কলকাতায় বৃষ্টি
ফাদার আন্তোনিওর মুখ ক্রোধে লাল হয়ে উঠেছিল। এমনিতে গ্রীষ্মপ্রধান দেশে এতকাল কাটানোর জন্য তাঁর সাহেবি গাত্রবর্ণ ঈষৎ তামাটে হয়ে গিয়েছে যদিও, তাও লাল হলে বোঝা যায়। এখনও যাচ্ছিল। কোনওরকমে বললেন, “অফিসার, আপনি বোধহয় জানেন না, আমাদের চার্চের একটা রেপুটেশন আছে। আপনি আমাদের সেই ক্লিন-ইমেজে কালি ছেটাতে পারেন না!”
“আপনি অযথা উত্তেজিত হচ্ছেন ফাদার। আমরা জাস্ট অফিসিয়াল ডিউটি পালন করছি। এখানে উপস্থিত সবক’টি গাড়িকেই পরীক্ষা করে তবে ছাড়ার অর্ডার আছে। আপনারা স্পেশাল হতে পারেন, কিন্তু আইনের দৃষ্টি থেকে আপনারা আর দশ জনের থেকে আলাদা কিছু নয়। আমাদের কাজ করতে দিন।”
“আশা করি, আপনারা বুঝতে পারছেন, অ্যাম্বুলেন্সে আমরা কেউ হাওয়া খেতে বেরোইনি। অ্যাম্বুলেন্সে পেশেন্ট আছে। তাঁর ডিস্টার্বেন্স না হলেই হল। বাকি আপনারা যা সার্চ করার করুন, আমাদের আপত্তি নেই।”
কথার মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের পিছন থেকে একজন বেরিয়ে এলেন। তাঁর পোশাক-আশাক দেখে শাক্যর মনে হল, সম্ভবত ডাক্তার।
ফাদার তাকে দেখে বললেন, “ডক্টর, আপনি নেমে এলেন কেন? এনি প্রবলেম?”
ডাক্তার বললেন, “না না ফাদার। এখানে মনে হল ঝুটঝামেলা কিছু হয়েছে, সে-কারণে নেমে এলাম। এখানকার পুলিশ অনেকসময়ই দরকারের চেয়ে বেশি অ্যাক্টিভ হয়ে পড়ে। সেজন্যই…”
ফাদার তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “ডক্টর! আপনাকে আমি বারবার বলেছি যে, পেশেন্টের সঙ্গে থাকুন। ফাদার রডরিগকে কোনওভাবেই এক মুহূর্তের জন্য চোখের আড়াল করবেন না। আপনাদের কতবার বলেছি, বাইরের ঝামেলা আমাকে সামলাতে দিন। ফাদারের লাইফ অনেক বেশি মূল্যবান। আপনি যান।”
ডাক্তার কাচুমাচু মুখে শাক্যদের দিকে তাকাতে-তাকাতে চলে গেলেন।
শাক্য সুদীপ্তের দিকে তাকিয়ে বলল, “সুদীপ্ত এবার আমাদের কাজ শুরু করা যাক। কী বল?”
“স্যার, ফোর্সের জন্য কি আর ওয়েট করব আমরা?”
“কেন? কাস্টমস্-এর নিজেদের ফোর্স তো আছে। আশা করি আমাদের কাজ শুরু করার মধ্যেই ফোর্স চলে আসবে। অযথা এঁদের দেরি করিয়ে দিয়ে আমাদের কী লাভ বল?”
কাস্টমস্ অফিসার এগিয়ে এসে বললেন, “আমি মি. শর্মা। আজডিউটিতে আছি। এসপি সাহেব আমাকে ফোনে সব বলেছেন…। আপনার জন্যই ওয়েট করছিলাম।”
“আশা করি ফোর্স যা আছে তাতেই হয়ে যাবে…!”
“হোপ সো…”
মিঃ শর্মা হাত নেড়ে কাউকে ডাকলেন। একজন স্থানীয় লোক ছুটে এল। শর্মা বললেন, “বাদল অউর পারভেজ কো বোলাও। জলদি!”
লোকটি বিনা বাক্যব্যয়ে ঘাড় নেড়ে চলে গেল। শর্মা শাক্যর দিকে ফিরে বললেন, “ওরা হুনহাল অফিসার আমাদের ফোর্সের মধ্যে। দে আর জুনিয়ার, বাট কোয়ায়েট ম্যাচিওরড।”
“ইটস্ সাউন্ড গুড!”
“ইয়া!”
ফাদার বিরক্ত হচ্ছিলেন। বললেন, “আপনারা অযথা দেরি করছেন। আমাদের তাড়া আছে। বারবার বলছি। পেশেন্টের কিছু হলে আমরা কিন্তু কোর্টে মুভ করব!”
শাক্য বিরক্ত হল। বলল, “বারবার আপনি আমাদের থেট করছেন ফাদার। আমরাও আপনার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনতে পারি…!”
“আমি থ্রেট করছি না অফিসার। ওয়ার্ণ করছি…”
“ইয়োর ওয়ার্ণিং আর কাইণ্ড অফ থ্রেটনিং, অ্যান্ড ইউ নো দিস বেটার দ্যান মি ফাদার!”
ফাদারের গলার সুর অনেকটা নরম হয়ে গেল। বলল, “আপনি আমায় ভুল বুঝছেন অফিসার। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার কোন ইচ্ছেই আমার নেই। আমি কেবল আমাদের প্রায়োরিটির কথা বলতে চাইছি।”
“আমিও আমাদের প্রায়োরিটির কথা বোঝাতে চাইছি…। আপনি বুঝলে ভালো!” বলে শাক্য শর্মার দিকে ফিরে বলল, “মিঃ শর্মা, লেটস্ ডু আওয়ার ওয়ার্ক।” বলে সে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে এগিয়ে গেল। মিঃ শর্মা, সুদীপ্ত তাকে অনুসরণ করল। পিছন-পিছন বাদল এবং রুস্তম।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮১: সীমান্ত-সংঘাত

