কলকাতায় বৃষ্টি

নায়ক।

উত্তম কুমার সারা জীবনে যতগুলো ছবিতে নিজেকে স্বমহিমায় প্রকাশ করেছেন প্রত্যেকটি ছবিরই চরিত্র কোনও না কোনও ভাবে আর পাঁচটার থেকে আলাদা হয়ে উঠেছে। আমাদের অনুসন্ধান চলবে ছবির চরিত্র কেন্দ্রিক উত্তরণ অবতরণ এই মাপকাঠিতে।

আমরা তার সমগ্র অভিনয় জীবন যদি ভালোভাবে বিচার করি সেখানে দেখব একই পেশা গত ভাবে মিল আছে এরকম ছবির সংখ্যা বেশ ভালো রকমই। তাছাড়া উত্তম কেন্দ্রিক ছবিগুলোর তুল্যমূল্য বিচারের ক্ষমতা শুধুই তর্কের বিষয়। তর্কশাস্ত্রের মানচিত্রকে হিমঘরে পাঠিয়ে শুধু বৌদ্ধিক উৎকর্ষকে মায় মনের একরাশ মন্দলাগা-কে তালাচাবি দিয়ে ভালোলাগায় খানিকটা ঝালিয়ে নেবার জন্য আমরা বাছাই করেছি শতবর্ষে শত ছবি।

অন্যদিকে মনের আদিখ্যেতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে বলে রাখা ভালো প্রথম পঞ্চাশটি ছবি একটু উচ্চ মার্গের। আর দ্বিতীয় পঞ্চাশটি ততটা উচ্চকোটির নয়। আবার মধ্যমেধার মাঝারিয়ানাও নয়। আমজনতার মনোলোভা। যদিও উত্তম পরবর্তী বাংলা ছবির তথাকথিত সুশীল ছবিও এ হেন ছবির মানের থেকে যোজন যোজন দূরে।
তাহলে কে, কার থেকে এগিয়ে থাকা বা পিছিয়ে থাকা! আসলে ‘শিল্প’ শব্দের দুটো ইংরেজি। একটা ‘আর্ট’ আর অন্যটা ‘ইন্ডাস্ট্রি’। ‘উত্তম কুমার’ নামটা বোধহয় এ দুটি ইংরেজি শব্দের অদৃশ্য সেতু। এবার দেখব নির্বাচিত শত ছবির উচ্চ কোটিভূক্ত প্রথম অর্ধের পঞ্চাশটি।
 

১. হ্রদ : ১৯৫৫

উত্তম কুমারের অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের একটি উল্লেখযোগ্য ছবি। পুরনো বাংলা সিনেমার আবহ, গল্প বলার সরলতা এবং তরুণ উত্তমকে দেখার জন্য ছবিটি অবশ্যই একবার দেখা যায়। ছবির নায়ক হিসাবে উত্তম কুমার সেবছর সেরা অভিনেতার বিএফজেএ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন।
 

২. সাগরিকা : ১৯৫৬

উত্তম-সুচিত্রার রোম্যান্টিক রসায়নের অন্যতম সুন্দর নিদর্শন। প্রেম, গান এবং আবেগের মেলবন্ধনে তৈরি এই ছবি বাংলা রোম্যান্টিক সিনেমার স্বর্ণযুগকে অনুভব করায়।
 

৩. সাহেব বিবি গোলাম : ১৯৫৬

উত্তম কুমারের প্রচলিত রোম্যান্টিক ইমেজের বাইরে অসাধারণ অভিনয়ের পরিচয় মেলে। পুরনো কলকাতার বাবু কালচার তথা সমাজজীবন, সম্পর্ক ও পতনের গল্প ছবিটিকে আজও আকর্ষণীয় করে রেখেছে।
 

৪. চিরকুমার সভা : ১৯৫৬

হাস্যরস, প্রেম ও ভুল বোঝাবুঝিতে ভরা মনোরঞ্জনমূলক ছবি। হালকা মেজাজে পুরনো দিনের বাংলা সিনেমার আনন্দ পেতে চাইলে এটি দেখতেই পারেন।
 

৫. নবজন্ম : ১৯৫৬

গল্পের সঙ্গে মানবিক আবেগের সুন্দর মেলবন্ধন। উত্তম কুমারের অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর গানের উপস্থিতিও ছবিটির বিশেষ আকর্ষণ।
 

৬. হারানো সুর : ১৯৫৭

উত্তম-সুচিত্রার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রেমের ছবি। স্মৃতি হারানো, ভালোবাসা ও পুনর্মিলনের আবেগ দর্শককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে। রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত সে বছরের ছবি।
 

