
শুধু কাঠঠোকরা পাখিরাই পারে শাল, সেগুন গাছের ডাল ফুটো করতে। ছবি: সংগৃহীত।
আরে আরে করছো কী? করছো কী? ওই ডালটার পিছনে ঠোকরাচ্ছো কেন? কোটরের ভিতরে আমার বাচ্চাগুলো ভয়ে চেঁচাচ্ছে। থামো, থামো। এই কোটরের গর্তে আমার বাচ্চাগুলো আছে। তুমি এক্ষুনি ঠোক ঠোকা বন্ধ করো—বলে একটা রঙিন কাঠঠোকরা পাখিকে খুব ধমকাতে লাগলো একটা মা শালিক পাখি।
এদিকে মাথায় ঝুঁটি লম্বা ঠোঁটওয়ালা রঙিন কাঠঠোকরা পাখিটা কোথা থেকে এসে গাছের ডালটাকে ঠোঁট দিয়ে ঠুকে ঠুকে গর্ত করার চেষ্টা করছিল। শালিকটা কতবার বারণ করল ওকে। কে শোনে কার কথা।
এদিকে মাথায় ঝুঁটি লম্বা ঠোঁটওয়ালা রঙিন কাঠঠোকরা পাখিটা কোথা থেকে এসে গাছের ডালটাকে ঠোঁট দিয়ে ঠুকে ঠুকে গর্ত করার চেষ্টা করছিল। শালিকটা কতবার বারণ করল ওকে। কে শোনে কার কথা।
শালিকটা এবার চিঁ-চিঁ কি-চিঁ আওয়াজ করে অনেক শালিককে ডেকে আনল। তারপর সকলকে দেখালো, ওই লম্বা ঠোঁট ওয়ালা পাখিটা এসে গাছের ডালে ওদের কোটরের উল্টো দিকটা ঠোকরাচ্ছে। শব্দ পেয়ে বাচ্চা শালিকগুলো চিঁ চিঁ আওয়াজ করছে। চেঁচামেচি শুনে কাঠঠোকরাটা এদিক-ওদিক চাইল। তারপর লম্বা ঠোঁটটা দিয়ে আবার ঠুকেই যাচ্ছে, ঠুকেই যাচ্ছে। কোনও দিকে তাকাচ্ছে না। ঠিক যেমন মিস্ত্রিরা হাতুড়ি ঠোকে তেমন করে।
কাঠঠোকরা পাখিরা গাছের গোটা ডাল শক্ত ডাল ও ঠুকেঠুকে গর্ত করে ডালের ভিতরটা সুন্দর করে গোল করে থাকার মতো জায়গা করে নেয়।
কাঠঠোকরা পাখিরা গাছের গোটা ডাল শক্ত ডাল ও ঠুকেঠুকে গর্ত করে ডালের ভিতরটা সুন্দর করে গোল করে থাকার মতো জায়গা করে নেয়।
আরও পড়ুন:

আমার দুর্গা: বিজ্ঞানী রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৩: এ কে? এ কে গো?

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩২: কবিকন্যা মীরার স্বামী রবীন্দ্রনাথকে ভর্ৎসনা করেছিলেন

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৬: এক উপেক্ষিতা রাজকন্যার কথা
একটা শালিক এসে কাঠঠোকরাকে বলল— ও ঠোকা পাখি, তুমি ডালের পিছনটায় গিয়ে ঠোঁটটা ঠুকছো কেন? সামনে এসে দেখো, এদিকে গর্তে আমরা আগেই বাসা করেছি। বাচ্চাও রেখেছি। তোমার ধারালো ঠোঁট দিয়ে ডালের পিছনটা ঠুকলে সেটা তোমার বাসা তৈরি হবে না। দু’দিকে খোলা রাস্তা হয়ে যাবে আর আমার বাচ্চাগুলো মাটিতে পড়ে মারা যাবে।
এদিকে কাঠঠোকরাটা অনেকক্ষণ ডালটা ঠোঁট দিয়ে ঠুকেঠুকে যখন হাঁপিয়ে পড়েছে, তখন এদিক ওদিক চাইতেই দেখে কয়েকটা পাখির বাচ্চা, গর্তের ভিতর থেকে দেখা যাচ্ছে। এতক্ষণে রঙিন লম্বা ঠোট ওয়ালা কাঠঠোকরা পাখিটা বুঝতে পারল আর এখানে ডাল ঠুকে গর্ত করে লাভ নেই। ডালটাতে শালিক আগেই বাসা করে রেখেছে। ওর বাচ্চাগুলো এখানে আছে।