সংস্কৃত দিবস

হ্যালো বাবু!, পর্ব-১৪৮: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৮

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

এইসময় শাক্য নিচুগলায় শর্মাকে কিছু বলল। শর্মা শুনে ঘাড় নাড়লেন। তারপর ফাদারের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ফাদার, আপনি ওখানে দাঁড়িয়ে থাকবেন না। আসুন। আপনি যাতে পরে কোন অভিযোগ না করতে পারেন, সেজন্য আপনারও থাকা উচিৎ এখানে। দেখুন, আন=মরা কিন্তু জাস্ট রুটিন এনকোয়ারি করছি।
ফাদার এগিয়ে এলেন। তাঁকে কিছুটা নার্ভাস দেখাচ্ছিল। সেইসঙ্গে চাপা বিরক্তির চিহ্ন মুখে-চোখে।
গাড়ি থেকে ড্রাইভারকে নামতে বলা হল। ড্রাইভার নামলে বাদল, রুস্তম এবং সুদীপ্ত তিনজনে মিলে গাড়ির সামনেটা চেক করল। ড্রাইভারকে ডেকে ড্যাসবোর্ড খুলতে বলা হল। সিটের তলা ইত্যাদিও চেক করা হল। মাদক ইত্যাদি ট্র্যাক করার জন্য পোর্টেবল ড্রাগ ডিটেক্টর দিয়ে সার্চ করা হল। রেজাল্ট অবশ্য নেগেটিভ।
ফাদার ব্যঙ্গের হাসি হেসে বললেন, “হয়েছে তো এবার? নিশ্চিন্ত হলেন তো? আশা করি এবার আমাদের যেতে দেবেন?”
শাক্য বলল, “ওয়েট। এখনও ব্যাক সাইড চেক করা হয়নি।…”
“ওখানে চেক করার কিছু নেই অফিসার। ফাদার রডরগ শুয়ে আছেন। তাঁকে ডিস্টার্ব করা উচিত হবে না।”
“আমরা তো ডিস্টার্ব করতে যাচ্ছিস না। চেক্ করতে যাচ্ছি।” বলে বাকিদের ডেকে নিল শাক্য।
পিছনের দিকে পৌঁছাতেই আগের সেই ডাক্তার ভিতর থেকে গাড়ির দরজা খুলে দিলেন। একজন অ্যাটেনডেন্ট পাশে বসেছিল। দাঁড়িওয়ালা লোকটি তাদের দেখে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিল।
“আপনারা একটু নেমে আসুন!” সুদীপ্ত বলল।
“এখানে ফাদার ড়দরিগ আছেন অফিসার। আমাদের উপস্থিত থাকা প্রয়োজন…!”
“আমরা জানি কোনটা প্রয়োজন, কোনটা নয়। নেমে আসুন…” কড়া গলায় বলল শাক্য।
আর কোন কথা না বলে ডাক্তার এবং অ্যাটেনডেন্ট দুজনেই নেমে এল।
ফাদার পিছনের দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছেন। বললেন, “দেখবেন, ওনাকে টাচ করবেন না।…”
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৩: কেউটে