৭. চন্দ্রনাথ : ১৯৫৭

শরৎচন্দ্রের সাহিত্যকে পর্দায় দেখার আলাদা আনন্দ রয়েছে। প্রেম, আত্মত্যাগ ও সামাজিক বাধার মধ্যে উত্তম কুমারের অভিনয় ছবিটিকে স্মরণীয় করেছে। মেট্রো সিনেমায় মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি।
 

৮. রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত : ১৯৫৮

শরৎচন্দ্রের অমর চরিত্রগুলিকে কেন্দ্র করে তৈরি আবেগঘন ছবি। প্রেম ও বিচ্ছেদের পাশাপাশি জীবনের অনিশ্চয়তাকে অনুভব করার জন্য ছবিটি দেখা উচিত।
 

৯. শিকার : ১৯৫৮

রোম্যান্সের সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চার ও রহস্যের স্বাদ রয়েছে। উত্তম কুমারের অন্য ধরনের চরিত্র ও অভিনয় দেখতে চাইলে ছবিটি বেশ উপভোগ্য।
 

১০. বিচারক : ১৯৫৯

মানুষ, অপরাধ এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে ঘিরে তৈরি শক্তিশালী নাটক। উত্তম কুমারের সংযত অভিনয় ছবিটির অন্যতম বড় আকর্ষণ।

কলকাতায় বৃষ্টি

সাগরিকা।

 

১১. অবাক পৃথিবী : ১৯৫৯

সমাজ ও মানুষের জীবনের নানা টানাপোড়েনকে সামনে আনে। উত্তম কুমারের অভিনয়ের পাশাপাশি সময়ের সামাজিক বাস্তবতাও ছবিটির বড় সম্পদ।
 

১২. রাজা সাজা : ১৯৬০

রোম্যান্স, হাস্যরস ও বিনোদনের সুন্দর মিশ্রণ। উত্তম কুমারের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় দেখতে চাইলে এই ছবি বেশ আনন্দ দেবে।
 

১৩. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন : ১৯৬০

রবীন্দ্রনাথের গল্পের মানবিক আবেদনকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছে। সম্পর্ক, মায়া ও বিচ্ছেদের আবেগ ছবিটিকে আজও হৃদয়স্পর্শী করে।
 

১৪. ঝিন্দের বন্দী : ১৯৬১

অ্যাডভেঞ্চার, রাজনীতি, ষড়যন্ত্র ও রোমাঞ্চ—সবকিছু একসঙ্গে। উত্তম কুমারের তারকাসুলভ উপস্থিতির পাশাপাশি তাঁর অভিনয়ের অন্য দিকও এখানে দেখা যায়।
 

১৫. সপ্তপদী : ১৯৬১

প্রেমের গল্পের আড়ালে ধর্ম, সমাজ ও ব্যক্তিস্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে। উত্তম-সুচিত্রার অভিনয় এবং অসাধারণ আবেগ ছবিটিকে চিরকালীন করেছে। ছবির নায়ক হিসাবে উত্তম কুমার সেবছর সেরা অভিনেতার বিএফজেএ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন।
 

১৬. শেষ অঙ্ক : ১৯৬৩

রহস্য ও উত্তেজনায় ভরা ছবি। শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে তা জানার কৌতূহল ধরে রাখে এবং উত্তম কুমারের অভিনয়ের অন্যরকম স্বাদ দেয়।
 

১৭. উত্তরায়ণ : ১৯৬৩

সম্পর্ক ও জীবনের জটিলতাকে কেন্দ্র করে তৈরি পরিণত একটি গল্প। উত্তম কুমারের সংযত ও আবেগপূর্ণ অভিনয়ের জন্য ছবিটি বিশেষভাবে দেখার মতো।
 

১৮. নিশীথে : ১৯৬৩

রাতের আবহ, রহস্য ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ছবিটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। উত্তম কুমারের অভিয় এখানে প্রচলিত রোম্যান্টিক নায়কের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়।
 

১৯. জতুগৃহ : ১৯৬৪

দাম্পত্য সম্পর্কের ভাঙন ও মানুষের মানসিক দূরত্বের অসাধারণ গল্প। নিছক প্রেমের ছবি নয়—মানুষের সম্পর্ক বুঝতে এই ছবিটি অবশ্যই দেখা উচিত। সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে এটি উত্তম কুমার অভিনীত ও মুক্তিপ্রাপ্ত ১০০ তম ছবি ছিল। ছবির নায়ক হিসাবে উত্তম কুমার সেবছর সেরা অভিনেতার বিএফজেএ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন।
 

২০. লাল পাথর : ১৯৬৪

রহস্য, প্রেম ও মানসিক দ্বন্দ্বের চমৎকার মিশ্রণ। উত্তম কুমারের পাশাপাশি নির্মল কুমার ও অন্যান্য শিল্পীদের অভিনয়ও ছবিটিকে সমৃদ্ধ করেছে।

আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৮ : দেয়া নেয়া

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!, পর্ব-১৫০: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ৩০

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৪: সোনার হরিণ কোথায় নেই? আছে সর্বত্র

 

২১. নায়ক : ১৯৬৬

সত্যজিৎ রায়ের এই ছবিতে একজন জনপ্রিয় তারকার বাইরের চাকচিক্যের আড়ালে থাকা মানুষটিকে দেখা যায়। উত্তম কুমারের অভিনয় কেন এত বড় মাপের ছিল, তা বোঝার জন্য এটি অবশ্যই দেখতে হবে।
 

২২. শুধু একটি বছর : ১৯৬৬

সময়, সম্পর্ক ও মানুষের জীবনের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি। পরিচালক হিসেবেও উত্তম কুমারের সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়।
 

২৩. চিড়িয়াখানা : ১৯৬৭

রহস্য, খুন এবং তদন্তের গল্প। সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনা এবং উত্তম কুমারের অভিনয়—দুইয়ের মিলনে এটি বাংলা রহস্য ছবির অন্যতম আকর্ষণীয় উদাহরণ।
 

২৪. এন্টনি ফিরিঙ্গি : ১৯৬৭

এক বিদেশির বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার অসাধারণ কাহিনি। এ ছবির জন্য উত্তম কুমারের অভিনয় জাতীয় স্তরেও স্বীকৃতি পেয়েছিল—তাই এটি অবশ্যই দেখার মতো।
 

২৫. জীবন মৃত্যু : ১৯৬৭

মানুষের জীবন, সম্পর্ক ও সংকটকে ঘিরে তৈরি আবেগঘন গল্প। উত্তম কুমারের পরিণত অভিনয় ছবিটির প্রধান আকর্ষণ।
 

২৬. চৌরঙ্গী : ১৯৬৮

কলকাতার বিখ্যাত হোটেলকে কেন্দ্র করে নানা মানুষের জীবন, প্রেম ও গোপন সম্পর্কের গল্প। আধুনিক বাবু কালচারে ভরা শহুরে জীবনের এক টুকরো ছবি হিসেবে আজও দারুণ উপভোগ্য।
 

২৭. সাবরমতী : ১৯৬৯

প্রেম ও সম্পর্কের গল্পে উত্তম কুমারের স্বাভাবিক অভিনয় চোখে পড়ে। পুরনো দিনের রোম্যান্টিক সিনেমার আবেগ উপভোগ করতে চাইলে দেখতে পারেন।
 

২৮. অপরিচিত : ১৯৬৯

পরিচয়, সম্পর্ক ও মানুষের অন্তর্লুকানো অনুভূতিকে ঘিরে তৈরি গল্প। উত্তম কুমারের অভিনয়ের পাশাপাশি ছবিটির আবেগঘন পরিবেশ দর্শককে টানে।
 

২৯. মন নিয়ে : ১৯৬

প্রেম ও সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে তৈরি মনোরঞ্জনমূলক ছবি। উত্তম কুমারের স্বাভাবিক অভিনয় এবং গান-আবেগ ছবিটিকে উপভোগ্য করে।
 

৩০. নিশিপদ্ম : ১৯৭

মানুষের একাকীত্ব, ভালোবাসা ও বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষার অসাধারণ গল্প। উত্তম কুমারের অভিনয়ের মানবিক দিক দেখতে চাইলে এটি অবশ্যই দেখুন।

কলকাতায় বৃষ্টি

দেয়া নেয়া।

 

৩১. দুটি মন : ১৯৭০

দুটি মানুষের সম্পর্ক ও আবেগের জটিলতা নিয়ে তৈরি। প্রেমের গল্প হলেও এর মধ্যে মানুষের মন বোঝার যথেষ্ট উপাদান রয়েছে।
 

৩২. মঞ্জরী অপেরা : ১৯৭০

নাটক, গান ও আবেগের মিশ্রণে তৈরি অন্যরকম ছবি। উত্তম কুমারের বহুমুখী অভিনয় দেখতে আগ্রহীদের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণীয়।
 

৩৩. ধন্যি মেয়ে — ১৯৭১

হাসি-ঠাট্টা, গ্রামবাংলার পরিবেশ এবং ফুটবলকে ঘিরে দারুণ আনন্দের ছবি। উত্তম কুমারের কমেডি-টাইমিং দেখতে চাইলে এটি অবশ্যই দেখুন।

 

৩৪. ছদ্মবেশী : ১৯৭১

ছদ্মবেশ, হাস্যরস ও ভুল বোঝাবুঝিতে ভরা বিনোদনমূলক ছবি। উত্তম কুমারের কমেডি অভিনয়ের অন্যতম সুন্দর উদাহরণ।
 