এদিকে কাঠঠোকরাটা অনেকক্ষণ ডালটা ঠোঁট দিয়ে ঠুকেঠুকে যখন হাঁপিয়ে পড়েছে, তখন এদিক ওদিক চাইতেই দেখে কয়েকটা পাখির বাচ্চা, গর্তের ভিতর থেকে দেখা যাচ্ছে। এতক্ষণে রঙিন লম্বা ঠোট ওয়ালা কাঠঠোকরা পাখিটা বুঝতে পারল আর এখানে ডাল ঠুকে গর্ত করে লাভ নেই। ডালটাতে শালিক আগেই বাসা করে রেখেছে। ওর বাচ্চাগুলো এখানে আছে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৮: ছোট বাবুইবাটান

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে
এবার ডালের উপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে পাশের ডালে এসে মা শালিকটার একদম কাছে এসে বসল কাঠঠোকরাটা। শালিকটা কাঠঠোকরাকে বলল— এখানে কষ্ট করে গর্ত করছ কেন ভাই? এখানে তো আমার বাসা। তুমি ভালো পাখি। তোমার লম্বা সরু ধারালো ঠোঁট। তুমি ঠোঁট দিয়ে ঠক-ঠক করে গাছের নরম ডালে গর্ত করছ কেন? এখানে ঠোঁটটা ঠুকছ কেন কষ্ট করে? তোমাকে অত বড় লম্বা ধারালো ঠোট দিয়েছেন ভগবান। তুমি তোমার ওই লম্বা চিকন ধারালো ঠোঁট দিয়ে শক্তপোক্ত গাছের ডালে গর্ত করো গিয়ে।
কাঠঠোকরা বলে হ্যাঁ হ্যাঁ, তা তো পারি। কিন্তু ভালো গাছ তো এ বাগানে দেখছি না। কোথায় পাবো শাল-সেগুন ভালো কাঠের গাছ? আমি তো ভালো কাঠওয়ালা গাছই খুঁজে বেড়াচ্ছি। শাল-সেগুন গাছ কোথায় আছে? ঠিক তখনই একদল চড়াই এসে বসল ওই গাছেরই আর একটা ডালে। একটা চড়াই বলল, একটা সেগুন গাছের হদিশ দিতে পারি আমি। কাঠঠোঁকরাটা বলল, কোথায় আছে সে গাছ? ওই দিকের এক বাগানে এক ডাক্তারখানা আছে। তাদের বাড়ির ঘুলঘুলিতে আমরা থাকি। সেই বাড়ির ব্যালকনির পাশে একটা সেগুন গাছ ডালপালা ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওটা শুনেছি ভালো কাঠের গাছ। ওখানে যাও। ওই গাছের ডালে গর্ত করে কোটর বানিয়ে তুমি থাকতে পারবে। তোমার লম্বা ঠোট দিয়ে গাছের ডাল ঠুকরে-ঠুকরে সুন্দর গর্ত করে, গাছের কোটরের বেশ ভিতরে বাসা করতে পারবে। শুধু কাঠঠোকরা পাখিরাই পারে শাল, সেগুন গাছের ডাল ফুটো করতে। যাও তোমার ধারালো ঠোঁটটা ওইখানে গিয়ে ঠোকো।
কাঠঠোকরা বলে হ্যাঁ হ্যাঁ, তা তো পারি। কিন্তু ভালো গাছ তো এ বাগানে দেখছি না। কোথায় পাবো শাল-সেগুন ভালো কাঠের গাছ? আমি তো ভালো কাঠওয়ালা গাছই খুঁজে বেড়াচ্ছি। শাল-সেগুন গাছ কোথায় আছে? ঠিক তখনই একদল চড়াই এসে বসল ওই গাছেরই আর একটা ডালে। একটা চড়াই বলল, একটা সেগুন গাছের হদিশ দিতে পারি আমি। কাঠঠোঁকরাটা বলল, কোথায় আছে সে গাছ? ওই দিকের এক বাগানে