
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
রবীন্দ্রনাথের তখন বছর উনিশ বয়েস। ‘প্রাণাধিক রবি’ তাঁর পিতৃদেবের কাছ থেকে একটি চিঠি পেলেন। সেই চিঠিতে পুত্রের ইচ্ছাকে স্বীকৃতি দিয়ে পিতা যা লিখেছিলেন, তা যদি সত্য হত, তাহলে যে বাঙালির, বাংলা ভাষার কতখানি ক্ষতি হত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নিজেকে নিবেদন করা, সঁপে দেওয়া অনেক দূরের কথা, ব্যস্ত ব্যারিস্টার কি সাহিত্যের জন্য সেভাবে সময় দিতে পারতেন, সে প্রশ্ন তো রয়েই যায়। ভাগ্যিস তিনি ব্যারিস্টার হননি!
রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে তাঁর ভাবনার কথা, পরিকল্পনার কথা জেনে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ইংলন্ডে যাওয়ার স্থির করিয়াছ এবং লিখিয়াছ যে, আমি ‘ব্যারিস্টার হইব’। তোমার এই কথার উপরে এবং তোমার শুভবুদ্ধির উপরে নির্ভর করিয়া তোমাকে ইংলন্ডে যাইতে অনুমতি দিলাম। তুমি সৎপথে থাকিয়া কৃতকার্য্য হইয়া দেশেতে যথাসময়ে ফিরিয়া আসিবে, এই আশা অবলম্বন করিয়া থাকিলাম।’
রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে তাঁর ভাবনার কথা, পরিকল্পনার কথা জেনে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ইংলন্ডে যাওয়ার স্থির করিয়াছ এবং লিখিয়াছ যে, আমি ‘ব্যারিস্টার হইব’। তোমার এই কথার উপরে এবং তোমার শুভবুদ্ধির উপরে নির্ভর করিয়া তোমাকে ইংলন্ডে যাইতে অনুমতি দিলাম। তুমি সৎপথে থাকিয়া কৃতকার্য্য হইয়া দেশেতে যথাসময়ে ফিরিয়া আসিবে, এই আশা অবলম্বন করিয়া থাকিলাম।’
রবীন্দ্রনাথের তখন বছর সতেরো বয়স। সে সময় তিনি প্রথমবার বিলেতে গিয়েছিলেন। নিষ্ঠায়, একাগ্রতায় তৈরি হচ্ছিলেন আইসিএস পরীক্ষা দেবার জন্য। ওদেশে গিয়ে থাকতেন ভালোবাসায় ভরা স্কট-পরিবারে। মিস্টার স্কট ডাক্তারি করতেন। শ্রীমতী স্কট যথেষ্ট ভক্তি করতেন তাঁকে। পরস্পরের মধ্যে অতীব সুসম্পর্ক ছিল। শ্রীমতীর ‘মধুর নম্রতা’ রবীন্দ্রনাথকে মুগ্ধ করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার নিরিখে পরবর্তীকালে কবির মনে হয়েছে ‘স্ত্রীলোকের প্রেমের স্বাভাবিক চরম পরিণাম ভক্তি।’
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১১৬: শান্তিনিকেতনে কবির প্রথম জন্মোৎসব

বিখ্যাতদের বিবাহ-বিচিত্রা, পর্ব-১৭: একাকিত্বের অন্ধকূপ/২: অন্ধকারের উৎস হতে
প্রবাসে এই অচেনা পরিবারটি স্নেহে-ভালোবাসায় রবীন্দ্রনাথের কিশোর-মন ভরিয়ে তুলেছিল। ‘জীবন-পাত্র উচ্ছলিয়া’ পড়েছিল। মাতৃস্নেহ-বঞ্চিত রবীন্দ্রনাথকে শ্রীমতী স্কট ‘নিজের ছেলের মতোই স্নেহ’ করতেন। সেই স্নেহময় পরিবেশে রবীন্দ্রনাথ অনুভব করেছিলেন,’অতি অল্প দিনের মধ্যেই আমি ইঁহাদের ঘরের লোকের মতো হইয়া গেলাম।’ রবীন্দ্রনাথের কখনোই মনে হয়নি তিনি বিদেশ-বিভূঁইয়ে। ভেতর থেকে উঠে আসা আন্তরিকতার স্পর্শ পেতেন সারাক্ষণ। কবি নিয়ত অনুভব করতেন,’মিসেস স্কট আমাকে যে স্নেহ করতেন সে একেবারে খাঁটি। আমার জন্য সকল সময়েই মায়ের মতো ভাবনা ছিল তাঁর মনে।’

মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ।
শ্রীমতী স্কটের দুই কন্যার সঙ্গেও সৌহার্দ্যময় আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। স্কট-কন্যা লুসি কবির কাছে বাংলা শিখতে চেয়েছিল। রবীন্দ্রনাথও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। নানারঙের সেই দিনগুলির স্থায়িত্ব বড় কম। মহর্ষি কি কোনো বিরূপ বার্তা পেয়েছিলেন? হঠাৎই আসে নির্দেশ। দেশে ফিরে আসার নির্দেশ। কবির মেজদা সত্যেন্দ্রনাথের পড়াশোনা-পর্ব শেষ হয়েছে। তিনি তো ফিরবেনই, লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে রবীন্দ্রনাথের পড়াশোনা-পর্ব অসমাপ্ত, অথচ মহর্ষি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মেজদাদার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথকেও ফিরে আসতে হবে। পিতার নির্দেশ, তা অবশ্য পালনীয়। বিদায়বেলাটি বড়ো বেদনাময়, মর্মস্পর্শী হয়ে ওঠে। রবীন্দ্রনাথ আরও একবার অনুভব করেছিলেন, তাঁর প্রতি শ্রীমতী স্কটের স্নেহ-ভালোবাসা অন্তর থেকে উৎসারিত। রবীন্দ্রনাথের লেখায় আছে বেদনাবিধুর সে দৃশ্যের বর্ণনা। তিনি জানিয়েছেন, ‘বিদায়গ্রহণকালে মিসেস স্কট আমার দুই হাত ধরিয়া কাঁদিয়া কহিলেন, এমন করিয়াই যদি চলিয়া যাইবে তবে এত অল্পদিনের জন্য তুমি কেন এখানে আসলে?’
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১১৫: গেমপ্ল্যান

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-৯৯: বসন্ত-বৌরি
পরে আর এই পরিবারের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যোগাযোগ ছিল না। তাঁরা কোথায় আছেন, কীভাবে আছেন, সে খবর কবির কাছে না থাকলেও সেই পরিবারের মানুষজন, তাঁদের ঘরদোর, সেই বাড়িটা কবির মনে ‘চিরপ্রতিষ্ঠিত’ হয়ে গিয়েছিল।
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, পিতার নির্দেশ-পালনের তাগিদে রবীন্দ্রনাথ সাহেবসুবোদের থেকে ডিগ্রি না নিয়েই ফিরে আসায় আত্মীয়স্বজন, চেনাজানা কেউ কেউ একটু বেশি রকমই বিচলিত হয়েছিলেন। তাঁরা রবীন্দ্রনাথের ব্যাপ্তি ও বিস্তৃতি সম্পর্কে বাড়তি কোনো ধারনা পোষণ করতেন না। গড্ডলিকা প্রবাহে গা না-ভাসিয়ে তিনি যে নিজের পথ নিজেই তৈরি করতে পারেন, তা বোঝার মতো তাঁদের মেধা ও শক্তি ছিল না। বিলেতের পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে ফিরে আসা নিয়ে কেউ কেউ বাঁকাচোরা মন্তব্য করেছেন। পিতাকে বলেছেন, রবিকে আবার বিলেতে পাঠাও। রবীন্দ্রনাথ লিখেছন, ‘ব্যারিস্টার হইব বলিয়া বিলাতে আয়োজন শুরু করিয়াছিলাম, এমন সময় পিতা আমাকে দেশে ডাকিয়া আনাইলেন। আমার কৃতিত্বলাভের এই সুযোগ ভাঙিয়া যাওয়াতে বন্ধুগণ কেহ কেহ দুঃখিত হইয়া আমাকে পুনরায় বিলাতে পাঠাইবার জন্য পিতাকে অনুরোধ করিলেন।’
