কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি প্রতীকী। সংগৃহীত।

রামের নির্দেশে লক্ষ্মণ, রাবণভগিনী শূর্পনখার নাক ও কান কেটে তাকে হতশ্রী করেছেন। শূর্পনখার অপর দুই ভাই খর ও দূষণ, অপমানিতা শূর্পনখার অবমাননার প্রতিশোধ নিতে যুদ্ধযাত্রা করল। তারা চোদ্দো হাজার রাক্ষস-সহ রামের কাছে পরাজিত হয়ে মৃত্যু বরণ করল। রাক্ষস অকম্পন রাবণকে এই সংবাদ জানিয়েছিল। অকম্পনের পরামর্শে রাবণ তৎক্ষণাৎ রামের বিরুদ্ধে যথোচিত ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হল। বাদ সাধল রাক্ষসী তারকার পুত্র মারীচ। রাবণের, রামের স্ত্রী সীতাকে অপহরণের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করল মারীচ। মারীচের কথায় রাবণ ফিরে গেল লঙ্কায়। রাবণভগিনী শূর্পনখা এসে রাবণের আচরণের কঠোর সমালোচনা শুরু করল। কামোপভোগে প্রমত্ত স্বৈরাচারী রাবণ, দুয়ারে উপস্থিত ভয়ের কারণ সম্বন্ধে অবহিত নন। চরহীন রাবণের মন্ত্রীরাও নিষ্ক্রিয় এবং মূর্খ। শূর্পনখা রাবণকে তীব্র বাক্যবাণে বিদ্ধ করতে লাগলেন।
শূর্পনখার কর্কশ তিরস্কারে অতিষ্ঠ হয়ে, মন্ত্রীদের মধ্যে বসে, অস্থির রাবণ প্রশ্ন করল, কে রাম? তার শৌর্য কতটা? কেমন তার রূপ? তার বিক্রম কেমন? কী উদ্দেশ্যে সে দুরাভিগম্য দণ্ডকারণ্যে প্রবেশ করেছেন? তার কি এমন অস্ত্রশস্ত্র আছে? সেগুলি দিয়ে সে রাক্ষসদের হত্যা করল এবং যুদ্ধে খর, দূষণ ও ত্রিশিরাও নিহত হল? ওগো মনোহারিণী, তোমায় এমন বিকৃতরূপ কে দিয়েছে? খরশ্চ নিহত শঙ্খ্যে দূষণস্ত্রিশিরাস্তথা। তত্ত্বং ব্রূহি মনোজ্ঞাঙ্গি কেন ত্বঞ্চ বিরূপিতা।। গভীরভাবে চিন্তা করে বল। রাক্ষসরাজের কথা শুনে, রাক্ষসী রাগে সংজ্ঞা হারাল। তারপরে সে রামের অনুপম সৌন্দর্য ও বীরত্বের অনুপুঙ্খ যে বিবরণ দিয়েছিল—
দশরথপুত্র রামের বাহু দীর্ঘ, তার নয়নদুটি বিশাল, তার পরনে বল্কল ও কৃষ্ণ অজিন। সে কন্দর্পতুল্য রূপবান। ইন্দ্রের ধনুকের মতো তার ধনুকটি সোনার বলয়বেষ্টিত। সেই ধনুক আকর্ষণ করে, রাম মহাবিষধর সাপের মতো দীপ্ত নারাচ (লোহানির্মিত তীর) নিক্ষেপ করে থাকে। শূর্পনখার অভিজ্ঞতা — রাম যুদ্ধে ভয়ঙ্কর তীরগুলি কিভাবে গ্রহণ করে বা কেমন করে ধনুক আকর্ষণ করে শরগুলি মুক্ত করে, কিছুই তার দেখা নেই। রাক্ষসী জানাল, দশরথপুত্র রামের বাহু দীর্ঘ, তার নয়ন দুটি বিশাল, তার পরনে বল্কল ও কৃষ্ণ অজিন। সে কন্দর্পতুল্য রূপবান। ইন্দ্রের ধনুকের মতো তার ধনুকটি সোনার বলয়বেষ্টিত। সেই ধনুক আকর্ষণ করে, রাম মহাবিষধর সাপের মতো দীপ্ত নারাচ নিক্ষেপ করে। জানাল, ইন্দ্রের সৃষ্ট শিলাবৃষ্টি যেমন শ্রেষ্ঠ শস্য নষ্ট করে তেমন রাক্ষসসৈন্য রামের শরবৃষ্টিতে ধ্বংস হয়েছিল।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭১: কৃষ্ণের প্রতি ভীষ্মের শ্রদ্ধার্ঘ্য, শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে মানুষ ও দেবতার সমন্বয়

