শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

মা সারদা।

মা সারদা জয়রামবাটি থাকার সময় যোগীন মহারাজের দেওয়া কাঠের টেবিলের মাঝের কব্জা দিয়ে দুখণ্ডে জোড়া ভারি কাঠটা তাঁর পায়ের উপর পড়ে গেল। আঘাত লেগে চামড়া ছিঁড়ে রক্ত বেরিয়ে এল। ভীষণ ব্যথা হচ্ছে, শ্রীমা পা চেপে ধরে বসে আছেন, তাঁর চোখ দিয়ে জল ঝরতে লাগল। সকলে ছুটে এসে, ডাক্তারখানা থেকে ওষুধ এনে পায়ে বেঁধে দেওয়া হল।
শ্রীমা নিজের উপরে দোষ দিয়ে বললেন, ভাবলেন টেবিলটি একটু সরিয়ে দিয়ে পুরো ঘরখানা ভালো করে পরিষ্কার করবেন। দেখালেন তাই ঝাড়ু পড়ে আছে। ভারি কাঠ তুলতে গিয়ে হাত থেকে পড়ে যায়। তিনি বলেন যে, কর্মের ফল তো ভুগতেই হবে। তা না হলে অন্য কাউকে বললেই সরিয়ে দিত। এইমাত্র কোয়ালপাড়ার ছেলেটি জিনিস নিয়ে, বসে মুড়ি খেয়ে কথা বলে চলে গেল। তাকে বললেই সরিয়ে দিত। শ্রীমা বলেন যে, তখন মনে হয়নি। নিজের হাতে করতে গিয়ে পায়ে কাঠ পড়ে গেল, আঘাত লাগল। অদৃষ্টে যা আছে, তা তো ভুগতেই হবে, শ্রীমা বলেন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৮: সত্যনিষ্ঠতার মাপকাঠি কী নাস্তিকতার নিরিখে বিচার্য?

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০২: শ্রীমার অন্তিম সময়কালীন ভবিষ্যবাণী

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬২: এক নির্বাসিত রাজপুত্রের কথা

তিনি স্থিরভাবে সেই স্থানে বসে ধীরে ধীরে কথা বলছেন যখন, শুনতে পেয়ে নলিনীদিদি ছুটে আসেন। দেখে খুব দুঃখ করতে লাগলেন আর সঙ্গে সঙ্গে ছোটমেয়ের মতো শাসন করে তাঁকে বলছেন যে, শ্রীমার সব কাজ নিজের হাতে না করলে ভাল লাগে না। কেন এই ভারি কাঠ তুলতে যাওয়া। একি কম ভারী? বাড়িতে এত লোক আছে, কাউকে বললেই তুলে দিত, তা নয়, উনি নিজে করবেন। আরও বলেন, ‘এখন দেখ দিকিন, কি কষ্ট হচ্ছে, কদিন ভুগতে হবে, কি হবে, কে জানে?’
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৪: ভুবন চিল ও শঙ্খচিল

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৩: পরেশের পরশপাথর

নলিনীদি ঘটনাটাকে খুব বাড়িয়ে তুলেছেন। শ্রীমা চুপ করে সব শুনলেন। ব্যথা তখন অনেকটা কমেছে। সেইসময় যে ভক্ত তাঁর দেখাশোনা করতেন, তাঁকে ডেকে ধীরে ধীরে বললেন, ‘দেখ, এসব কথা কলকাতায় কিছু লিখো না। তাহলে তারা লোক পাঠাবে, কষ্ট করে কারা আবার আসবে। আর মিছিমিছি, হইচই শুরু হবে’। শ্রীমা তাকে বিশেষভাবে চুপচাপ থাকতে বললেন। বলেন যে, আঘাত বিশেষ কিছু নয়, সেরে যাবে শিগগির। আর তাঁর আদেশানুসারে ভক্ত কাউকে কিছু লিখলেন না। শ্রীমা কোনও বিষয়েই কাউকে ব্যস্ত করতে চান না। নিজের দুঃখকষ্ট যতদূর সম্ভব চেপে রেখে নিজেই সহ্য করতেন।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২০: রবীন্দ্রনাথ আশ্রমের একমাত্র তাঁকেই প্রণাম করতেন

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬০: পাহাড়ের চূড়ায় বসে দেখলাম হিমবাহের সেই অপরূপ শোভা

তবে শরৎ মহারাজ অপরের চিঠিতে শ্রীমার আঘাতের কথা জানতে পেরে আরামবাগের ভক্ত ডাক্তার প্রভাকরবাবুকে চিঠি লেখেন। তিনি যাতে জয়রামবাটি গিয়ে শ্রীমার আঘাত পরীক্ষা করে তাঁকে লিখে জানান। প্রভাকরবাবু চিঠি পেয়ে যখন আসেন, তখন শ্রীমার আঘাতের ঘা প্রায় সেরে গেছে আর ব্যথা নেই বললেই চলে। প্রভাকরবাবু সব দেখে একটু ওষুধের ব্যবস্থা করলেন আর শরৎ মহারাজকেও সবকিছু লিখে জানালেন। কোন উদ্বেগের কারণ নেই, সেরে গেছে। আর এই বিষয়ে শরৎ মহারাজ শ্রীমাকেও অতি বিনীতভাবে চিঠি লেখেন আর তাঁর পায়ে আঘাত লাগার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। আর এমন কোনও কিছু হলে কাতরভাবে তাকে জানাবার জন্য শ্রীমার কাছে প্রার্থনা করেন।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১১৯: গোখরো কিংবা কালাচ

শ্রীমার কাছে থাকা ভক্তটি তাঁকে কিছু না জানানোর জন্য অনুযোগ করে দুঃখ প্রকাশও করেন। শ্রীমা সকলকে শিক্ষা দিতেন, ‘মানুষ নিজ কর্মের ফল ভোগ করে, এজন্য অপরকে দোষী না করে ভগবানের কাছে প্রার্থনা ও তাঁর কৃপার উপর নির্ভর করে ধীর ভাবে সব অবস্থায় সহ্য করে যাওয়াই প্রয়োজন’।—চলবে।
* আলোকের ঝর্ণাধারায় (sarada-devi): ড. মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় (Dr. Mousumi Chattopadhyay), অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, বেথুন কলেজ।।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content