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

কেউ তাঁর কথার কোনও উত্তর দিল না। খোলা দরজা দিয়ে ভিতরে দেখা গেল স্ট্রেচারের উপর শুয়ে আছেন ফাদার রডরিগ। যদিও তাঁর মুখ দেখা যাচ্ছে না, কারণ সর্বাঙ্গ সাদা কাপড়ে ঢাকা। পা দুটি অবশ্য সামান্য বেরিয়ে আছে চাদরের আড়াল থেকে। পাশেই স্যালাইনের বোতল ঝুলছে স্যালাইন-হোল্ডার থেকে। নানারকম ওষুধের গন্ধে ভরা পারফেক্ট অ্যাম্বুলেন্স যেমন হয় তেমনই পরিবেশ। পাশে দু’দিকে দু’টি সিট, যে-দুটির একটিতে ডাক্তার এবং অ্যাটেনডেন্ট বসে ছিল। তার একটির তলায় মেডিকেল কিটস্, মিনারেল ওয়াটারের কয়েকটি বোতল রাখা। অন্যদিকের সিটের তলায় একখানি ব্যাকপ্যাক, আর একটা ছোট্ট স্যুটকেস রাখা। আধুনিক ট্রাভেল ব্যাগ নয়, সেকেলে স্যুটকেস।
“ওটা কী?” শাক্য স্যুটকেসের দিকে আঙুল দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করল ডাক্তার এবং অ্যাটেনডেন্টের দিকে তাকিয়ে।
অ্যাটেনডেন্ট তাড়াতাড়ি বলে উঠল, “আজ্ঞে স্যার, ওটায় আমার কিছু জামাকাপড় আছে। দু’চারদিন থেকে ফেরার কথা আছে তো, সেই কারণে…” কথা শেষ করল না সে।
“খোলো…”
“আজ্ঞে?” বুঝতে না পেরে জিজ্ঞাসা করল সে।
“ওটা খোল। ওর ভিতরটা চেক্ করতে হবে তো?”
“আজ্ঞে স্যার, গরীব মানুষ। ফাদার ওই স্যুটকেসটা দিয়েছিলেন। তাতেই কয়েকটা জামাকাপড় ভরে এনেছি। সব যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন তাও নয়…”
“আমরা তোমার জামাকাপড় পরতে যাচ্ছি না… খোল…” এবার সুদীপ্ত বলল।
লোকটা ব্যাজার মুখে স্যুটকেসটা খুলে মেলে ধরে বলল, “দেখুন, জামাকাপড় ছাড়া আর কিছু নেই…”
বাদল এগিয়ে গিয়ে এক-এক করে জামাকাপড় সরিয়ে দেখতে লাগল। জামাকাপড়ের ফাঁকে চিপস, চানাচুর আর বিস্কুটের প্যাকেটও রাখা আছে। সবার নিচে একখানি কালো কোট। শাক্যরা শ্যেন দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল স্যুটকেসের দিকে। বাদল কোটটা সামান্য তুলে নিচে দেখল। নাহ্, কোটের নিচে কিছু নেই…! সে বলল, “স্যার, কিছু নেই স্যুটকেসে!”
“স্যুটকেসের বডি চেক কর।” শর্মা আদেশ দিলেন।
আবার পোর্টেবল ড্রাগ ডিটেক্টর দিয়ে চেক করা হল। নাহ্, রেজাল্ট নিল্ ! বাদল স্যুটকেস বন্ধ করতে যাচ্ছিল। হঠাৎ শাক্য বলল, “এক মিনিট…”
বাদল-সহ সকলে ঘুরে তাকাল তার দিকে।
শাক্য বলল, “স্যুটকেসের মধ্যে কোট কেন?”
“আজ্ঞে…” বাদল বুঝতে না-পেরে বেকুবের মতো মুখ করে জিজ্ঞাসা করল।
“আপনাকে নয় ভাই, কথাটা জিজ্ঞাসা করলাম যার স্যুটকেস তাকে…”
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৩: চেদিরাজ শিশুপালের কৃষ্ণবিদ্বেষ কি কৃষ্ণেরই কোন পরিকল্পিত ইচ্ছার প্রকাশ?

