
রাক্ষস অকম্পনের কাছে রাক্ষসরাজ রাবণ খবর পেলেন, রামের হাতে চোদ্দ হাজার রাক্ষস-সহ তার ভাই খর নিহত হয়েছেন। দেবতাদের পর্যন্ত প্রতিহত করতে সক্ষম রাবণ ক্রোধে আত্মহারা হলেন। রাক্ষসদের হত্যাকারী কে? তাঁর পরিচয় ও যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শিতাসম্বন্ধে আভাস দিল সংবাদদাতা অকম্পন। অকম্পন জানাল, যুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য রামকে দমন করা দুঃসাধ্য। অকম্পনের পরামর্শ অনুযায়ী, রামকে পরাজিত করবার একমাত্র উপায় হল, রামের স্ত্রী সীতাকে অপহরণ করে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত রামের প্রাণহরণ সম্ভব। এই প্রস্তাব মনে ধরল রাবণের। সে রামের স্ত্রীকে অপহরণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করল। পথে তাড়কারাক্ষসীর পুত্র মারীচ অকম্পনের পরামর্শের বিরোধিতা করল। সে রামের শক্তিমত্তার বিরুদ্ধাচরণ করে তাঁর স্ত্রীকে অপহরণের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী বলে মনে করল। মারীচ, রাবণকে রাজধানী লঙ্কায় ফিরে যেতে অনুরোধ জানাল। লঙ্কায় ফিরে গেল রাবণ।
রাক্ষসী শূর্পনখা যে এই সংঘর্ষের মূলে রয়েছে, সে এই ভয়ঙ্কর কাজে যুক্ত চোদ্দ হাজার রাক্ষস-সহ খর, দূষণ, ত্রিশিরাকে একাকী রামের হাতে নিহত হতে দেখে, মেঘের মতো গুরুগর্জন করে উঠল। সেই অন্য কারও দুঃসাধ্য এই কাজ দেখে পরম উদ্বিগ্ন হয়ে রাবণের পালিত সাধের লঙ্কাপুরীতে উপস্থিত হল। সে দেখল, শূন্যশিখরে দীপ্ততেজে মন্ত্রীদের সঙ্গে আসনে বসে আছেন রাবণ, যেন দেবগণ ঘিরে আছেন বাসব ইন্দ্রকে। সূর্যের মতো সমুজ্জ্বল সোনার বেদীতে সোনায় মোড়া শ্রেষ্ঠ আসনে বসে আছে রাবণ। রাবণ ঠিক দীপ্যমান পর্যাপ্ত আগুনের মতো বিরাজমান। দেব, গন্ধর্ব, প্রাণী, ঋষি এবং মহাত্মাদের সঙ্গে যুদ্ধে অপরাজিত রাবণ। করালবদন যমের মতো প্রসারিত ভয়ঙ্কর তার মুখটি।
দেবতা ও অসুরদের যুদ্ধে বজ্র এবং অশনির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে তার দেহে, ঐরাবত হাতির দাঁতের আঘাতে তার বিদীর্ণবুকে ক্ষতের চিহ্ন স্পষ্ট। তার কুড়ি হাত, দশটি গলা, বিশাল তার বুক, সুদৃশ্য তার পোশাক। রাবণ বীর এবং তার রাজলক্ষণ প্রকট। সে উজ্জ্বল বৈদূর্যমণির মতো কান্তিমান। তপ্ত সোনার কুণ্ডল তার ভূষণ, সুগঠিত তার হাতদুটি। সাদা তার দাঁতগুলি। বিরাট তার মুখমণ্ডল। পর্বততুল্য তার আকৃতি। দেবতাদের সঙ্গে যুদ্ধে, একশ বারের বেশি, বিষ্ণুর চক্রাঘাতে আহত হয়েছে সে। অন্যান্য অস্ত্রের আঘাত তাকে তাড়িত করেছে। দেবতাদের অস্ত্রাঘাতে আহত হয়েছে তার অঙ্গ। সে অচঞ্চল সমুদ্রগুলিতে দ্রুত সংক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