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, পিতার নির্দেশ-পালনের তাগিদে রবীন্দ্রনাথ সাহেবসুবোদের থেকে ডিগ্রি না নিয়েই ফিরে আসায় আত্মীয়স্বজন, চেনাজানা কেউ কেউ একটু বেশি রকমই বিচলিত হয়েছিলেন। তাঁরা রবীন্দ্রনাথের ব্যাপ্তি ও বিস্তৃতি সম্পর্কে বাড়তি কোনো ধারনা পোষণ করতেন না। গড্ডলিকা প্রবাহে গা না-ভাসিয়ে তিনি যে নিজের পথ নিজেই তৈরি করতে পারেন, তা বোঝার মতো তাঁদের মেধা ও শক্তি ছিল না। বিলেতের পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে ফিরে আসা নিয়ে কেউ কেউ বাঁকাচোরা মন্তব্য করেছেন। পিতাকে বলেছেন, রবিকে আবার বিলেতে পাঠাও। রবীন্দ্রনাথ লিখেছন, ‘ব্যারিস্টার হইব বলিয়া বিলাতে আয়োজন শুরু করিয়াছিলাম, এমন সময় পিতা আমাকে দেশে ডাকিয়া আনাইলেন। আমার কৃতিত্বলাভের এই সুযোগ ভাঙিয়া যাওয়াতে বন্ধুগণ কেহ কেহ দুঃখিত হইয়া আমাকে পুনরায় বিলাতে পাঠাইবার জন্য পিতাকে অনুরোধ করিলেন।’
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-৯৮: মা সারদার জন্মতিথিতে তাঁর অপূর্ব অমানবীয় রূপ ফুটে উঠল

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৭: আলাস্কায় এমন অপরূপ দৃশ্যও দেখা যায়, যেখানে পাহাড়-সমুদ্র-হিমবাহ একসঙ্গে বিরাজমান
ফেরার কয়েক মাসের মধ্যেই রবীন্দ্রনাথের আবার বিলেতযাত্রার দিনক্ষণ স্থির হয়ে যায়। বিলেত যাবেন, ব্যারিস্টার হয়ে ফিরবেন, সে ইচ্ছে কবির মনেও ডালপালা বিস্তার করেছিল। সঙ্গে যাবেন কে, সঙ্গে যাবে ভাগ্নে সত্যপ্রসাদ। স্কুলে যাওয়ার জন্য ছোট্ট রবিকে কাঁদতে দেখে একদা এই সত্যপ্রসাদই নিশ্চিত হয়েছিলেন, স্কুলে না যাওয়ার জন্যও একদিন কাঁদতে হবে। বাস্তবে হয়েওছিল তাই। রবীন্দ্রনাথ যে স্কুল পালানো ছেলে, তা আমাদের অজানা নয়।

সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
ব্যারিস্টার হওয়ার বাসনা রবীন্দ্রনাথের মধ্যে কতখানি ভেতর থেকে জেগে ছিল, সে বিষয়ে অবশ্য সন্দেহ আছে। পারিপার্শ্বিক চাপ ছিল। সেই চাপের সামনে রবীন্দ্রনাথ খানিক নিরুপায় হয়ে নিজের অভিপ্রায় জানিয়ে পিতৃদেবকে চিঠি লিখেছিলেন। মহর্ষি তখন দার্জিলিং-পাহাড়ে। পুত্রের সুমতি হয়েছে, একথা ভেবে পুলকিত হয়েছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ। ‘প্রাণাধিক রবি’কে যে চিঠি লিখেছিলেন, সে চিঠিতে রয়েছে