কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী।

পুরাকালে উত্তরাপথে মহাকংস রাজত্ব করতেন। তাঁর রাজধানীর নাম অসিতাঞ্জন। তাঁর দুটি পুত্র এবং একটি কন্যা ছিল। তাদের নাম যথাক্রমে কংস, উপকংস ও দেবগর্ভা। দেবগর্ভার জন্মের সময় দৈবজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এর গর্ভজ পুত্রের হাতেই কংসরাজ্য ধ্বংস হবে। এমন ভয়ানক আশঙ্কা সত্বেও রাজা অপত্যস্নেহবশে কন্যার প্রাণহরণ করতে পারলেন না। ভবিষ্যতের হাতেই এসব আশঙ্কাকে সমর্পণ করলেন। মনে মনে ভাবলেন যে এসব বিষয়ে এই কন্যার সহোদররাই যথাকর্তব্য স্থির করবে। ক্রমে কাল কাটতে লাগল তার গতিতে। কালক্রমে মহাকংস দেহত্যাগ করলেন।
মহাকংস প্রয়াত হলে কংস হলেন রাজা, উপরাজ হলেন উপকংস। তাঁরা সেই ভাবী অনিষ্টবিষয়ে বিবেচনা করে এক উপায় অবলম্বন করলেন। ভগিনীকে হত্যা করলে লোকসমাজে নিন্দিত হতে হবে। মুখ দেখানোর উপায় থাকবে না। তার চেয়ে বরং ভগিনী যদি অনূঢ়া থাকে, তবে এই সমস্যার মূলচ্ছেদ হতে পারে। এমন ভেবে তাঁরা একটি একস্তম্ভবিশিষ্ট প্রাসাদ নির্মাণ করে তাতে ভগিনীকে আবদ্ধ করে রাখলেন। তার পরিচর্যায় নিযুক্ত হল নন্দগোপা নামক এক রমণী। নন্দগোপার স্বামী অন্ধকবিষ্ণু নিযুক্ত থাকল দ্বাররক্ষায় প্রহরার কাজে।

যমুনাতটে উত্তর মথুরায় সেই সময় রাজত্ব করতেন যে রাজা তাঁর নাম ছিল মহাসাগর। তাঁর দুই পুত্র যথাক্রমে সাগর ও উপসাগর। মহাসাগরের প্রয়াণের পর সাগর রাজা হলেন, উপসাগর হলেন উপরাজ। এই উপসাগর কালক্রমে এই কাহিনির এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠবেন। কিন্তু কেমন করে? কী সম্পর্ক তাঁর ওই অসিতাঞ্জন নগরের সঙ্গে?
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৩: কেউটে

উপন্যাস, পর্ব-৮8 : আকাশ এখনও মেঘলা

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৫ : দ্বীপি-জাতক — না যেন করি ভয়

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮১: সীমান্ত-সংঘাত

উপকংস ও উপসাগর এককালে সতীর্থ ছিলেন। গুরুগৃহে বিদ্যাভ্যাসকালে তাঁদের সৌহার্দ্যবন্ধন জন্মেছিল। উপসাগর শুদ্ধচরিত্রের মানুষ ছিলেন না। স্বরাজ্যের অন্তঃপুরে কোনও এক বিধিবহির্ভূত আচরণের কারণে তিনি অগ্রজ সাগরের বিরাগভাজন হলেন। ফলে তাঁকে পালাতে হল নিজের রাজ্য থেকে। কংসের রাজ্যে এসে তিনি উপকংসের শরণাপন্ন হলেন। উপকংস সরলমনে তাঁকে আশ্রয় দিলেন। পরিচিত করিয়ে দিলেন রাজা কংসের সঙ্গে। রাজাও তাঁকে আপ্যায়িত করলেন।
আরও পড়ুন:

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

একদিন দেবগর্ভার প্রাসাদ দেখতে পেলেন উপসাগর। সেদিন তিনি রাজদর্শনে যাচ্ছিলেন। এমন সময় চোখে পড়ল সেই একস্তম্ভ প্রাসাদ। অবাক হলেন রাজপুত্তুর! “এ প্রাসাদ কার?”
পরে জানতে পারলেন দেবগর্ভার কাহিনি। সেদিন থেকেই দেবগর্ভার প্রতি তাঁর চিত্ত আসক্ত হল।

তারপর অন্য একদিনের কথা। সেদিন-ও উপসাগর রাজসন্দর্শনে চলেছেন। আড়াল থেকে দেবগর্ভা তাঁকে লক্ষ্য করলেন। “কে ইনি? কে এই কন্দর্পকান্তি যুবাপুরুষ?” পাশ থেকে নন্দগোপা জানাল “ইনি মহাসাগরের পুত্র।” দেবগর্ভাও অনুরক্ত হলেন উপসাগরে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১০ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৩

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা

পূর্বরাগ, অনুরাগের পর এবার অভিসারের পালা। নন্দগোপা এখন দূতীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হল। উপসাগর একদিন নন্দগোপাকে কিছু উৎকোচ দিয়ে বলল, “দেখা করিয়ে দিতে হবে।” নন্দগোপা এই সংবাদ রাজকন্যাকে জানালে তিনি পুলকিত হলেন। অনুরাগ তো জন্মেছিল আগেই, এবার বুঝি সেই পরম মুহূর্ত আসন্ন!
“বেশ তো, নিয়ে আয় তাঁকে। তিনিই আমার প্রেমাস্পদ।”
তারপর যা হয়, যুগে যুগে যা হয়েছে। নন্দগোপার কাছ থেকে উপসাগর অভিজ্ঞান পেলেন একটি, পথের বাধা আর বাধা রইল না। নন্দগোপা তারপর পথ দেখিয়ে তাঁকে নিয়ে এলেন প্রাসাদের সুরক্ষিত অভ্যন্তরে। তখন তমোময়ী গভীর রজনীর অন্তরালে ঢাকা পড়েছে জগৎ চরাচর।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭২: কামোদ্দীপক প্ররোচনা ও রাবণের পরস্ত্রী-অপহরণের লোলুপতা আজও অব্যাহত

এরপর থেকে প্রতি নিশিরাতেই উপসাগরের গন্তব্য হল দেবগর্ভার সুরম্য প্রাসাদ। অনতিবিলম্বেই রাজকন্যার গর্ভসঞ্চার হল। নিয়তি অপ্রতিরোধ্য, লব্ধব্যমর্থং লভতে মনুষ্য। এবার কী হবে? যে আসন্ন বিপদের ছায়া কংসের রাজ্যে ক্রমস্ফুট হচ্ছে তা কি ঝঞ্ঝাবাত হয়ে আছড়ে পড়বে এবার? দেখা যাবে, পরবর্তী পর্বে।—চলবে।
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content