রাবণ পর্বতশৃঙ্গগুলিকে নিক্ষেপ করতে পারে। সে দেবতাদের উৎপীড়নকারী এবং ধর্মের উচ্ছেদকারী। পরস্ত্রীদের ধর্ষক রাবণ। দিব্যাস্ত্রপ্রয়োগনিপুণ, রাবণ সর্বদাই যজ্ঞবিঘ্নসৃষ্টিকারী। সে ভোগবতী নগরীতে গিয়ে (নাগরাজ) বাসুকিকে পরাজিত করে তক্ষকের প্রিয় স্ত্রীকে অপহরণ করেছিল। রাবণের কুকীর্তির যেন শেষ নেই। সে কৈলাশপর্বতে গিয়ে, নরবাহনকে (কুবেরকে) পরাস্ত করে যথেচ্ছ চালনা করা যায় এমন যে কুবেরের পুষ্পক রথ, সেটি হরণ করেছিল। বীর্যবান রাবণ ক্রোধবশে চৈত্ররথ বন, স্বর্গীয় পদ্মবন, নন্দনকানন প্রভৃতি বিনষ্ট করেন। পর্বতশিখর যার তুলনা সেই রাবণ নিজোর দুই বাহু দিয়ে, শত্রুদের উত্তপ্তকারী উদীয়মান দুই মহাশক্তি চন্দ্র ও সূর্যকে প্রতিহত করেছে। দশ হাজার বছর ধরে রাবণ মহারণ্যে কঠোর তপস্যা করে স্বয়ম্ভু ব্রহ্মাকে নিজের সমস্ত মাথাগুলি উপহার দিয়েছিল। যুদ্ধে মানুষ ছাড়া দেবদানবগন্ধর্বপিশাচনাগ কারও কাছে তার মৃত্যুভয় নেই। ব্রাহ্মণদের পূতযজ্ঞে মন্ত্রোচ্চারণসহ হবি-প্রদানের সময়ে,সোমরস নষ্ট করেছে মহাবলশালী রাবণ। কর্কশস্বভাব, নির্মম, ব্রাহ্মণদের হত্যাকারী, দুরাচারী এবং যজ্ঞশেষে যজ্ঞধ্বংসকারী রাবণ, প্রজাদের অকল্যাণে নিরত।
রাবণের ভয়ঙ্কর রূপ আরও ভয়াবহ। রাবণ সব প্রাণীদের এবং সবলোকের মনে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে। রাক্ষসী শূর্পনখা, কুটিল, মহাবলবান, দিব্যবসনভূষণ ও মালায় সুসজ্জিত, যথাসময়ে যমের মতো উদ্যত, পৌলস্ত্যকুলের আনন্দরূপ, রাক্ষসশ্রেষ্ঠ, মহাভাগ, আসনে সমাসীন রাবণকে দেখতে পেল। ভয়ে বিহ্বল রাক্ষসী, মন্ত্রীপরিবৃত শত্রুহন্তা রাবণের কাছে উপস্থিত হয়ে তার বক্তব্যবিষয় নিবেদন করল। ভয়ে ও লোভে মোহিত হয়ে, নির্ভয়ে বিচরণ করতে অভ্যস্ত রাক্ষসী, রামের জন্য তার কেমন বিকট দশা সেই সব দেখিয়ে, দীপ্তবিশালনয়ন রাবণকে, নিদারুণ তথ্য পরিবেশন করল।
দেবতা ও অসুরদের যুদ্ধে বজ্র এবং অশনির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে তার দেহে, ঐরাবত হাতির দাঁতের আঘাতে তার বিদীর্ণবুকে ক্ষতের চিহ্ন স্পষ্ট। তার কুড়ি হাত, দশটি গলা, বিশাল তার বুক, সুদৃশ্য তার পোশাক। রাবণ বীর এবং তার রাজলক্ষণ প্রকট। সে উজ্জ্বল বৈদূর্যমণির মতো কান্তিমান। তপ্ত সোনার কুণ্ডল তার ভূষণ, সুগঠিত তার হাতদুটি। সাদা তার দাঁতগুলি। বিরাট তার মুখমণ্ডল। পর্বততুল্য তার আকৃতি। দেবতাদের সঙ্গে যুদ্ধে, একশ বারের বেশি, বিষ্ণুর চক্রাঘাতে আহত হয়েছে সে। অন্যান্য অস্ত্রের আঘাত তাকে তাড়িত করেছে। দেবতাদের অস্ত্রাঘাতে আহত হয়েছে তার অঙ্গ। সে অচঞ্চল সমুদ্রগুলিতে দ্রুত সংক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
