কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী।

প্রবল পরাক্রমশালী রাক্ষসরাজ রাবণ, তাড়কা রাক্ষসীর পুত্র মারীচের শরণাপন্ন হয়েছে। কারণ রাবণের উদ্দেশ্য, অযোধ্যারাজ দশরথের বনবাসী পুত্র রামের পত্নী সীতাকে অপহরণ। এই বিষয়ে সে মারীচের সাহায্যপ্রার্থী। রাবণ মনে করে শৌর্যপ্রকাশে, দর্পে, যুদ্ধে মারীচের সমতুল্য কেউ নেই। মারীচ মহাবীর, উপায়নিপুণ এবং মায়াসৃষ্টিতে দক্ষ। সেই কারণেই রাবণ তার সাহায্যপ্রার্থী হয়েছে। বীর্য্যে যুদ্ধে চ দর্পে চ ন হ্যস্তি সদৃশস্তব।। উপায়তো মহাশূরো মহামায়াবিশারদঃ।। এতদর্থমহং প্রাপ্তস্ত্বৎসমীপং নিশাচর। মারীচ জানিয়েছে, সে রামের মুখোমুখি হয়েছে একাধিকবার। প্রতিবারই সে সম্মুখযুদ্ধে পরাস্ত হয়েছে। রামের হাতে চরম নিগৃহীত মারীচ অবশেষে রণে ভঙ্গ দিয়ে আশ্রমজীবন বেছে নিয়েছে। মারীচ রাবণকে জানাল, রামের শৌর্যবিষয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তার আছে। রাবণের প্রস্তাবে সে তার অসম্মতি জানিয়ে দিল। শুভাকাঙ্খী মারীচ জানাল, অহং তস্য প্রভাবজ্ঞো ন যুদ্ধং তেন তে ক্ষমম্। আমি তাঁর প্রভাব জানি, তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ কখনই উচিৎ নয় বলে আমি মনে করি। রাবণের হিতাকাঙ্খী মারীচের অভিমত, রামের হাতে রাক্ষসকুলের ধ্বংস নিশ্চিত। মারীচের কথায় সম্মত না হলে রামের শরাঘাতে রাবণের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী।
মুমূর্ষু ব্যক্তি যেমন ওষুধ গ্রহণ করেন না তেমনই রাবণের মরণের ইচ্ছা হয়েছে তাই সে মারীচের সদুপদেশ গ্রহণ করল না। যেন মৃত্যুর দেবতা কালের প্ররোচনায় রাবণ, হিতকর পথ্যর মতো সদুপদেশবক্তা মারীচকে প্রত্যাখ্যান করল। রাক্ষসরাজ কর্কশভাষায় বলল, মারীচ নীচবংশে জন্মে নিয়েছে তাই সে এমন অযৌক্তিক কথা বলছে। বন্ধ্যা অনুর্বর জমিতে বীজ বপন করলে যেমন তা নিষ্ফল তেমনই মারীচের উপদেশও নিরর্থক। রাবণের মতে, রাম নেহাতই মূর্খ পাপচরিত্র এক মানুষমাত্র। মারীচকে অগ্রাহ্য করল রাবণ, তোমার কথায়, আমি রামের সঙ্গে যুদ্ধ হতে বিরত হব না। তদ্বাক্যৈর্ন তু মাং শক্যং ভেত্তুং রামস্য সংযুগে। রাবণ ঘোষণা করল, যে ব্যক্তি স্ত্রীলোকের সামান্যকথায় পিতামাতা, সুহৃদ্বর্গ ও রাজ্য ত্যাগ করে একপায়ে বনে চলে যায়, রাবণ মারীচের সামনে যুদ্ধে খরের সেই হত্যাকারীর প্রাণপ্রিয়া সীতাকে অবশ্যই হরণ করবে। অবশ্যন্তু ময়া তস্য সংযুগে খরঘাতিনঃ। প্রাণৈঃ প্রিয়তরা সীতা হর্ত্তব্যা তব সন্নিধৌ।।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৯: রাজসূয়যজ্ঞে চেদিপতি শিশুপাল ও কুরুপ্রধান ভীষ্মের কথোপকথনে সদর্থক ও নঞর্থক চিন্তার সংঘাত,মহাকাব্যে প্রতিফলিত জীবনবোধ

