রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক

পর্ব-১৩১: যে পালিয়ে বেড়ায়

পর্ব-১৩১: যে পালিয়ে বেড়ায়

>নুনিয়া যা বলেছে, যতটুকু আভাস দিয়েছে তাঁকে, এখনও পর্যন্ত যতটুকু ক্লু এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে পেরেছেন, তাতে মনে হয়, এখানে একটা স্পষ্ট হিউম্যান অরগ্যানস্‌ ট্র্যাফিকিং-এর কাজকারবার চলছে এবং সাইকেল তার মাথা না হলেও অন্যতম একজন হেল্পিং-হ্যান্ড। কিন্তু এর মাথাটি কে, সেটাই এখনও জানা যায়নি। কোনওদিন সেই মাথাটি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারা যাবে কি? যদি তিনি বেঁচে ফেরেন, তাহলে বেশি দেরি না করে, সোজা গিয়ে হাজির হবেন শাক্য সিংহের কাছে। সব খুলে বলবেন।

read more
পর্ব-১৩০: চুপি-চুপি আসে

পর্ব-১৩০: চুপি-চুপি আসে

পূষণের কেন যেন মনে হচ্ছিল, আর্যর মনে আছে, স্বপ্নে সে কী দেখেছিল, কিন্তু বলতে চাইছে না কোন কারণে। সেই কারণতা কি অরণ্য যেতা মেনশন করতে চাইছে মজার ছলে, সেই জাতীয় ইরাটিক কিছু? যে-কারণে আর্য লজ্জা পাচ্ছে? কিন্তু এরাটিক কিছু এই বয়সে স্বপ্নে দেখা ত সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ, তাতে লজ্জা পাওয়ার কি-আছে? তাছাড়া তার মনে হচ্ছিল, আর্য যে স্বপ্নের বিবরণ দাখিল করা থেকে বিরত থাকছে, তা বিশেষ কোন কারণে এবং সচেতনভাবেই করছে।

read more
পর্ব-১২৯: পথিমধ্যে অতর্কিতে

পর্ব-১২৯: পথিমধ্যে অতর্কিতে

শাক্য বলল, “সুদীপ্ত, যদিও আমি যত্রতত্র খাই না, বুঝতেই পারছেন, ফিটনেস ফ্রেক বলে আমার খাবারদাবার খুব রেস্ট্রিক্টেড্, কিন্তু এখন তো অনন্যোপায়। পড়েছি মোগলের হাতে, খানা খেতে হবে সাথে। অতএব আজকে না-হয় চিট্-ডে বলেই মনে করলাম। কলকাতায় ফিরে জিমে বেশি সময় দিতে হবে এক্সট্রা ক্যালরি বার্ণ করার জন্য!” বলে হেসে উঠল।

read more
পর্ব-১২৮: রাখে হরি, মারে কে?

পর্ব-১২৮: রাখে হরি, মারে কে?

উত্তেজনায় হাত কামড়ালেন সত্যব্রত। ইস্, আর-একটু সতর্ক যদি হতেন। এত সহজে ওদের বিশ্বাস করে বেরিয়ে আসা উচিত হয়নি, গোবিন্দ আসবে বলেছিল সাথে, সে-যদি আসত, তাহলে ওরা হয়তো অন্য প্ল্যান ভাঁজতো। একবার মনে হচ্ছে, তাকে না-নিয়ে আসা ভুল হয়েছে, আর-একবার ভাবছেন সে যে আসেনি, তাতে শাপে বর হয়েছে, কারণ, সত্যব্রত না-ফিরলে গোবিন্দ নিশ্চয়ই থানায় যাবে এবং তাঁকে উদ্ধারের ব্যাপারে আদা-জল খেয়ে লাগবে। গোবিন্দ লোকটি আর-যাই-হোক ভীষণ সৎ ও সাচ্চা দিল ইনশান।

read more
পর্ব-১২৭: আঁধারে ছিল আগন্তুক?

পর্ব-১২৭: আঁধারে ছিল আগন্তুক?