এক ডাক্তারখানা আছে। তাদের বাড়ির ঘুলঘুলিতে আমরা থাকি। সেই বাড়ির ব্যালকনির পাশে একটা সেগুন গাছ ডালপালা ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওটা শুনেছি ভালো কাঠের গাছ। ওখানে যাও। ওই গাছের ডালে গর্ত করে কোটর বানিয়ে তুমি থাকতে পারবে। তোমার লম্বা ঠোট দিয়ে গাছের ডাল ঠুকরে-ঠুকরে সুন্দর গর্ত করে, গাছের কোটরের বেশ ভিতরে বাসা করতে পারবে। শুধু কাঠঠোকরা পাখিরাই পারে শাল, সেগুন গাছের ডাল ফুটো করতে। যাও তোমার ধারালো ঠোঁটটা ওইখানে গিয়ে ঠোকো।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩২: লৌকিকও অলৌকিকের টানাপোড়েনের বিনির্মাণ—ঋষিকবির মহাকাব্য রামায়ণ
কাঠঠোকরা সব শুনলো। চড়াইকে বলল চলো আমার সঙ্গে। আমাকে পথ দেখিয়ে দাও। চড়াই আগে আগে চলল আর কাঠঠোকরা পাখিটা আর একটা কাঠঠোকরাকে সঙ্গে নিয়ে এল সেই ডাক্তারখানার বাড়ির ব্যালকনির ধারে সেগুন গাছের ডালে।
কাঠঠোকরা সেগুন গাছের ডালে বসেই ডালটা ঠুকে ঠুকে পরীক্ষা করে দেখলো। হ্যাঁ, ডালটা বেশ চওড়া আর শক্ত পোক্ত, ভালোই হবে। পাকাপোক্ত কোটরের বাসা হবে ওই ডালে।
এবার মনের সুখে নিশ্চিন্তে গাছের ডালটা ঠোঁট দিয়ে ঠুকে-ঠুকে গর্ত করতে লাগলো কাঠঠোকরাটা। ঠিক যেন কাঠমিস্ত্রি হাতুড়ি ঠুকছে কাঠে। বারবার একই জায়গায় কাঠঠোকরা ওর লম্বা ঠোঁটটা ঠুকে চলেছে, ঠুক-ঠুক-ঠুক-ঠুক করে।
কাঠঠোকরা সেগুন গাছের ডালে বসেই ডালটা ঠুকে ঠুকে পরীক্ষা করে দেখলো। হ্যাঁ, ডালটা বেশ চওড়া আর শক্ত পোক্ত, ভালোই হবে। পাকাপোক্ত কোটরের বাসা হবে ওই ডালে।
এবার মনের সুখে নিশ্চিন্তে গাছের ডালটা ঠোঁট দিয়ে ঠুকে-ঠুকে গর্ত করতে লাগলো কাঠঠোকরাটা। ঠিক যেন কাঠমিস্ত্রি হাতুড়ি ঠুকছে কাঠে। বারবার একই জায়গায় কাঠঠোকরা ওর লম্বা ঠোঁটটা ঠুকে চলেছে, ঠুক-ঠুক-ঠুক-ঠুক করে।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
আওয়াজ শুনে ওই বাড়ির গৃহিণী এসে দাঁড়ালো ব্যালকনিতে। কে পেরেক ঠুকছে রে? তাকিয়ে দেখে কি সুন্দর একটা রঙিন লম্বা ঠোঁটওয়ালা পাখি। জানি ওটা কাঠঠোকরা, এবার আমার সেগুন গাছটাতে ও ঠোঁট ঠুকে-ঠুকে গর্ত করবে। বাসা করবে গর্তের ভিতর। কী হবে? তবুও সারাদিন ধরে সুন্দর পাখিটাকে ডাল ঠুকতে দেখে বেশ ভালোই লাগছিল তাঁর। তাই আর কিছু না বলে পাখিটাকে দেখছিল। বেশ সুন্দর লম্বা ঠোঁট দিয়ে ঢুকে গর্ত করে সেগুন গাছের শক্ত ডালের ভিতর বাসা তৈরি করছে। তারপর সুন্দর ভাবে বাসা তৈরি করে থাকবে ও। যে বাসা সহজে চোখে পড়বে না, তা হল কাঠ-ঠোকরার বাসা।
* পৃথা বল (Pritha Bal) বিশিষ্ট সাহিত্যিক।


















