কৃষ্ণ ও যুধিষ্ঠিরের বক্তব্যে আছে যে কোন বড় পরিকল্পনা বা কার্যসিদ্ধির রূপরেখা। মহাভারতের অন্তর্লোকের পরতে পরতে আছে অনেক জীবনযুদ্ধেে প্রস্তুতির দিগ্দর্শন। মহাভারতের কথার নির্যাস সমুদ্রমন্থনের পরে অমৃতের মতোই চিরন্তন নয় কী?
কৃষ্ণ ও যুধিষ্ঠিরের বক্তব্যে আছে যে কোন বড় পরিকল্পনা বা কার্যসিদ্ধির রূপরেখা। মহাভারতের অন্তর্লোকের পরতে পরতে আছে অনেক জীবনযুদ্ধেে প্রস্তুতির দিগ্দর্শন। মহাভারতের কথার নির্যাস সমুদ্রমন্থনের পরে অমৃতের মতোই চিরন্তন নয় কী?
রাজকীয় ঘোটকবাহিনী এই দীর্ঘ পথশ্রমে নিতান্তই শ্রান্ত হয়ে পড়েছিল। রাজ্যে ফিরে রাজা সেই শ্রমক্ষিণ্ণ ক্লান্ত অশ্বদলের ক্ষুৎপিপাসা দূর করতে তাদের সরস খাদ্য ও দ্রাক্ষারস সেবন করানোর আদেশ দিলেন। সুগন্ধি রস পান করে হৃষ্ট অশ্বসকল অশ্বশালায় যথাস্থানে নীরবে স্থির হয়ে দণ্ডায়মান রইল।
রাক্ষস তো পালাল। ব্রাহ্মণ দেখলেন, এবার শুধু চোরটাই বাকি! মন্ত্র পড়া থামিয়ে তিনি ঘরের কোণ থেকে তুলে নিলেন এক মস্ত বড় ও মজবুত লাঠি। তারপর রুদ্রমূর্তি ধারণ করে তেড়ে গেলেন সেই চোরের দিকে। জুতসই লাঠির বাড়ি পড়ার আগেই চোর বুঝল, আজ আর বাছুর চুরির আশা নেই। তাই নিজের পিঠ বাঁচাতে সেও সেখান থেকে চোঁ-চোঁ দৌড় দিল। আর এভাবেই, কেবল চোর আর রাক্ষসের নিজেদের বিবাদের কারণেই ব্রাহ্মণের প্রাণ এবং তাঁর বাছুর—দুটোই রক্ষা পেয়ে গেল।
দিয়া কী চাইবে না! প্রেম? একা একা নিঃশব্দে খানিক হেসে কাগজটা কুচিয়ে ফেলে জলের ফ্ল্যাশ টেনে দিলো। গাড়িটা চলছে। বিতান জিজ্ঞেস করেনি দিয়া কোথায় যাবে! বিতান জানে দিয়া কোথায় থাকে। সেদিন ভোগপ্রসাদ পরিবেশনের দলে বিতান ছিল! দিয়া ব্যাপারটায় সেদিনই নির্ভেজাল বন্ধুত্বের শিলমোহর দিতে চেয়েছিল। তাই সে চেঁচিয়ে বলল…
সুন্দরবনের বুনো শুয়োরদের খাদ্যতালিকা অন্যান্য অঞ্চলের একই উপপ্রজাতির বুনো শুয়োরদের থেকে বেশি লম্বা। খুব বৈচিত্রপূর্ণ এদের খাদ্যতালিকা। প্রধানত উদ্ভিজ্জ খাদ্যই এরা বেশি পছন্দ করে। পাতা, ফল, বীজ, গাছের বাকল, কাদা বা মাটির মধ্যে প্রোথিত মূল, কন্দ ইত্যাদি এদের পরিচিত খাদ্য। দেখা গিয়েছে এদের গৃহীত খাদ্যের ৯০ শতাংশই উদ্ভিজ্জ খাদ্য। লম্বা ও সঞ্চরণশীল তুন্ডের সাহায্যে এরা মাটি খুঁড়ে মূল ও কন্দ বার করে খায়। তবে সুযোগ পেলে নানা ধরনের প্রাণীজ খাবার-দাবার এরা খেতে ছাড়ে না।