৩৫. এখানে পিঞ্জর : ১৯৭১

মানুষের জীবনের বন্দিত্ব ও সম্পর্কের টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে তৈরি। উত্তম কুমারের সিরিয়াস অভিনয়ের স্বাদ পেতে ছবিটি দেখা যায়।
 

৩৬. জীবন জিজ্ঞাসা : ১৯৭১

জীবন, ভালোবাসা ও মানুষের অস্তিত্ব নিয়ে ভাবায়। উত্তম কুমারের অভিনয়ে পরিণত আবেগ ছবিটিকে সাধারণ প্রেমের গল্পের চেয়ে আলাদা করেছে। ছবিটির কোর্টরুম দৃশ্য অন্যান্য ছবি থেকে উত্তম বাবুকে অনেক আলাদা করেছে।
 

৩৭. স্ত্রী : ১৯৭২

নারী-পুরুষের সম্পর্ক, সংসার ও সামাজিক মূল্যবোধের গল্প। পুরনো সমাজব্যবস্থাকে বুঝতে এবং উত্তম কুমারের সংযত অভিনয় দেখতে ছবিটি গুরুত্বপূর্ণ।
 

৩৮. বনপলাশীর পদাবলী : ১৯৭৩

গ্রামবাংলা, প্রেম, সম্পর্ক ও সমাজজীবনের বিশাল ক্যানভাস। উত্তম কুমারের অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর পরিচালনাগত দক্ষতাও এখানে দেখা যায়।
 

৩৯. যদুবংশ : ১৯৭৪

পারিবারিক সম্পর্ক ও মানুষের মানসিক দ্বন্দ্বকে ঘিরে তৈরি। উত্তম কুমারের পরিণত অভিনয় ছবিটির মূল আকর্ষণ।
 

৪০. যদি জানতেম : ১৯৭৪

প্রেম, অনুশোচনা ও সম্পর্কের আবেগকে কেন্দ্র করে তৈরি। উত্তম কুমারের পরিণত বয়সের রোম্যান্টিক অভিনয় দেখতে চাইলে এটি ভালো পছন্দ।

আরও পড়ুন:

সংস্কৃত দিবস

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

 

৪১. অমানুষ : ১৯৭৫

এই হল উত্তম কুমারের ‘দেবদাস’ হওয়ার অভিনয়। প্রতিশোধ, অন্যায় এবং মানুষের জীবনের নির্মম বাস্তবতার গল্প। উত্তম কুমারের চরিত্রের পরিবর্তন ও অভিনয়ের তীব্রতা ছবিটিকে অত্যন্ত উপভোগ্য করেছে।
 

৪২. অগ্নীশ্বর : ১৯৭৫

এক আদর্শবাদী চিকিৎসকের জীবন ও মানবসেবার কাহিনি। উত্তম কুমারের অভিনয়ের গভীরতা বুঝতে চাইলে এই ছবি অবশ্যই দেখতে হবে।
 

৪৩. বাঘ বন্দী খেলা : ১৯৭৫

রোমাঞ্চ, রহস্য ও বিনোদনের চমৎকার সংমিশ্রণ। উত্তম কুমারের জনপ্রিয় তারকা-ইমেজ ভেঙে খলনায়ক ইমেজির ছবি। মুখভঙ্গি এবং শুধুমাত্র ভ্রু নাচিয়েও যে ভিলেনের রোল করা যায় সে ধরণের অভিনয়ের স্বাদ এখানে পাওয়া যায়।
 

৪৪. সন্ন্যাসী রাজা : ১৯৭৫

রহস্য, রাজপরিবার, পরিচয় ও ষড়যন্ত্রে ভরা জমজমাট গল্প। উত্তম কুমারের দ্বৈত চরিত্রাভিনয় ছবিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। সে সময় মানুষ সারা দেশে চলা ‘শোলে’ ছবি ছেড়ে এ ছবি দেখেছিলেন।
 

৪৫. নগর দর্পণে : ১৯৭৫

শহুরে সমাজ ও মানুষের সম্পর্কের নানা দিককে তুলে ধরে। উত্তম কুমারের অভিনয়ের পাশাপাশি সময়ের সামাজিক বাস্তবতাও দেখতে পাওয়া যায়।
 

৪৬. আমি সে ও সখা : ১৯৭৫

বন্ধুত্ব, প্রেম ও সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে তৈরি ছবি। উত্তম কুমারের স্বাভাবিক অভিনয় এবং মানবিক আবেগের জন্য এটি দেখার মতো।
 

৪৭. বহ্নিশিখা : ১৯৭৬

প্রেম, সংগ্রাম ও জীবনের কঠিন বাস্তবতার গল্প। উত্তম কুমারের পরিণত অভিনয় ছবিটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।
 

