কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী।

এ কাহিনির সূত্রপাত ঘটেছিল মহাকংসের অসিতাঞ্জন নগরীর রাজ্যপাটের মাঝেও জমে থাকা কালো ছায়াটুকু অনুসরণ করে করে। যা শ্বেত নয়, সিত নয় তাই অসিত, সেই কালো কাজলের কৃষ্ণবর্ণ যেন ক্রমে ঘিরে ধরছিল এই রাজবংশটিকে। তখনো বাসুদেব কৃষ্ণ হয়েছেন কি? কিংবা নামান্তরে অসিত? কে জানে! বসুদেব-ও স্বনামে বর্তমান নন। কিন্তু একটা প্রবল ঝড়ের মেঘ যেন সকলের অলক্ষ্যেই ঘিরে ধরছিল রঙ্গমঞ্চের কুশীলবদের। দেবগর্ভার জন্ম, তাকে ঘিরে আবর্তিত বিতর্ক, তার অভিসার, বিবাহ, সন্তান ইত্যাদিকে ঘিরে আবর্তিত ঘোর আশঙ্কাটিকে হয়তো ভুলতে বসেছিলেন সকলে, কিন্তু “লব্ধব্যমর্থং লভতে মনুষ্য।”
শক্তিপরীক্ষার অন্তরালে থাকা শত্রুঘাতী আয়োজনে রাষ্ট্রীয় কূটনীতি, রাজনীতি সদা-সর্বদাই সফল হবে এমন আত্মবিশ্বাসের পথেই বুঝি মৃত্যুকীট প্রবেশ করে। মল্লক্রীড়ার মঞ্চ থেকে রণাঙ্গন, শত্রুকে হীনবল ভাবলে আত্মপ্রসাদ আসে বটে, তবে পাশাপাশি আসে বিপদটুকুও। বাসুদেবের নিক্ষিপ্ত চক্রে তাই কংস ও উপকংসের বিনাশের সূত্রপাত অনেক আগেই বুঝি ঘটে গিয়েছিল। মল্লভূমিই অকস্মাৎ হয়ে ওঠে রণক্ষেত্র। যা দৃশ্যতঃ নৈপুণ্য কিংবা পেশীবলের চর্চা ছিল, তা নিমেষেই হয়ে ওঠে রাষ্ট্রবিপ্লবের সূতিকাগার। নিমেষেই প্রতিনায়ক উত্তীর্ণ হন নায়কোচিত ঔজ্জ্বল্যে। বলদেব, বাসুদেবের ঘাতকসত্তার পাশেই জেগে ওঠেন কালোত্তীর্ণ নায়ক, মৃত্যুকে সাক্ষী রেখে।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৭০ : ঘটজাতক/৫ : সে আসিছে আজ কাল-বৈশাখে

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৮৯ : আকাশ এখনও মেঘলা

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৭: স্কুপ-নিউজ

পৃথিবীর কালীদহে আর শোণিতপিচ্ছিল পথে পথে এমন মরণঝড় ওঠে। আকাঙ্ক্ষা, লিপ্সা, আশ্লেষ ও শক্তির আস্ফালনের শেষে কেবল জেগে থাকে তীব্র নীল মৃত্যু, সাক্ষী থেকে যায় বাঁকা চাঁদ, শূন্য মাঠ আর শিশিরের ঘ্রাণটুকু!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৮: যুদ্ধে ছলনার আশ্রয় এবং বলপ্রয়োগ, উভয়ের কোনও তারতম্য আছে কি?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

বাসুদেবের চক্রাঘাতে কংস ও উপকংস নিহত হলেন। ভাগিনেয় দশভেয়গণ মাতুলদের অসিতাঞ্জন নগরী অধিকার করলেন। এভাবেই চিরচঞ্চল কালচক্রের একটি যাত্রাপথ যেন পূর্ণ হল, যা একদিন ছিল মিথ্যা আশঙ্কা তা-ই কালে কালে বিষময় অনপনেয় হল। মহাকবি কালিদাস বলবেন, “বিষবৃক্ষোহপি সংবর্ধ্য স্বয়ং ছেত্তুমাসাম্প্রতম্”… স্বয়ং বিষবৃক্ষকে মহীরূহ করে তুলে তাকেই ছেদন করতে গেলেও মনস্তাত্ত্বিক বাধা আসে বৈকী এই মায়ার জগতে! কংসমামাদের-ও এমন মানবিক বিচ্যুতি ঘটেছিল বটে জাতকমালার গল্পে, তাতে তাঁরা উচ্ছিন্ন-ও হলেন। ভবিষ্যতের আর্যাবর্ত থেকে বিস্তৃততর ভারতভূখণ্ডে যে নামগুলি, যাঁদের সত্তা উজ্জ্বলতর, বৈচিত্র্যময় হবে ক্রমে ক্রমে, বৃহত্তর ভূ-রাজনীতির, ক্ষমতার বৃত্তে তাঁদের প্রবেশ ঘটল। তাঁরা যেভাবে রাজতন্ত্রের কেন্দ্রে প্রবেশ করলেন, তা কতটা ন্যায়নিষ্ঠ, কতটা নিয়তিতাড়িত, কতটাই বা অনিবার্য ছিল সেই জিজ্ঞাসার পাশেও এই মহা-অভ্যুদয়, এই পটপরিবর্তন বিশেষ চিত্তাকর্ষক হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

শ্রদ্ধাঞ্জলি : সঙ্গীতই আমার ফার্স্ট লাভ : শচীন দেববর্মণ

দাস দশভেয়েরা অসিতাঞ্জন নগরে রাজত্ব অধিকার করলেন, মাতা-পিতাকে সেখানে নিয়ে এলেন। এবার লক্ষ্য সমগ্র জম্বুদ্বীপ। তাঁরা দিগ্বিজয়ে বের হলেন প্রবল বেগে। কিছুদিনের মধ্যেই অযোধ্যানগরী অবরুদ্ধ করলেন। এই নগরী তখন কালসেন রাজার অধিকারভুক্ত। নগরীকে পরিবেষ্টন করে থাকা গহন বন ধ্বংস করে, প্রাকার ভেদ করে তাঁরা রাজাকে বন্দি করলেন, অধিকার করলেন রাজ্য। এবার লক্ষ্য দ্বারাবতী—দ্বারকা। বিপুল বিক্রম তাঁরা ধাবিত হলেন সেদিকে।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৬: শাঁখামুটি

জনক-জননী কিংবা পালক-পালিকা মাতা পিতার বিশেষ ও স্বতন্ত্র উল্লেখ অবশিষ্ট কাহিনিতে না থাকলেও দাস দশভেয়েদের আত্মপরিচয়ে “দাস” বা সেবকের অভিজ্ঞানটুকু অলক্ষ্য নয়। কেবল অন্ধকবিষ্ণুদাসের নামাংশের তাত্পর্যে থেমে না থেকে সামাজিক অভিঘাতে এর বিস্তারটি বিবেচনা করলে তাঁদের এই অভ্যুদয়ের নেপথ্যে স্বাভিমানের প্রেক্ষাপটটিও অলক্ষিত থাকে না। তবে এ কি সেই “পরিচয়ের” বিপ্রতীপে এক সগর্ব উদ্ঘোষণা? কী ঘটবে দ্বারাবতী নগরে? দেখা যাবে, পরবর্তী পর্বে। —চলবে।
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content