রাবণ পর্বতশৃঙ্গগুলিকে নিক্ষেপ করতে পারে। সে দেবতাদের উৎপীড়নকারী এবং ধর্মের উচ্ছেদকারী। পরস্ত্রীদের ধর্ষক রাবণ। দিব্যাস্ত্রপ্রয়োগনিপুণ, রাবণ সর্বদাই যজ্ঞবিঘ্নসৃষ্টিকারী। সে ভোগবতী নগরীতে গিয়ে (নাগরাজ) বাসুকিকে পরাজিত করে তক্ষকের প্রিয় স্ত্রীকে অপহরণ করেছিল। রাবণের কুকীর্তির যেন শেষ নেই। সে কৈলাশপর্বতে গিয়ে, নরবাহনকে (কুবেরকে) পরাস্ত করে যথেচ্ছ চালনা করা যায় এমন যে কুবেরের পুষ্পক রথ, সেটি হরণ করেছিল। বীর্যবান রাবণ ক্রোধবশে চৈত্ররথ বন, স্বর্গীয় পদ্মবন, নন্দনকানন প্রভৃতি বিনষ্ট করেন। পর্বতশিখর যার তুলনা সেই রাবণ নিজোর দুই বাহু দিয়ে, শত্রুদের উত্তপ্তকারী উদীয়মান দুই মহাশক্তি চন্দ্র ও সূর্যকে প্রতিহত করেছে। দশ হাজার বছর ধরে রাবণ মহারণ্যে কঠোর তপস্যা করে স্বয়ম্ভু ব্রহ্মাকে নিজের সমস্ত মাথাগুলি উপহার দিয়েছিল। যুদ্ধে মানুষ ছাড়া দেবদানবগন্ধর্বপিশাচনাগ কারও কাছে তার মৃত্যুভয় নেই। ব্রাহ্মণদের পূতযজ্ঞে মন্ত্রোচ্চারণসহ হবি-প্রদানের সময়ে,সোমরস নষ্ট করেছে মহাবলশালী রাবণ। কর্কশস্বভাব, নির্মম, ব্রাহ্মণদের হত্যাকারী, দুরাচারী এবং যজ্ঞশেষে যজ্ঞধ্বংসকারী রাবণ, প্রজাদের অকল্যাণে নিরত।
রাবণের ভয়ঙ্কর রূপ আরও ভয়াবহ। রাবণ সব প্রাণীদের এবং সবলোকের মনে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে। রাক্ষসী শূর্পনখা, কুটিল, মহাবলবান, দিব্যবসনভূষণ ও মালায় সুসজ্জিত, যথাসময়ে যমের মতো উদ্যত, পৌলস্ত্যকুলের আনন্দরূপ, রাক্ষসশ্রেষ্ঠ, মহাভাগ, আসনে সমাসীন রাবণকে দেখতে পেল। ভয়ে বিহ্বল রাক্ষসী, মন্ত্রীপরিবৃত শত্রুহন্তা রাবণের কাছে উপস্থিত হয়ে তার বক্তব্যবিষয় নিবেদন করল। ভয়ে ও লোভে মোহিত হয়ে, নির্ভয়ে বিচরণ করতে অভ্যস্ত রাক্ষসী, রামের জন্য তার কেমন বিকট দশা সেই সব দেখিয়ে, দীপ্তবিশালনয়ন রাবণকে, নিদারুণ তথ্য পরিবেশন করল।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৮০ : আকাশ এখনও মেঘলা
দীনা ক্রুদ্ধা শূর্পনখা, সাধারণের অশ্রজলের কারণ, অমাত্যদের মধ্যে উপস্থিত রাবণকে কর্কশবচনে বলল, স্বৈরাচারী হয়ে নিরঙ্কুশ কামোপভোগে প্রমত্ত হয়ে আছ তুমি। তোমার যে ভীষণ ভয় উপস্থিত হয়েছে তা বোঝা উচিত অথচ তুমি তা বুঝতে পারছ না। প্রমত্তঃ কামভোগেষু স্বৈরবৃত্তো নিরঙ্কুশঃ। সমুৎপন্নং ভয়ং ঘোরং বোদ্ধব্যং নাববুধ্যসে।। শুরু হল শূর্পনখার তীব্র ভর্ৎসনা — সুখোপভোগে মগ্ন, স্বেচ্ছাচারী, লোভী রাজাকে, প্রজাবৃন্দ শ্মশানে আগুনের মতোই মনে করে থাকে। যে রাজা যথাসময়ে নিজের কর্তব্য পালন করেন না, রাজ্য-সহ তাঁর সেই কাজগুলি বিনষ্ট হয়। যে রাজার গুপ্তচর নেই, যাঁর দর্শনলাভ দুষ্কর, যিনি স্বাধীন নন, এমন রাজাকে মানুষ বর্জন করে ঠিক যেমন পাঁকে ভরা নদীকে হাতি এড়িয়ে চলে তেমনই। যে পরাধীন রাজারা নিজের অধীন রাজ্যকে রক্ষা করেন না, সাগরের মধ্যস্থিত পর্বতের মতো তাঁদের সমৃদ্ধি হয় না।
