কলকাতায় বৃষ্টি
“আগরতলার আকাশে মেঘ জমেছে। ঋতুর নাম বর্ষা। তাই বর্ষণ তো হতেই পারে। সূর্য ধীরে ধীরে হেলে পড়ছে পশ্চিমে। গাছগাছালির মাথায় ফড়িং উড়ছে। কোথাও পাখনা মেলছে প্রজাপতি। কখনও মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে একঝাঁক পাখি। মোরাম বিছানো সড়কে কোনও ব্যস্ততা নেই। যেন হেলে-দুলে গজেন্দ্র গমনে চলেছে দু’ চারজন পথচারী। সড়কে যানবাহনের দেখা নেই। সে এক অনন্য আগরতলা। নিস্তরঙ্গ আগরতলা। সাত-আট দশক প্রায় শতাব্দী আগেকার আগরতলা।
কিন্তু এই সড়ক ধরে হেঁটে যাচ্ছেন কে? উজ্জ্বল গাত্রবর্ণ। চেহারায় রাজকীয় গাম্ভীর্য। রাজপথে এ কার দৃপ্ত পদচারণা? কে তিনি? দিন কয়েক আগে কুমিল্লা থেকে আগরতলার বাড়িতে এসেছেন তিনি। হ্যাঁ, তিনি রাজপুরুষ। কর্তা। শচীন কর্তা। পরবর্তীকালে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন দেশখ্যাত এসডি বর্মণ। তর তর করে একের পর এক অধ্যায় পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম—এটি কি কোনও আখ্যান মঞ্জরী, না কোনও এক চেনা ছন্দের কাব্য সংকলন, বলা মুশকিল। তবে নির্দিধায় এটা বলা যায়, এ এক অনন্য এবং বাংলা সাহিত্যের এক সমৃদ্ধ আখ্যান বা উপাখ্যান পর্ব বলা যেতেই পারে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস, পর্ব-৮৭ : আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৫: আইসিইউ কেবিন নং ২০৪

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

বিনায়ক : বিশ্বকর্মা

“গানের রাজা, সুরের রাজপুত্র” উপমহাদেশের দুই কিংবদন্তী পিতা-পুত্রের মোহময়ী তাল-লয় ও সুরের রাজকীয় সংস্কৃতির জীবনবোধকে নিয়ে যে সাহিত্য ঘরাণার বিভিন্ন অধ্যায়ে ভাগ করে একে পাঠকের দরবারে একেবারে প্রাঞ্জল ভাষায় রূপ দেওয়া যায়, তা এই পুস্তকখানি হাতে না পেলে বুঝতেই পারতাম না। রাজ্য তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক ও কবি, লেখক পান্নালাল রায়ের লেখা এই বই ২০২৫ সালে লন্ডনের একটি সংস্থার উদ্যোগে প্রথম প্রকাশিত হয়। ত্রিপুরার মতো জায়গা থেকে কোনও লেখকের একটি অনবদ্য সাহিত্য সম্ভার লন্ডনের মতো একটি সংস্থার হাত ধরে তার আত্মপ্রকাশ করার বিষয়টি অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। তাই, এই সমৃদ্ধ পুস্তকটির প্রতি একটা বাড়তি আগ্রহ অবশ্যই ছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলা প্রকাশনা জগতের প্রথম সারির প্রকাশন সংস্থা পারুল প্রকাশনীর তরফ থেকে পুস্তকটি পেয়ে অত্যন্ত মন ও হৃদয় দিয়ে বইটি পড়লাম।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৫: কৃষ্ণবিরোধিতার প্রসঙ্গে ভীষ্মের বিরূপ সমালোচনা সত্ত্বেও কে স্মরণীয়? শিশুপাল? না ভীষ্ম?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

শচীন দেববর্মণ ও রাহুল দেববর্মণ। পিতা যদি গানের রাজা হন, পুত্র তবে সুরের রাজপুত্র। ত্রিপুরার গৌরব উভয়েই। ভারতের গৌরব তো বটেই। ২০৬ পাতার এই বইয়ে ৫৩টি অধ্যায় রয়েছে। শচীনকর্তার ছোটবেলা থেকে সঙ্গীতের উচ্চ শিখরে পৌঁছনো এবং সেই সঙ্গে বাংলা ও হিন্দি গানের কবে কখন কোথায় কোন অবস্থানে কোন পরিবেশে তাঁর একের পর এক অমর সৃষ্টির অকপট কাহিনীগুলোকে এক জীবন্ত উজ্জ্বল রূপ দিয়ে লেখক পান্নালাল রায় পাঠকের মণিকোঠায় অবলীলায় আবারও স্থান করে নিয়েছেন বলা যায়।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

পুস্তকটিকে সমৃদ্ধতর করে তুলতে লেখক পান্নালাল রায় যে কঠোর পরিশ্রম করে তাকে পাঠকের দরবারে তুলে ধরেছেন এতে দুই কিংবদন্তী শিল্পীর জীবন আলেখ্যই শুধু প্রাধান্য পায়নি, পাশাপাশি তৎকালীন সময়কার আগরতলা, কুমিল্লা, কোলকাতা ও মুম্বইয়ের মধুর চরিত্রগুলোও জীবনবোধের মধ্য দিয়ে চিত্রায়িত হবার সুযোগ ঘটেছে বলা যায়।

বইটি প্রাকশ করেছে পারুল প্রকাশনী। এই সংস্থাকেও প্রশংসা জানাতেই হয় এ ধরণের একটি মনোমুগ্ধকর পুস্তক প্রকাশ করার জন্য। বইটির মলাট সজ্জা, প্রচ্ছদ অলংকরণ, ঝকঝকে ও নির্ভুল এবং অনিন্দ্যসুন্দর ছাপা বা অক্ষর বিন্যাস প্রশংসাযোগ্য। সঙ্গে লেখকের প্রাঞ্জল ও তথ্য সমৃদ্ধ লেখনী পুস্তকটিকে অন্যমাত্রা দিয়েছে। বইটির দাম ৩৮০ টাকা।

ইতিমধ্যে লেখকের প্রায় ৫৪টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। রাজ্য তথা দেশের দুই কৃতি সন্তান এসডি এবং আরডি বর্মণের মতো দুই কিংবদন্তীর এক অনন্য উপাখ্যানের আত্মপ্রকাশ ঘটানোর জন্য ধন্যবাদ। লেখক পান্নালাল রায়ের লেখনীর সহজাত বৈশিষ্ট্য হল-সহজ-সরল গদ্যে জটিল বিষয়ের উপস্থাপনাই তার কলমের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৬: শাঁখামুটি

“গানের রাজা সুরের রাজপুত্র” গ্রন্থখানি বাংলা সাহিত্যের এক অনবদ্য ও ঐতিহাসিক সৃষ্টিশীল দলিল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। আর ত্রিপুরা এবং দেশের মণিকোঠায় সুরের জগতের দুই কিংবদন্তীকে নিয়ে যে উপাখ্যান রচিত হয়েছে, তা এর আগে এমনভাবে একই ফ্রেমে হাতের নাগালে পেয়ে যাবো, এটা কখনও ভাবা যায়নি। এই পুস্তকের সব চেয়ে বড় পাওনা তৎকালীন সময়ের অনেক অমূল্য সম্পদের স্থির চিত্র। ছবিগুলো লেখনীর সঙ্গে প্রাণবন্ত ও জীবন্ত রূপ পেয়েছে। তাই ধন্যবাদ পুস্তকের লেখক পান্নালাল রায়।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content