৪৮. আনন্দ আশ্রম : ১৯৭৭

পরিবার, সম্পর্ক, ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের আবেগে ভরা ছবি। উত্তম কুমারের সঙ্গে অশোক কুমার,শর্মিলা ঠাকুর ও অন্যান্য শিল্পীদের অভিনয় ছবিটিকে আজও দর্শনীয় করে রেখেছে।
ছবির নায়ক হিসাবে উত্তম কুমার সেবছর সেরা অভিনেতার বি.এফ.জে.এ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন।
 

৪৯. ব্রজবুলি : ১৯৭৯

উত্তম কুমারের শেষ পর্বের অভিনয়জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি। তাঁর পরিণত অভিনয় এবং সেই সময়ের বাংলা সিনেমার স্বাদ পাওয়ার জন্য ছবিটি দেখা উচিত।
 

৫০. দুই পৃথিবী : ১৯৮০

জীবনের দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও মানুষের সম্পর্কের গল্প। উত্তম কুমারের শেষদিকের অভিনয় দেখার পাশাপাশি তাঁর দীর্ঘ চলচ্চিত্রযাত্রার একটি আবেগপূর্ণ সমাপ্তি হিসেবেও ছবিটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

কলকাতায় বৃষ্টি

স্ত্রী।

এবার দেখবো সকলের জন্য উপভোগ্য সর্বকালের সেরা দ্বিতীয় অর্ধের ৫০ টি ছবি। যে ছবিগুলো তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা সবার সামনে দেখলে নিজেদের সম্মানহানিঊ হয় বলে মনে করতেন এবং বাণিজ্যিক ছবির আওতাভুক্ত করে লম্বা চওড়া লেকচার দিতেন। কিন্তু আম জনতার মাথায় তুলে নেওয়া এ ৫০টি ছবিও কোনও দেশের সারস্বত সম্পদ হিসাবে পরিগণিত হতে পারে।
 

৫১. বসু পরিবার : ১৯৫২

উত্তম কুমারের অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শুরুর দিকের ছবি। পারিবারিক সম্পর্ক, আবেগ ও তরুণ উত্তমের অভিনয় দেখার জন্য অবশ্যই দেখার মতো।
 

৫২. চাঁপাডাঙ্গার বৌ : ১৯৫৪

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাহিনি অবলম্বনে গ্রামবাংলার সহজ-সরল মানুষের জীবন ও সম্পর্কের গল্প। মহাতপ চরিত্রে উত্তমের স্বাভাবিক অভিনয় এই ছবির অন্যতম আকর্ষণ।
 

৫৩. অগ্নিপরীক্ষা : ১৯৫৪

উত্তম-সুচিত্রা জুটির কিংবদন্তি হয়ে ওঠার অন্যতম প্রধান ছবি। আশাপূর্ণা দেবীর কাহিনি অবলম্বনে প্রেম, সামাজিক বাধা ও আবেগের টানাপোড়েন আজও দর্শককে টানে।
 

৫৪. রাইকমল : ১৯৫৫

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রেম, মানবিকতা ও গ্রামীণ পরিবেশের আবহে তৈরি মন ছুঁয়ে যাওয়া ছবি। উত্তমের অভিনয়ের কোমল দিকটি দেখতে চাইলে অবশ্যই দেখুন।
 

৫৫. শাপমোচন — ১৯৫৫

ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় রচিত ‘সন্ধ্যারাগ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ভালোবাসা, ভুল বোঝাবুঝি ও বিচ্ছেদের আবেগে ভরা এক স্মরণীয় প্রেমের ছবি। উত্তম-সুচিত্রার রোমান্টিক রসায়নই বড় আকর্ষণ। গান এ ছবির একটি প্রধান সম্পদ।
 

৫৬. উপহার : ১৯৫৫

তপন সিংহ পরিচালিত পারিবারিক আবেগ ও সম্পর্কের টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে তৈরি। উত্তমের সংযত অভিনয় ছবিটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
 

৫৭. সবার উপরে : ১৯৫৫

প্রেমের পাশাপাশি আত্মসম্মান ও মানবিক মূল্যবোধের গল্প। পুরনো দিনের সাদাসিধে অথচ আবেগপূর্ণ বাংলা সিনেমার স্বাদ পেতে দেখুন।
 

৫৮. রাতভোর : ১৯৫৬

মৃণাল সেন পরিচালিত রাতের আবহে সম্পর্ক ও জীবনের নানা টানাপোড়েনের গল্প। উত্তমের অভিনয়ের প্রাথমিক পরিণত রূপ দেখতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
 

৫৯. পুত্রবধূ : ১৯৫৬

সংসার, পরিবার ও সম্পর্কের মূল্যবোধকে ঘিরে আবেগঘন গল্প। পুরনো বাঙালি পরিবারের মানসিকতা বুঝতেও ছবিটি আকর্ষণীয়।
 