ওয়াশরুমের মধ্যে ঢোকার প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই আর একবার গুলির আওয়াজ শুনল সে। ওরা এত গুলি খরচ করছে কার জন্য? তবে কি দল একটা নয়, দুটো? না কি পুলিশ এসেছে? কিন্তু পুলিশ জানবেই বা কেমন করে? একটু থামল সে। পরবর্তী পদক্ষেপ ভেবে ফেলতে হবে এক্ষুনি। সে সন্তর্পণে পিছনের দরজাটা সামান্য খুলে উঁকি মারল। নাহ্, কেউ কোথাও নেই।
মাতৃভাষার জন্য সংগ্রাম অবশ্য নতুন কোনও বিষয় নয়। নতুন নয় মাতৃভাষা সুরক্ষার লড়াইয়ের ঘটনাও। আমাদের দেশের নানা অঞ্চলেও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিজ নিজ মাতৃভাষা সুরক্ষার লড়াইয়ের ঘটনার নজির রয়েছে। ঘটেছে রক্তক্ষয়ী ঘটনাও। ওপারের একুশের মতো মাতৃভাষার আন্দোলনের ক্ষেত্রে এপারেও অমর হয়ে আছে উনিশে মে। ১৯৬১ সালের এই দিনটিতেই মাতৃভাষার জন্য শিলচরে শহিদ হয়েছিলেন এগারো জন। সেদিনের এই ভাষা আন্দোলনকে কেউ কেউ গণ অভ্যুত্থান হিসেবেও অভিহিত করেছেন।
ঝাঁ-চকচকে অফিসঘরে বসেছিলেন মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়। নিশীথদা আলাপ করিয়ে দিলেন। আমি প্রণাম করলাম। খুব ব্যস্ত মানুষ। অনবরত ফোন বাজছে। দামি চা এসে গিয়েছে। ব্যস্ততার মধ্যেই স্ক্রিপ্ট শুনলেন। নিশীথদার সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক। প্রোডাকশনের নানাদিক আলোচনা হচ্ছিল। গল্পের অনুমতি আগেই রবীনদাকে দিয়েছিলেন। হয়তো যে লিখছে তাকে একবার চোখে দেখতে চেয়েছিলেন। ভাগ্যিস। না হলে তো ওরকম অসামান্য প্রতিভাধর একজন মানুষের সঙ্গে দেখাই হতো না।
মাতৃভাষা, কাজের ভাষা, কথার ভাষা, যোগাযোগের ভাষা, আমার ভাষা তোমার ভাষা, ওদের ভাষা তাদের ভাষা, ক্ষমতার ভাষা, ধনীর ভাষা দরিদ্রের ভাষা… পৃথিবীর সকল ভাষাকে ঘিরেই এসব থিওরির চলাচল। এরপাশেও জীবিত ভাষা, মৃত ভাষা ইত্যাদির তর্ক সামলে দেখা যায় এপাড়ায় যে ভাষার দাপট, ওপাড়ায় তাই-ই নাকি বিপন্ন। তাহলে বিপন্নতাতেই এসে থামে সকল কিছু? আসলে তর্কটা ওই বিপন্নতার, ভাষাটি মর্যাদা পাচ্ছে?