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-১৫৭: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৮: ঘরচিতি

শারদীয়ার গল্প/১ : ষষ্ঠীর সন্ধ্যা

নিজের সিদ্ধান্তে অটল রাবণ বলল, ইন্দ্র-সহ সমস্ত দেবাসুর কেউ তাকে তাঁর এই দৃঢ় সিদ্ধান্ত থেকে বিরত করতে পারবে না। রাক্ষসরাজ জানাল, যদি রাবণ সিদ্ধান্ত নির্দ্ধারণের জন্যে কাজটির দোষ, গুণ, উপায় ও ক্ষতিবিষয়ে, প্রশ্ন করত তাহলে মারীচ এমন কথা বলতে পারত। দোষং গুণং বা সম্পৃষ্টস্ত্বমেবং বক্তুমর্হসি। অপায়ং বা উপায়ং বা কার্য্যস্যাস্য বিনিশ্চয়ে।। রাবণ মনে করে বিজ্ঞ মন্ত্রী, যিনি, নিজের উন্নতি কামনা করেন, তিনিই করজোড়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। রাজার প্রতি সেই মন্ত্রীর বক্তব্যবিষয় হবে, অবিরুদ্ধ, বিনম্র, শুভ, কল্যাণকর এবং রাজনীতিসম্মত। হিতকর বক্তব্য যদি অসম্মানজনক হয় তবে মান্যতাপ্রার্থী রাজা সেই পরামর্শ গ্রহণযোগ্য মনে করেন না। অমিততেজস্বী রাজারা অগ্নি, ইন্দ্র, সোম, যম এবং বরুণ এই পাঁচ দেবতার রূপ ধারণ করেন। রাবণ নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যা করে বলল, ওহে নিশাচর রাক্ষস, মহান রাজারা (দেবতাদের) উষ্ণতা (অগ্নির), বিক্রম (ইন্দ্রের), স্নিগ্ধরূপ (চন্দ্রের), দণ্ড (যমের) ও প্রসন্নতা (বরুণের) ধারণ করে থাকেন। ঔষ্ণং তথা বিক্রমঞ্চ সৌম্যং দণ্ডং প্রসন্নতাম্।ধারয়ন্তি মহাত্মানো রাজানঃ ক্ষণদাচরঃ।। তাই রাজারা সকল অবস্থায় সর্বদাই সম্মানীয় ও পূজ্য। তুমি ধর্মবিষয়ে অজ্ঞ,মোহাচ্ছন্ন হয়ে আছ। ত্বন্তু ধর্মমবিজ্ঞায় কেবলং মোহমাশ্রিত:।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১৩ : ত্রিপুরায় আহোম রাজদূতের গুপ্তচর নিয়োগ/১