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬২: ছুঁচো

শ্রদ্ধাঞ্জলি : বাইশে শ্রাবণ

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৮২ : আকাশ এখনও মেঘলা

পদাতিক রাম একাকী, খর ও দূষণ-সহ ভয়ানক বীর্যশালী চোদ্দো হাজার রাক্ষসকে সুতীক্ষ্ণ বাণে হত্যা করেছে। দণ্ডকারণ্যের ঋষিদের সে অভয় দিয়েছে এবং সুরক্ষিত করেছে। শূর্পনখা রামের হাতে নিজে বিরূপা হয়েছেন কেন? তার কারণ ব্যাখ্যা করল। একা কথঞ্চিন্মুক্তাহং পরিভূয় মহাত্মনা। স্ত্রীবধং শঙ্কমানেন রামেণ বিদিতাত্মনা।। মহান রাম আত্মতত্ত্ববিদ। সে নারীহত্যার আশঙ্কায় একাকী আমায় অপমান করে মুক্তি দিয়েছে।ভাই লক্ষ্মণ কেমন বীর? তাকে বর্ণনা করল শূর্পনখা। রামের ভাই, মহাতেজস্বী লক্ষ্মণ তার মতোই পরাক্রমী। সে একাধারে অনুগত, ভক্ত এবং শৌর্যবানঅস্থির, দুর্জয়, জয়ী, পরাক্রান্ত, বুদ্ধিমান, বলশালী লক্ষ্মণভাই রামের ডানহাত এবং সে যেন রামের বাইরে বিচরণরত প্রাণ। রামের স্ত্রী কেমন? রামের ধর্মপত্নী, আয়তনয়না, পূর্ণচন্দ্রতুল্য সুমুখশ্রীযুক্তা সীতা রামের প্রিয়া, সর্বদাই সে স্বামীর মঙ্গলে নিরতা। সীতা সুকেশী, তার নাক ও ঊরু সুন্দর।সে সুরূপা ও যশস্বিনী। সীতা এই বনে দেবী বা দ্বিতীয়া লক্ষ্মী হয়ে বিরাজমানা। তার তপ্ত সোনার বর্ণ। নখ রক্তবরণ ও উন্নত। সেই মঙ্গলময়ী বিদেহরাজনন্দিনী সীতার শরীরের মধ্যদেশ ক্ষীণ এবং তার ঊরু সুগঠিত। সে দেবী, গন্ধর্বী, যক্ষী, কিন্নরী নয়। তবে পৃথিবীতে তার মতো নারী,রাক্ষসী আগে কোনওদিন দেখেনি।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০৮ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ১