৬০. শিল্পী : ১৯৫৬

শিল্পীজীবন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের সংঘাতকে কেন্দ্র করে তৈরি। উত্তমের অভিনয়ের পাশাপাশি বাংলা রক্ষণশীল পরিবার ও তৎকালীন সাংস্কৃতিক পরিবেশেরও পরিচয় পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮২: ডাবল ধামাকা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৪: গোখরো

 

৬১. বড়দিদি : ১৯৫৭

পরিবারের দায়িত্ব, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের গল্প। আবেগপ্রবণ পারিবারিক সিনেমা পছন্দ করলে এই ছবি আপনাকে টানবে।
 

৬২. পৃথিবী আমারে চায় : ১৯৫৭

জীবন, ভালোবাসা ও মানুষের আকাঙ্ক্ষার গল্প। উত্তমের তারুণ্যের অভিনয় এবং সেই সময়ের সিনেমার আবহ উপভোগ করার জন্য দেখার মতো।
 

৬৩. তাসের ঘর : ১৯৫৭

সম্পর্কের ভিত কতটা নড়বড়ে হতে পারে—সেই প্রশ্নকে সামনে আনে। রহস্য ও আবেগের মিশেলে পুরনো দিনের ভিন্ন স্বাদের ছবি।
 

৬৪. পথে হলো দেরী : ১৯৫৭

প্রেমের পথে বাধা, অপেক্ষা ও ভাগ্যের খেলা—সব মিলিয়ে সুন্দর রোম্যান্টিক গল্প। উত্তম-সুচিত্রার রসায়নের জন্য বিশেষভাবে উপভোগ্য।গেভা কালারের রঞ্জিত প্রথম বাংলা ছবি।
 

৬৫. জীবন তৃষ্ণা : ১৯৫৭

আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত মানুষের অপূর্ণতা, আকাঙ্ক্ষা ও সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে তৈরি। উত্তমের আবেগঘন অভিনয় ছবিটির অন্যতম শক্তি।
 

৬৬. মানময়ী গার্লস স্কুল : ১৯৫৮

হালকা মেজাজের হাস্যরস ও সামাজিক ব্যঙ্গের দুর্দান্ত মিশেল। গম্ভীর উত্তমের বদলে মজার উত্তমকে দেখতে চাইলে এটি অবশ্যই দেখুন।
 

৬৭. ইন্দ্রানী : ১৯৫৮

প্রেমের সঙ্গে সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতার সংঘাত। উত্তম-সুচিত্রার পরিণত রোমান্টিক অভিনয়ের সুন্দর উদাহরণ। গান এ ছবিটি একটি প্রধান সম্পদ।
 

৬৮. সূর্যতোরণ : ১৯৫৮

সম্পর্ক, সমাজ ও মানুষের সংগ্রামের গল্প। উত্তমের অভিনয়ের পাশাপাশি তৎকালীন মধ্যবিত্ত বাঙালি জীবনের ছবি দেখতে পাবেন।
 

৬৯. যৌতুক : ১৯৫৮

সমাজের একটি গভীর কুপ্রথাকে কেন্দ্র করে তৈরি গুরুত্বপূর্ণ ছবি। আজও প্রাসঙ্গিক সামাজিক বক্তব্যের জন্য ছবিটি দেখা উচিত।
 

৭০. মরুতীর্থ হিংলাজ : ১৯৫৯

ভক্তি, বিশ্বাস, যাত্রা ও মানুষের মানসিক শক্তির অসাধারণ মিশ্রণ। উত্তমের রোমান্টিক ইমেজের বাইরে তাঁর অন্যরকম অভিনয় দেখতে এই ছবি জরুরি।

কলকাতায় বৃষ্টি

সপ্তপদী।

 

৭১. চাওয়া-পাওয়া : ১৯৫৯

হাসি, প্রেম, ভুল বোঝাবুঝি ও রোমান্সে ভরা চিরসবুজ বিনোদন। উত্তম-সুচিত্রার স্বতঃস্ফূর্ত রসায়নের জন্য বারবার দেখা যায়।
 

৭২. গলি থেকে রাজপথ : ১৯৫৯

সাধারণ মানুষের জীবন ও সামাজিক বাস্তবতার গল্প। উত্তমের নায়কসুলভ উপস্থিতির পাশাপাশি সমাজের বৈষম্যের ছবিও এখানে রয়েছে।
 

৭৩. সোনার হরিণ : ১৯৫৯

রহস্য, উত্তেজনা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে বিনোদনমূলক ছবি। উত্তমকে ভিন্ন পরিস্থিতিতে দেখতে চাইলে এটি ভালো পছন্দ।
 