শারদীয়া স্পেশাল, রাজীব হত্যা : অমীমাংসিত প্রশ্নচিহ্ন অনিন্দ্য ভুক্ত

মারীচের ভর্ৎসনায় সোচ্চার হল রাবণ। স্বয়ং রাবণ অভ্যাগত হয়ে এসেছেন, তবু মারীচ তার দৌরাত্ম্যহেতু,রাবণকে কটু কথা বলছে। রাবণ (কাজটির) গুণ, দোষ, ক্ষয়ক্ষতি, কোনও বিষয়ে প্রশ্ন করেনি। হে অমিতবিক্রম রাক্ষস, এই মাত্র বলতে চাই যে, তুমি এই কাজে আমায় সাহায্য করতে পারবে কি? ময়োক্তমপি চৈতাবৎ ত্বাং প্রত্যমিতবিক্রম। অস্মিংস্তু স ভবান্ কৃত্যে সাহায্যং কর্ত্তুমর্হসি।। কীভাবে সাহায্য করবে মারীচ? জানাল রাবণ। রজতবিন্দুচিত্রিত সোনার হরিণ হয়ে আশ্রমে সীতার সামনে বিচরণ করে বেড়াতে হবে। মারীচ, সীতাকে প্রলোভনে আকৃষ্ট করে যেখানে ইচ্ছে চলে যেতে পারে। সেই মায়াবী সোনার হরিণ দেখে বিস্মিতা সীতা, তৎক্ষণাৎ রামের কাছে আবদার করবে আনয়ৈনমিতি একে এনে দাও। মারীচকে অনুপুঙ্খ নির্দেশ দিল রাবণ— রাম আশ্রম থেকে দূরে গেলে, রামের স্বর অনুকরণ করে, মারীচ, হায় সীতে, হায় লক্ষ্মণ বলে উঁচুগলায় চিৎকার করবে। অপক্রান্তে চ কাকুস্থে দূরে গত্বাপ্যুদাহর। হা সীতে লক্ষ্মণেত্যেবং রামবাক্যানুরূপকম্।। সেই কণ্ঠস্বর শুনে সীতার পীড়াপীড়িতে লক্ষ্মণ, ভাইয়ের সঙ্গে একাত্মতাবশত তাড়াতাড়ি রামের অনুসরণ করবে। রাম ও লক্ষ্মণ প্রস্থান করলে, ইন্দ্র যেমন শচীকে হরণ করেছিলেন সেইভাবে রাবণ সীতাকে অপহরণ করবে। রাবণ মারীচকে আশ্বস্ত করল, এবং কৃত্বা ত্বিদং কার্য্যং যথেষ্টং গচ্ছ রাক্ষস। রাজ্যস্যার্দ্ধং প্রদাস্যামি মারীচ তব সুব্রত।। হে রাক্ষস, কাজটি করে যেখানে ইচ্ছে চলে যাও। হে সুব্রত মারীচ, আমি তোমাকে রাজ্যের অর্দ্ধাংশ প্রদান করব। রাবণ মারীচকে আরও বললেন, কাজটির সাফল্যের জন্য এই কল্যাণকর পথে তুমি চল। আমিও রথ নিয়ে দণ্ডকবনে তোমায় অনুসরণ করব। গচ্ছ সৌম্য শিবং মার্গং কার্য্যস্যাস্য বিবৃদ্ধয়ে। অহং ত্বানুগমিষ্যামি সরথো দণ্ডকাবনম্।। প্রবল আত্মবিশ্বাসী রাবণ কাজটিতে সাফল্যসম্বন্ধে যেন স্থিরনিশ্চিত হয়ে জানাল, রামকে প্রতারিত করে বিনা যুদ্ধে সীতাকে নিয়ে নিজলক্ষ্যপূরণে সফল রাবণ, মারীচ-সহ ফিরে যাবে লঙ্কায়। এর অন্যথা হলে কি হতে পারে সেই সম্বন্ধেও সতর্ক করল রাক্ষসরাজ রাবণ। নো চেৎ করোষি মারীচ হন্মি ত্বামহমদ্য বৈ। এতৎ কার্য্যমবশ্যং মে বলাদপি করিষ্যসি। রাজ্ঞো বিপ্রতিকূলস্থে ন জাতু সুখমেধতে।। ওহে মারীচ, এই কাজ যদি না কর, তাহলে আমি আজই তোমায় হত্যা করব। বলপ্রয়োগহেতু অবশ্যই আমার এই কাজ তুমি করবে। রাজার বিরুদ্ধাচরণ করে কেউ সুখী হতে পারে না। রাবণ, আশঙ্কা প্রকাশ করল,রামের সম্মুখীন মারীচের প্রাণসংশয় হতে পারে, আবার রাবণের বিরোধিতায় তার মৃত্যু অবধারিত। রাবণ, মারীচের সিদ্ধান্ত জানতে চাইল, এতদ্ যথাবৎ পরিগণ্য বুদ্ধ্যা যদত্র পথ্যং কুরু তত্ তথা ত্বম্।। এইবারে বুদ্ধি দিয়ে যথাযথ বিবেচনা করে যা তোমার জন্যে ভাল মনে কর, সেটাই কর।
আরও পড়ুন:

দশমী

শারদীয়ার গল্প/২ : কনটেন্ট

মারীচ মায়ার আশ্রয় নিয়ে যথেচ্ছ রূপধারণ করতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যের জন্যই সে অনন্য। এমন কি প্রবল প্রতাপান্বিত রাক্ষসরাজ রাবণ তার উদ্দেশ্যসিদ্ধির জন্য তার শরণাপন্ন হয়েছে। মারীচ নিশাচর রাক্ষস, মায়া তার শক্তি, কিন্তু শক্তির অপব্যবহার করতে সে রাজি নয়। অনেকসময়ে ভয়, ভক্তির জন্ম দেয়। ক্রমে সেই ভক্তি সম্ভ্রমবোধ ও গভীর আস্থায় পরিণত হয়। মারীচ রামের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে একাধিকবার পরাস্ত হয়েছে। রামের শৌর্যবিষয়ে মারীচ তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রাবণের কাছে আন্তরিকভাবে বর্ণনা করেছে। মারীচ, রামের প্রতিদ্বন্দ্বী রাবণের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা অনুভব করেছে। রামের সঙ্গে রাবণের বিরোধিতার ফল যে মারাত্মক সেটা অনুভব করে রাবণকে সে সতর্ক করেছে। রাক্ষস মারীচ জানে যে কোনও মহাশক্তির কাছে মানুষ ও রাক্ষসের ক্ষমতা সীমিত হতে বাধ্য। অপরিমিত শক্তির আধার রাম। তাঁর শক্তির মুখোমুখি হলে রাবণের প্রাণ তুচ্ছমাত্র,এমন কি, সমগ্র রাক্ষসকুলের অস্তিত্ব পর্যন্ত বিপন্ন হবে – এই আশঙ্কায় মারীচ রাবণের সীতাহরণের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। মহাকাব্যের খলনায়কদের দলভুক্ত মারীচের আত্মসমালোচনা এবং রাজার প্রতি আনুগত্য, দৃষ্টান্তমূলক বললে হয় তো তা অত্যুক্তি নয়। ক্ষমতার গর্ব, অনাবশ্যক আত্মবিশ্বাস ও অপরকে হেয় করবার প্রবণতার মানসিকতা সৃষ্টি করে। রাবণ তার উদাহরণ। মায়াবী মারীচের আত্মশক্তির অপব্যবহারে অসম্মতি তার দূরদর্শিতার পরিচায়ক।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৯: ইরাবতীর ডায়েরি থেকে/১