রাক্ষসী শূর্পনখার প্রত্যক্ষ আক্রমণাত্মক সমালোচনার ভাষা — তুমি চর নিয়োগ করনি, চপলস্বভাব তোমার। আত্মজ্ঞানী ওই দেব, গন্ধর্ব, দানবদের সঙ্গে বিরোধিতা করে, তুমি কি করে রাজা হবে? আত্মবদ্ভির্বিগৃহ্য ত্বং দেবগন্ধর্ব্বদানবৈঃ। অযুক্তচারশ্চপলঃ কথং রাজা ভবিষ্যতি।। রাক্ষসীর গলায় তাচ্ছিল্যের সুর, রাক্ষসরাজ রাবণের আচরণ শিশুসুলভ, সে বুদ্ধিহীনও বটে। যেটা অবশ্যই জানার বিষয় সেটাই জানে না, সে রাজা হবে কেমন করে? ত্বন্তু বালকস্বভাবশ্চ বুদ্ধিহীনশ্চ রাক্ষস। জ্ঞাতব্যঞ্চ ন জানালেন কথং রাজা ভবিষ্যসি।।
রাক্ষসী শূর্পনখার প্রত্যক্ষ আক্রমণাত্মক সমালোচনার ভাষা — তুমি চর নিয়োগ করনি, চপলস্বভাব তোমার। আত্মজ্ঞানী ওই দেব, গন্ধর্ব, দানবদের সঙ্গে বিরোধিতা করে, তুমি কি করে রাজা হবে? আত্মবদ্ভির্বিগৃহ্য ত্বং দেবগন্ধর্ব্বদানবৈঃ। অযুক্তচারশ্চপলঃ কথং রাজা ভবিষ্যতি।। রাক্ষসীর গলায় তাচ্ছিল্যের সুর, রাক্ষসরাজ রাবণের আচরণ শিশুসুলভ, সে বুদ্ধিহীনও বটে। যেটা অবশ্যই জানার বিষয় সেটাই জানে না, সে রাজা হবে কেমন করে? ত্বন্তু বালকস্বভাবশ্চ বুদ্ধিহীনশ্চ রাক্ষস। জ্ঞাতব্যঞ্চ ন জানালেন কথং রাজা ভবিষ্যসি।।
আরও পড়ুন:

মুভি রিভিউ: আজও অর্ধাঙ্গিনী: ভালোবাসার পরেও যে সম্পর্ক বেঁচে থাকে

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৯: যুধিষ্ঠির-আয়োজিত রাজসূয়যজ্ঞের মহাসম্মেলন ও চেদিরাজ শিশুপালের ভূমিকা
রাবণকে ব্যঙ্গ করে, বিজয়ীশ্রেষ্ঠ জয়তাং বর বলে সম্বোধন করে তিনি যে শ্রেষ্ঠ নন বরং নিতান্ত সাধারণ তা কারণ-সহ ব্যাখ্যা করল রাক্ষসী।শূর্পনখার মতে, চর, রাজকোষ ও রাজনীতি যে রাজশ্রেষ্ঠদের আয়ত্তাধীন নয় তাঁরা নিতান্ত সাধারণ লোকের মতোই। যেহেতু রাজারা চরের সাহায্যে দূরস্থ বিষয়গুলি দেখেন তাই তাঁদের ‘দীর্ঘচক্ষু’ বলা হয়ে থাকে। রাক্ষসীর অভিযোগের তীর রাবণের প্রশাসনের দিকে, তার মনে হয় রাবণ চর নিযুক্ত করেনি, তার মন্ত্রীরাও সাধারণ। এই কারণেই স্বজনবর্গ ও জনস্থান ধ্বংস হয়েছে যে, সে খবর রাবণ জানতেই পারেনি। একাকী রাম, ভয়ঙ্কর সব কাজে অভ্যস্ত চোদ্দো হাজার রাক্ষসসেনা এবং খর ও দূষণকে হত্যা করেছে। কাজে অক্লান্ত রাম। সে ঋষিদের অভয় দিয়েছে। রাম, জনস্থান বিপর্যস্ত করে, দণ্ডকারণ্য রক্ষা করেছে। রাবণকে দোষারোপ করল রাক্ষসী। ত্বন্তু লুব্ধঃ প্রমত্তশ্চ পরাধীনশ্চ রাবণঃ। বিষয়ে স্বে সমুৎপন্নং যদ্ভয়ং নাববুধ্যসে।।
রাবণ, তুমি লোভী, প্রমত্ত ও পরাধীন। নিজের রাজ্যের মধ্যে উপস্থিত ভয়ের বিষয়ে জানতে পারনি। যে তীক্ষ্ণস্বভাব, অল্পদাতা, প্রমত্ত, গর্বিত এবং শঠপ্রকৃতির রাজা, সে বিপদাপন্ন হলে তাঁর সাহায্যার্থে সব প্রজারা ছুটে আসে না। যিনি অভিমানী। অপরকে অগ্রাহ্য করেন যিনি, নিজেকে সব থেকে বেশী অভিজ্ঞ মনে করেন, যিনি সহজে ক্রুদ্ধ হন, এমন রাজাকে বিপদের সময়ে আত্মীয়রা পর্যন্ত হত্যা