারত তাতেও ওর গায়ে লাগত না। কিন্তু….।
সব রাগ গিয়ে পড়ে বন্ধুদের উপর। দুঃখে, নিজের উপর ঘেন্নায় মরে যেতে ইচ্ছে করে ওর।
বাড়িতে এসে নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়ল পত্রালি। চোখের জল বাধা মানে না। কতক্ষণ এভাবে কাটল জানে না ও।
ওকে দেখে বলে উঠল, ‘আয় রে পত্রালি। এত দেরি করলি কেন? আয়’।
পত্রালি ওর পাশের মেয়েটির দিকে তাকাচ্ছিল জিজ্ঞাসু চোখে। তাই দেখে সুমন বলল,
‘আলাপ করিয়ে দিই, আমার কলেজের বন্ধু রিমলি’।
পাশ থেকে স্নিগ্ধারা হইহই করে উঠল, ‘আরে আসল পরিচয়টা দাও’।
উত্তরের অপেক্ষায় না থেকে ওরাই সমস্বরে বলে, ‘স্যারের হবু ম্যাম, বুঝলি? এতদিন আমাদের যেমন বকা দিয়েছেন, আজ থেকে স্যারকে বকার একটা লোক হল’।
পত্রালি ঘটনার আকস্মিকতায় নির্বাক হয়ে যায়। সুমন ওকে আরও অবাক করে দিয়ে বলে, – ‘তবে পত্রালির জন্যেই এটা হল জানিস! নইলে আমি তো সাহস করেই উঠতে পারছিলাম না। সেদিন রাতে তুই স্পেশাল কারো কথা বললি, আমিও টুক করে মেসেজ করলাম রিমলিকে। ব্যাপারটা এত সহজে ঠিকঠাক হয়ে যাবে, এত তাড়াতাড়ি, ভাবতেই পারিনি। এর জন্যে তোর স্পেশাল একটা খাওয়া পাওনা রইল’।
পত্রালির মনে হচ্ছিল লজ্জায় মাটিতে মিশে যাবে। কে জানে সোমা কাউকে বলেছে কি না। কে জানে ওরা হয়ত সব জেনেশুনেই আজ আসার প্ল্যান করেছে। পত্রালির কানদুটো লাল হয়ে ওঠে অপমানে। এর চেয়ে কেউ যদি দু’ঘা মারত তাতেও ওর গায়ে লাগত না। কিন্তু….।
সব রাগ গিয়ে পড়ে বন্ধুদের উপর। দুঃখে, নিজের উপর ঘেন্নায় মরে যেতে ইচ্ছে করে ওর।
বাড়িতে এসে নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়ল পত্রালি। চোখের জল বাধা মানে না। কতক্ষণ এভাবে কাটল জানে না ও।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

শ্রদ্ধাঞ্জলি : সঙ্গীতই আমার ফার্স্ট লাভ : শচীন দেববর্মণ
সাড়ে এগারটায় মা দরজা ধাক্কা দিয়ে ডাকল, ‘কি রে আর কত ঘুমোবি? খাবি না? ওঠ। খেয়ে নে না বাপু! নইলে আমিও শুতে যেতে পারছিনা’।
গলা উঁচু করে পত্রালি উত্তর দিল, ‘স্যারের বাড়ি খাওয়া ছিল। খিদে নেই। তুমি তুলে রাখ সব’।
একটু পরে সব ঘরের আলো নিবে গেল। পত্রালি ফোন হাতে নিল।
ফোন বুঝি মানুষের মন পড়তে পারে!