পিতৃহৃদয়ের আকুলতা, ব্যাকুলতা। পিতা দেবেন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘তুমি এবার ইংলন্ডে গেলে প্রতি মাসে ন্যূনকল্পে একখানা করিয়া আমাকে পত্র লিখিবে। তোমার থাকার জন্য ও পড়ার জন্য যেখানে যাইয়া যেমন ব্যবস্থা করিবে তাহার বিবরণ আমাকে লিখিবে। গতবারে সত্যেন্দ্র তোমার সঙ্গে ছিলেন, এবার মনে করিবে আমি তোমার সঙ্গে আছি। আমার স্নেহ জানিবে।’
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৭৮: রক্তে ভেজা মাটিতে গড়ে ওঠে সত্যিকার প্রাপ্তি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৪: জীবনের নশ্বরতা ও আত্মানুসন্ধান বিষয়ে রামের উপলব্ধি যেন এক চিরন্তন সত্যের উন্মোচন
মহর্ষি পিতা হিসেবে কতখানি দায়িত্বপরায়ণ ছিলেন, তা এই চিঠিতে বোঝা যায়। ‘রবি’ বড়ো হোক, সাফল্য আসুক তাঁর জীবনে, অন্তর থেকে পিতা দেবেন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের জন্য যে সাফল্য অপেক্ষা করছে, তার সঙ্গে ‘ব্যারিস্টার’ হয়ে ওঠার সাফল্যকে মেলানো যায় না। এ সাফল্য সে সাফল্যের তুলনায় নিতান্তই তুচ্ছ, তা আর পিতৃদেব সে মুহূর্তে জানবেন কী করে!
প্রথমবার বিলেতে যাওয়ার আট মাস পর রবীন্দ্রনাথ ভাগ্নে সত্যপ্রসাদকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। চোখে মুখে স্বপ্ন। বিলেতের বিলাসবৈভবময় জীবনকে ঘিরে কত রঙিন কল্পনা। জাহাজ কলকাতা বন্দর থেকে ছেড়ে চেন্নাই পৌঁছোল। চেন্নাই পৌঁছোনোর পর সত্যপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায় একেবারেই পাল্টে গেলেন। বিলেত যাওয়ার ইচ্ছে কোথায় উবে গেল। রবীন্দ্রনাথ ‘জীবনস্মৃতি’তে লিখেছেন, ‘ব্যারিস্টার হইয়া আসাটা আমার ভাগ্য এমনি সম্পূর্ণ নামঞ্জুর করিয়া দিলেন যে, বিলাত পর্যন্ত পৌঁছিতেও হইল না। বিশেষ কারণে মাদ্রাজের ঘাটে নামিয়া পড়িয়া কলিকাতায় ফিরিয়া আসিতে হইল।’
বাধার পর বাধা। সত্যপ্রসাদ হঠাৎ বিলেতযাত্রায় অনাগ্রহী হয়ে উঠলেন কেন! রবীন্দ্রজীবনীকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় তথ্যানুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন। এই বিলেত যাত্রার কিছুদিন আগে নরেন্দ্রবালা দেবীর সঙ্গে সত্যপ্রসাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। নববধূকে ফেলে শেষ পর্যন্ত তাঁর আর দূর-দেশে যেতে ইচ্ছা করেনি। প্রভাতকুমার রবীন্দ্রজীবনীতে লিখেছেন, ‘কলিকাতা হইতে জাহাজে করিয়া মাদ্রাজ গিয়া সেখান হইতে বিলাতযাত্রী জাহাজ ধরিবার কথা। মাদ্রাজে পৌঁছিয়া নববিবাহিত সত্যপ্রসাদ আর অগ্রসর হইতে নারাজ, অথচ একা ফিরিতে সাহস নাই, পাছে মহর্ষি বিরক্ত হন। অবশেষে রবীন্দ্রনাথকে লইয়া কলিকাতায় ফিরিয়া আসিলেন… ।’
