রবিবার ৭ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী।

জলপান করার সঙ্গে মানসিক চাপের কোনও সম্পর্ক আছে? সম্প্রতি একটি গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। লিভারপুল জন মুর্‌স ইউনিভার্সিটির এই গবেষণাপত্র ‘জার্নাল অফ অ্যাপ্লায়েড ফিজিয়োলজি’-তে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালের অগস্টে প্রকাশিত হয়েছে। ওই গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, শারীরিক এবং মানসিক— দুই ধরনের চাপ, ক্লান্তির নেপথ্য থাকতে পারে শরীরে জলের অভাব।
এই গবেষণার জন্য একটি সমীক্ষা করেন গবেষকরা। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে রোজ দেড় লিটার জল খেতে বলা হয়। আর বাকিদের ২ লিটার থেকে আড়াই লিটার পর্যন্ত জলপান করার কথা বলা হয়েছিল। সবাইকে একই রকম পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়েছিল। তাঁদেরকে অঙ্ক করা, জনসমক্ষে বক্তৃতা-সহ নানা রকম কাজ করতে দেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, সবার প্রতিক্রিয়া কমবেশি একই রকম। তফাত শুধু হরমোনের নিঃসরণে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৩: আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩১: যে পালিয়ে বেড়ায়

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৬: তালচোঁচ

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৪: ‘শিলালিপি সংগ্ৰহ’ গ্রন্থ অতীতের ত্রিপুরা নিয়ে গবেষণার দিশারী

লিভারপুল জন মুর্‌স ইউনিভার্সিটির ওই গবেষক দলের সদস্য নীল ওয়াল্‌শ বলছেন, ‘‘উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তার সঙ্গে সরাসরি কর্টিসলের সম্পর্ক রয়েছে। কর্টিসল স্ট্রেস হরমোন নামে সুপরিচিত। এর প্রভাবে আমাদের দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ বেড়ে যেতে পারে। ফলস্বরূপ হৃদ্‌রোগ, কিডনির অসুখ এবং ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।’’

সমীক্ষায় এও দেখা গিয়েছে, যাঁরা কম জলপান করেছেন তাঁদের শরীর কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে। এই কর্টিসলের মাত্রা আচমকা বাড়লে শরীরে নানা রকমের সমস্যা দেখা দেয়। বাড়তে পারে মানসিক চাপ, অনেক সময় হৃদ্‌স্পন্দনও বেড়ে যায়। ফলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ

তেষ্টা পেলেই জল খাব?

তেষ্টা পেলে তবেই জল খাব—অনেকেরই এমন মানসিকতা থাকে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অংশগ্রণকারীদের মধ্যে যাঁরা কম জলপান করেছেন তাঁদের কিন্তু তেমন তেষ্টা পায়নি। অথচ প্রস্রাব পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, তাঁদের দেহ শুষ্ক। শরীরে যথেষ্ট জলের অভাব রয়েছে।

আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩০: ঠাকুরবাড়ির জামাই রমণীমোহনকে মন্ত্রী করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৯: শকুন্তলারা আজও আছেন

শরীরে জলের অভাবের ফলে কী হয়?

অনেকেই জানেন না, আমাদের শরীরে জলাভাব, ভ্যাসোপ্রেসিন নামক এক ধরনের হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ভ্যাসোপ্রেসিন হরমোন দেহে জল ধরে রাখতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি আবার এই পদ্ধতিগত কারণে আমাদের মস্তিষ্কে চাপ পড়ে। কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়। একদিকে শরীরের জল ধরে রাখার চেষ্টা, আবার অন্য দিকে কর্টিসলের মাত্রা বাড়ার ফলে আমাদের শারীরিক এবং মানসিক ধীরে ধীরে চাপ বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুন:

টিচার্স ডে

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

তা হলে কী করণীয়?

আমাদের শরীর ভালো রাখতে যেমন নিয়মিত হাঁটাহাটি, ব্যায়াম ও সঠিক খাওয়াদাওয়া করার দরকার, তেমনি পর্যাপ্ত পরিমাণে জলপানও করা জরুরি। এক্ষেত্রে জানা দরকার, ব্যক্তির বয়স, ওজন, কায়িক পরিশ্রমের উপর নির্ভর করে তাঁর কতটা পরিমাণ জল খাওয়া দরকার। তবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে আড়াই লিটার জলপান করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ক্ষেত্র বিশেষে জলপানের মাত্রা বাড়তে পারে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content