দুই রাক্ষসের একজন, ক্ষমতার বলে বলী, তিনি রাক্ষসরাজ রাবণ। মায়াবী রাক্ষস মারীচ, আত্মশক্তিবলে অনন্য। সে কিন্তু রাক্ষসরাজ রাবণকে একটি চমৎকার উপদেশ দিয়েছে, রাবণের আত্মশুদ্ধির জন্য তাকে সঠিক পথে চালিত করবার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও মারীচের সমস্ত যুক্তিনিষ্ঠ সদুপদেশ, অনমনীয় জেদসর্বস্ব রাবণের অহংকার রদবদলে ব্যর্থ হয়েছে। রাবণ মারীচকে রাজ্যের অর্দ্ধাংশ প্রদানের অঙ্গীকার করে তাকে প্রলুব্ধ করেছে। রাবণের শেষ আশ্রয় ভয় দেখানো (blackmail)। মারীচের প্রাণহরণের ভয় দেখিয়েছে রাবণ। বস্তুত মারীচের উভয়সঙ্কট দেখা দিয়েছে।দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে তার। রাবণের আদেশ পালন না করা, বিরোধিতার নামান্তর। একদিকে রাবণের আজ্ঞাধীন মারীচ, সেই প্রভু মারীচের মনে জীবননাশের ভীতি সঞ্চার করছে। অপরদিকে প্রতিপক্ষে রামের সঙ্গে যুদ্ধে মারীচের প্রাণহানি অবধারিত। এই দোটানায় মারীচের ভবিতব্য নির্দ্ধারিত হয়েছে। রামায়ণের প্রধান খলনায়কের আজ্ঞাবহ মারীচ, খলনায়কের দোসর প্রতিপন্ন হয়েছে, এই ভবিতব্য কারও অজানা নয়। মারীচ রাবণের কূটচক্রান্তের শিকার। বিশ্বস্ততার পরিবর্তে তাকে কত মানসিক চাপ সহ্য করতে হয়েছে। সোনার হরিণের তঞ্চকতার আবরণ ভেদ করে এক উদারমনা পোড়খাওয়া বিশ্বস্ত সঙ্গীকে খুঁজে পাওয়া যায় কি?এমন কত শুভবোধ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে, কে তার হিসেব রাখে।
কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী।

অশুভশক্তি, নিজের উদ্দেশ্যসাধনে মায়ারূপ ছদ্ম-আবরণের আশ্রয় নিয়ে থাকে। মায়া, চোখে মোহাঞ্জনের কুহকজাল বিছিয়ে, দিকভ্রষ্ট করে, বিভ্রান্ত করে মানুষকে। রাবণ সেই পথটিই বেছে নিয়েছে। দৃঢ় মানসিক শক্তির অধিকারীকে মোহগ্রস্ত করবার কাজটি সহজ নয় মোটেই। তার জন্যে আকর্ষণীয় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। ঝাঁ চকচকে সোনার প্রেক্ষাপটে রূপায় চিত্রিত বিচিত্র হরিণের চাঞ্চল্যময় বিভঙ্গ, রামকে সম্মোহিত করবে কি না? হয়তো সেই বিষয়ে সন্দেহ ছিল রাবণের। তাই নারীর রূপজমোহের প্রতি আকর্ষণ ও সারল্যকে বিভ্রান্ত করতে প্রয়াসী হয়েছে রাবণ। পারিপার্শ্বিকের পরিস্থিতি, সোনার হরিণের আকর্ষণীয় মোহমুগ্ধতা, আজও বিভ্রান্ত করছে সরলপ্রাণকে, আবিষ্ট করে পথভ্রষ্ট করছে। ওৎ পেতে রয়েছে রাবণদের তত্ত্বাবধানে মায়াবী সোনার হরিণরূপধারী মারীচ, যার চঞ্চল আপাতরমণীয় রূপচ্ছটা ঘরের আগল ভেঙে ভুলিয়ে নিয়ে যায় কোন সরলমনকে, কোন বিপথে। আধুনিকজীবনে মারীচ, সাধারণের সাধ্যের বাইরের আকর্ষণীয় কোন ভোগ্যবস্তু, যা নিয়ত মোহমুগ্ধ করে মানুষকে। আধুনিকযুগের রাবণরা এই ভোগ্যবস্তুর আকর্ষণীয় প্রলোভনের কুহক বিস্তার করে, অপ্রতিহত অমোঘ বিভ্রান্তিময় আবহ সৃষ্টি করে। আধুনিক যুগের সীতারা এই সোনার হরিণের অব্যাহত আকর্ষণ প্রতিহত করতে পারেন কি?—চলবে।
* মহাকাব্যের কথকতা (Epics monologues of a layman): পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় (Panchali Mukhopadhyay) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, যোগমায়া দেবী কলেজে।/i>

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content