ফেসবুক অন করতেই লেখা ভেসে আসে, ‘ভালোবেসে প্রতারিত হয়েছেন? এই তিনটি কাজ করবেন না। এক. আত্মহত্যার কথা ভাববেন না। নিজেকে ভালবাসুন। দুই. প্রতিশোধ নিতে যাবেন না, জীবন অমূল্য। তিন. নতুন করে প্রেমে পড়ার আগে ভাবুন’।
অনেক দুঃখের মধ্যেও হাসি পেল পত্রালির।
সকালে উঠে দেখল গানের স্যার ওদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটা মেসেজ করেছেন, –
‘ফেসবুকে একটা গান পোস্ট করেছি। লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করবে প্রত্যেকে। ভাল গান সুস্থ সংস্কৃতির প্রচার প্রসার যত হয় ততই সমাজের মঙ্গল। শেয়ার করে আমাকে লিখে জানাবে’। ফেসবুক খুলে পত্রালি স্যারের গানটা শুনতে শুনতে ব্রাশ করে নিল। চা খেতে খেতে দেখল, অলোকসুন্দর পার্সোনালি ওকে একটা মেসেজ করেছেন। ‘তুমি অবশ্যই শেয়ার করবে। তোমার অনেক ফলোয়ার। বুঝতেই পারছ, আমার রিচ বেশ কম। তুমি শেয়ার করলে অনেকের কাছে পৌঁছে যাওয়া যাবে সহজে’।
পত্রালির রাগ হচ্ছিল ভীষণ। সুযোগসন্ধানী বুড়ো একটা।
উত্তরে স্যারকে ছোট্ট করে ‘ওকে’ লিখে দিল পত্রালি। শেয়ার করতে গিয়েও ঝুলিয়ে রাখল। রাতের পোস্টটা মনে পড়ল ওর।
পত্রালি এতদিন নিজের ছোটবেলা নিয়ে লিখেছে, মামাবাড়ির আদর নিয়ে লিখেছে, স্কুলের স্পোর্টস নিয়ে লিখেছে, পোষা বেড়াল মুনুয়াকে নিয়ে লিখেছে, দিদিমার বোনা প্রিয় সোয়েটার নিয়ে লিখেছে, কিন্তু ভালোবাসা নিয়ে লেখেনি কখনও। প্রেমের অভিজ্ঞতা যাকে বলে, তেমন কিছু ছিল না ওর জীবনে। আজ যদি বা হল, এক লহমায় সমস্তই নিষ্ফল হয়ে গেল।
“নিজেকে ভালোবাসার চেয়ে সুন্দর এজগতে কি আছে? রাগ দুঃখ হাসি গান অভিমান সব সঅঅব ভাগ করে নিতে পারি শুধু নিজের সঙ্গে’’। লিখে ফেলল ও। নিজের টাইমলাইনে। একটা দুটো করে কমেন্ট আসতে শুরু করল। শেয়ারও হচ্ছে এক আধটা। পত্রালি আরও দুছত্র লিখে রাখল জন্মদিনে পাওয়া ডায়েরিটায়। কাল সক্কাল সক্কাল পোস্ট করবে। ‘’ভালোবেসে ভুল কোর না/ভুল করে ভালোবেসো না। ভালোবাসার মানুষ যদি মিথ্যে হয়, ভালোবাসা মিথ্যে নয়’’।
গলা উঁচু করে পত্রালি উত্তর দিল, ‘স্যারের বাড়ি খাওয়া ছিল। খিদে নেই। তুমি তুলে রাখ সব’।
একটু পরে সব ঘরের আলো নিবে গেল। পত্রালি ফোন হাতে নিল।
ফোন বুঝি মানুষের মন পড়তে পারে!
ফেসবুক অন করতেই লেখা ভেসে আসে, ‘ভালোবেসে প্রতারিত হয়েছেন? এই তিনটি কাজ করবেন না। এক. আত্মহত্যার কথা ভাববেন না। নিজেকে ভালবাসুন। দুই. প্রতিশোধ নিতে যাবেন না, জীবন অমূল্য। তিন. নতুন করে প্রেমে পড়ার আগে ভাবুন’।
অনেক দুঃখের মধ্যেও হাসি পেল পত্রালির।
সকালে উঠে দেখল গানের স্যার ওদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটা মেসেজ করেছেন, –
‘ফেসবুকে একটা গান পোস্ট করেছি। লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করবে প্রত্যেকে। ভাল গান সুস্থ সংস্কৃতির প্রচার প্রসার যত হয় ততই সমাজের মঙ্গল। শেয়ার করে আমাকে লিখে জানাবে’। ফেসবুক খুলে পত্রালি স্যারের গানটা শুনতে শুনতে ব্রাশ করে নিল। চা খেতে খেতে দেখল, অলোকসুন্দর পার্সোনালি ওকে একটা মেসেজ করেছেন। ‘তুমি অবশ্যই শেয়ার করবে। তোমার অনেক ফলোয়ার। বুঝতেই পারছ, আমার রিচ বেশ কম। তুমি শেয়ার করলে অনেকের কাছে পৌঁছে যাওয়া যাবে সহজে’।