৭৪. মায়ামৃগ : ১৯৬০

মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও সম্পর্কের মোহকে কেন্দ্র করে তৈরি। আবেগ ও মানবিকতার কারণে পুরনো দিনের দর্শকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
 

৭৫. সখের চোর : ১৯৬০

হাস্যরস, দুষ্টুমি ও বিনোদনে ভরা ছবি। উত্তম কুমারের কমেডি অভিনয় উপভোগ করতে চাইলে এটি মিস করা উচিত নয়।
 

৭৬. শুন বরনারী : ১৯৬০

নারীজীবন, প্রেম ও সামাজিক বাস্তবতার গল্প। উত্তমের অভিনয়ের পাশাপাশি তৎকালীন সমাজের মানসিকতাও বোঝা যায়।
 

৭৭. অগ্নিসংস্কার : ১৯৬১

আবেগ, সম্পর্ক ও সামাজিক দ্বন্দ্বের নাটকীয় গল্প। উত্তমের গম্ভীর ও আবেগপ্রবণ অভিনয় ছবিটির প্রধান আকর্ষণ।
 

৭৮. বিপাশা : ১৯৬২

প্রেম ও জীবনের জটিল সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তৈরি। উত্তম-সুচিত্রার পরিণত অভিনয় এবং আবেগের গভীরতার জন্য অবশ্যই দেখার মতো।
 

৭৯. শিউলিবাড়ি : ১৯৬২

পারিবারিক আবেগ ও সম্পর্কের গল্প। উত্তমের অভিনয়ের পাশাপাশি সেই সময়ের বাঙালি পারিবারিক জীবনের সুন্দর ছবি পাওয়া যায়।
 

৮০. ভ্রান্তিবিলাস : ১৯৬৩

ভুল পরিচয়, ভুল বোঝাবুঝি আর দুর্দান্ত হাস্যরস—এক কথায় অসাধারণ কমেডি। দ্বৈত চরিত্রে উত্তমের অভিনয় দেখার জন্য ছবিটি অবশ্যই দেখতে হবে।

আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

 

৮১. দেয়া নেয়া : ১৯৬৩

প্রেম, গান, হাসি এবং প্রাণবন্ত উত্তম-তনুজা জুটি—সব মিলিয়ে এক চিরসবুজ বিনোদন। মন ভালো করার সিনেমা হিসেবে আজও দারুণ।
 

৮২. বিভাস : ১৯৬৪

গভীর আবেগ, প্রেম ও জীবনের কঠিন বাস্তবতার গল্প। উত্তমের অভিনয়ের সংবেদনশীল দিকটি উপলব্ধি করতে ছবিটি গুরুত্বপূর্ণ।
 

৮৩. শঙ্খবেলা : ১৯৬৬

প্রেম, গান ও দাম্পত্য জীবনের মিষ্টি টানাপোড়েনের অসাধারণ ছবি। উত্তম-সুচিত্রার রসায়ন এবং মান্না-লতার গান ছবিটিকে চিরসবুজ করেছে।
 

৮৪. ছোটিসি মুলাকাত : ১৯৬৭ (হিন্দি)

‘অগ্নিপরীক্ষা’-র হিন্দি রূপ; উত্তম কুমারের সঙ্গে বৈজয়ন্তীমালার জুটি। বাংলা ছবির গল্প কীভাবে হিন্দি ভাষায় নতুনভাবে উপস্থাপিত হয়, তা দেখতে ছবিটি আকর্ষণীয়।

 

৮৫. গড় নাসিমপুর : ১৯৬৮

রহস্য, সম্পর্ক ও নাটকীয়তার মিশেলে তৈরি। উত্তমের অভিনয়ের ভিন্ন স্বাদ পেতে পুরনো দিনের দর্শকদের জন্য ভালো নির্বাচন।
 

৮৬. কমললতা : ১৯৬৯

সাহিত্যনির্ভর আবহ ও মানবিক সম্পর্কের গল্প। উত্তমের পরিণত অভিনয় এবং চরিত্রের গভীরতা উপভোগ করার জন্য দেখার মতো।
 

৮৭. জয় জয়ন্তী : ১৯৭১

প্রেম, সম্পর্ক ও জীবনের নানা ওঠাপড়ার গল্প। উত্তমের অভিনয়ের পরিণত পর্যায়ের একটি আকর্ষণীয় ছবি।
 

৮৮. বিরাজ বউ : ১৯৭২

শরৎচন্দ্রের সাহিত্যিক আবহে তৈরি গভীর মানবিক কাহিনি। সম্পর্ক, ত্যাগ ও ভালোবাসার শক্তি বুঝতে এই ছবি অবশ্যই দেখা উচিত।
 