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

সীতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ রাক্ষসী জানাল,সীতা যার স্ত্রী,যাকে সীতা উৎফুল্ল হয়ে আলিঙ্গন করে, সেই ব্যক্তি সমস্ত লোকে পুরন্দর ইন্দ্রের থেকেও সুখে বাঁচে। এর পরেই শূর্পনখা এক প্রস্তাব রাখল। রাক্ষসীর মতে, সুশীলা, প্রশংসনীয় যার অঙ্গসৌষ্ঠব, অতুলনীয়া রূপবতী সীতা রাবণের উপযুক্ত স্ত্রী। রাক্ষসী ভাইকে আশ্বস্ত করল, তবানুরূপা ভার্য্যা সা ত্বঞ্চ তস্যঃ পতির্বর। সে তোমার যোগ্যা স্ত্রী এবং তুমি তার অনুরূপ স্বামী। কেন? স্থূলবুদ্ধি রাক্ষসী হয়তো সীতার শারীরিক সৌন্দর্যের বর্ণনা করে রাবণকে প্রলুব্ধ করল। সীতার জঘন অর্থাৎ পশ্চাদ্দেশ বিস্তৃত, পয়োধর স্তন স্থূল ও উন্নত। সে মহাবীর রাবণকে জানাল, নিষ্ঠুর লক্ষ্মণ, রাবণের ভার্যারূপে সুন্দরমুখশ্রী সীতাকে অপহরণে উদ্যতা রাক্ষসীকে, বিকৃতাঙ্গী করেছে। রাবণকে প্রলুব্ধ করল শূর্পনখা, তুমি এখন পূর্ণচন্দ্রের মতো সুন্দর মুখশ্রীর সীতাকে দেখে, কন্দর্পের শরের লক্ষ্য হয়ে উঠবে। যদি সীতা ভার্যারূপে রাবণের অভিপ্রেত হয়,তবে জয়ের জন্যে রাবণ যেন ডান পা বাড়িয়ে দেন। রাক্ষসীর প্রস্তাব — হে রাক্ষসরাজ রাবণ, আমার এই পরামর্শ যদি তোমার মনোমত হয় তবে নিঃসঙ্কোচে আমার কথানুসারে কাজ করুন। রোচতে যদি তে বাক্যং মমৈতেদ্রাক্ষসেশ্বর। ক্রিয়তাং নির্ব্বিশঙ্কেন বচনং মম রাবণ।। রাক্ষসীর অনুরোধ, রাবণ এদের শক্তিসম্বন্ধে ভালভাবে জেনে এবং নিজের শক্তি প্রয়োগ করে অনন্যসুন্দরশরীরের অধিকারিণী সীতাকে পত্নীরূপে গ্রহণ করুন। রাক্ষসী তার বক্তব্যে ইতি টানলেন— রাম, সোজাসুজি শর নিক্ষেপ করে, খর, দূষণ এবং জনস্থাননিবাসী নিশাচর রাক্ষসদের বধ করেছে। এই খবর শুনে,যা করণীয় বলে মনে হয়, সেটাই তুমি কর। নিশম্য রামেণ শরৈরজিহ্মগৈর্হতান্ জনস্থানগতান্ নিশাচরান্। খরঞ্চ দৃষ্ট্বা নিহতঞ্চ দূষণং ত্বমদ্য কৃত্যং প্রতিপত্তুমর্হসি।।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৯ : নুনিয়ার টান

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা

রাবণ রাক্ষস অকম্পনের প্ররোচনামূলক পরামর্শ গ্রহণ করে রামের স্ত্রী সীতাকে অপহরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। রাক্ষস অকম্পন ইতিমধ্যে রামের অপরিসীম শক্তিমত্তাবিষয়ে রাবণের মনে একটি ধারণা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। রামের দুর্বলতার স্থান হলেন সীতা। সীতাকে অপহরণ করলে রাম প্রাণে বাঁচবেন না। রামের ওপরে মানসিক চাপ প্রয়োগ করতে প্রয়াসী হল রাবণ। রাবণ রামকে মনকষ্ট দিয়ে তাঁর প্রাণহানির সিদ্ধান্ত নিল। রাক্ষসরাজের এই পরিকল্পনায় বাদ সাধল তারকাপুত্র রাক্ষস মারীচ। তার পরামর্শ গ্রহণ করে লঙ্কায় ফিরে গেল রাবণ। এখন রামের বিরুদ্ধে রাবণের প্রতিহিংসাগ্রহণের একটিমাত্র উপায়— রামের স্ত্রী সীতার অপহরণ। শূর্পনখার একই পরামর্শ—সীতা সুশীলা, তার আছে প্রশংসনীয় শারীরিকসৌন্দর্য, এই ধরাতলে অতুলনীয়া রূপবতী সীতা। সে রাবণের অনুরূপা স্ত্রী, রাবণই সীতার যোগ্যা স্ত্রী। সা সুশীলা বপুঃশ্লাঘ্যা রূপেণাপ্রতিমা ভুবি। তবানুরূপা ভার্য্যা সা ত্বঞ্চ তস্যাঃ পতির্বরঃ।।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

