রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী।

অসমের প্রাকৃতিক পরিবেশে অনেক রকমের বনজ উদ্ভিদ, গাছ দেখা যায়। এর মধ্যে বাঁশ গাছ বিশেষ উল্লেখ যোগ্য। অসমের মাটিতে অনেক রকমের বাঁশ গাছ জন্মায়। আর এই সব বাঁশ গাছের উৎপাদনও যথেষ্ট ভালো। বাঁশ-বেতের শিল্প অসমের বহু দিনের সম্পদ। অসমের এই হস্তশিল্পের চাহিদা সমগ্র ভারতে যেমন রয়েছে, তেমনি বিদেশেও এই বাঁশ বেতের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র সমাদৃত। অসম তথা সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় বহু প্রজাতির বাঁশ উৎপাদন হয়। উল্লেখ্য, সমগ্র পৃথিবীতে ৭৫ জাতির এবং ১২৫০ প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায়। আর ভারতে তার ২২টি জাতি এবং ১২৬টি প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১৬টি জাতের এবং ৮৯ প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায়।
দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজেই গ্রামাঞ্চলে বাঁশের ব্যবহার হয়ে থাকে। বহু লোকের জীবিকা এখনও এই বাঁশ বেতের উপর নির্ভর করে। অসমে গৃহস্থ বাড়িতে অনেক সময়ই বাঁশ গাছের ঝাড় দেখতে পাওয়া যায়। চা বাগানগুলিতেও বাঁশের চাহিদা প্রচুর। বাড়ির চারিদিকে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয় এখনও অসমে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু জনজাতির মধ্যে বাঁশ গাছের ‘গোটা’ খাবারও প্রচলন রয়েছে। তবে এই বাঁশের ‘গোটা’ খুব সহজে পাওয়াও যায় না। অসমে বাঁশের ব্যবহারও হয় প্রচুর। অসমের বেতের তৈরি শীতলপাটি এক মূল্যবান বস্তু এই পাটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি ব্যবহার করতেও লোকে পছন্দ করে।
আরও পড়ুন:

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৫: সমাপ্তি: শেষ হয়ে হইল না শেষ

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৩: অসমের লুপ্তপ্রায় দুই বিখ্যাত কুটির শিল্প

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬১: রাস্তায় গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেলে দুর্গতির কোনও সীমা থাকবে না

বাঁশ-বেতের তৈরি ব্যবহারিক কিছু জিনিসপত্রের মধ্য দিয়ে শিল্পকলা খুব দারুণ ভাবে প্রকাশ পায়। অসমের কারিগরীদের হাতে তৈরি বাঁশ বেতের গয়না খুব প্রসংশিত হয়। এই গয়নার কারুকার্য খুবই সূক্ষ এবং মনোরম হয়। অসমের এই বাঁশের তৈরি জিনিসগুলি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এমন কী বিদেশেও রপ্তানি হয়। এর মধ্যে ঘর সাজানোর ছোট-বড় জিনিস এবং বাঁশের বেতের তৈরি ফার্নিচারের চাহিদা খুব বেশি। অসমের বিভিন্ন জায়গায় এই বাঁশ বেতের শিল্পীরা রয়েছেন। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে দৈনন্দিন ব্যবহারিক জিনিসের মধ্যে বাঁশ-বেতের জিনিসপত্রগুলি যেন মানসিক এক শান্তি প্রদান করে।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৩: মেথরকে ডেকে এনে বসাতেন নিজের বিছানায়

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২২: য পলায়তি, স জীবতি

আধুনিক সাজ-সরঞ্জামের মধ্যে এই মৃৎশিল্পও কিন্তু যথেষ্ট সমাদৃত হয়ে থাকে। এক সময় এই মাটির তৈরি জিনিসপত্র দৌনন্দিন জীবনে বহুল ভাবে ব্যবহৃত হত। তবে এখন এই মাটির তৈরি সামগ্রী তার শৈল্পিক গুণ সর্বজনের কাছে প্রশংসিত হয়। গুয়াহাটির আমবাড়িতে বহুকাল ধরে পোড়ামাটির পাত্র তৈরি করা হচ্ছে। বিভিন্ন পুজোর সময় এই মাটির পাত্রের চাহিদা বাড়ে। অসমের মৃৎশিল্প কিছুটা বর্ণ ভিত্তিক। মূলত দুটি সম্প্রদায়ের লোকজন মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে থাকেন। এঁদেরকে কুমার এবং হীরা সম্প্রদায় বলে জানা যায়। খুব সম্ভবত হীরা সম্প্রদায় অসমের প্রাচীনতম মাটির কারিগর সম্প্রদায়।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২১: পরিবেশ শুধু প্রাকৃতিক বাতাবরণ নয়, এর প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পৃক্ত

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৭: আমুর বাজ

কুমার এবং হীরা — এই দুই সম্প্রদায়ের শিল্পীদের কাজ করার পদ্ধতিও পৃথক। এমন কী মাটিও ভিন্ন রকমের হয়। অসমের গোয়ালপাড়া, কামরূপ, শিবসাগরে মাটির বিভিন্ন রকমের সামগ্রী পাওয়া যায়। গোয়াল পাড়ার গৌরীপুরের মাটির পুতুলের সঙ্গে বাংলার মাটির পুতুলের অনেক সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। অসমের বড়পেটা, গনকুছি, হাজো রামদিয়া, গুয়াহাটির আদাবাড়িতে বহুকাল থেকেই উন্নত মানের মাটির জিনিসপত্র পাওয়া যায়। কামরূপ জেলার হীরা শিল্পীদের তৈরি মাটির পুতুলের একটি বিশেষ গঠন থাকে। মাজুলি এবং জোরহাটে তৈরি পুতুলও দেখতে আলাদা রকমের হয়। তবে এ কথা মেনে নিতেই হয়, গৌরীপুরের মাটির পুতুলের কোনও তুলনা হয় না।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৪: যুদ্ধ করতে সব সময় পেশীশক্তি নয়, দরকার বিশ্বাসের গল্পও

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৫: মা সারদার সাধুভক্তি

গৌরীপুরের মৃৎশিল্পীরা বহুকাল থেকেই গৌরীপুরের বড়ুয়া জমিদার পরিবারের আমলে জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। আছারি কান্দি নামক গ্রামের লোকেদের মধ্যে মাটির শিল্পের কাজ বহু দিন থেকে চলে আসছে। এদের হাতের কাজ দেখে জমিদার গিন্নি মুগ্ধ হয়ে তাঁদের গৌরীপুরী নিয়ে আসেন। তাঁদের তৈরি মাটির পুতুল, মাটির ঘোড়া এবং অন্যান্য মাটির জিনিসপত্র বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে প্রচার করান। অসমের হাতে তৈরি সামগ্রি নানা ধরনের হয়ে থাকে। এর মধ্যে এই মাটির তৈরি জিনিসপত্রও শিল্পীদের হাতের গুণে অসমের নাম উজ্জ্বল করেছে। এমন সব হস্তশিল্পীদের কুর্নিশ জানাতে হয়। —চলবে।
* ড. শ্রাবণী দেবরায় গঙ্গোপাধ্যায় লেখক ও গবেষক, অসম।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content