প্রথমবার বিলেতে যাওয়ার আট মাস পর রবীন্দ্রনাথ ভাগ্নে সত্যপ্রসাদকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। চোখে মুখে স্বপ্ন। বিলেতের বিলাসবৈভবময় জীবনকে ঘিরে কত রঙিন কল্পনা। জাহাজ কলকাতা বন্দর থেকে ছেড়ে চেন্নাই পৌঁছোল। চেন্নাই পৌঁছোনোর পর সত্যপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায় একেবারেই পাল্টে গেলেন। বিলেত যাওয়ার ইচ্ছে কোথায় উবে গেল। রবীন্দ্রনাথ ‘জীবনস্মৃতি’তে লিখেছেন, ‘ব্যারিস্টার হইয়া আসাটা আমার ভাগ্য এমনি সম্পূর্ণ নামঞ্জুর করিয়া দিলেন যে, বিলাত পর্যন্ত পৌঁছিতেও হইল না। বিশেষ কারণে মাদ্রাজের ঘাটে নামিয়া পড়িয়া কলিকাতায় ফিরিয়া আসিতে হইল।’
বাধার পর বাধা। সত্যপ্রসাদ হঠাৎ বিলেতযাত্রায় অনাগ্রহী হয়ে উঠলেন কেন! রবীন্দ্রজীবনীকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় তথ্যানুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন। এই বিলেত যাত্রার কিছুদিন আগে নরেন্দ্রবালা দেবীর সঙ্গে সত্যপ্রসাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। নববধূকে ফেলে শেষ পর্যন্ত তাঁর আর দূর-দেশে যেতে ইচ্ছা করেনি। প্রভাতকুমার রবীন্দ্রজীবনীতে লিখেছেন, ‘কলিকাতা হইতে জাহাজে করিয়া মাদ্রাজ গিয়া সেখান হইতে বিলাতযাত্রী জাহাজ ধরিবার কথা। মাদ্রাজে পৌঁছিয়া নববিবাহিত সত্যপ্রসাদ আর অগ্রসর হইতে নারাজ, অথচ একা ফিরিতে সাহস নাই, পাছে মহর্ষি বিরক্ত হন। অবশেষে রবীন্দ্রনাথকে লইয়া কলিকাতায় ফিরিয়া আসিলেন… ।’

সত্যপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়।
কারণ যাই হোক না কেন, সত্যপ্রসাদ ফিরে এসে ভালোই করেছিলেন। তিনি যদি শেষ পর্যন্ত বিলেতে যেতেন, রবীন্দ্রনাথ ব্যারিস্টারি পড়তেন, মহর্ষির মনোবাসনা পূর্ণ করে ব্যারিস্টার হয়ে ফিরতেন, না, সেটা মোটেই ভালো হত না। কত বড়ো ক্ষতি হত, তা ভেবে শিহরিত হতে হয়। ব্যস্ত ‘ব্যারিস্টার. সাহিত্যের জন্য কতটুকু সময় দিতেন! রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আমাদের সাহিত্য, আমাদের সংস্কৃতি তো ভাবাই যায় না।
* গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি (Tagore Stories – Rabindranath Tagore) : পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Parthajit Gangopadhyay) অবনীন্দ্রনাথের শিশুসাহিত্যে ডক্টরেট। বাংলা ছড়ার বিবর্তন নিয়ে গবেষণা, ডি-লিট অর্জন। শিশুসাহিত্য নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে গবেষণা করে চলেছেন। বাংলা সাহিত্যের বহু হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধার করেছেন। ছোটদের জন্য পঞ্চাশটিরও বেশি বই লিখেছেন। সম্পাদিত বই একশোরও বেশি।


