পরশপাথরে পণ্যবিশ্বে যে আঘাত ঘনীভূত হতে বসেছিল তা এক সঙ্কেত কেবল। শূন্য ও অযথার্থের নিয়ন্ত্রণ ক্ষণস্থায়ী। পরশপাথরের ছোঁয়া যেমন লোহাকে সোনা করে, তেমনই তথাকথিত ‘মিডলম্যানের’ মধ্যস্থতায়, দালালিতে পণ্য হয়ে ওঠে বিক্রয়যোগ্য। সেখানে মূল্যমান, গুণমান ইত্যাদি প্রভৃতি সকলই আপেক্ষিক। কেবল সত্য হল পণ্য হয়ে ওঠা, পণ্য করে তোলা। দালাল তাই নিজেও এই ব্যবস্থাপনার একটা অংশ নয় কেবল, সেও পণ্য-ই।
দরজা ভেজিয়ে স্বামীর পায়ের কাছে বসলেন সুনীতি। অন্য দিন হলে আদিনাথ সরে শুতেন। বালিশ গুছিয়ে যত্নে স্ত্রীর শোবার বন্দোবস্ত করে দিতেন। আজ নির্বাক। বন্ধ চোখের ওপর আড়াআড়ি হাত দিয়ে শুয়ে আছেন। দীর্ঘ দেহ। স্পন্দনহীন। ঝড়ের পূর্বাভাস। একের পর এক বিচিত্র সব ঘটনার অভিঘাত যেন জমাট যন্ত্রণা হয়ে আছড়ে পড়বে সুনীতির ওপর।
বীরচন্দ্র, রাধাকিশোর, বীরেন্দ্র কিশোর ও বীরবিক্রম-ত্রিপুরার এই চারজন মাণিক্য রাজার সঙ্গেই রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক ছিল। সুদীর্ঘকাল ব্যাপী এক রাজবংশের চারজন রাজার সঙ্গে কবির সম্পর্ক নিঃসন্দেহে এক বিরল বিষয়। ত্রিপুরার রাজপরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রে যেন উদ্ভাসিত হয়েছেন এক অন্য রবীন্দ্রনাথ। কখনও তিনি রাজনীতিক, কখনও আবার অর্থনীতিবিদ। রাজ্য পরিচালনার বিষয়েও রাজাকে পরামর্শ দেন তিনি। আবার নির্ধারণ করি দেন বাজেটের মূল নীতি।
বুবুকে আজকে ব্রেকফাস্টের বদলে ব্রাঞ্চ দিতে হবে। কারণ সকালে বেরিয়ে কখন ফেরার সম্ভব হবে সেটা চক্রবর্তী সাহেব নিজেও জানেন না। উল্টোডাঙার মুচিবাজারের আরিফ রোডে বাবু মানে ধৃতিমানের ভাড়া বাড়ি থেকে একটা অ্যাপক্যাব নিয়ে তাকে পৌঁছতে হবে সুদূর দক্ষিণে রিজেন্ট পার্ক পোস্ট অফিসের পাশে। অমিতাভ চক্রবর্তী একে টেলি নায়িকার স্বামী তার ওপর আবার গলায় ওড়না ঝুলিয়ে মৃত্যু। মিডিয়াতে যেন ডবল ডিমের এগ রোল। ঠাসা মাংসের পুর!
পঞ্চবটীবনে অবস্থানকালীন মহাত্মা রামের শরৎকাল অতিবাহিত হল, প্রিয় ঋতু হেমন্ত সমাগত।একদা রাত ভোর হলে রঘুনন্দন রাম, স্নানের জন্যে মনোরম গোদাবরী নদীতে গেলেন। সঙ্গে সীতা ও অনুসরণরত, বিনয়ী, বীর্যবান, লক্ষ্মণ, কলসহাতে চললেন। সুমিত্রানন্দন লক্ষ্মণ প্রিয়ভাষী রামকে জানালেন, রামের প্রিয় এই সেই কাল সমুপস্থিত। মঙ্গলময় সংবৎসরকাল যেন এর দ্বারা অলঙ্কৃত হয়ে সুন্দর হয়। এই কালে কুয়াশায় মানুষের শরীর শুষ্ক হয়, বসুন্ধরা হয় শস্যমালায় সমৃদ্ধা, জল তখন উপভোগ্য নয় আর।