আর্য প্রাণপণে দৌড়াতে চাইছিল করিডোর ধরে। কিন্তু তার শরীর অসাড় হয়ে আসছে ভয়ে। মনের মধ্যে তোলপাড় চলছিল। মনে হচ্ছিল সে যদি দৌড়ানো থামিয়ে দেয়, তাহলে তার উপর রহস্যময় সেই আগন্তুকের মরণ-ছোবল নেমে আসবে তার উপর। রিসর্টটা বিশাল বড় নয়, ফলে তার আর করিডোর কত বড় হবে? কিন্তু শিথিল পদক্ষেপে শরীরটাকে হিঁচড়ে-হিঁচড়ে টেনে নিয়ে যেতে গিয়ে আর্যর মনে হচ্ছিল, এই করিডোর সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা করিডোর। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, যখন আর্য দরজা খুলেছিল, তখন করিডোরের সবক’টি আলো জ্বলছিল না।

read more
পর্ব-১২৬: মিটিং

পর্ব-১২৬: মিটিং

ডিএম ওদের সময় দিয়েছিলেন দুপুর দুটোয়। তার আগে তাঁর জরুরি কিছু কাজকর্ম আছে, ফলে সকালের দিকে চাইলেও সময় বার করতে পারেননি। তাতে শাক্যদের কোনও অসুবিধা ছিল না। দেখা করে কথা হওয়াটা জরুরি, তা সে এ-বেলাই হোক বা ও-বেলা। সে আর সুদীপ্ত নির্দিষ্ট সময়ের ঘন্টাখানেক আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। সময়ের ব্যাপারে শাক্য অত্যন্ত সতর্কতা মেনে চলে। এ তার পিতার শিক্ষা। তিনি ছিলেন সময়ের ব্যাপারে একেবারে জীবন্ত ঘড়ি।

read more
পর্ব-১২৫: কতদিন পরে এলে

পর্ব-১২৫: কতদিন পরে এলে

অনেকদিন পরে এবার গ্রামে এল উল্লাস। তবে যতদিন পরেই আসুক, একইসঙ্গে ভালো লাগা আর মন খারাপ হয় তার। ভালো লাগা খুব স্বাভাবিক। নিজের শেকড়কে অস্বীকার করতে চায় না যারা, তাদের কাছে শেকড়ের কাছাকাছি আসাই পরম আনন্দের। যে-মাটিতে বেড়ে চোখ মেলেছে, বেড়ে উঠেছে, যে-মাটির কাছে জীবনের বিরাট এক সময়ের প্রতি মুহূর্ত ঋণী হয়ে আছে, তার কাছে এসে যারা আনন্দ পায় না, শান্তি পায় না, তাদের মতো পাষণ্ড আর কে আছে? উল্লাস সেইধরণের মানুষ নয়। গ্রামে আসা বরাবর তার কাছে আনন্দের।

read more
পর্ব-১২৪: সে-যে কেবলই যাতনাময়

পর্ব-১২৪: সে-যে কেবলই যাতনাময়

কেউ একজন বলল, “এভাবে হবে না, লেদ-মেশিন নিয়ে এসো… বললাম তো তখন,” তারপর কারও যেন আর্তনাদ শোনা গেল। আর্তনাদ না-কি শীৎকার? শীৎকার না-কি আর্তনাদ? কেমন একটা ঘুলিয়ে যাচ্ছিল সব। মাথা ঝিমঝিম করছিল। একজোড়া রাঙা কর্তিত ঠোঁট উঠে এসে বলল, “যাও, তুমি আমায় একটুও ভালোবাসো না, শরীর, শরীর, তোমার মন নাই?”

read more
পর্ব-১২৩: তত্ত্বতালাশ

পর্ব-১২৩: তত্ত্বতালাশ

“স্যার, যে ইনফোগুলি জোগাড় করতে বলেছিলাম, সেগুলি পেলে হয়তো কিছুটা এগোনো সম্ভব হবে। যদিও সেটা এখনই জোরের সঙ্গে বলা যাচ্ছে না। হয়তো দেখলাম, ওই ইনফোর মধ্যে এমন কিছুই নেই, যা আমাদের ইনভেস্টিগেশনের কাজে লাগতে পারে। তখন অন্য রাস্তা ভাবতে হবে!”

read more
পর্ব-১২২: য পলায়তি, স জীবতি

পর্ব-১২২: য পলায়তি, স জীবতি

>ঘরের দরজা খুলে যে-লোকটি ঢুকল, তাকে আগের বার দেখেননি। আদিবাসী মানুষ। বয়স্ক না-হলেও নেহাত অল্প-বয়সও নয়। মাথায় রুক্ষ চুল, তেল-শ্যাম্পু পড়ে না বোঝাই যায়, গালে ক’এক দিনের না-কামানো কাঁচাপাকা দাড়ি। লোকটির হাতে একটি লাঠি। বোঝা গেল, এটি তার আত্মরক্ষার এবং বেগড়বাঁই দেখলে শায়েস্তা করার অস্ত্র। তবে লাঠি হলেও পাকা বাঁশের বেশ শক্তপোক্ত ওয়েপন। আগেকার দিনে মানুষ এ-দিয়েই গোটা ডাকাতদলকে পর্যন্ত কাবু করে ফেলত।

