কলকাতায় বৃষ্টি
অক্টোবরের নয় তারিখে আন্তর্জাতিক ডাক দিবস। কবি বলেছেন, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে। কেউ আসুক না আসুক ডাক একসময় আসতো বটে। আসতো রানার বা ডাকহরকরার হাতে হাতে। তারা পরস্পর নাকি ডাকাডাকি করে যোগাযোগ রাখতো। সে যাই হোক, তে হি নো দিবসা গতাঃ। তবে “আমাদের গেছে যে দিন একেবারেই কি গেছে, কিছুই কি নেই বাকি” এই আক্ঙ্ক্ষাটুকুর সম্মানেই বোধহয় এখনও পিয়ন আসে দরকারি চিঠি নিয়ে।
কাগুজে চিঠি কোথায় লাগে? বড়কত্তা শোকজ করবেন? চিঠি। বরকত্তা নেমন্তন্ন দেবেন? চিঠি। কুঞ্জবাবু গঙ্গা পেয়েছেন? চিঠি। স্কুলে কলেজে কেন আসোনি? চিঠি। আবেদন করবে? চিঠি। নিবেদন করবে? চিঠি। পরীক্ষায় পাস করতে চাও? বিদ্যেবতীকে চিঠি। আর পরীক্ষার হলে গিয়ে? হাসালেন মশাই! ওকে তো টুকলি বলে। ওটাও চিঠি বৈকী! তবে সম্পদে, বিপদে, প্রেমে কিংবা শত্রুতায় এখন আর প্রেমপত্র নেই, উড়োচিঠিও নেই। কচিদা তাই বলছিল, এবার পুজোয় একটা “বসে লেখো” প্রতিযোগিতা করলে কেমন হয়!
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৭১ : ঘটজাতক/৬ : যারে তুমি নীচে ফেল

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা/ ৯১

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৮: প্রতিপক্ষ অন্ধকার

তবে কবি বলেছেন, ফিরে ফিরে ডাক দেখিরে পরাণ খুলে ডাক ডাক ডাক… তাই ভাত বেড়ে মা ডাকে, খোকন! খাবি আয়। বেয়ারা এসে জানায়, স্যর ডাকছেন। প্রেমিকা ডাকে, সাড়ে চারটেয় ধর্মতলার মোড়ে, মনে রেখো। আকাশ ডাকে, বাতাস ডাকে। পাহাড়-নদী-সমুদ্র ডাকে। অজানা ডাকে। চিরচেনা ডাকে। পুজো প্যাণ্ডেলের পাশের মাইকেই বাজে, ওপারের ডাক যদি আসে, শেষ খেয়া ইত্যাদি আরো কী যেন। জগৎ ডাকে, বিশ্ব চরাচর ডাকে। হাঁকেডাকে সব একাকার।

মামারবাড়ি যে ডাক দিয়ে যেত সেকালে, তার নাম ছিল ভগবান। পরমের ডাক কখন আসে কে জানে তা! তুমি ডাক দিয়েছো কোন সকালে কেউ তা জানে না যে! এদিকে আমি আশায় আশায় বসে আছি বিকালের ডাকের খোঁজে। বড়-র ডাক এলে ছোট কাজ ভেসে যায়। ছোট্ট টুকাই “ডাক ও তারঘর” দেখে তাকেই ডাক্তারখানা ভেবে বসেছিল একবার। সে গল্প আজ নয়। এখন তার বেজায় নামডাক।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৯: রাজসূয়যজ্ঞে চেদিপতি শিশুপাল ও কুরুপ্রধান ভীষ্মের কথোপকথনে সদর্থক ও নঞর্থক চিন্তার সংঘাত,মহাকাব্যে প্রতিফলিত জীবনবোধ

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

ডাহুক ডাকা মাঠের ধার থেকে ডাকের সাজ, “ডাক ও খনার বচন” থেকে ডাকব্যবস্থা… একটা শব্দের গাঁটছড়ায় কত কী বাঁধা পড়ে যায়। কাক ডাকে, কোকিল ডাকে। এছাড়াও প্রকৃতির ডাক আছে, নিশির ডাক আছে। পৌষ ডাকে, মাটি ডাকে। মোট কথা, বিশ্বজুড়ে হাঁকাহাঁকি ডাকাডাকি। বাজারে গেলে সবজিদাদা, মাছকাকু ডাক দেবে। ডাকে সাড়া দেয় কেউ কেউ, কেউ দেয় না। ভ্রূপল্লবে ডাক দিলে, দেখা হয়ে যায় চন্দনের বনে। তোমার ডাকে সাড়া দিতে ভারি বয়ে যায় আমার কখনো কখনো। তবে রাস্তার মোড়ে গিয়ে একবার ডাক দিয়ে দেখুন, কালু, ভুলু, ভেলো, ভোলা সকলে দৌড়ে আসবে ছুট্টে। এ তো আর পেঁচোসর্দার নয় যে, এক ডাকেই পাড়া ফাঁকা!
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

শ্রদ্ধাঞ্জলি : সঙ্গীতই আমার ফার্স্ট লাভ : শচীন দেববর্মণ

মা সাবধান করে দেয়, কেউ ডাকলে একদম যাবি না কিন্তু। ডাক ছেড়ে কাঁদা যায়, পাড়া মাথায় তোলা যায়। বৃষ্টি পড়লেই ব্যাঙের ডাক। তবে “ডাক পড়েছে” জানলে যে উত্তেজনা জাগে, বিকালের কিংবা সকালের ডাকে চিঠি পাওয়ায় সে সব নেই আর। সবটাই চলে গিয়েছে ক্রমে ক্রমে মিসড কল, চ্যাট, ই-মেইল, হোয়া-র ঘরে, হাওয়ার ঘরে।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৮: চন্দ্রবোড়া

“মেইল” এখন নানাবিধ “কল”… কলকলিয়ে কথা বলার যন্তর-মন্তর। শেষ কথাটা তবু থেকেই যায়। ডাকের চিঠি পড়ার দিন না থাকলেও, ডাকলে যেতে হয়, নাকি নয়?
এর উত্তর ক্রান্তদর্শী কবির কাছেই। তিনি বলবেন, গঙ্গার তীরে চিতাকাঠ, খাদের পাশে চাঁদ… ক্রমাগত ডাকে “আয় আয়।”
তবে, যেতে পারি, কিন্তু কেন যাব? ডাকের ঘরে এর উত্তর আছে?
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content