পত্রালির রাগ হচ্ছিল ভীষণ। সুযোগসন্ধানী বুড়ো একটা।
উত্তরে স্যারকে ছোট্ট করে ‘ওকে’ লিখে দিল পত্রালি। শেয়ার করতে গিয়েও ঝুলিয়ে রাখল। রাতের পোস্টটা মনে পড়ল ওর।
পত্রালি এতদিন নিজের ছোটবেলা নিয়ে লিখেছে, মামাবাড়ির আদর নিয়ে লিখেছে, স্কুলের স্পোর্টস নিয়ে লিখেছে, পোষা বেড়াল মুনুয়াকে নিয়ে লিখেছে, দিদিমার বোনা প্রিয় সোয়েটার নিয়ে লিখেছে, কিন্তু ভালোবাসা নিয়ে লেখেনি কখনও। প্রেমের অভিজ্ঞতা যাকে বলে, তেমন কিছু ছিল না ওর জীবনে। আজ যদি বা হল, এক লহমায় সমস্তই নিষ্ফল হয়ে গেল।
“নিজেকে ভালোবাসার চেয়ে সুন্দর এজগতে কি আছে? রাগ দুঃখ হাসি গান অভিমান সব সঅঅব ভাগ করে নিতে পারি শুধু নিজের সঙ্গে’’। লিখে ফেলল ও। নিজের টাইমলাইনে। একটা দুটো করে কমেন্ট আসতে শুরু করল। শেয়ারও হচ্ছে এক আধটা। পত্রালি আরও দুছত্র লিখে রাখল জন্মদিনে পাওয়া ডায়েরিটায়। কাল সক্কাল সক্কাল পোস্ট করবে। ‘’ভালোবেসে ভুল কোর না/ভুল করে ভালোবেসো না। ভালোবাসার মানুষ যদি মিথ্যে হয়, ভালোবাসা মিথ্যে নয়’’।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৮: চন্দ্রবোড়া
লিখে ফেলে বুঝতে পারে সুমনদার উপর আর রাগ হচ্ছে না ওর। বেচারা প্রাইভেট টিউটর। খ্যাতিপ্রত্যাশী গানের স্যারের উপরেও করুণা হচ্ছে কেমন যেন। আর কিছু না হোক, রিচ পত্রালির এদের সকলের চেয়ে বেশি, সন্দেহ নেই।
দু’দিনের মধ্যে তরতর করে প্রচুর লাইক আর কমেণ্ট বেড়ে গেল ওর পোস্টে। স্যারের গানের পোস্টটা এসবের মধ্যে আর শেয়ার করা হয়নি। নতুন নতুন ক্যাচলাইন ভাবতে ভাবতে এ’দুদিন সুমনদার কথাও মনে পড়েনি পত্রালির। বুকের ভিতর চিনচিনে ব্যথাটাও উধাও হয়ে গিয়েছে কী করে যেন!
কবি বলেছিলেন বটে— প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে! কথাটা মিথ্যে নয়। সমাজমাধ্যমের দিব্যি, ভুবনজুড়েই প্রেমের রিচ। আর কণ্টেণ্ট হিসেবে ট্রু লাভের চেয়ে ভাঙা হৃদয়ের দাম বেশি, এই মুহূর্তে পত্রালির চেয়ে ভাল সেকথা আর কে-ই বা জানে! —শেষ।
দু’দিনের মধ্যে তরতর করে প্রচুর লাইক আর কমেণ্ট বেড়ে গেল ওর পোস্টে। স্যারের গানের পোস্টটা এসবের মধ্যে আর শেয়ার করা হয়নি। নতুন নতুন ক্যাচলাইন ভাবতে ভাবতে এ’দুদিন সুমনদার কথাও মনে পড়েনি পত্রালির। বুকের ভিতর চিনচিনে ব্যথাটাও উধাও হয়ে গিয়েছে কী করে যেন!
কবি বলেছিলেন বটে— প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে! কথাটা মিথ্যে নয়। সমাজমাধ্যমের দিব্যি, ভুবনজুড়েই প্রেমের রিচ। আর কণ্টেণ্ট হিসেবে ট্রু লাভের চেয়ে ভাঙা হৃদয়ের দাম বেশি, এই মুহূর্তে পত্রালির চেয়ে ভাল সেকথা আর কে-ই বা জানে! —শেষ।
* অন্তরা বন্দ্যোপাধ্যায় (Antara Banerjee) সংস্কৃতের অধ্যাপিকা, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।