করে। যিনি নিজের কাজ করেন না, ভয়ের করণ থাকা সত্ত্বেও ভয় পান না, তিনি অচিরেই রাজ্যচ্যুত হয়ে দীনদশায় উপনীত হন। তিনি তৃণসম তুচ্ছ হয়ে পড়েন। শুকনো কাঠ, লোষ্ট্র বা মাটির ঢেলা বা ধুলো দিয়েও কাজ হয়। কিন্তু নিজের অবস্থানবিচ্যুত রাজাকে দিয়ে কোনও কাজই হয় না। রাজ্যচ্যুত রাজা শক্তিশালী হলেও পরিত্যক্ত কাপড় ও দলিত মালার মতোই তাঁর অস্তিত্ব অর্থহীন হয়ে থাকে। যে রাজা প্রমাদহীন, ভ্রান্তি নেই যাঁর, যিনি সর্বজ্ঞ (রাজ্যবিষয়ক সকল জ্ঞান যার আছে), জিতেন্দ্রিয় (ইন্দ্রিয়গুলি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম), কৃতজ্ঞ ও ধর্মপ্রাণ, তিনিই চিরকাল থাকেন। যাঁর চোখ ঘুমিয়ে থাকলেও, ন্যায়ের চোখ বিনিদ্র থাকে, যাঁর ক্রোধ ও অনুগ্রহ কাজের মাঝে প্রকাশিত হয়, তাঁকে সকল মানুষ পূজা করেন।
শূর্পনখা রাবণের সমালোচনায় সোচ্চারে বলে চললেন, রাবণ, তুমি দুর্বুদ্ধি, এতটাই গুণহীন তুমি, যে রাক্ষসদের এই ভয়ঙ্কর বধের খবর চরের মাধ্যমে জানতে পারনি। ত্বন্তু রাবণ দুর্বুদ্ধির্গুণৈরেতৈর্বিবর্জিতঃ। যস্য তেঽবিদিতশ্চারৈ রক্ষসাং সুমহান্ বধঃ।। রাবণকে যেন অভিসম্পাত করল রাক্ষসী — পরাবমন্তা বিষয়েষু সঙ্গবান্ ন দেশকালপ্রবিভাগতত্ত্ববিৎ। অযুক্তবুদ্ধির্গুণদোষনির্ণয়ে বিপন্নরাজ্যো নাচিরাদ্বিপৎস্যসে।। তুমি অন্যদের অপমান কর। তোমার বিষয়াসক্তি আছে। স্থানকালের বিভাগবিষয়ে অজ্ঞ তুমি। গুণ ও দোষের নির্ধারণের বুদ্ধি তোমার নেই। অচিরেই তোমার রাজ্য বিপন্ন হবে,তুমিও বিপদগ্রস্ত হবে। শূর্পনখার মুখে তাঁর নিজের দোষকীর্তন শুনে, ধন, দর্প ও বল যার আছে, সেই নিশাচররাক্ষসদের রাজা,রাবণ,বুদ্ধি দিয়ে পর্যালোচনা করে, মনে মনে দীর্ঘসময় চিন্তা করতে লাগলেন।
রাবণ, তুমি লোভী, প্রমত্ত ও পরাধীন। নিজের রাজ্যের মধ্যে উপস্থিত ভয়ের বিষয়ে জানতে পারনি। যে তীক্ষ্ণস্বভাব, অল্পদাতা, প্রমত্ত, গর্বিত এবং শঠপ্রকৃতির রাজা, সে বিপদাপন্ন হলে তাঁর সাহায্যার্থে সব প্রজারা ছুটে আসে না। যিনি অভিমানী। অপরকে অগ্রাহ্য করেন যিনি, নিজেকে সব থেকে বেশী অভিজ্ঞ মনে করেন, যিনি সহজে ক্রুদ্ধ হন, এমন রাজাকে বিপদের সময়ে আত্মীয়রা পর্যন্ত হত্যা করে। যিনি নিজের কাজ করেন না, ভয়ের করণ থাকা সত্ত্বেও ভয় পান না, তিনি অচিরেই রাজ্যচ্যুত হয়ে দীনদশায় উপনীত হন। তিনি তৃণসম তুচ্ছ হয়ে পড়েন। শুকনো কাঠ, লোষ্ট্র বা মাটির ঢেলা বা ধুলো দিয়েও কাজ হয়। কিন্তু নিজের অবস্থানবিচ্যুত রাজাকে দিয়ে কোনও কাজই হয় না। রাজ্যচ্যুত রাজা শক্তিশালী হলেও পরিত্যক্ত কাপড় ও দলিত মালার মতোই তাঁর অস্তিত্ব অর্থহীন হয়ে থাকে। যে রাজা প্রমাদহীন, ভ্রান্তি নেই যাঁর, যিনি সর্বজ্ঞ (রাজ্যবিষয়ক সকল জ্ঞান যার আছে), জিতেন্দ্রিয় (ইন্দ্রিয়গুলি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম), কৃতজ্ঞ ও ধর্মপ্রাণ, তিনিই চিরকাল থাকেন। যাঁর চোখ ঘুমিয়ে থাকলেও, ন্যায়ের চোখ বিনিদ্র থাকে, যাঁর ক্রোধ ও অনুগ্রহ কাজের মাঝে প্রকাশিত হয়, তাঁকে সকল মানুষ পূজা করেন।
