
শ্রীরামকৃষ্ণ ও মা সারাদা।
‘অয়ং নিজ পরবেতি গণনা লঘু চেতসাম্, উদার চরিতানান্তু বসুধৈব কুটুম্বকম্।’ (নীতি)
যাহারা সংকীর্ণ চিত্ত স্বার্থপর ব্যক্তি, তাহারা সর্বদা আমি ও আমার চিন্তায় ব্যস্ত। কিন্তু উদার প্রকৃতির লোকেরা সারা জগতবাসীকে আত্মীয় গান করেন, তাদের নিকট আপন পর বোধ থাকে না। তাদের দূর্বল চিত্ত আপনার গণ্ডি এত ছোট করে যে সে জায়গাতেই থেকে যায়, আর সম্প্রসারণ হয় না।
যাহারা সংকীর্ণ চিত্ত স্বার্থপর ব্যক্তি, তাহারা সর্বদা আমি ও আমার চিন্তায় ব্যস্ত। কিন্তু উদার প্রকৃতির লোকেরা সারা জগতবাসীকে আত্মীয় গান করেন, তাদের নিকট আপন পর বোধ থাকে না। তাদের দূর্বল চিত্ত আপনার গণ্ডি এত ছোট করে যে সে জায়গাতেই থেকে যায়, আর সম্প্রসারণ হয় না।
শ্রীশ্রীমা বলছেন, “জগৎ আপনার, কেউ পর নয় মা।”
“ব্রহ্ম সত্যং জগৎ মিথ্যা, জীবো ব্রহ্মৈব না পরঃ।” ব্রহ্মই একমাত্র সত্য জগত মিথ্যা, জীব ব্রহ্ম ছাড়া অপর কিছু না। মিথ্যা জগতের মোহে জীব তার ব্রহ্ম স্বরূপ হারিয়ে দীন-হীন হয়ে রয়েছে। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে দেবতা চাপা রয়েছে। অহংকার রূপ ঢাকা চাপা থাকার কারণে প্রকাশিত হতে পারছে না। আসক্তি ও অনুরাগ, শরীরে অহম্ বোধ থেকে আসে। তখন আত্মা তার মৌলিকত্ব হারায়। নাম-রূপ-দেহ অজ্ঞানতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়। সদা মুক্ত, শুদ্ধ মন যখন বিষয়ক ভোগে আসক্ত হয়ে পড়ে, আর মৌলিকতা হারিয়ে; আমি বদ্ধ, আমি দুঃখিত, আমি শোক -মোহিত জরা-গ্রস্ত বলে কাঁদতে থাকে। “মন এব মনুষ্যাণাং কারণং বন্ধমোক্ষয়োঃ।” [অমৃতবিন্দু উপনিষদ ২]
“ব্রহ্ম সত্যং জগৎ মিথ্যা, জীবো ব্রহ্মৈব না পরঃ।” ব্রহ্মই একমাত্র সত্য জগত মিথ্যা, জীব ব্রহ্ম ছাড়া অপর কিছু না। মিথ্যা জগতের মোহে জীব তার ব্রহ্ম স্বরূপ হারিয়ে দীন-হীন হয়ে রয়েছে। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে দেবতা চাপা রয়েছে। অহংকার রূপ ঢাকা চাপা থাকার কারণে প্রকাশিত হতে পারছে না। আসক্তি ও অনুরাগ, শরীরে অহম্ বোধ থেকে আসে। তখন আত্মা তার মৌলিকত্ব হারায়। নাম-রূপ-দেহ অজ্ঞানতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়। সদা মুক্ত, শুদ্ধ মন যখন বিষয়ক ভোগে আসক্ত হয়ে পড়ে, আর মৌলিকতা হারিয়ে; আমি বদ্ধ, আমি দুঃখিত, আমি শোক -মোহিত জরা-গ্রস্ত বলে কাঁদতে থাকে। “মন এব মনুষ্যাণাং কারণং বন্ধমোক্ষয়োঃ।” [অমৃতবিন্দু উপনিষদ ২]
আরও পড়ুন:

অনন্ত এক পথ পরিক্রমা, পর্ব-৮৩: ‘কর্ম করা না থাকলে বৈরাগ্য হয় না, ভোগ না হলে বৈরাগ্য হয় না’

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৩: মা সারদা নিজের কষ্ট গোপন রাখতেন

