
দ্বিতীয় স্থানে থাকা ‘দিনকাল’-এর সাংবাদিক অনন্ত সেনগুপ্ত বলল, “দাদা, চমক তো দিল। কিন্তু আসল সমস্যার কি তাতে কোন সমাধান হবে?”
ডিকে অনেক সিনিয়র সংবাদিক। অনন্ত সেখানে মধ্যবয়সী। তবে এক পেশায় আছে বলেই ‘দাদা’ বলা। তাছাড়া পজিশনেও তফাৎ আছে। দীর্ঘদিন একটি নামকরা খবরের কাগজের সঙ্গে যুক্ত থাকার ফলে ডিকের জানাশোনা এবং প্রভাব-প্রতিপত্তি অনেক বেশি। তার কথার ওজনও তেমন। হেঁজিপেঁজি কাগজগুলিকে ডিকে পাতাই দেয় না। তবে লোকাল কাগজগুলিকে দেয়। কে জানে, কখন কী স্কুপ নিউজ ওদের কাছ থেকে পাওয়া যায়। লোকাল কাগজগুলির সাংবাদিকরা এর-ওর ঘরে উঁকিঝুঁকি মেরে অনেকসময় এমন খবর তুলে আনে, যা বড় কাগজের সাংবাদিকেরাও পারে না। তবে অনন্ত ‘দিনকাল’-এর রিপোর্টার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সংবাদপত্রের সাংবাদিককে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে নেই। সে বলল, “কোন্ সমস্যার কথা বলছো?”
“সমস্যা কি একটা দাদা?”
“না, তা নয়…”
“পিশাচ পাহাড়ে কালাদেওর মন্দির-সংলগ্ন গুহায় অভিযানের ফলে বে-আইনি অস্ত্রশস্ত্র হয়তো উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু তাতে কালাদেওর আবির্ভাব বন্ধ করা যায় নি। পিশাচ পাহাড় রিসর্টের একজন বোর্ডার সিরিয়াসলি ইনজুরি হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। শোনা যাচ্ছে, তাঁর ল-ইয়্যার কোর্টে আপীল করেছেন, প্রশাসনের নিশ্চেষ্টতার বিরুদ্ধে। তাঁর মক্কেলকে এখানে জোর করে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এবং তার ফলে এইভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া নাকি পুলিশ এব্বগ প্রশাসনের ব্যর্থতার ফল। বুঝতেই পারছেন, কত প্রেশারে আছে পুলিশ। এই অবস্থায় ফাদার আন্তোনিওর বডি-ডাবল্কে পাকড়াও করা আই-ওয়্যাশ নয় তো?”

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৫: আইসিইউ কেবিন নং ২০৪

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৮: যুদ্ধে ছলনার আশ্রয় এবং বলপ্রয়োগ, উভয়ের কোনও তারতম্য আছে কি?