শূর্পনখা রাবণের সমালোচনায় সোচ্চারে বলে চললেন, রাবণ, তুমি দুর্বুদ্ধি, এতটাই গুণহীন তুমি, যে রাক্ষসদের এই ভয়ঙ্কর বধের খবর চরের মাধ্যমে জানতে পারনি। ত্বন্তু রাবণ দুর্বুদ্ধির্গুণৈরেতৈর্বিবর্জিতঃ। যস্য তেঽবিদিতশ্চারৈ রক্ষসাং সুমহান্ বধঃ।। রাবণকে যেন অভিসম্পাত করল রাক্ষসী — পরাবমন্তা বিষয়েষু সঙ্গবান্ ন দেশকালপ্রবিভাগতত্ত্ববিৎ। অযুক্তবুদ্ধির্গুণদোষনির্ণয়ে বিপন্নরাজ্যো নাচিরাদ্বিপৎস্যসে।। তুমি অন্যদের অপমান কর। তোমার বিষয়াসক্তি আছে। স্থানকালের বিভাগবিষয়ে অজ্ঞ তুমি। গুণ ও দোষের নির্ধারণের বুদ্ধি তোমার নেই। অচিরেই তোমার রাজ্য বিপন্ন হবে,তুমিও বিপদগ্রস্ত হবে। শূর্পনখার মুখে তাঁর নিজের দোষকীর্তন শুনে, ধন, দর্প ও বল যার আছে, সেই নিশাচররাক্ষসদের রাজা,রাবণ,বুদ্ধি দিয়ে পর্যালোচনা করে, মনে মনে দীর্ঘসময় চিন্তা করতে লাগলেন।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৭ : শাক্য সিংহের খোঁচর!

দশভুজা : আমি আর কখনওই ফিরে আসার প্রত্যাশা করি না…
রাক্ষস অকম্পন তাঁদর রাজা রাবণকে জানিয়েছে, রামের হাতে রাবণের ভাই খর ও দূষণ, রাক্ষসবীর ত্রিশিরা এবং চোদ্দো হাজার রাক্ষস নিহত হয়েছে। এই খবর শুনে, রাক্ষসরাজ যুদ্ধযাত্রায় উদগ্রীব হয়েছে। দাশরথি রামের সঙ্গে বিরোধিতার সূত্রপাত এখানেই। এর মূলে আছে রামের হাতে রাবণভগিনী শূর্পনখার চরম হেনস্থার বৃত্তান্ত। রাক্ষসকুলের মধ্যমণি রাবণের সভার রাজকীয়বিবরণ যে কোনও সার্থক রাজার রাজসভার সঙ্গে তুলনীয়। প্রথমে রাবণের রাজসভার অতুল বৈভবের বর্ণনা, তার প্রদীপ্ত উজ্জ্বল দৈহিক সৌন্দর্য, দেবগন্ধর্ব অন্যান্য প্রাণীদের সঙ্গে যুদ্ধে অবধ্য অজেয় ভাবমূর্তি, শরীরে বীরোচিত ক্ষতচিহ্ন, ব্যতিক্রমী চেহারা, অপরিমিত বীর্যবত্তা প্রভৃতি দেবদানবগন্ধর্বদের শক্তিতে অপ্রতিরোধ্য রাবণ আপাত সমীহ আদায় করে নিয়েছে।
মহাকাব্যকার জানিয়েছেন, রাবণের সমস্ত শক্তি একত্রিত হয়েছে শুধু যজ্ঞে বাধাসৃষ্টির কাজে, পরনারী- আসক্তিতে, অপরের প্রতি বলপ্রয়োগ করে অপ্রাপ্যবস্তু ছিনিয়ে নেওয়ায়।মোট কথা ধ্বংস,হত্যা মৃত্যু তার নিত্যসঙ্গী। রামায়ণস্রষ্টার বর্ণনানুযায়ী রাবণের সংক্ষিপ্ত রূপ—প্রাপ্তযজ্ঞহরং দুষ্টং ব্রহ্মঘ্নং ক্রূরকারিণম্। কর্কষং নিরনুক্রোশং প্রজানামহিতে রতম্।। রাবণং সর্ব্বভূতানাং সর্ব্বলোকভয়াবহম্। রাজসভার মধ্যমণি রাবণ সিংহাসনে বসে আছেন। তার উপস্থিতি কী আদৌ আলোকোজ্জ্বল? না, সে যজ্ঞের শুভ আয়োজন নষ্ট করে, সে দুর্বৃত্ত, ব্রাহ্মণদের হত্যাকারী, নিষ্ঠুর, কর্কশস্বভাব, সহানুভূতিহীন রাবণ আবার প্রজাদের অমঙ্গলকারী, সে সকল প্রাণীর ত্রাস। ভয়াবহ তার উপস্থিতি।
