শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

চৈত্রের চিতাভস্ম উড়িয়ে বৈশাখ আসে। কাল-বৈশাখ। তোমার জীর্ণ আখরগুলির এবার লুটিয়ে পড়ার সময় হল। অনেক জন্ম, মৃত্যু, প্রীতি, অ-প্রেম, শোক, বেদনা, অভিমান আর বিদ্বেষ নিয়ে আরেকটা ক্যালেন্ডার শেষ হবে। শেষ পাতাটির-ও ধূলিসাৎ হওয়ার ললাট-লিখন অমোঘ হয়ে উঠবে এবার। চৈত্ররাতের বাতাস হাহাকার করে নাকি এসব কথাই বলে যায়।
ডিসেম্বর আর চৈত্রের দূরত্বটুকু এখন বেশ বুঝি। চৈত্রের গায়ে একটা শিহরণ আর অনেকখানি বিষাদ লেগে থাকে। বিষণ্ণ রিক্ত হেমন্ত, মেদুর বর্ষার থেকে সাবধানী ব্যবধানে উদাসী হাওয়ার পথে দাঁড়িয়ে থাকা তার। গায়ে বসন্তের রঙ নিয়েও তার বুকে ফাল্গুনের আনন্দ নেই, মার্গশীর্ষ অঘ্রাণের পূর্ণতা নেই, ডিসেম্বরের আকাঙ্ক্ষিত শৈত্যের মাঝে অভীপ্সিত ‘ওম’ টুকু নেই। তার কী আছে বোঝা ভার, কী এক নেই নেই ভাবের চেপে ধরা রিক্ততার লেশটুকু তার উত্তরীয় হয়ে মহাশূন্যের পানে ধাবিত হয় যেন আসন্ন দুপুরে, শেষ বিকেলের পড়ন্ত বেলায়। সময়ের মহাশবের মাঝে, জীবন-মরণের পাশে, অগণ্য নক্ষত্রদলের নিচে মহাকাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে চৈত্র। সকল রঙের মধ্যে, রূপের সমারোহেও সে স্বতন্ত্র।
আরও পড়ুন:

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৫: অকালরাবী জাতক—সময় গেলে সাধন হবে না

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৬৪: আকাশ এখনও মেঘলা

চৈত্র শেষের দিনে আজ চড়কপুজোর মেলা, সোচ্চার গাজনের সাথে সঙ্গেই বিদায়ের পালা, নতুন আরেকটি কালখণ্ডের অপেক্ষা, আবাহন। হে মহাজীবন, তোমার বসন্তদিনের জয়মালার ফুলে ফুলে ফাল্গুনের রং, চৈত্রের রিক্ত নিশ্বাস। তোমার নাগরদোলার পাকে পাকে ব্যাকুল আবেগ আর ঝঞ্ঝাবাতের ধারাপাত। তোমার উচ্চাবচ বন্ধুর উৎরাই চড়াইয়ে মিলে যায় চড়কের ঘূর্ণিপাক। তোমার আদিগন্ত চলার পথের চড়কের পাকে পাকেই জাগে আদিত্যের উদয়াস্ত অনন্ত মহাযাত্রার কালচক্রের মহাঘূর্ণি। এভাবেই আগমনীর পাশেই বিদায়গাথা, সমাপনের শেষেই আবাহন। বছর ঘোরে, চৈত্র আসে, যায়।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০০ : স্থানীয়রা দিনে কৃষি কাজ করতেন, আর রাতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতেন বিপ্লবীরা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৫: নৈতিকতার নিরিখে, মল্লযুদ্ধে জরাসন্ধবধ, আজও প্রাসঙ্গিক কেন?

তবু, ফুরোয় না তার, কিছুই ফুরোয় না যে! জীবনের শাখায় শাখায় আম্রমুকুল ধরে, জীবনের ফুল ঝরে যায় অন্য কোনও রাতে, ঝরাপাতায় ভরে ওঠে শীত-হেমন্তের পথের বাঁক। নবকিশলয়ের বসন্তরাতের নিশ্বাসে, চৈত্ররজনীর ব্যথাভরা লিপির অক্ষরে অক্ষরে, এই প্রহরশেষের রাঙা আলোয়, ভাঙা পথের রাঙা ধুলোয় চিরদিনের চৈত্রমাস আমরণের সর্বনাশের অকলঙ্ক অমলিন পদচিহ্ন রেখে যায়।
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content