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৭০ : ঘটজাতক/৫ : সে আসিছে আজ কাল-বৈশাখে
“তা বটে…তবে…ওই কালাদেওর মিস্ট্রিটা তো সলভ্ হচ্ছে না তাতে!” অনন্ত বলল।
“আস্তে-আস্তে হবে হয়তো। আমাদের সময় দেওয়া উচিত!”
“আর কত সময় দেবেন দাদা ? আর ক’টা লাশ পড়লে এরা রহস্য উদ্ধার করবে ? যদি অলৌকিক বা অনৈসর্গিক ব্যাপার হয়, তাহলে সেটাই বলে দিক। লোকজন পাততাড়ি গুটিয়ে অন্যত্র চলে যাক্। এখানে থেকে কালাদেওর শিকার হয়ে তো লাভ নেই…!”
“তুমি একটু বেশি অধৈর্য্য হয়ে পড়েছ বুঝতে পারছি। কিন্তু ভালো করে ভেবে দেখেছো, এই যে আমরা দিন নেই, রাত নেই যত্রতত্র ঘুরে বেড়াই, নিউজ কালেক্ট করি, আমাদের উপর কালাদেও কোনদিন অ্যাটাক্ করেনি কেন? মিস্ট্রি তো একটা আছেই। কিন্তু হয়ত রহস্য এত গভীর যে, সময় লাগছে…!”
“আরে দাদা, ও-সব ছাড়ুন। স্কুপ নিউজ কী জানেন?”
ভিন্ন গলা শুনে ডিকে এবং অনন্ত দুজনেই তাকাল বক্তার দিকে। সুরেশ বেসরা। লোকাল কাগজ আছে একটা। দ্বি-সাপ্তাহিক। চার পাতার কাগজ। জেলার খবরই বেশি থাকে। ছেলেটি বেশ চালাকচতুর। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি আছে। তবে এই বাজারে চাকরি জোটাতে না পেরে আপাতত সামান্য বেতনে এই কাজটি করে। একটা সাংবাদিকের পরিচয়পত্রও পেয়েছে জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন থেকে। চাকরির পরীক্ষা-টরিক্ষাও দিচ্ছে।
ডিকে বলল, “আরে সুরেশ যে। চাকরি-টাকরির কী খবর? কিছু পেলে?”
অনন্ত বুঝতে পারল, ডিকে মজা করছেন। উপেক্ষা থেকে করা মজা। ভাবখানা এমন যে, সুরেশের মতো এই সেদিনের ছোকরা তাঁর মতো প্রবীণ সাংবাদিককে আর কী স্কুপ নিউজ দিতে পারে!
সুরেশও কথাটা বোঝানি এমন নয়। তবে মুখে হাসিটা ধরে রেখেছিল। সেই অবস্থাতেই বলল, “আপনার আশীর্বাদ থাকলে নিশ্চয়ই একটা কিছু হয়ে যাবে দাদা। দেখা যাক্। কিন্তু স্কুপ নিউজটা শুনবেন না?”
“তুমি এমনভাবে বলছ স্কুপ নিউজ, স্কুপ নিউজ, যেন তুমি অন স্পট হাজির ছিলে, যখন নকল ফাদার আন্তোনিওর সঙ্গে শাক্য সিংহ অ্যাণ্ড কোং-এর দ্বৈরথ চলছিল!” ডিকের গলায় স্পষ্ট ব্যঙ্গের সুর।
“আরে দাদা, ওখানকার খবর তো এখন সবাই জানে। নতুন কিছু নয়। ওখানকার খবর দিতে তো আসিনি!” সুরেশ হাসিমুখে বলল।

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-১৫৩: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!
“না না। তেমন কিছু তো শুনিনি অনন্তদা!” বলল সুরেশ।
“তবে?”
“থানার ভিতরকার খবর !” সুরেশ বেশ মজা করে বলল কথাটা।
“থানার ভিতরের আর কী খবর ? পুরানো নথিপত্রে উই ধরেছে—এমন খবর নাকি?” ডিকে বলে উঠল।
“মজা করছেন দাদা? ছোট কাগজ বলে মজা করছেন করুন, কিন্তু কী জানেন, ধরুন, একটা বন্ধ বাড়ি। তার ভিতরে কী আছে, আপনি জানতে পারছেন না। ঢুকতেও পারছেন না। কারণ আপনি হাতির মতৈ বিশালাকার। এদিকে দরজা-জানালা সব সিল করা। তাহলে কী হবে? শেষে একটি ক্ষুদ্র ছিদ্র দেখতে পেয়ে একটি মাছি তার মধ্যে দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে ফিরে এসে জানাল, ওই বাড়ির অমুক ঘরে তমুক আছে, তমুক ঘরে ওমুক আছে। অর্থাৎ মোরাল কী বলুন তো? হাতিও যেখানে গলতে পারে না, সেখানে ক্ষুদ্র মশামাছি গলে গিয়ে কাজ হাসিল করতে পারে।” থামল রাকেশ। হাসিহাসি মুখ তার।
অনন্ত প্রমাদ গুণল। সুরেশ ছেলেটি নিজের বিপদ নিজেই না ডেকে আনে। সে তাড়াতাড়ি অবস্থা সামাল দিতে বলল, “আরে সুরেশ। তুমি বড্ড বেশি বকো। দেখছ, দাদার মেজাজ ঠিক নেই। তুমি কিনা ঠাকুমার ঝুলি খুলে বসলে! এত ধানাই-পানাই না-করে কী বলতে চাইছ বল দিকি!”
সুরেশ বলল, “সেটাই তো বলতে চাইছিলাম দাদা এতক্ষণ ধরে। আপনারাই তো শুনতে চাইছিলেন না!”
“বেশ। বেশ। এখন চাইছি, বলো!”
“মালাকার সাসপেন্ড!”
“মানে?” এবারের চিৎকারটা বেরিয়ে এল কেবল অনন্তের গলা থেকে নয়, ডিকের গলা থেকেও। আশেপাশে আরও কিছু সাংবাদিক ভিড় করে এলেন। টেলিমিডিয়ার সাংবাদিক সুমনা সরকার যেমন।
“এক্কেবারে পাকা খবর। সোর্স যদিও বলব না। কিন্তু খবরে কোনও ভেজাল নেই। শাক্য সিংহ এইমাত্র আসা মেইল প্রিন্ট নিয়ে হাতে ধরিয়ে দিয়েছে মালাকারের। কাজে গাফিলতি এবং তদন্তে অন্যায় হস্তক্ষেপ করার জন্য মালাকারকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলবে!”
খবরটা শুনে সকলে স্তম্ভিত হয়ে গেল। মালাকারকে সকলে একটি নির্বোধ, অকম্মার ধাড়ি অফিসার বলেই জানে। তার চেয়ে বরং সেকেন্ড অফিসার সুদীপ্ত অনেক চৌকস, বুদ্ধিদীপ্ত এবং সাহসীও। কিন্তু নির্বোধত্বের জন্য কারুর কি সাসপেনশন অর্ডার আসে ? আর তদন্তে অন্যায় হস্তক্ষেপ বলতেই বা কী বোঝানো হচ্ছে? কীসের তদন্ত?
ডিকে বলল, “কোন্ তদন্তে মালাকার অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করেছে শুনেছ কিছু?”
সুরেশ বলল, “শুনিনি। তবে সোর্সের কথা থেকে যতটুকু অনুমান করতে পারছি, কালাদেও কেসে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন মালাকার!”