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২১: মহারাজ অফ শান্তিনিকেতন
মনই মানুষের বন্ধন ও মুক্তির কারণ। মন যখন স্থূল বিষয়-বস্তুতে আসক্ত হয় তখন সে বন্ধনে পড়ে যায়, আর আত্মার মুক্ত স্বভাব হারিয়ে যায়। যেমন শুদ্ধ স্ফটিকের পাশে নীল বা লাল ফুল রাখলে যেমন তার শুদ্ধত্ব হারিয়ে নীল বা লাল হয়ে পড়ে। যেমন মুক্ত বাতাস সুগন্ধ বা দুর্গন্ধ বহনে সুগন্ধ বা দুর্গন্ধ যুক্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু নিশ্চিত যে এ তাদের স্বরূপ নয়। তেমনই সাধনের দ্বারা অশুদ্ধির অপসারণে শুদ্ধ চৈতন্য আপনি প্রকাশ হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৫: গাঙচিল

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৯: খাণ্ডবদহনের প্রেক্ষিতে জরিতা,লপিতা ও ঋষি মন্দপালের উপাখ্যানের আজ প্রাসঙ্গিকতা কোথায়?
যেমন জলাশয় থেকে জল আনার জন্য নালার খননে জল আপনা আপনি চাষযোগ্য জমিতে এসে পড়ে, শুধু নালার যে বাধাটি প্রবাহ কে বন্ধ করে দিয়েছিল, তা সরিয়ে দেওয়াতে জল প্রবাহিত আপনি হতে থাকে, তেমন বন্ধন ও মুক্তির মাঝে আহংকারের দেওয়ালটি সরিয়ে দিলেই আত্মা সত প্রকাশিত হয়ে পড়ে। যা সদা সব সময় প্রকাশিত হয়ে রয়েছে, যার জন্য সকল বস্তু প্রকাশিত হয়, যা সকল বস্তুকে প্রকাশ করে।
আরও পড়ুন:

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৪: রিলেটিভিটি ও বিরিঞ্চিবাবা

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬০: পাহাড়ের চূড়ায় বসে দেখলাম হিমবাহের সেই অপরূপ শোভা
যো বৈ ভূমা তৎ সুখং নাল্পে সুখমস্তি ভূমৈব সুখং ভূমা ত্বেম বিজিজ্ঞাসিতব্য ইতি ভূমানাং ভগবো বিজিজ্ঞাস ইতি। [ছান্দোগ্য উপনিষদ ৭ অঃ ২৩খঃ ১মন্ত্র] যা ভূমা তাই সুখ, অল্পে সুখ নাই। ভূমাই সুখ। ভূমাকে জানবার জন্য ইচ্ছা করতে হবে। হে ভগবান, আমি ভূমাকে জানবার জন্য ইচ্ছে করি। যতক্ষণ দর্শন, শ্রবণের জ্ঞান হয় ততক্ষণ অবিদ্যার অবস্থা। সীমিত অল্পই। ভূমা তিনি, যিনি ভূমা ছাড়া অপর কিছু দেখে না, শুনে না, অল্প কিছু জানে না। ভূমাতে দ্বৈত নেই। তিনি নিরালম্ব, তাতেই সমস্ত কিছু প্রতিষ্ঠিত।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২০: একেজি কলিং
শ্রীশ্রী ঠাকুর বলতেন, ব্রহ্ম যে কি মুখে বলা যায় না। সমস্ত কিছু উচ্ছিষ্ট হয়েছে, কিন্তু ব্রহ্ম উচ্ছিষ্ট হয় না। “সমাধিস্থ হলে ব্রহ্ম জ্ঞান হয়; ব্রহ্ম দর্শন হয়। সে অবস্থায় বিচার একেবারে বন্ধ হয়ে যায় মানুষ চুপ হয়ে যায়। ব্রহ্ম কি মুখে বলবার শক্তি থাকে না।” [কথামৃত পৃঃ ৪৯]
সংসারের দুঃখ, শোক, তাপ আর তাকে চঞ্চল করতে পারে না। শুদ্ধি ও অনাসক্তি পাশাপাশি হতে থাকে। তিনি কালাতীত হয়ে বিরাজ করেন। দেহাত্মাবোধ যত কমে বিশ্বাত্মা বোধ সেই অনুপাতে বাড়ে। পরিশেষে অদ্বৈত অনুভূতি প্রকাশ পায়।—চলবে।
সংসারের দুঃখ, শোক, তাপ আর তাকে চঞ্চল করতে পারে না। শুদ্ধি ও অনাসক্তি পাশাপাশি হতে থাকে। তিনি কালাতীত হয়ে বিরাজ করেন। দেহাত্মাবোধ যত কমে বিশ্বাত্মা বোধ সেই অনুপাতে বাড়ে। পরিশেষে অদ্বৈত অনুভূতি প্রকাশ পায়।—চলবে।
* অনন্ত এক পথ পরিক্রমা (Ananta Ek Patha Parikrama) : স্বামী তত্ত্বাতীতানন্দ (Swami Tattwatitananda), সম্পাদক, রামকৃষ্ণ মিশন, ফিজি (Fiji)।


