৮৯. মেম সাহেব : ১৯৭২

প্রেমের সঙ্গে সাংবাদিকতা ও সমাজজীবনের গল্পকে মিলিয়েছে। উত্তমের রোমান্টিক অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর পরিণত ব্যক্তিত্বও এখানে স্পষ্ট।
 

৯০. ছিন্নপত্র : ১৯৭২

সম্পর্কের ভাঙন, একাকিত্ব ও মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্বের গল্প। উত্তমের অভিনয়ের গভীর ও সংবেদনশীল দিকটি দেখতে চাইলে ছবিটি গুরুত্বপূর্ণ।

কলকাতায় বৃষ্টি

শাপমোচন।

 

৯১. সোনার খাঁচা : ১৯৭৩

সমাজ, পরিবার ও সম্পর্কের নানা টানাপোড়েনের গল্প। উত্তমের পরিণত অভিনয় এবং সময়ের সামাজিক বাস্তবতা—দুটিই ছবিটিকে আকর্ষণীয় করেছে।
 

৯২. আলোর ঠিকানা : ১৯৭৪

অন্ধকার পরিস্থিতির মধ্যে মানুষের আশার সন্ধানের গল্প। উত্তমের অভিনয়ে জীবনের বাস্তবতা ও আবেগের সুন্দর প্রকাশ দেখা যায়।
 

৯৩. নিধিরাম সর্দার : ১৯৭৬

হাস্যরস ও সামাজিক ব্যঙ্গের মিশেলে তৈরি মজাদার ছবি। উত্তম কুমারের কমেডি ও চরিত্রাভিনয়ের অন্যরকম দিক দেখতে চাইলে দেখুন।
 

৯৪. সেই চোখ : ১৯৭৬

রহস্য ও আবেগের মিশেলে তৈরি ছবি। উত্তমের অভিনয়ের পাশাপাশি গল্পের টান দর্শককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে।
 

৯৫. ভোলা ময়রা : ১৯৭৭

লোকজ সংস্কৃতি ও সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত এক অন্যরকম গল্প। উত্তমের চরিত্রাভিনয় দেখার জন্য ছবিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
 

৯৬. কিতাব : ১৯৭৭ (হিন্দি)

গুলজারের সংবেদনশীল চলচ্চিত্রের জগতে উত্তম কুমারের উপস্থিতি—যাঁরা তাঁর হিন্দি অভিনয় দেখতে চান তাঁদের জন্য আকর্ষণীয়। ছবিতে শিশু-কেন্দ্রিক মানবিক গল্পও বিশেষ আবেদন তৈরি করে।
 

৯৭. বন্দী : ১৯৭৮

জীবনের কঠিন বাস্তবতা, সম্পর্ক ও আবেগের গল্প। উত্তমের পরিণত বয়সের অভিনয়ের শক্তি অনুভব করার জন্য দেখার মতো।
 

৯৮. ধনরাজ তামাং : ১৯৭৮

অ্যাকশন, সংগ্রাম ও নাটকীয়তার ভিন্ন স্বাদের ছবি। উত্তম কুমারকে প্রচলিত রোমান্টিক নায়কের বাইরে অন্যভাবে দেখতে চাইলে অবশ্যই দেখুন।
 

৯৯. দুঁরিয়া : ১৯৭৯ (হিন্দি)

হিন্দি ছবিতে উত্তম কুমারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি। বিশেষ করে তাঁর বাংলা ছবির বাইরের অভিনয়জীবন জানতে আগ্রহী দর্শকদের জন্য ছবিটি মূল্যবান।
 

১০০. প্লট নম্বর ফাইভ : ১৯৮১ (হিন্দি)

উত্তম কুমারের অভিনয়জীবনের একেবারে শেষ পর্যায়ের ব্যতিক্রমী ছবি। রোম্যান্টিক নায়ককে ভুলে এখানে তাঁকে রহস্যময় চরিত্রে দেখার সুযোগ—এই কারণেই ছবিটি আলাদা।

পরিশেষে একটা কথা বলে বিষয়টিতে বিরাম চিহ্ন দেব। তা হল সমস্ত ছবির নাম ধাম সালতামামি মুখস্থ করাই উত্তম জাতির বর্তমান কাজ নয়। খুব জরুরি ভিত্তিতে উত্তম কুমারের সমস্ত ছবির ডিজিটাল রেস্টোরেশন খুব জরুরি। না হলে শতবর্ষের স্মৃতিতর্পণ একসময় হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। তাঁর সৃষ্টির প্রতি উদাসীনতা বর্জন করে শ্রদ্ধা নিবেদনই হোক আজকের প্রজন্মের সেরা উপহার।

* উত্তম কথাচিত্র (Uttam Kumar–Mahanayak–Actor) : ড. সুশান্তকুমার বাগ (Sushanta Kumar Bag), অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, মহারানি কাশীশ্বরী কলেজ, কলকাতা।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content