উচ্চ রব থেকে নামকরণ হয়েছে রাবণ। উচ্চকিত চিৎকার করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে কারা? যারা ক্ষমতার দম্ভ প্রকাশ করে উঁচুগলায় এবং যারা হীনমন্যতায় ভোগে তারা হয়তো নিজের উপস্থিতি জাহির করবার জন্য গলা খুলে চিৎকার করে ওঠে, অপরদের আর্তস্বর তাদের সেই দম্ভ বা নীচতার প্রাচীর ভেদ করে হৃদয়ে বা মস্তিষ্কে কোথাও পৌঁছতে পারে না। আত্মম্ভরিতায় আচ্ছন্ন রাবণের বিবেকবোধ লুপ্ত হয়, ভোগসর্বস্বতা পরিণত হয় কামনার দহনে। তার কামনার দহনজ্বালায় আহুতি হয় যে কোন নারী।
মহাকাব্যকার জানিয়েছেন, রাবণের সমস্ত শক্তি একত্রিত হয়েছে শুধু যজ্ঞে বাধাসৃষ্টির কাজে, পরনারী- আসক্তিতে, অপরের প্রতি বলপ্রয়োগ করে অপ্রাপ্যবস্তু ছিনিয়ে নেওয়ায়।মোট কথা ধ্বংস,হত্যা মৃত্যু তার নিত্যসঙ্গী। রামায়ণস্রষ্টার বর্ণনানুযায়ী রাবণের সংক্ষিপ্ত রূপ—প্রাপ্তযজ্ঞহরং দুষ্টং ব্রহ্মঘ্নং ক্রূরকারিণম্। কর্কষং নিরনুক্রোশং প্রজানামহিতে রতম্।। রাবণং সর্ব্বভূতানাং সর্ব্বলোকভয়াবহম্। রাজসভার মধ্যমণি রাবণ সিংহাসনে বসে আছেন। তার উপস্থিতি কী আদৌ আলোকোজ্জ্বল? না, সে যজ্ঞের শুভ আয়োজন নষ্ট করে, সে দুর্বৃত্ত, ব্রাহ্মণদের হত্যাকারী, নিষ্ঠুর, কর্কশস্বভাব, সহানুভূতিহীন রাবণ আবার প্রজাদের অমঙ্গলকারী, সে সকল প্রাণীর ত্রাস। ভয়াবহ তার উপস্থিতি।
উচ্চ রব থেকে নামকরণ হয়েছে রাবণ। উচ্চকিত চিৎকার করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে কারা? যারা ক্ষমতার দম্ভ প্রকাশ করে উঁচুগলায় এবং যারা হীনমন্যতায় ভোগে তারা হয়তো নিজের উপস্থিতি জাহির করবার জন্য গলা খুলে চিৎকার করে ওঠে, অপরদের আর্তস্বর তাদের সেই দম্ভ বা নীচতার প্রাচীর ভেদ করে হৃদয়ে বা মস্তিষ্কে কোথাও পৌঁছতে পারে না। আত্মম্ভরিতায় আচ্ছন্ন রাবণের বিবেকবোধ লুপ্ত হয়, ভোগসর্বস্বতা পরিণত হয় কামনার দহনে। তার কামনার দহনজ্বালায় আহুতি হয় যে কোন নারী।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৭: চাটুকারদের স্তুতিবাক্যই রাজ্যের পতন ডেকে আনে! পেঁচাদের ট্র্যাজেডি আর ‘কথা বলা গুহার’ এক কালজয়ী রাজনৈতিক পাঠ
রামায়ণের রাক্ষসরা মানুষের সবরকম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তারা ভাবনায়, চিন্তায়,মননশীলতায় মানুষের থেকে কোনও অংশে কম নয়। তারা অনুভূতিপ্রবণ (শূর্পনখা), দূরদর্শী (মারীচ), কুচক্রী (অকম্পন), ভবিষ্যতে দেখা যাবে তারা সহানুভূতিশীলও বটে। শুধু মানুষের কাছে তারা অবধ্য, অপরাজিত নয়। মানুষের দ্বৈতসত্তার একটি যদি হয় রাক্ষস, অপরটি যে সেই হিংস্র রূপের সংহারক। রাক্ষসপ্রবৃত্তিকে অবদমিত রাখে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে তাকে একেবারে বিনষ্ট করে যে শুভবোধ তার নামই মানবিকতা।