read more
পর্ব-১২১: খেলা শুরুর প্রস্তুতি

পর্ব-১২১: খেলা শুরুর প্রস্তুতি

উল্লাস থুতনির উপর হাত রেখে বলল, “হুম ! কাজটা সহজ হবে না কারণ, যদি আমার এলাকার লোক জানতে পারে যে, আপনারা কেউ আমাদের পবিত্র কালাদেওর গুহায় ঢুকতে চাইছেন, তাহলে হয়ত টাঙ্গি, লাঠি, কুড়ুল—হাতের কাছে যা পাবে, তা নিয়েই রে-রে করে তেড়ে আসবে। আমাদের কাছে কালাদেওই ভগবানের পূর্ণ রূপ!”

read more
পর্ব-১২০: একেজি কলিং

পর্ব-১২০: একেজি কলিং

শাক্য চুপচাপ বাইরের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসেছিল। তার চোখে রোদচশমা, বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই সে জেগে না ঘুমিয়ে, কোন্দিকে বা কার দিকে তাকিয়ে আছে—তাও বোঝার উপায় নেই। সুদীপ্ত মোবাইলে বউকে মেসেজ পাঠাচ্ছিলো। ক্রমেই দাম্পত্যটা গোলমেলে জায়গায় চলে যাচ্ছে। কবে যে তারা দুজনে একটু একত্রে থাকতে পারবে, সেটাই এই মুহূর্তে বিলিয়ন ডলার প্রশ্ন।

read more
পর্ব-১১৯: গোখরো কিংবা কালাচ

পর্ব-১১৯: গোখরো কিংবা কালাচ

সকাল থেকেই পিশাচপাহাড় হেলথ-সেন্টারে আজ অস্বাভাবিক রকম ভিড়। এমনিতে হেলথ্‌-সেন্টারটি মাছি তাড়ালেও, বছরে মাঝেমধ্যে এইরকম দিন আসে। কারণটিও জানা গেল, চার্চের হাসপাতালের দু’জন ডাক্তার হঠাৎ করে ছুটি নেওয়ায় সেখানে আজ খুব চাপ। অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে দু’দিন পরে আসতে বলে। গরিব-গুর্বো মানুষ সব। অনেক কষ্টে কাজটাজে না গিয়ে একদিন নষ্ট করে এসেছে ডাক্তার দেখাবে বলে, এখন চার্চের হাসপাতাল হাত গুটিয়ে নিলে তারাই বা যায় কোথায়? সে-কারণেই তারা হেলথ্‌-সেন্টারে এসে ভিড় জমিয়েছে। আশেপাশে জটলা করে বসে আছে সব। গোবিন্দ সকলকে এক-একটা টোকেন...

read more
পর্ব-১১৮: একটি খালি বিয়ারের বোতল

পর্ব-১১৮: একটি খালি বিয়ারের বোতল

কাল রাতেই জায়গাটা পরীক্ষা করেছিল তারা দু’জনে। কিন্তু রাত্রে সব ভালো করে দেখা সম্ভব নয়, যতই আলো থাকুক না কেন। অতএব দিনের আলোয় জায়গাটা আরেকবার ভালো করে দেখা জরুরি ছিল। সেই কাজটিই করছিল শাক্য এবং সুদীপ্ত। দু’জনে এই ক-দিনে একেবারে হরিহরআত্মা হয়ে উঠেছে। তবে তদন্ত-চলাকালীন একজন বস, আর একজন তার সাবর্ডিনেট। এই সম্পর্কটা বজায় রাখা সিস্টেমের জন্যই উচিত বলে তারা মনে করে দু’জনেই।

read more
পর্ব-১১৭: আপাতত পরিত্রাণ

পর্ব-১১৭: আপাতত পরিত্রাণ

সাইকেল থমথমে মুখে জিজ্ঞাসা করল, “কী হল ডাগ্দারবাবু, চুপ করে গেলেন কেন? বলেন, কী বলেছিল নুনিয়া আপনাকে যে, আপনি থানায় যেতেন?”
সত্যব্রত সামলে নিলেন। বেফাঁস কথাটি বলে ফেলেছেন, এখন থুতু গেলা ছাড়া তাঁর আর কোনও উপায় নেই। যে-ভাবেই হোক ব্যাপারটা ম্যানেজ করতে হবে। না হলে কেবল নিজেরই বিপদ না, নুনিয়াকেও বিপদে ফেলে দেওয়া হবে। এমনিতেই ওরা নুনিয়াকে শেষ করে দেওয়ার জন্য শিকারী কুকুরের মতো খুঁজছে, এবারে একেবারে মরিয়া হয়ে উঠবে।

read more

Skip to content