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা

অ্যাটেনডেন্ট বুঝতে পারল, কথাটা তাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। সে বলল, “আজ্ঞে, ওদিকে যেখানে আমাদের বড় হসপিটাল, সেখানে রাতের দিকে ঠান্ডা পড়ে স্যার। এমনকি এই সময় এখানে যা গরম দেখছেন, ওখানে তেমন নয়…সে জন্য নিয়েছি স্যার। ঠান্ডা লাগলে পরব…”
“এমন ঠান্ডা যে কোটের দরকার হল। তাও আবার ফারের কোট বলে মনে হল!”
“আজ্ঞে…”
“বাদল, আপনি কোটটা বার করুন তো, একটু দেখব…”
“স্যার, এ-সব কী বলছেন? কোট নিয়ে এসে কী ভুল করলাম তা তো বুঝলাম না স্যার!” অ্যাটেনডেন্ট আহত গলায় বলল।
“দোষ করেছেন বলিনি তো!” শাক্য বলল।
“স্যার, তাহলে খামোকা কোট দেখতে চাইছেন কেন?”
“ইচ্ছে! কেন তোমার আপত্তি আছে?” শাক্য জিজ্ঞাসা করল। অবশ্য লোকটি উত্তর দেওয়ার আগেই সে নিজেই ঝুঁকে পড়ে স্যুটকেস থেকে কোটটা বার করে এনে দুহাত দিয়ে ভাঁজ করে রাখা কোট মেলে ধরল। আর তারপরেই সকলে চমকে উঠল। কোট কোথায়? এ-তো অবিকল যেন একটা ভাল্লুকের খোল, তবে নকল!
“তাহলে এইটা তোমার কোট, তাই তো?”
অ্যাটেনডেন্ট লোকটি নিশ্চুপ।
ফাদার এগিয়ে এসে দেখে বললেন, “এ কী পল্, তুমি কি কোন ফ্যান্সিড্রেস পার্টিতে যাবে বলে ভেবে এসেছ নাকি? এ-সব তো আমাদের দেশে ফ্যান্সিড্রেস পার্টিতে অনেকে পরে!”
পল বলল, “ফাদার, আমি অনেক সাধ করে এটি কিনেছিলাম, সেজন্য ভেবেছিলাম এটা পরে সবাইকে চমকে দেব…!”
শাক্য বলল, “তাই নাকি? আগে কখন পরনি? তাহলে এখানে এভাবে ব্লাডট্রেস এল কীভাবে?”
“অ্যাঁ। ব্লাড! কোথায়? থাকার তো কথা নয়! আমি তো ভাল করে ধুয়ে রেখেছিলাম…!” বলেই পলের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
শাক্য মৃদু হেসে বলল, “তাহলে পলসাহেব স্বীকার করছেন যে, এটি গায়ে চাপিয়ে এমন কোন কাজ করেছেন, যাতে ব্লাডট্রেস থাকার সম্ভাবনা থেকে যায়। বাহ্। সুদীপ্ত…আশা করি তোমাকে তোমার কাজ বুঝিয়ে বলতে হবে না!”
সুদীপ্ত বলল “ইয়েস স্যার, জানি আমাকে কী করতে হবে!” বলে এগিয়ে এসে পলের কাঁধে হাত রেখে বলল, “পল, কিছুক্ষণ তোমার মতো এমন জিন্দাদিল্ লোকের সঙ্গে চিপ্কে থাকি কেমন?” বলে তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে দিল।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

ব্যাকপ্যাক থেকে অবশ্য সন্দেহজনক কিছু বেরুল না। কেবল দামি মদের দুটি বোতল এবং কিছু জামাকাপড় ছাড়া। গাড়িতে মদ এভাবে নিয়ে যাওয়ার অর্থ ব্যাখ্যা করলেন ডাক্তার। এই জার্নির ধকল সামলাতে বড় হাসপালের পৌঁছে রাতের বেলায় খাবেন বলে কিনেছেন। এরপর আর তাঁকে কিছু বলা চলে না।
“তাহলে অফিসার, আশা করি, আপনাদের সবকিছু দেখা কমপ্লিট?”
“মোটামুটি!”
“পলকে ধরেছেন ভালো কথা। তবে পল কোন অন্যায় করতে পারে না বলেই আমি বিশ্বাস করি। যাই হোক, তার জন্য আমি নিজে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ল-ইয়ার নিয়োগ করব কথা দিচ্ছি। আপাতত আমাদের গাড়ি ছাড়ার হুকুম দেওয়া হোক!”
“একবার ফাদার রডরিগকে দেখতে চাই,” শাক্য চিবিয়ে-চিবিয়ে বলল।
“কী ছেলেমানুষি করছেন? বললাম না, ফাদার গুরুতর অসুস্থ। দিনের আলোয় তাঁর চোখ চেয়ে থাকতে কষ্ট হয় বলে মুখের উপর এক্সট্রা কালো কাপড় দিয়ে তার উপর কটন শিট চাপানো হয়েছে। তার পরেও আপনারা দেখতে চান?”
“চাই। তবে তার কারণ, আমি তো চলে যাব দু-দিন পরেই। আবার কবে আসব জানি না। ফাদার রডরিগের কথা এত শুনি যে, তাঁকে একবার চোখের দেখা না-দেখেই ফিরে যেতে মন চাইবে না,” বলতে-বলতে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে সন্তর্পণে উঠে ফাদার আন্তোনিওর বাধাদানের আগেই এক টানে ফাদার রডরিগের মুখের উপর থেকে চাদরটা সরিয়ে দিতেই বিস্ময়ে হাঁ হয়ে গেল।
চাদরের তলার স্ট্রেচারে শুয়ে আছেন যিনি, তিনি ফাদার রডরিগ হলে তাঁকে ফাদার আন্তোনিওর যমজ বলতে হয়। কারণ, যিনি শুয়ে আছেন তাঁর মুখে অবিকল ফাদার আন্তোনিওর মতো!” —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content