মুভি রিভিউ: আজও অর্ধাঙ্গিনী: ভালোবাসার পরেও যে সম্পর্ক বেঁচে থাকে

শূর্পনখার প্রস্তাবে রাবণের কামনা উদ্রেক করবার প্ররোচনা ছিল। তুলনায় রামের বিবরণে ছিল নায়কোচিত প্রশস্তির ছোঁয়া।রাক্ষসদের প্রতি রামের বিধ্বংসী রূপ বর্ণনার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের প্রতি রামের পরিত্রাতা ও ধার্মিক রূপটিও বর্ণনা করেছে সে। ঋষীণামভয়ং দত্তং কৃতক্ষেমাশ্চ দণ্ডকাঃ।। একা কথঞ্চিন্মুক্তাহং পরিভূয় মহাত্মনা। স্ত্রীবধং শঙ্কমানেন রামেণ বিদিতাত্মনা।। রাম ঋষিদের অভয়দাতা, দণ্ডকারণ্যের রক্ষক, রাম আত্মতত্ত্বজ্ঞ। পাছে নারীহত্যা হয় এই আশঙ্কায় রাম শূর্পনখাকে অপমান করে রেহাই দিয়েছে। শূর্পনখা জানে — রামের ধর্মপত্নী প্রিয়া সীতা সততই স্বামীর মঙ্গলকাজে যুক্তা। ধর্মপত্নী প্রিয়া নিত্যং ভর্ত্তুঃ প্রিয়হিতে রতা। শূর্পনখা নিজের রামের প্রতি আকর্ষণ ও আসক্তির তথ্যগুলি গোপন করেছে। সে রাবণের নারীসঙ্গের আসক্তিসম্বন্ধে অবহিত। রাক্ষসী শূর্পনখা চালাকির আশ্রয় নিয়েছে। রাবণের কামনায় ইন্ধনযোগান দেওয়ার হাতিয়ার অবলম্বন করে সে রাবণকে সীতাহরণে উদ্বুদ্ধ করেছে। সীতার শারীরিক সৌন্দর্যের বর্ণনায় ছিল যৌনতার আঁশটে গন্ধ। সহোদর ভাইয়ের কাছে সীতার কামোদ্দীপক সৌন্দর্য বর্ণনা করেছে। সীতা, বিস্তীর্ণজঘনা (বিস্তীর্ণ পশ্চাৎভাগ) পীনোত্তুঙ্গপয়োধরা (উন্নতস্তন)। এই বর্ণনার মধ্যে কামনার সুড়সুড়ি প্রচ্ছন্ন ছিল। রাবণের মতো কামুক রাক্ষসের যৌনকামনার আগুনে স্ফুলিঙ্গসংযোগের কাজটি সম্পন্ন করল শূর্পনখা।
কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি প্রতীকী। সংগৃহীত।