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

শ্রদ্ধাঞ্জলি : সঙ্গীতই আমার ফার্স্ট লাভ : শচীন দেববর্মণ
অনন্ত বলল, “হ্যাঁ, আমারও প্রশ্ন সেটাই। কালাদেওর সঙ্গে মালাকারের তো কোন লেনদেন নেই। তাহলে কেনই বা তিনি তদন্তে গাফিলতি করবেন? প্রথম দিকে দৈব-হামলা বলেই তো তিনি হাত গুটিয়ে বসেছিলেন!”
“আপনি-আমি কি জানি, সেটা ইচ্ছাকৃত কি-না?”
“নাহ্ জানি না।”
“আমি কিন্তু জানি। আপনারা অবশ্য বলবেন, আমরা, ছোট কাগজের রিপোর্টাররা লোকের বাড়ির রান্নাঘরে পর্যন্ত ঢুকে খবর আনি কী রান্না হয়েছে, তারপর তা দিয়ে পাতা ভরিয়ে প্রকাশ করি কাগজ! কিন্তু আমাদের এই স্বভাবের জন্যই কিন্তু এত বড় একটা স্কুপ নিউজ পেতে পারলেন। যাক্ গে, আসল কথাটা হল…”
“হ্যঁ ভাই, বল বল। আসল কথাটা কি? আমি এক্ষুনি আমাদের বার্তা-সম্পাদককে জানিয়ে দিইয়েছি অলরেডি, মিনিট খানেকের মধ্যে এই স্কুপ-নিউজটা চ্যানেলে দেখানো শুরু হয়ে যাবে। নতুন কিছু থাকলে বল!” টেলিমডিয়ার সুমনা সরকার এগিয়ে এসে বলল।
“মালাকার নিজে পিশাচ পাহাড় গ্রামের ছেলে। পরে অ্যাডপ্টেড হয়ে অন্য ফ্যামিলিতে যান। কালাদেওর কান্ডে হাত গুটিয়ে বসে থাকার মধ্যে তাঁর নিজের স্বার্থ আছে বলেই মনে করে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। অন্য কিছু কারণও এর সঙ্গে থাকতে পারে, তবে এটা ভাইটাল!”

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৬: শাঁখামুটি
সত্যি! যা সব ঘটোনা একের-পর-এক ঘটে চলেছে পিশাচ পাহাড়ে। কবে যে এর শেষ হবে কে জানে? অনন্ত ভাবল। —চলবে।