শূর্পনখা একজন বিদুষী রাজনীতিজ্ঞানসম্পন্নার মতো রাবণের ত্রুটিবিচ্যুতির চুলচেরা বিচার করেছে। উন্মুক্ত রাজসভায়, অমাত্যদের উপস্থিতিতে সে রাবণের কড়া সমালোচনা করেছে। রাবণের দশটি মস্তিষ্কে রয়েছে ষড়রিপুর অসংযম অর্থাৎ অনিয়ন্ত্রণ। আরও আছে অস্থির মানসিকতা, দুর্বুদ্ধি, নীচহৃদয়বৃত্তি এবং অহঙ্কার। প্রথম রিপু কামের আধিক্য তাকে রাজোচিত কর্তব্যচ্যুত করেছে। তার মধ্যে যে শৌর্যের আগুন তা শ্মশানের আগুনের মতোই, সাধারণ প্রজাদের কাছে সে ব্রাত্য। কামের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে লোভ। তাই অকম্পনের সীতাহরণের প্রস্তাব রাবণ সাদরে গ্রহণ করেছে। ক্রোধ তাকে হঠকারি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। ক্রোধের বশবর্তী হয়ে পরনারীহরণের জন্য তৎক্ষণাৎ যুদ্ধযাত্রা করেছে রাবণ। ক্ষমতার মোহ তাকে অন্ধ করেছে। চরের মাধ্যমে রামের ক্ষমতাসম্বন্ধে না জানার ফল অজ্ঞতা। যার জন্যে গুণাগার দিতে হয়েছে তাকে। দেবগন্ধর্ব দানবদের শক্তিসম্বন্ধে অজ্ঞতা তার বালকসুলভ চপলতা, অস্থির মানসিকতা, দুর্বুদ্ধি এবং অপরিসীম আত্মম্ভরিতার পরিচয়।
শুভবোধ ও অশুভবোধের চিরকালীন দ্বন্দ্বে অশুভের পাল্লা সর্বদাই ভারি থাকে, বর্জনীয় যত চারিত্রিক জঞ্জালের দুর্বহ ভার তাকে আরও অধঃপতিত করে। এর পরেও সেই অসংযমের পাল্লায় জমে নীচতার মালিন্য, দুর্বুদ্ধির কলঙ্ককালিমা। অদূরদর্শিতা নষ্ট করে ভারসাম্য। রাবণ যে বড় চেনা, জানা। সে আছে প্রত্যেকের মধ্যে। দুর্বলচিত্ত মানুষের প্রশ্রয়ে রাবণ যখন মাথা চাড়া দেয় তখন শুরু হয় সীতাহরণের প্রস্তুতি, সেই সঙ্গে হয় লঙ্কাকাণ্ডের সূচনা। এর ফল সকলেরই জানা। শুভশক্তির উত্থান প্রতিহত করে অমানবিক অশুভ রাবণকে, যুগে যুগে, কালে কালে…।—চলবে।
শুভবোধ ও অশুভবোধের চিরকালীন দ্বন্দ্বে অশুভের পাল্লা সর্বদাই ভারি থাকে, বর্জনীয় যত চারিত্রিক জঞ্জালের দুর্বহ ভার তাকে আরও অধঃপতিত করে। এর পরেও সেই অসংযমের পাল্লায় জমে নীচতার মালিন্য, দুর্বুদ্ধির কলঙ্ককালিমা। অদূরদর্শিতা নষ্ট করে ভারসাম্য। রাবণ যে বড় চেনা, জানা। সে আছে প্রত্যেকের মধ্যে। দুর্বলচিত্ত মানুষের প্রশ্রয়ে রাবণ যখন মাথা চাড়া দেয় তখন শুরু হয় সীতাহরণের প্রস্তুতি, সেই সঙ্গে হয় লঙ্কাকাণ্ডের সূচনা। এর ফল সকলেরই জানা। শুভশক্তির উত্থান প্রতিহত করে অমানবিক অশুভ রাবণকে, যুগে যুগে, কালে কালে…।—চলবে।
* মহাকাব্যের কথকতা (Epics monologues of a layman): পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় (Panchali Mukhopadhyay) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, যোগমায়া দেবী কলেজে।


