শূর্পনখার বর্ণনায় সীতার চারিত্রিক মহিমাও প্রকট হয়েছে। পত্নী সীতার সানন্দ-আলিঙ্গনে আবদ্ধ যে, সে পৃথিবীর সমস্ত লোকের মধ্যে ইন্দ্রের থেকেও বেশি সুখে বেঁচে থাকে। যস্য সীতা ভবেদ্ভার্য্যা যঞ্চ হৃষ্টা পরিষ্বজেৎ। অভিজীবেৎ স সর্ব্বেষু লোকষ্বপি পুরন্দরাৎ।। এমন স্ত্রীর সান্নিধ্য হয়তো একজন স্বামীর প্রার্থিত অভিলাষ।তিনি পরস্ত্রী, সুখী দাম্পত্যজীবন তাঁর।এমন একজন নারী তিনি দেবী নন, গন্ধর্বী নন, নন তিনি যক্ষী, কিন্নরীও নন। অর্থাৎ সুদূর সুরলোকবাসিনী কেউ নন, যাঁকে বর্ণনা করতে হলে কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়। তিনি একজন অদৃষ্টপূর্বা আগে তাঁর মতো নারী দেখা যায়নি। তিনি পূর্ণা এক মানবী, এমন স্বামীর নিয়ত হিতাকাঙ্খিনী, মঙ্গলময়ী নারী কার মনোহারিণী নয়? তবে এই সুশীলা পরস্ত্রীকে মদনদেবের প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অপহরণের উদ্দেশ্য যে শুধু মনস্তাত্ত্বিক চাপসৃষ্টির রণকৌশলমাত্র নয়,শূর্পনখার প্রস্তাবে তা প্রাঞ্জল হয়েছে। রাক্ষস অকম্পনের পরামর্শটি যুদ্ধের একটি কৌশলমাত্র ছিল পরে সেটি যৌনতামিশ্রিত ধর্ষণের অসদুদ্দেশ্যে পরিণত হল। রাবণের কামোদ্দীপক এই প্রতিশোধ, মহাকাব্যের যুগের পরবর্তী পর্যায়ে অনেকটাই প্রভাব বিস্তার করেছিল হয়তো। বর্তমান রাজনৈতিক পরিসরে একজন নারীকে কেন্দ্র করে দুই শক্তির বিরোধ হয়তো সহজ নয়। শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নারীকেন্দ্রিক নৈতিক চরিত্রের স্খলন, বিচ্যুতি বিরল নয়। সেটি হয়তো দেশের ঘরোয়া পরিসরে বা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতে সংবাদপত্রের রসাল আলোচনার বিষয়। তবে কি পরস্ত্রী অপহরণ, ধর্ষণ এই অপরাধ নেই? একেবারেই তা নয়। এই দুষ্প্রবৃত্তির প্রবণতায় এই অপরাধ নিত্য ঘটে চলেছে এই ভোগবাদী দুনিয়ায়। রাবণ মনে মনে সক্রিয়, মনের গভীরে শূর্পনখার কামনার ইন্ধন, অকম্পনদের দুরভিসন্ধিমূলক উস্কানি এই সব একটি অপরাধের জন্ম দেয়, অপরাধের বীজ বপন করে, অবশ্যই যদি এর সঙ্গে সঙ্গত করে, অপরাধীর অপরাধমনস্ক যৌন আসক্তি। মহাকাব্যের যুগে যা ছিল যুযুধান দুই শক্তির মধ্যে সীমায়িত আজ তা দেশে দেশের সামাজিক পরিমণ্ডলে পরিব্যাপ্ত দুর্বৃত্তায়ন এ কথা বোধ হয় অস্বীকার করা যাবে না। রাবণ, শূর্পনখা এরা সকলেই আছেন অন্য রূপে, সামাজিকপরিমণ্ডলে অভিজাত আভাজন শ্রেণি নির্বিশেষে, সর্বত্র।—চলবে।
* মহাকাব্যের কথকতা (Epics monologues of a layman): পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় (Panchali Mukhopadhyay) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, যোগমায়া দেবী কলেজে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content